দাড়োয়ান : কাকে চাই ?
প্রশ্নটা শুনে একটু রুখে দাড়ালো সৌরভ..
সৌরভ : অবিনাশ ভেতরে আছে ? ওকে বলো সৌরভ এসছে। ফোনে কথা হয়েছিল ওর ছোট বেলার বন্ধু।
দাড়োয়ান ভিতরে গিয়ে অবিনাশ কে বললো..
দাড়োয়ান : বাবু আপনার সাথে একজন সৌরভ বলে কে দেখা করতে এসছে। বললো আপনার সাথে ফোনে কথা হয়েছিল...আপনার ছোটবেলার বন্ধু..।
অবিনাশ : সৌরভ...?
হমম........(একটু চিন্তিত ভাবে)
আচ্ছা পাঠাও দেখি..
দাড়োয়ান বাইরে এসে বললো : বাবু আপনাকে ভেতরে যেতে বলেছে..
ঘরের ভেতর ঢুকলো সৌরভ। হাতে তার একটা ছোট্ট বক্স। নিজের বড়লোক বন্ধুর বাড়িতে ঢুকতে একটু কিন্তু কিন্তু ভাব হচ্ছিল সৌরভের। সেই কোন ছোটবেলার বন্ধু....আজ ৩০ বছর হয়ে গেল কোনো যোগাযোগ হয়নি..এতদিন পর..কি জানি কি ভাববে...
অবিনাশ....পেছন থেকে ডাকলো সৌরভ...
সৌরভ : চিনতে পারলি...?
অবিনাশ : ( একটু ভালোকরে সৌরভের জীর্ণ পোশাকটা দেখে বললো..)
হম....রামমোহন প্রাইমারি স্কুল...কেমন আছিস ?
কি করিস এখন ?
সৌরভ একটু খুশি হলো তার বন্ধুর তাকে মনে আছে দেখে...
সৌরভ : এই চলছে রে ভাই....পড়াশুনা তো বেশিদিন করতে পারলাম না টাকার অভাবে...সখেই গ্রামের নবীন জ্যাঠার থেকে একটু ম্যাজিক শিখেছিলাম...এখন সেই ম্যাজিক দেখিয়েই দু পেট চলে যাচ্ছে রে ভাই...
অবিনাশ : ভাই....(এবার একটু অবজ্ঞার দৃষ্টিতে তাকালো অবিনাশ)
তা কোন রাস্তায় বসে ম্যাজিক দেখাস ...??? ( একটু অবজ্ঞার হাসি হেসে জিজ্ঞাস করলো অবিনাশ )
সৌরভ : নারে ভাই...মনোরমা সার্কাস বলে একটা দলের সাথে কাজ করি....
অবিনাশ : ( এবার একটু রেগে গিয়ে...)
কি ভাই ভাই করছিস....
তোর আমি ভাই হই নাকি....
শালা ফুটপাতের দুটাকার ম্যাজিশিয়ান...
আমার একটা স্ট্যাটাস আছে...দেশের প্রথম সারির ব্যবসায়ীদের মধ্যে আমি একজন... আর তুই শালা দু টাকার ম্যাজিশিয়ান আমায় বলছিস ভাই.....ছোটলোক শালা...
সৌরভ : তুই আমায় ভুল বুঝছিস রে......
অবিনাশ : কি ভুল বুঝবো...বড়লোক বন্ধুর নাম যশের খবর পেয়ে টাকা চাইতে এসছিস তো ? তোর মতন এরম বহু ভিখারী রোজ আমার দুয়ারে আসে...
এই বলে সৌরভকে হাত ধরে টেনে ভেতরের ঘরে নিয়ে গেল অবিনাশ..
ভেতরের এই ঘরটায় অবিনাশের জন্মদিনের পার্টি চলছিল।
অবিনাশ : এই দেখ...এই হচ্ছে আমার স্ট্যাটাস..
ভাই...ভাই করছে...ছোট লোক..
এই দাড়া দাড়া...
এই এই সবাই দেখো...আমাদের মাঝে এক বিশাল বড় ম্যাজিশিয়ান এসছে....
যেনো যেনো এই ম্যাজিশিয়ান এর স্পেশালিটি কি....
(হাসতে হাসতে বললো অবিনাশ...)
এই ম্যাজিশিয়ান এর স্পেশালিটি হলো বড়োলোক বন্ধুর থেকে টাকা চাওয়া...
(অট্টহাসি হেসে উঠলো অবিনাশ)
সাথে সাথে উপস্থিত সমস্ত লোকেরা সৌরভের দিকে তাকিয়ে হাসতে থাকলো...
খুব অপমানিত বোধ হচ্ছিলো সৌরভের...অপমানের জোরে যেনো নিজের কথা বলার শক্তিটাই হারিয়ে ফেলেছিল সৌরভ...তবুও অনেক কষ্টে বললো সৌরভ...
সৌরভ : তুই আমায় ভুল বুঝছিস অবিনাশ..
অবিনাশ : চুপ কর শালা ছোট লোক...
ভুল...আমি ভুল বুঝছি...
(এবার রেগে গিয়ে...)
এই শালা ম্যাজিশিয়ান তোর টাকা চাই তো....? শোন শালা তোকে ফোকোটে টাকা দেব না..
তুই ম্যাজিশিয়ান তো....চল তোর ম্যাজিক দিয়ে আমাদের খুশি কর...খুশি করলে টাকা পাবি...
অপমানে বুকটা ফেটে যাচ্ছিল সৌরভের...সত্যি হয়ত তার ভুল হয়েছে গরীব হয়ে তার বড়োলোক বন্ধুর কাছে সাহায্যের জন্য আসা...
এসবই ভাবছিল সৌরভ...আবার অবিনাশ বলে উঠলো...
অবিনাশ : কি রে ম্যাজিশিয়ান...কই দেখা তোর ম্যাজিক...নাকি বড়োলোকের কাছে টাকা চাওয়া টাই তোর ম্যাজিক....(বলে হেসে উঠলো অবিনাশ...সাথে হেসে উঠলো উপস্থিত সমস্ত লোকজন)
এত অপমানের পরও নিজেকে অনেক কষ্টে সামলালো সৌরভ...বারবার খালি ভেসে উঠছিল তার মেয়ের মুখটা যার কাছে বড় মুখ করে সৌরভ বলে এসছিল যে তাকে ভালো স্কুলে ভর্তি করার জন্য টাকা আজ সে জোগাড় করে আনবেই...
আস্তে আস্তে নিজেকে সামলে ম্যাজিক দেখাতে এগিয়ে এলো সৌরভ...
তার সাধ্য মতন ম্যাজিক দেখালো সৌরভ...পায়রার ম্যাজিক... তাসের ম্যাজিক.. আরও অনেক কিছু..কিন্তু কিছুতেই যেনো মন গল্লো না অবিনাশের...ক্রমাগত হাসি উড়িয়ে গেলো তারা সৌরভের...
শেষে বাধ্য হয়ে থামলো সৌরভ...
তখনও হেসে চলেছে সবাই...
অবিনাশ : কি রে থেমে গেলি ? শেষ তোর ম্যাজিক ? ( হাসতে হাসতে জিজ্ঞাস করলো অবিনাশ)
সৌরভ উত্তর করলো না...শুধু চুপ করে দাড়িয়ে রইলো..
অবিনাশ : ওমা....ম্যাজিশিয়ানের রাগ হোয়েছে...(ব্যাঙ্গাত্মক ভাবে হেসে বললো অবিনাশ)... আচ্ছা আচ্ছা এই নে এই নে টাকা লাগবে... এতো কষ্ট করে এসব হাবিজাবি দেখালি... এইনে রাখ...
এই বলে একটা ২০০০ টাকার নোট তাচ্ছিল্যের ভাবে ছুড়ে দিল সৌরভের দিকে...
সৌরভ টাকাটা উঠিয়ে অবিনাশের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো...
সৌরভ : ভাই...তুই আমায় ভুল বুঝলি...যাই হোক তুই খুশি হয়ে তোর সাধ্য মতন সাহায্য করেছিস আমায়...আজ তোর জন্মদিন...এই উপহারটা তোর জন্য এনেছিলাম..এখানে রাখলাম...
এই বলে হাতের বক্সটি একটা টেবিলের উপর রেখে আসতে আসতে বেরিয়ে গেলো সৌরভ...
রাত্রি বেলা বেডরুমে এসে জামা কাপড় ছাড়তে ছাড়তে হঠাৎ সৌরভের আনা ছোট বক্সটার দিকে চোখ গেল অবিনাশের...
অবিনাশ নিজের চাকরকে জিজ্ঞাস করলো...
অবিনাশ : এই ছোট বক্সটা কে এনেছিল ?
চাকর : এইটা....এইটা তো বাবু আপনার বন্ধু এনেছিল...আপনি বললে আমি এটা বাইরে ফেলে আসছি...
এই বলে বক্সটা নিতে এগোলো অবিনাশের চাকর...
হঠাৎ অবিনাশের কেমন যেনো মায়া হলো..তার মনে পড়ে গেলো ছোট বেলার তাদের সেই বন্ধুত্বের কথা গুলো...সেই গ্রামের স্কুলে পড়া...ছুটির পরে মিত্তিরদের বাড়িতে পেয়াড়া চুরি করা..সব যেনো ভেসে উঠলো তার চোখের সামনে...মনে মনে কেমন যেনো একটা স্নেহ জেগে উঠলো তার ছোট বেলার বন্ধুর জন্য...
অবিনাশ : না না থাক....ফেলতে হবে না...যাও তুমি...
চাকর : আচ্ছা বাবু...
এই বলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো চাকরটি।
অবিনাশ যেন কেমন হারিয়ে গেলো বক্সটার দিকে তাকিয়ে....ছোট বেলার সমস্ত স্মৃতি গুলো যেনো ক্রমশ মনে পড়তে লাগলো তার আর খালি বারবার মনে হতে লাগলো কি ভুল টাই না করলো..
এতো লোককে সাহায্য করে সে...আর ছোটবেলার এক বন্ধু সাহায্য চাইতে এসছিলো বলে সে এমন করলো....ইস... ছিছি...এমন করাটা ঠিক হয়নি...আসলে মদের নেশায় তখন রাগটা এমন চড়ে গেল... ইসস...খুব ভুল হলো...
কিন্তু এখন উপায় কি....সৌরভের তো ফোন নাম্বার টাও নেই তার কাছে...
এসবই ভাবছিল অবিনাশ হঠাৎ তার মনে পড়লো সৌরভ বলেছিল সে কোন এক মনোরমা সার্কাসে ম্যাজিক দেখায়। সাথে সাথে কম্পিউটারটা অন করে গুগলে মনোরমা সার্কাস সার্চ করতেই মনোরমা সার্কাস বলে একটা আর্টিকেল চোখে পড়লো অবিনাশের। একটা ফোন নম্বরও দেওয়া আছে সাথে..
নাম্বার টা মিলিয়ে ফোন করলো অবিনাশ....
রিং হয়ে কেটে গেলো ফোনটা...
একটু উদাস হয়ে ফোনটার দিকে তাকিয়ে ছিল অবিনাশ হঠাৎ ঘড়ির ঢং ঢং শব্দে হুস ফিরলো তার....
ঘড়িতে তাকিয়ে দেখলো রাত ১০ টা। মনে মনে ভাবলো এতো রাতে কোন সার্কাস খোলা থাকবে..যাক কাল সকালে অফিসে যাবার পথে দেখবো। এই বলে বিছানায় শুয়ে ছোট বেলার স্মৃতিগুলো ভাবতে ভাবতে কখন যেনো ঘুমিয়ে পড়েছিল অবিনাশ...
সকালে ফোনের শব্দে ঘুম ভাঙলো অবিনাশের...
অবিনাশ ঘুম চোখে ফোনটা ধরলো...
অবিনাশ : হ্যালো....অবিনাশ ব্যানার্জী স্পিকিং...
অচেনা ব্যক্তি : কাল রাতে এই নাম্বার থেকে ফোন এসছিল..
অবিনাশের মনে পড়ে গেলো কাল রাতের কথা গুলো। তাড়াতাড়ি বিছানায় উঠে বসলো অবিনাশ।
অবিনাশ : হ্যালো... হ্যালো...মনোরামা সার্কাস ?
অচেনা ব্যক্তি : হম মনোরমা সার্কাস...বলুন...কি দরকার..
অবিনাশ : বলছি আপনাদের ওখানে সৌরভ মন্ডল বলে কেউ কাজ করে ? ওই ম্যাজিক দেখায়..
অচেনা ব্যক্তি : হম...সৌরভ মন্ডল কাজ করে..
অবিনাশ : বলছি সে আমার বন্ধু...তার সাথে একটু দরকার ছিল..তার কন্টাক্ট নাম্বারটা একটু পাওয়া যাবে....
অচেনা ব্যক্তি : সরি...আমাদের এম্প্লয়ী দের কোন রকম ইনফরমেশন আমরা কাউকে দি না..আপনার বাকি কিছু দরকার থাকলে আমাদের অফিসে এসে কথা বলুন..
অবিনাশ ভাবলো ঠিক আছে চলো কাল ওভাবে অপমান করেছি..নিজে গিয়ে সামনা সামনি কথা বলাটাই বেশি ভালো হবে..
অবিনাশ : ঠিক আছে ঠিকানাটা বলুন একটু...
ঠিকানাটা নোট করে ফ্রেশ হয়ে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পরলো অবিনাশ।
আজ তার যেনো একটা আলাদাই আনন্দ হচ্ছিলো মনে মনে...ছোটবেলার বন্ধু...এতদিন পর আবার একসাথে...উফফ কত কথাই না হবে...আর কালকের জন্য সৌরভ ক্ষমা করে দেবে..ছোট থেকেইতো ও জানে অবিনাশের মাথা গরম। ছোট বেলাতেও তো কত বার এমন হয়েছে...এসব ভাবতে ভাবতে সেই ঠিকানায় এসে পৌঁছালো অবিনাশ..
কিন্ত কোথায় অফিস... এ তো শুধু ফাঁকা মাঠ আর মাঠের মাঝে একটা বড়ো কালো তাঁবু...
অবিনাশ মনে মনে ভাবলো সার্কাসের অফিস তো এরম তাঁবুই হবে...
মনে মনে একটু হেসে নিয়ে ধীরে ধীরে তাবুর দিকে এগোলো অবিনাশ।
তাঁবুর ভেতর ঢুকে অবিনাশ দেখলো একটা লোক একটা কালো আলখাল্লা পড়ে বসে আছে একটা টেবিলের সামনে..।
অবিনাশ তার দিকে এগিয়ে গিয়ে বললো...
অবিনাশ : নমস্কার...আমার নাম অবিনাশ ব্যানার্জী..আমি আপনাদের এখানে কাজ করে সৌরভ মন্ডল.. ওর ছোটবেলার বন্ধু...একটু দেখা করতে এসছি সৌরভের সাথে..একটু যদি ডেকে দেন..
আলখাল্লা পড়া ব্যক্তি : হম বুঝলাম....কিন্তু আমার এমপ্লয়ীদের সাথে তো আমার অনুমতি ছাড়া দেখা করা যাবে না....
অবিনাশ : মানে....মানেটা কি ? আমার বন্ধুর সাথে আমি দেখা করবো এতে আপনার অনুমতির কথা আসছে কোথা থেকে...( বেশ রাগের সাথেই চিৎকার করে বললো অবিনাশ )
আলখাল্লা পড়া ব্যক্তি : চিৎকার করে লাভ হবেনা মিস্টার অবিনাশ...যদি দেখা করতে হয় তাহলে আমার অনুমতি নিতে হবে...আর নয়তো আপনি আসতে পারেন...
অবিনাশ রেগে গিয়ে বললো..
অবিনাশ : তুমি জানো আমি কে...
তোমার মতন কত লোক আমার অফিসের বাইরে দাড়িয়ে থাকে...আমি এখুনি চাইলে তোমার এই সার্কাস বন্ধ করিয়ে দিতে পারি।
আলখাল্লা পড়া ব্যক্তি : সে হয় তো আপনি পারেন....কিন্তু এখন আপনার বন্ধুর সাথে দেখা করতে গেলে আমার অনুমতি নিতে হবে...নাহলে দেখা পাবেন না।
অবিনাশ এবার বিরক্ত হয়ে বললো...
অবিনাশ : ঠিক আছে...কি করতে হবে অনুমতি পেতে বলো...
আলখাল্লা পড়া ব্যক্তি : তেমন কিছু না...শুধু আমার সাথে বসে ৫ দান তাস খেলতে হবে...
অবিনাশ এবার আরও রেগে গিয়ে বললো...
অবিনাশ : এই তুমি কী পাগল ?? দেশের বড়ো ব্যবসায়ীদের মধ্যে আমি একজন আর তুমি চাইছো আমি সময় নষ্ট করে এখন তাস খেলতে বসি তোমার সাথে...
তোমার মতন মানুষের সাথে কথা বলতে যাওয়াটাই ভুল...ফালতু সময় নষ্ট শুধু শুধু... রাখো তোমার অনুমতি তোমার কাছে...আমার দরকার নেই দেখা করার...আর দাড়াও তোমার এই সার্কাস আজকের মধ্যেই কি ভাবে বন্ধ করতে হয় আমি দেখছি...আমার স্ট্যাটাস সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই তোমার...
এই বলে তাঁবু থেকে বেরোতে যাবে অবিনাশ হঠাৎ আলখাল্লা পড়া ব্যক্তিটি বলে উঠলো...
আলখাল্লা পড়া ব্যক্তি : মিস্টার অবিনাশ.... হীরা তো আপনি নিশ্চই প্রচুর দেখেছেন...কিন্তু এরম হীরা কখনো দেখেছেন কি...
বলে একটা পিংপং বলের মাপের একটা হীরা সামনে বার করে রাখলো...
না সত্যি অবিনাশ এরম হীরা দেখেনি কখনো...বেশ লোভ হলো অবিনাশের...সে হাতে নিয়ে হীরাটা কে নেরেচেরে দেখলো...একদম আসল হীরা এবং এই হীরা থেকে কেমন এক আশ্চর্য আলো বেরোচ্ছে যা যেনো অবিনাশ কে মোহিত করে তুলছে...অবিনাশের কেমন যেনো জেদ চেপে গেলো যে হীরাটা তাকে পেতেই হবে...
অবিনাশ : কত দাম এইটার ? তুমি যা দাম বলবে পেয়ে যাবে...দাম বলো...
আলখাল্লা পড়া ব্যক্তি : এই হীরা বিক্রি হয় না মিস্টার অবিনাশ...এই হীরা জিততে হয়...আমিও জিতেছিলাম...আপনাকেও জিততে হবে...
অবিনাশ : কি করতে হবে বলো...
আলখাল্লা পড়া ব্যক্তি : ওই যে বললাম ৫ দান তাস খেলতে হবে...সেখানে জিতলে হীরাও পাবেন আর বন্ধুর সাথে দেখা করার অনুমতিও....
অবিনাশ বেশ কিছুক্ষন ভাবলো...
তাস তো সে ভালই খেলতে তার কপাল ও ভালো যায় তাসে.. আর অসুবিধা কি আছে তাকে তো আর কিছু লাগাতে হচ্ছে না। জিতলে ভালো আর না জিতলে পড়ে পুলিশ নিয়ে এসে এই ব্যাটাকে চুরির দায়ে ফাঁসিয়ে ব্যাটার থেকে হীরেটা নিয়ে নেবো..।
আলখাল্লা পড়া ব্যক্তি : কি হলো মিস্টার অবিনাশ...ভয় পাচ্ছেন নাকি ?
অবিনাশ : ভয়.... তাও আবার এরম এক ফালতু সার্কাসের পাগল মালিককে...(হেসে উঠলো অবিনাশ)
অবিনাশ ব্যানার্জী কাউকে ভয় করে না....
আলখাল্লা পড়া ব্যক্তি মুচকি হেসে বললো...
আলখাল্লা পড়া ব্যক্তি : তাহলে আর দেরি কিসের...এসো শুরু করা যাক...
তবে নিয়ম গুলো একবার শুনে নাও...
৫ দান তাস হবে...
প্রতি দানে যে জিতবে সে ওপর জনের শরীরে যেকোনো একটা পার্ট একবার ছুয়ে দেখতে পারে...
এভাবে ৫ দান অব্দি যে বেশি জিতবে সেই জয়ী হবে...।
অবিনাশ এবার একটু আশ্চর্য হল... এ কেমন নিয়ম...লোকটার মতলব ঠিকতো ? লোকটাকে দেখে একটু পাগলতো প্রথমেই মনে হয়েছিল এখন তো মনে হচ্ছে পুরোপুরিই পাগল...
আবার বলে উঠলো আলখাল্লা পড়া ব্যক্তিটি..
আলখাল্লা পড়া ব্যক্তি : কি অবিনাশ বাবু...রাজি তো নিয়মে ? খেলবেন তো ?
অবিনাশ : হম হম রাজি রাজি খেলবো..
শুরু হলো খেলা...
এবং আশ্চর্য ভাবে আজ যেনো অবিনাশের ভাগ্য একদমই তার সঙ্গে ছিল না...এক এক করে তিন দান জিতে গেল আলখাল্লা পড়া ব্যক্তিটি এবং এক এক করে অবিনাশের হাত, পা, বুক ছুয়ে দেখলো ব্যক্তিটি...
অবিনাশ এবার বিরক্ত হয়ে বললো...
অবিনাশ : ঠিক আছে...অনেক হয়েছে....তুমি তিন দান জিতে গেছো...তো তুমিই জয়ী...আমি চললাম...
এই বলে উঠতে যাবে অবিনাশ...হঠাৎ আবার বলে উঠলো আলখাল্লা পড়া ব্যক্তিটি...
আলখাল্লা পড়া ব্যক্তি : মিস্টার অবিনাশ...এতো সহজে চলে গেলে হবে...খেলা তো ৫ দানের...এখনও তো দু দান বাকি...
আচ্ছা চলুন আপনার জন্য স্পেশাল অফার...বাকি দুই দানের যদি একটি ও আপনি যেতেন তাহলে আপনি জয়ী হবেন...
এবার অবিনাশ ভাবলো শেষ দু দান দেখেই নি যদি জিতে যাই...এই হীরে যেনো অবিনাশ কে আজ কেমন লোভী করে তুলেছে...তার মন যেনো সমস্ত রকম চেষ্টা করতে চাইছে সেই হীরেকে পাবার...
অবিনাশ এবার বললো : আচ্ছা ঠিক আছে...তবে এটাই শেষ দু দান এবং এবার তাস আমি দেব...
আলখাল্লা পড়া ব্যক্তি : নিশ্চয়ই...
এই বলে তাসের বান্ডিলটা অবিনাশের দিকে এগিয়ে দিল আলখাল্লা পড়া ব্যক্তিটি...
চতুর্থ দান শুরু হলো...কিন্তু এবারও ভাগ্য লক্ষ্মী অবিনাশ কে সাথ দিল না। ফের হারলো অবিনাশ এবং সাথে সাথেই আলখাল্লা পড়া ব্যক্তিটি এসে হাত দিল অবিনাশের গলায়....খুব নোংরা যেনো সেই স্পর্শ...
অবিনাশ রেগে গিয়ে বললো...
অবিনাশ : উফফ...ভালো লাগছে না...তাড়াতাড়ি পরের দান শুরু করো...শালা ছোটলোক কোথাকার...
কিন্তু এবার আর কোনো উত্তর করলো না আলখাল্লা পড়া ব্যক্তিটি..
শুধু একবার দেখলো অবিনাশের দিকে....মুখে যেনো তার কেমন একটা তৃপ্তির হাসির ছাপ...
শুরু হলো শেষ দান....
কিন্তু নাহ....পরিণামে কোনো পরিবর্তন হলো না। পুনরায় জিতলো সেই আলখাল্লা পড়া ব্যক্তিটি...
এবং এবার সে যেনো বিদ্যুতের বেগে ছুটে এসে জড়িয়ে ধরলো অবিনাশের পুরো মুখটা...
খুব অসহ্য লাগতে লাগলো অবিনাশের...একে হীরে হারানোর দুঃখ....তার উপর এই অসহ্যকর স্পর্শ....রাগে উঠে এক ধাক্কা মারে আলখাল্লা পড়া ব্যক্তিটি কে দূরে ছুড়ে ফেলে দিল অবিনাশ...
মুখ উল্টে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো আলখাল্লা পড়া ব্যক্তিটি কিন্তু তাতেও যেনো রাগ কমলো না অবিনাশের...
মাটিতে পড়ে থাকা আলখাল্লা পড়া ব্যক্তিটিকে মারার উদ্যোগে তার সামনে গিয়ে মুখটা নিজের দিকে ঘোরাতেই বুকের রক্ত হিম হয়ে গেলো অবিনাশের...
অবিনাশ : একি...... এ তো..... এ তো... এ তো আমি...
আলখাল্লা পড়া ব্যক্তিটি এখন হুবহু অবিনাশের মতন দেখতে...
নিজের চোখ কে বিশ্বাস করতে পারছে না অবিনাশ...
তাড়াতাড়ি এক ঝটকায় উঠে দাড়ালো অবিনাশ....
উঠে দাঁড়াতেই সামনে রাখা আয়নাটায় চোখ গেলো অবিনাশের...
সামনের আয়নায় অবিনাশের প্রতিবিম্ব পড়ছে কিন্তু এ মুখ... এ মুখ তো অবিনাশের না... এ মুখ তো...সেই আলখাল্লা পড়া লোকটার...
অবিনাশ রাগের সাথে চিৎকার করে জিয়াগস করলো...
অবিনাশ : একি করেছো....কে তুমি ????
এবার আবার আশ্চর্য হলো অবিনাশ...
এ গলা তার নয়...তাহলে কার আওয়াজে কথা বলছে সে...পরক্ষনেই তার মনে পড়লো... এ তো.... এ তো সেই আলখাল্লা পড়া লোকটার আওয়াজ....কিন্তু এ কি করে সম্ভব....
এবার উত্তর দিলো আলখাল্লা পড়া লোকটি...
আলখাল্লা পড়া লোক : আমি কে...
অট্টহাসি হেসে জবাব দিলো লোকটি...
আমি অবিনাশ ব্যানার্জী...দেশের বড় ব্যবসায়ীদের মধ্যে একজন...
একি.... এ যে অবিনাশের গলা...
নিজের কান কে বিশ্বাস করতে পারছিলনা অবিনাশ...একি হলো তার সাথে...আবার কি করবে সে...
মুহূর্তের মধ্যে যেনো সব কিছু হারিয়ে গেলো অবিনাশের...তার পরিচয়...তার নাম যশ সমস্ত কিছু যেনো মুহূর্তের মধ্যেই চলে গেলো তার থেকে...রাগে দুঃখে দিকবিদিক জ্ঞান শূন্য হয়ে পড়ল অবিনাশ...
মুহুর্তেই ঠিক করলো...তার নাম যশ যদি সে ভোগ না করতে পারে তাহলে কাউকে সে তা ভোগ করতেও দেবে না...
মুহুর্তেই মধ্যেই সামনের লোকটিকে খুন করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সামনে পড়ে থাকে একটা লোহার রড হাতে নিয়ে আক্রমণ করতে এগোলো অমনি তার পায়ে কিছু একটা বেঝে সে হুড়মুড়িয়ে পড়লো তাঁবুর দেওয়ালে এবং দেওয়াল সমেত ভেঙে পড়লো মাঠের উপর...সূর্যের আলোতে ভরে গেলো তার মুখ.......
"বাবু.... ও বাবু....উঠবেন না...বেলা বয়ে গেলো যে..." চিৎকার করে করে ডাকছে অবিনাশের চাকর...
বেলার রোদ এসে পড়ছে অবিনাশের মুখে...
চোখ খুলেই তাড়াতাড়ি উঠেই সামনে আয়নার দিকে তাকালো অবিনাশ...
হ্যাঁ....আয়নার প্রতিবিম্বের মুখ অবিনাশেরই..
চাকর বলে উঠলো : বাবু সেই কখন থেকে ঘুমাচ্ছেন....কাল রাতে আপনার বন্ধু চলে যাবার পরই তার দেওয়া বক্সটা নিয়ে রুমে চলে এলেন পার্টি ছেড়ে...সবাই কত ডাকলো আপনাকে...কোনো সাড়া শব্দ দিলেন না...রাতে খেলেনও না...আজ এত বেলা হয়ে গেছে উঠছেন না দেখে ডাকতে এলাম আপনাকে...দেখলাম এই বক্সটা বুকে জড়িয়ে ঘুমাচ্ছেন...
এই বলে চাকর একটা বক্স এগিয়ে দিল অবিনাশের দিকে...
অবিনাশ বক্সটা তাড়াতাড়ি খুললো...
বক্সের ভেতর একটা ছোট্ট কাগজে লেখা....
" আসা করি তোকে একটা ভালো ম্যাজিক দেখাতে পারলাম...মনেহয় এবার সার্কাসের নামটা ভালোই মনে থাকবে তোর...পারলে কখনো দেখে যাস "ভাই"...
ভালো থাকিস..
শুভ জন্মদিন.."