Tuesday, October 13, 2026

ভূত চতুর্দশী

মা দুগ্গা গেল, লক্ষ্মী গেল, 
বাঙালীর পকেটও প্রায় খালি,
বাজির দোকানে ভিড় জমেছে, 
এবার আসছেন মা কালী।

পাড়ায় পাড়ায় বাঁশ পড়েছে, 
লাইট লেগেছে যে সারি সারি,
আর পাড়ায় ঘুরছে ছেলে ছোকরা, 
চাঁদা বই হাতে বাড়ি বাড়ি।

ছেলেরা ভাবছে কোন বাজি কিনবে,
কোথাকার বাজি হবে বেস্ট ?
আর মেয়েরা খুঁজছে শপিং মলে,
নিজের দীপাবলির নতুন ড্রেস।

এদিকে বাড়িতে বসে মধ্যবিত্ত বাবা,
ভাবে চলবে কি করে সংসার ?
বাজি কেনা থেকে ড্রেস কিনে দেওয়া,
মেটাতে হবে তাকে সব আবদার।

পাড়ায় বাজছে শ্যামা সঙ্গীত,
মণ্ডপে পুঁজিত হচ্ছেন মা কালী,
সেই মণ্ডপেই চলছে অভিবাদন,
 সবার অভিবাদন " হ্যাপি দেওয়ালি"।

তবে "হ্যাপি দেওয়ালি" হোক বা "হ্যালোউইন",
বাঙালি সব উৎসবেতেই খুশি,
শুধু এই সবের মাঝে কোথাও হারিয়ে গেছে,
বাঙালির আপন " ভূত চতুর্দশী "।


                                            ~~সুদীপ দে




































Sunday, September 13, 2026

নতুন সমাজ

শুধু ভালো হওয়াই কি যথেষ্ট,
এই সমাজে চলার পথে ?
নাকি ভালো হওয়া শুধু এক সুযোগ মাত্র,
এই সুযোগ সন্ধানী সমাজের কাছে ?

ভালো হওয়াই কি তবে হতে পারে পরিচয় কারুর ?
নাকি ভালো হওয়া শুধুই এক বিশেষণ মাত্র,
ব্যবহৃত হয় যা প্রতিনিয়ত অবহেলিত,
অত্যাচারীতের চরিত্র বোঝাতে ?

ভালো হওয়া মানে কি তবে শুধুই চুপ থাকা?
অন্যায়ের প্রতিবাদে নিজেকে চিরতরে বিরত রাখা ?
ভালো হওয়া মানেই কি সহ্য করা শোষণ ?
ভালো হওয়া মানেই কি দেওয়া নিজের অধিকার বিসর্জন ?

শুধু চিরকাল মেনে নেওয়াই, 
কি আজ ভালো হবার শর্ত?
আর প্রতিবাদ করলেই, 
সে কি তবে ভালো হতে ব্যর্থ ?

নতুন সমাজের নতুন নিয়মে, 
তাই খারাপ হওয়াটা খারাপ নয়।
সমাজে যোগ্য অধিকার পেতে, 
খারাপ তো একটু হতেই হয়।












Friday, September 4, 2026

একশ টাকা চাঁদা

শুনবেন দাদা একটু এদিকে,
কিছু কথা বলার ছিল,
কাল গেছিলাম পুজোর চাঁদা চাইতে,
আপনার বউ তো শুধু একশ টাকাই দিলো।

বলল নাকি মাইনে হয়নি,
দুই মাস ধরে আপনার।
তবে দাদা অমন চাকরি,
করার কি আছে দরকার?

তবে বাজারতো বেশ ভালোই করেছেন,
ওই হাতে তো মনে হয় মটন,
শুধু আপনার মাইনে বন্ধ,
আমরা চাঁদা চাইতে যাই যখন ?

জানেনই তো পুজোর অনেক খরচ,
তার উপর এবার পঁচিশে পদার্পণ,
চারদিন ধরে ডিজে বাজবে,
পাড়া মেতে থাকবে সারাক্ষণ।

তাই বলছি পাড়ায় থাকতে হলে,
আমাদের কথাটা মেনে নিন,
চলুন বেশি চাপ দেব না,
আপনি শুধু হাজারই দিয়ে দিন।

বাবা ওরা কেনো টাকা নিলো?
ওরা বলল কেনো তোমায় অমন?
ওদেরও কি আজ জন্মদিন ?
ওরাও কি খাবে মটন ?

বাবা তুমি হাসছো কেন ?
বাবা হাসছো কেন বলো ?
ওই দেখো ঔষধের দোকান,
তোমার ওষুধটা কিনবে চলো।

কিনবো না আর ওষুধ সোনা, দরকার নেই আর,
সামনে এখন দুর্গোৎসব, মা ই মঙ্গল করবে সবার।



Monday, August 31, 2026

সাহায্য

সকাল সকাল অফিসে ঢুকেই মাইনের ম্যাসেজটা দেখে মন খুশি হয়ে গেলো মালিনীর। গত দু মাসের পেন্ডিং ইনসেন্টিভের টাকাটা অবশেষে পাওয়া গেলো। পুজোর আগে একটু এক্সট্রা পেলেতো ভালোই লাগে। দেখতে দেখতে অফিসের ঘড়িতে সন্ধ্যা ৬টা বাজলো। আজ আর বাসে করে যেতে ইচ্ছে হলোনা।মোবাইলে একটা বাইক বুক করে অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে করতে রাস্তায় বসে থাকা একটা কুকুরের দিকে চোখ গেলো তার। দোকান থেকে একটা বিস্কুটের প্যাকেট কিনে কুকুরটাকে দিলো সে, সাথে সাথে আশপাশ থেকে আরও গোটা চারেক কুকুর এসে ঘিরে ধরলো মালিনীকে। খুব মায়া হলো তার, সে দোকান থেকে আরও কয়েক প্যাকেট বিস্কুট কিনে খেতে দিল কুকুর গুলোকে। এর মধ্যেই তার বাইক এসে যাওয়ায় সে বাইকে উঠে বাড়ির দিকে রওনা হলো। জবা বৌদি এখনও বাড়িতে কাজ করছে, অন্যান্য দিনেতো এতক্ষণে সে কাজ শেষ করে বাড়ি চলে যায়, তবে আজ এখনও আছে কেন ? ভাবলো মালিনী। "আজ এখনও বাড়ি যাওনি ?" জিজ্ঞাস করলো মালিনী। "দিদি তোমার সাথে একটু কথা ছিল" বলল জবা। "হম বলো কি হয়েছে ?" জিজ্ঞাস করলো মালিনী। "বলছি দিদি আমায় এক হাজার টাকা ধার দিতে পারবে গো ? তুমি প্রতি মাসে একটু করে কেটে নিও, আসলে আমার মেয়ের গত দুদিন ধরে জ্বর, কিছু খাচ্ছে না, একটু ডাক্তার দেখাবো।" বলল জবা। কথাটা শুনেই তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো মালিনী। "এসব ফন্দি আমার কাছে আনবে না, এসব আমি অনেক দেখেছি, রক্ত জল করে টাকা ইনকাম করতে হয়, ফোকোটে আসেনা যে তোমার এসব গল্প শুনে আর চোখের জল দেখে লুটাবো। মেয়ের অসুখ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাও, ওখানে তো টাকা লাগবে না, যেমন সামর্থ্য তেমনই দেখাবে, বেশি বাড়াবাড়ির দরকার কি? " এই বলতে বলতে ফোনটা বেজে উঠলো মালিনীর।
" হ্যাঁ শুভ্রা বল, এই আমার স্ট্যাটাসটা দেখেছিস ? আরে বলিসনা কুকুর গুলো এমন ধরলো, খুব কষ্ট হলো অবলা জীব গুলো" এই বলতে বলতে নিজের ভেতরের রুমের দিকে যেতে লাগলো মালিনী।
নিজে নোংরা আঁচলটা দিয়ে নিজের দুচোখ মুছে আসতে আসতে বেরিয়ে গেলো জবা।

Friday, August 28, 2026

আশ্চর্য সমাজ

আশ্চর্য এই সমাজ যে এক,
আশ্চর্য এই সমাজের দ্বিচারিতা,
এখানে নারীমূর্তি পায় দেবীর আসন,
আর প্রাণবন্ত নারী হয় ধর্ষিতা।

হয় মাতৃ রূপে বন্দনা নারীর,
হয় তার শক্তি রূপে পূজন।
হয় ভোগ্য রূপে গণ্য নারী,
হয় তার পণ্য রূপে বিপণন।

দেবী রূপে হয় আরাধ্য নারী,
দেবী রূপে শুধু তার সম্মান।
নারী রূপে সেই নিকৃষ্ঠ প্রাণী,
প্রতি পদে শুধু অপমান।

দেবী মন্ত্রে হয় মুখর সমাজ,
সমাজে পূজিত দেবী প্রতি ঘরে।
সেই সমাজেই অবহেলিত নারী,
নারী লাঞ্ছিত বারে বারে।

আশ্চর্য এই সমাজেতে নারীর,
এ এক আশ্চর্য অবস্থান,
দেবী মূর্তি রূপে হয় আরাধনা তার,
আর নারী রূপে অসম্মান।





















Saturday, August 15, 2026

প্রতিবাদ

প্রতিবাদে যদি হয় মুখর সমাজ,
প্রতিবাদে কেঁপে যদি ওঠে চারিপাশ,
প্রতিবাদই হতে পারে শুধু অস্ত্র এমন,
যা ভাঙতে পারে স্বৈরাচারীতার নাগপাশ।

প্রতিবাদই পারে শুধু আনতে বদল,
পারে প্রতিবাদই ছিনিয়ে আনতে অধিকার,
অন্যায়ের অসুর দমনেতে তাই,
শুধু প্রতিবাদই হতে পারে অস্ত্র সবার।

প্রতিবাদেই আসবে ন্যায়ের শাসন,
প্রতিবাদেই হবে অন্যায়ের বিসর্জন,
প্রতিবাদের স্বরে হবে ঐক্য সমাজ,
প্রত্যেক প্রতিবাদীই তখন হবে স্বজন।

তবে সোজা নয় এই প্রতিবাদের লড়াই,
প্রতিনিয়ত দিতে হয় সাহসিকতার পরিচয়,
রেখে নিজ সংকল্পে দৃঢ় বিশ্বাস,
এই প্রতিবাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হয়।

দিতে হতে পারে শত আত্মত্যাগ,
পেতে হতে পারে বহু শাস্তি কঠোর,
তবে প্রতিবাদের পথেই হবে জয় নিশ্চিত,
হয়তো কখনও কিছু পরাজয়ের পর।

















Thursday, August 6, 2026

সফলতা

সফলতা, চার বর্ণের সুন্দর এক শব্দ,
লুকিয়ে থাকে যার পেছনে,
ব্যর্থতার বহু না বলা গল্প।
লুকিয়ে থাকে শত ত্যাগ,
শত হতাশার ইতিহাস।
লুকিয়ে থাকে কত অবহেলা,
থাকে অগণিত দুঃখের দীর্ঘশ্বাস।
লুকিয়ে থাকে কঠিন পরিশ্রম,
না বলা যন্ত্রণা আর অপমান,
অবশেষে মূল্য শুধু ওই চার বর্ণের,
সমাজে শুধু ওই চার বর্ণেরই সম্মান।


Friday, July 17, 2026

সামাজিক তেলাপোকা

কেন বসে আছো তুমি ন্যায়ের আশায়?
কেনো হচ্ছ তুমি অপদস্ত ?
এই মৃতের সমাজে ন্যায়ের আশা,
যেন শুধুই সময় নষ্ট।

সমাজ যখন হয় শিরদাঁড়া হীন,
অন্যায়ে হয়ে যায় নীরব,
সে সমাজে প্রতিবাদের ভাষা,
যেন খুবই আজগুবি, অবাস্তব।

এ সমাজে মত্ত রাজা অহংকারে,
আর শিক্ষা দাঁড়িয়ে অন্ধকারে,
এখানে শিক্ষকদের হয় জেলেতে ঠাঁই,
এখানে প্রতিবাদের মুখ বন্ধ তাই।

হবে প্রতিবাদে মুখ খুললেই সাজা,
রাজা হাজতবাসের দেবেন মজা।
বলছে রাজা তিনি বীর, মহান,
তাই সবে মিলে তারে করো সম্মান।

তাই প্রতিবাদ করে কাজ নেই আর,
হবে তাই, যা আছে হবার।
তবে এই সমাজেও জাগে কিছু প্রতিবাদী মুখ,
বিদ্রোহের আগুনেতে যাদের প্রতিনিয়ত জ্বলে বুক।
কিন্তু আসলেতে তারা খুবই বোকা,
এই মৃতের সমাজে জীবিত তারাই কিছু বিদ্রোহী " তেলাপোকা "।











Wednesday, July 1, 2026

পরিবর্তন

পরিবর্তনই সংসারের নিয়ম,
তাই হয় পরিবর্তিত প্রতিনিয়ত সবই।
পরিবর্তিত হয় সমাজ,  বদলায় কাল,
পুরাতন কে বদলে হয় নতুনের আবির্ভাব।
 
সময়ের চাকা ঘুরে যায় নিজ বেগে,
আর সময়ের সাথে আসে পরিবর্তন,
পরিবর্তন যা বদলে দেয় সব,
পরিবর্তন যা নিয়ে আসে নতুনের কলরব।

কখনও করে আপনকে সে পর,
কখনও বা পরকে করে আপন,
কখনও ধনীর হাতে দেয় ভিক্ষার ঝুলি,
কখনও বা ভিক্ষুককে দেয় সে রাজার আসন।

কখনও শিক্ষিতকে দাঁড় করায় সে অশিক্ষিতের মাঝে,
কখনও বা অশিক্ষিতকে দাঁড় করায় শিক্ষিতের আগে,
কখনও বা জীবনে আনে সে সৌভাগ্যের বাহার,
কখনও বা বয়ে আনে দুর্ভাগ্যের অন্ধকার।

তাই পরিবর্তনই পরম সত্য,
পরিবর্তনই শুধু ধর্ম।
কালের তরে হবে পরিবর্তিত সবই,
শুধু থেকে যাবে নিজ নিজ কর্ম।










Thursday, May 28, 2026

ভ্রমণের ডাক

ওই দেখো ওই ডাকছে পাহাড়,
ডাকছে আকাশ, ডাকছে সমুদ্রের পাড়,
ডাকছে অরণ্য বিলীন হতে আমায়,
ডাকছে দিগন্ত কোনো নতুন দিশায়।

থাকছে না মন চার দেওয়ালেতে আর,
দিতে চাইছে সে ডাকে সাড়া,
যেতে চাইছে সে সব কাটিয়ে বাঁধন,
যেতে চাইছে সে পিছুটান ছাড়া।

ছুটে যাচ্ছে কখনও সে অরণ্যের বুকে,
কখনও করছে আরোহণ পাহাড়ের চূড়া।
কখনও দিচ্ছে মাথা সমুদ্রের কোলে,
কখনও নতুনের খোঁজে সে হচ্ছে মাতোয়ারা।

তবু কেনো মেটে না এই তৃষ্ণা আমার,
কেন বেড়ে চলে এই ভ্রমণ পিপাসা,
ঘুরে চলি তাই শুধু ভ্রমণের নেশায়,
কখনও নতুন দিগন্তের খোঁজে, 
কখনও নতুন পথের আশায়।


Tuesday, May 12, 2026

একটি ছেলের জীবন

সমাজ বলে ছেলের সুখের জীবন,
আর মেয়ে হলেই নাকি কষ্ট,
ছেলেদেরই সব অগ্রাধিকার,
আর মেয়ের বেলায় সব নষ্ট।

প্রথমেই যখন জন্ম হয় তার,
আদর খুবই পায় সে সবার,
পরক্ষণেই প্রশ্ন আসে,
ছেলে ডাক্তার হবে নাকি ইঞ্জিনিয়ার?

শুরু জন্ম থেকেই প্রতিযোগিতা,
হতে হবে সবার থেকে সেরা,
ছোট থেকেই তার বাইরে জগৎ,
কারণ ঘরে থাকে তো শুধু মেয়েরা।

কিছু কাল পরে শৈশবের শেষে,
সে কৈশোরের পায় দেখা,
পরিবারের সে মধ্যমণি,
তবুও সে বড় একা।

বুকে জমে না বলা কথাগুলো,
জমাট বাঁধে অব্যক্ত অনুভূতি,
প্রত্যাশার আগুনে সে প্রত্যহ দেয়,
তার গড়া সব স্বপ্নের আহূতি।

অবশেষে দেয় সে যৌবনে পারি,
মনে তার প্রশ্ন জাগে রকমারি।
ডাক্তার হবে নাকি ইঞ্জিনিয়ার,
নাকি খুঁজবে চাকরি সরকারী?

শুরু হয় প্রস্তুতির পালা,
মনে হয় সব বা হাতের খেলা।
মন ধীরে ধীরে বোঝে বাস্তবতা,
সফলতা পাওয়া যে নয়কো সোজা।

কাটছে জীবন শুধু এই চিন্তায়,
হবে কবে শুরু সফলতার অধ্যায় ?
কেনো বিষন্নতার অন্ধকারে,
মন শুধু হারিয়ে যেতে চায় ?

মাথার উপর বাড়ছে চাপ,
এ জীবন নাকি অভিশাপ?
সবার শুধু প্রশ্ন একটাই
" আর কতদিন তোকে খাওয়াবে বাপ ?"

মন শুধু তাই প্রশ্ন করে,
"বোন তো বেশ আছে ঘরে,
তবে কেন শুধু আমার বেলাই,
সবাই এমন প্রশ্ন করে ?

কেনো শুধু সফলতা হবে পরিচয় আমার?
কেনো উপার্জনই হবে পরিমাপক ?
কেনো প্রত্যাশা পুরুন হবে উদ্দেশ্য আমার  ?
কেনো শুধু আমি হব দায়িত্ব বাহক ?"

অবশেষে জীবনের অপরাহ্নে,
আজ এইটুকু গেলো বোঝা,
ছেলের জন্ম সুখের কীভাবে,
যেখানে মাথায় দায়িত্বের বোঝা..?

উপার্জনই এখানে পরিমাপক,
আর শুধু অর্থই আনে সম্মান,
চোখের জলে থাকে নিষেধাজ্ঞা,
এবং জীবনের পাথেয় শুধুই অপমান।





















Friday, May 1, 2026

একটি গাছ একটি প্রাণ

শত্রু নই আমি মিত্র তোমার,
করব রক্ষা আমি তোমায়,
প্রতিনিয়ত দেব প্রাণবায়ু আমি,
শুধু একটু বাঁচতে দিও আমায়।

পৃথিবীর বুকে প্রথম প্রাণের দেখা,
সেদিন ছিলাম শুধু আমিই একা।
ধীরে ধীরে বেড়ে উঠেছিলাম আমি,
করে প্রস্ফুটিত চারিদিক।

সেজেছিল ধরণী শ্যামল সাজে,
আবির্ভূত হয়েছিল প্রাণীকুল।
বিকশিত হয়ে সময়ের সাথে,
করেছিলাম পরিবেশ বাঁচার অনুকূল।

জুগিয়েছিলাম সবই সাজসরঞ্জাম,
অন্ন বস্ত্র সাথে বাসস্থান।
সাথে দিয়েছিলাম ভেষজেরও বরদান,
তবে কেন আজ পেলাম এই প্রতিদান..!

ধীরে ধীরে আজ বিলুপ্ত আমি,
বিলুপ্ত মানুষের অগ্রগতির অজুহাতে।
পরিবেশও প্রতিকূল তাই আজ,
আর মানুষ লড়ছে সেই প্রতিকূলতার সাথে।

করছে তারা বিজ্ঞানকে,
তাদের যুদ্ধের হাতিয়ার,
কিন্তু প্রকৃতির সাথে এই অসম যুদ্ধে,
সব অস্ত্রই বেকার।

বাঁচাতে পারি শুধু আমিই এখন,
করে পরিবেশ আবারও বাঁচার অনুকূল।
মনে রেখ আমি বন্ধু তোমার,
আমায় শত্রু ভাবা তোমার ভুল।

প্রতিনিয়ত রক্ষা করব আমি,
চাইনা বদলে কোনো প্রতিদান।
শুধু আমায় বাঁচতে দিও,
মনে রেখ " একটি গাছ , একটি প্রাণ " ।
















সমাজের অনুদান

দান নয়, দান নয়, নয়কো আমি ভিখারী,
কর্মক্ষমে পূর্ণ আমি, শ্রম বেচে খেতে রাজি।
না চাই অনুদান কোন, না চাই কোনো ভাতা,
কাজ করে খেতে চাই আমি, আমার চাই না কোনো দাতা।

তবে কাজের বাজারে মন্দা আছে এমন কিন্তু নয়,
বেছে মুরি চানাচুর আয় বেশ ভালোই হয়।
ভাবছি সাথে চপ ভেজে দেখাবো আমি শিল্প,
না হয় সাথে পাকোরাও কিছু ভেজে নেব অল্প।

তবে এরপরেও যদি কাজ করে মনটা না ভরে,
এই শরৎকালে তবে আর থাকবো নাকো ঘরে,
ফুটেছে দেখ চারিপাশে কাশফুল সারিসারি,
এই কাশফুল দিয়ে আমরাতো বালিস বানাতে পারি।

বিক্রি করে সেই বালিশ আমি করব লক্ষ উপার্জন।
এত আয় বাদ দিয়ে চাকরি আবার খুঁজবে কোন জন ?
ছোট নয় কোনো কাজই, সব কাজেই আছে সম্মান,
শুধু নামের পাশে শিক্ষিতের তকমাটা আজ বড়ই বেমানান।

স্বপ্ন ভেঙে চূর্ণ যে আজ, ডিগ্রি গুলো করে হাহাকার,
মেধাবী ছাত্র যার ছিল পরিচয়, আজ তার ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
ফার্স্ট বেঞ্চে বসত যে সে আজ ফুটপাথে পেল স্থান,
লজ্জা শুধু তার একার নয়, এ পুরো সমাজের অপমান।



Thursday, April 30, 2026

BOOTH LEVEL OFFICER ( BLO )

নিজের জীবন করে অন্ধকার,
ভোটারদের দেখাবো আলো,
নির্বাচনে নিযুক্ত আধিকারিক আমি,
নমস্কার আমি BLO।

পরিকল্পনা ছাড়া কাজে নেমে,
হাতে ঘুরছি নিয়ে ফর্ম গুলো,
ফর্ম ব্যাগে নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘোরা, 
আমি এক BLO।

দিন রাত্রের ঠিক নেই আর,
শুধু খুঁজে চলেছি ভোটার গুলো,
পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বেড়ানো,
আমি সেই BLO।

ভোটার যখন ফর্ম নিয়ে ভাবে,
সে বড় উপকার করে দিলো,
সেই উপকারের বোঝা নিয়ে থাকা,
আমি সেই হতভাগা BLO।

দিন রাত্রি এখন বাজে শুধু ফোন,
প্রশ্ন একটাই " ফর্ম জমা নেবেন কখন ?
দিতে হবে কেনো নথিপত্র..! 
আমরা বহুকালের বাসিন্দা যখন? "

বলছি আমি তাই বুঝিয়ে তাদের,
কিছুই করার নেই আমাদের।
খুঁজতে থাকুন সঠিক নথি,
না পাওয়া গেলে হবে দুর্গতি।

ধীরে ধীরে চাপ বাড়ছে এখন,
হুমকি আসছে যখন তখন।
প্রাণ যাবে নাকি চাকরি?
ঘুরছে মাথায় এই সর্বক্ষণ।

নতুন অর্ডার আসছে দিন রাত্রি,
সাথে নিয়ম বদলে যাচ্ছে,
নতুন নিয়ম বোঝাতে গেলে,
ভোটার BLO এরই দোষ খুঁজে পাচ্ছে।

অবশেষে ফর্ম জমা হলো,
খসরা তালিকা প্রকাশ পেলো,
নথি না দিয়েও নাম দেখতে পেয়ে,
ভোটার আত্মহারা হয়ে গেলো।

তবে শুরু এবার নতুন খেলা,
আসলো শুনানির সমন ডাকার পালা।
এখন ভোটার বলে কিসের সমন?
ভোটার তালিকায় নাম আছে যখন।

বলছি তাদের শুনানিতে আসা আবশ্যিক,
আনতে হবে নথিপত্র যা পুরোপুরি সঠিক।
সঠিক নথি না পেলে নাম বাদ হয়ে যাবে,
বাতিল হবে ভোটার কার্ড, ভোটের অধিকার হারাবে।

অবশেষে শেষ হলো শুনানি,
ভাবলাম তবে শেষ কাহিনী,
কিন্তু শুরু এবার অন্য খেলা,
এলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পালা।

কৃত্রিম বুদ্ধি এবার উঠল জেগে,
নাম বদলে গেলো ঝড়ের বেগে,
আদেশ আবার হবে শুনানি,
শেষ নয়, শুরু নতুন কাহিনী।

ক্ষিপ্ত ভোটার তেড়ে এলো,
বললও ভুল নাকি সব আমার ছিল,
আমার ভুলে তাদের নাম গেছে বাদ,
কাজে ফাঁকি দেওয়াই নাকি আমার স্বভাব।

শুরু যাত্রা আবার নিয়ে সমন সাথে,
বিলোতে হবে সবার হাতে হাতে।
দোষ না করেও দোষী হওয়া,
শেষে এটাই ছিল এই বরাতে।

তবে অবশেষে সব শেষ হলো,
চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ পেলো।
থাকলো নাম যাদের ছিল নথি,
আর বাকিরা কোথায় হারিয়ে গেলো।

সবশেষ আজ বিধ্বস্ত আমি,
আমি ক্লান্ত মানসিকভাবে,
কিন্তু আবারও নতুন আদেশ এলো,
ভোটের দিন BLO ভোটকেন্দ্রেই দাঁড়াবে।

অবশেষে এলো বহু প্রতীক্ষিত,
বহু প্রতীক্ষিত ভোটের দিন,
গেটের বাইরে আজ দাঁড়িয়ে ক্রীতদাস আমি,
বলছি " একটু স্লিপটা চেক করিয়ে নিন"।































Friday, April 10, 2026

ভোট

আরও একবার এলো জনগণের সময়,
ঘোষণা হলো ভোটের দিন।
বলছে সবাই শুধু তারাই ভালো,
তাই শুধু তাদেরই ভোট দিন।

রাম বাবু বলে যোগ্য তারা,
একবার শুধু তাদের সুযোগ দিন,
থাকবে না কোনো অভিযোগ আর,
সুখ চলবে অন্তহীন।

বামদেব বলে শুধু স্বচ্ছ তারা,
বাকী সব অস্বচ্ছতায় মাখা,
ভোটে জেতা তাদের নিমিত্ত মাত্র,
আসলতো জনগণের পাশে থাকা।

সরকার বাবু বলছে আবার,
কাজ করেছে তো শুধু তারা,
সবটাই ছিল শান্তিপূর্ণ,
কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া।

সরকার বাবু বললেন আরও,
দিয়েছেন তো তারা সব,
ভাতা ভাণ্ডারে ভোরিয়েছে তারা,
থাকার কথা নয়তো কোনও অভিযোগ।

রাম বাবু বলে চুরি করছে সবাই,
চোরেতে ভরে গেছে চারিদিক,
সরকারদাও নাকি চুরিতে সামিল,
তাই মানুষ এবার তাদের সুযোগ দিক।
সুযোগ পেলে তারা দেখিয়ে দেবে,
কিভাবে কাজ করতে হয়,
ডবল ইঞ্জিনে গাড়ি ছুটবে,
থাকবে "আচ্ছে দিনের" অভয়।

বামদেব বলে পাশে থাকবে তারা,
করবে শূন্য থেকে শুরু,
রামদা থেকে সরকারদা,
সবই এক গোয়ালের গরু।
অস্বচ্ছতা দুর করে এবার,
সব স্বচ্ছতার সাথে হবে,
আশায় তারা বুক বেঁধেছে,
হয়তো অবশেষে শূন্য থেকে এগোবে।

সরকার বাবু বলে মিথ্যে সবই,
সততার সে প্রতীক,
রাম বাম সবই ভায়রা ভাই,
ওদের সুযোগ দেওয়া হবে না ঠিক।
আসছে বছর বাড়বে ভাতা,
সবই ডবল ডবল হবে,
ভান্ডার ভাতায় মজবে জীবনে,
আর কর্মসংস্থানে কি হবে....!!

জনগণ পড়ে দোটানায় আজ,
ভাবে কোন নৌকায় দেবে সে পা,
সম্মানের সাথে কর্ম জীবন,
নাকি দয়ার ভাতা ?
চিন্তা করছে কাকে দেবে তার ভোট,
কোন চিহ্নে দেবে সে ছাপ,
বন্ধু বেশে ভোট চেয়ে গেলো যে,
ক্ষমতা পেয়ে কাল সে সাজবে বাপ।

প্রতিশ্রুতি আজ দিচ্ছে আজ যারা,
ভোট শেষে চিনবে না আর তারা,
গণতন্ত্রে আজ সবই আছে,
শুধু কিছু শিক্ষিত জনদরদী নেতা ছাড়া।






















Thursday, April 2, 2026

ব্যর্থতা

আবারও নতুন ব্যর্থতা এক,
সাথে নতুন কিছু তকমা আরও,
ফাঁকিবাজ, বলদ, অলস বাদেও,
"শুধু অজুহাত দেয়" এবার যুক্ত হলো ।

জাগলো মনে কিছু দুশ্চিন্তা,
চোখের কোনায় জল এলো,
আর গোপনে করা পরিশ্রম সব,
নিমেষে আবারও মিলিয়ে গেলো।

ভেঙে গেলো সব স্বপ্ন গুলো,
হারিয়ে গেলো আশার আলো,
তীরে এসে তরী ডোবার গল্প,
সবার হাসির খোরাক হলো।

জানলো না কেউ সেই কষ্টের কথা,
মন রইলো হয়ে নীরব,
চুপি চুপি শুধু কানে এলো,
"শুধু অজুহাত যত সব"।

অপমানের মাঝে দিন কাটলো,
দুশ্চিন্তার মাঝে রাত,
অসফলতারও হয় গল্প যে এক,
তবে তা নয় কোনো অজুহাত।

সমাজ গ্রহণ করেনা ব্যর্থতাকে,
শোনে না ব্যর্থতার কোনো কথা,
সমাজ শুধু সফল লোকের,
সমাজ শোনায় সফলতার শুধু গাথা।

তবে ফারাক খুবই সূক্ষ্ম আছে,
সফলতা আর ব্যর্থতার মাঝে,
ব্যর্থতা ছিল পরিচয় যার,
সফলতার প্রতীক সে আজ সবার কাছে।












Sunday, March 22, 2026

হারানো বিকেল

অতীতের ওই দুপুরগুলো 
যেন বড্ড ভালো ছিল,
বিকালের ওই আড্ডা গুলো
আজ কোথায় হারিয়ে গেল।

পাড়ার মোড়ের গল্প গুলো 
শুধু স্মৃতিতে আবদ্ধ হলো,
পেন ফাইটিং থেকে ক্রিকেট খেলা
সবই উধাও হয়ে গেলো।

পরে রইলো সেই খেলার মাঠ,
পরে রইলো খালি বেঞ্চ,
ফোনে হলো সীমিত জগৎ,
আর ফেসবুকে হলো ফ্রেন্ডস।

গল্পো, আড্ডা, দেখা সাক্ষাৎ
প্রায় সবই আজ শেষ।
আধুনিকতার বুকে দাঁড়িয়ে,
মনে হয় ছিল অতীতটাই ভালো বেশ।