Friday, December 4, 2020

সাফল্য

          সাফল্য

জানি একদিন আসবে তুমি,
আসবে, হয়তো কোনো এক অজানা পথে,
অজানা কোনো ক্ষণে,
কোনো এক অজানা রূপে।
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসাদে,
হয়তো হবো ক্লান্ত আমি,
হয়তো হবো বিধ্বস্ত বা হয়তো বিপর্যস্ত।
তবু অপেক্ষায় থাকবো আমি,
জানি আমি তব আসবে তুমি,
অজানা পথে, অজানা রূপে,
কোনো অলীক স্বপ্নের সাজে,
প্রতীক্ষার শত তমশার মাঝে,
একদিন ঠিকই আসবে তুমি,
একদিন কাছে আসবে তুমি।


Thursday, October 1, 2020

বন্ধুবাসা

বন্ধু...
হম....
ঠিক তুই শুধু... বন্ধুই বটে....
মনে আছে সেই দিন যেদিন প্রথম দেখেছিলাম তোকে...
একটা সাদা জামা আর নীল জিন্সে...
তাকিয়ে ছিলাম বিভোর ভাবে...
তবে বুঝেছিলাম ধরা ছোয়ার বাইরে তুই...
হমম.... ধরা ছোয়ার বাইরে তুই....
তবে আলাপ কিন্তু হল...
আলাপ হল তবে ভাগ্যের লেখাতে অন্যের প্রেমের লেখক রূপে...
শুরু হলো তাদের প্রেম....আর আমাদের.......
আমাদের....আমাদের বন্ধুত্ব....
ওই তোর সেই ছোট্ট ছোট্ট খেঁয়াল রাখা গুলো...আমাদের বন্ধুত্ব...
রাতে টিউশন ফিরতে রাত হলে তোর আমায় বাড়ি পৌঁছে দেওয়া...আমাদের বন্ধুত্ব...
তোর শরীর খারাপে তোর বাড়ি গিয়ে তোর পাশে বসে থাকা...আমাদের বন্ধুত্ব...
আমার রাগ জেদ গুলো তোর সহ্য করা...আমাদের বন্ধুত্ব...
অন্যের প্রেমের গল্পো লিখতে অজান্তেই একে অপরে তে হারিয়ে যাওয়া....আমাদের বন্ধুত্ব...
তবে আজ...আজ তুই তো অন্য কারোর...
অন্য কারোর স্বপ্নের সাথী তুই...
পাশে তব আমি আছি আজও তোর... 
তবে সাথে তুই অন্য কারোর...
হয়ত এভাবেই পাশে থেকে যাব তবে সাথী হবো না কখনো....
রয়ে গেলাম শুধু বন্ধু আমি তোর...
তুই ভালোবাসা হলি অন্য কারোর...
ভালোবাসা হলি অন্য কারোর...

@সুদীপ দে

Sunday, September 20, 2020

প্রফেসি

"বলি হরর স্কোপ দেখা হলে একটু খবরের কাগজটা দেবে নাকি ?" তপন বাবুর কথাটা শুনে একটু হকচকিয়ে উঠলো অখিলেশ।
"আরে না না, ওই একটু দেখছিলাম আর কি...এই নিন.."  এই বলে খবরের কাগজটা এগিয়ে দিল অখিলেশ।
" কি না না...রোজই তো দেখি অফিসে এসে কতক্ষন ধরে হরর স্কোপ এর পাতাটা খুলে বসে থাকো। বলি কি, এরম খবরের কাগজে হরর স্কোপ না দেখে, যাও কোনো ভালো কাউকে দিয়ে একটু ভাগ্য বিচার করিয়ে এসো। রমেন বাবু বলছিল তাদের বাড়ির পিছনের মাঠটায় নাকি এক বাবাজি আস্থানা বেঁধেছেন। বাবাজির নাকি অসীম ক্ষমতা ভুত ভবিষ্যৎ সব তার নখ দর্পণে। তোমার বাড়ি তো রমেন বাবুর বাড়ির কাছেই। অফিস থেকে ফেরার পথে একবার ঘুরে গেলে পারো তো।" বললেন তপন বাবু।
কথাটা বেশ ভালই লাগলো অখিলেশ এর। সে মনে মনে ঠিক করলো আজ বাড়ি ফেরার পথে একবার ঘুরে যাবে।
সন্ধ্যে ৭ টা। বাবাজির আস্তানায় পৌঁছালো অখিলেশ। বাবাজির বেশ সৌম্য দর্শন। দেখে বেশ ভক্তি হলো অখিলেশ এর। 
বাবাজিকে জোর হাত করে প্রণাম করায় বাবাজি অখিলেশ কে বললো
বাবাজি : " ভবিষ্যৎ নিয়ে এত চিন্তা কেন তোর ? কি করবি এসব জেনে পাগল ?? "
অখিলেশ এবার একটু আশ্চর্য হলো 
অখিলেশ : " বাবাজি কি করে জানলো যে সে ভবিষ্যৎ জানতে এসছে ?? "
বাবাজি এবার অখিলেশ এর দিকে তাকিয়ে একটু হেসে বললো
বাবাজি : " সবই ভগবানের লীলা বুঝলি....ভগবান যা করবে ভালোর জন্যই করবে....ভালো কাজ কর....ভবিষ্যৎ ও ভালই হবে..."
অখিলেশ : " না বাবা, কিন্তুু আমি যে অনেক আশা নিয়ে এসছিলাম..."
বাবাজি : " আচ্ছা, ঠিক আছে তোর একটা প্রশ্নের উত্তর আমি দেব....ভেবে বল তুই কি জানতে চাস..?"
অখিলেশ অনেক ভেবে এবার জিজ্ঞাস করলো....
অখিলেশ : " আচ্ছা বাবা, আমি কি ভাবে মারা যাবো ? "
এবার বাবাজি হেসে বললো : 
বাবাজি : 
" যাকে বাসিস সবচেয়ে বেশি ভালো...
জীবনে তোর সবচেয়ে কাছের যে...
আয়ুকালের সমাপ্তিতে....
তোর মৃত্যুর কারণ হবে সে..."

এই বলে নিজের আসন ছেড়ে উঠে যেতে শুরু করলো  বাবাজি।
এই দেখে অখিলেশ ডাক দিল...
অখিলেশ : "বাবাজি...বাবাজি শুনুন...একটু দাড়ান....কার কথা বলছেন আপনি....বাবাজি..."
বাবাজি কিন্তু আর ফিরে তাকালো না....শুধু বলে গেলো ...
বাবাজি : 
" বৃথাই ডাকিস বারে বারে তুই..
দেখা আর কভু পাবিনা মোর..
শুধু দেখতে পাবি আবার সেদিন মোরে...
যেদিন মৃত্যু আসবে নিকট তোর....।।"
আজ বাড়ি ফেরার সময়ে বাবাজির কথা গুলোই ভাবছিল অখিলেশ..." সবচেয়ে বেশি যাকে ভালোবেসে সেই মৃত্যুর কারণ হবে...!!! তার তো ভালোবাসার মানুষ খুবই সীমিত। ছেলে মেয়ে নেই তার। ভাই বোন ও নেই। মা বাবা দুজনেই গত হয়েছে। আপন বলতে শুধু তার বউ সুজাতা। তাহলে.....তাহলে কি তার সুজাতাই হবে তার মৃত্যুর কারণ...!!! 
না না এ হতে পারে না....সুজাতা তো কতো ভালোবাসে তাকে...না না  সুজাতা হতেই পারে না..। কিছু একটা নিশ্চই ভুল হয়েছে...সুজাতা কেন তাকে মারতে চাইবে...
হঠাৎ......
একটা কথা মাথায় আসতে সব চিন্তা যেন তালগোল পাকিয়ে গেল অখিলেশ এর....
সুজাতার সাথে তো তার অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ হয়েছিল । প্রথম প্রথম সুজাতা একবার বলেছিল সে নাকি একজনকে ভালোবাসতো খুব....কিন্তুু পরিস্থিতির চাপে সে এই বিয়েতে মত দিতে বাধ্য হয়...তাহলে....তাহলে কি সুজাতার এখনও যোগাযোগ আছে সেই প্রেমিকের সাথে আর সেই প্রেমিকের সাথে মিলেই কি তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করছে সুজাতা.….???
এসব ভাবতে ভাবতে বাড়ি ফিরলো অখিলেশ। 
গেটটা খুলেই হাসি হাসি মুখে সুজাতা বললো...
সুজাতা : কি আজ এত দেরি করলে...??
অখিলেশ : না মানে অফিসে একটু কাজের চাপ ছিল..
সুজাতা : তো সেটা তো একটু জানাতে পারো যে আসতে দেরি হবে...বেকার আমি তাড়াহুর করি...
অখিলেশ : তাড়াহুর..!!! কিসের তাড়াহুর??
সুজাতা : আরে কিসের আবার....ওই তুমি আসবে একটু খাবার করে রাখবো সেই আর কি...
কথাটা যেন ঠিক মনে ধরলো না অখিলেশ এর…..
মনে মনে ভাবলো...
অখিলেশ : শুধু কি খাবার গরম নাকি পুরনো প্রেমিকের সাথে কিছু সময় বেশি কাটানোর সুযোগ...
সুজাতা : কি হল....কি ভাবছো...যাও হাত পা ধুয়ে এসো আমি খাবার বারছি...
অখিলেশ : না কিছু না...
এই বলে বাথরুমে হাত পা ধুতে গেল অখিলেশ..
বাথরুমে ঢোকা মাত্র সন্দেহটা যেন ১০০ গুন বেড়ে গেল অখিলেশ এর।
অখিলেশ : "বাথরুমে এতো সিগারেটের গন্ধ কেন...?
বুঝেছি......
পুরনো প্রেমিক বাথরুমে সিগারেট খেয়েছে.....প্রমাণ পেয়েছি.....এবার হাতে নাতে ধরবো.....আমায় খুনের ফন্দী করা বার করছি....নষ্ট মেয়ে কোথাকার... ছি ছি..."
সাথে সাথে বাইরে এসে প্রশ্ন করলো অখিলেশ...
অখিলেশ : " কি ব্যাপার বাথরুমে এতো সিগারেটের গন্ধ কেন.....কি আমি যাবার পর কেউ আসে নাকি...??"
প্রশ্নটা শুনে একটু আশ্চর্যই হলো সুজাতা...
সুজাতা : " কি সব বলছে....কে আসবে...?? মাথাটা ঠিক আছে তো ? আর সিগারেটের গন্ধ....সে আর বলো না কদিন ধরে কিছু পাড়ার বকাঠে ছেলে এসে এই আমাদের জানালার নিচে দাড়িয়ে আড্ডা দেয়....সিগারেট খায়...কাল ভাবছি একবার ভোলাদা কে বলবো...."
অখিলেশ : " হম হম সেই.....নিজের কুকীর্তি পাড়ার ছেলেদের দোষে দেখিয়ে ঢাকবার চেষ্টা চলছে...বুঝিনা যেন.."
মনে মনে ভাবলো অখিলেশ যদিও মুখে কিছু বললো না সে...
রাতে খেতে বসে সে দেখলো সুজাতা একটাই প্লেট বেড়েছে....
অখিলেশ : " কি ব্যাপার....তোমার প্লেট কোথায় ? তুমি খাবে না....? "
সুজাতা : " ও আরে তোমায় বলা হয়নি...আরে কদিন ধরে শরীরটা ভালো লাগেনা...কোনো কাজে এনার্জি পাইনা তাই একটু ডক্টরের কাছে গেছিলাম দুপুরে...তো উনি সব দেখে বললো আমার প্রায় ২০ কেজি ওভার ওয়েট আছে...তাই ঠিক করেছি এখন একমাস একবারই খাবো সারাদিনে.....পুজোর আগে ওয়েটেটা কমাতেই হবে….যাইহোক তুমি খেয়ে নাও...তোমার পছন্দের খাবার করেছি আজ..."
অখিলেশ : " আচ্ছা এই ব্যাপার....তার মানে প্রেমিকের সাথে প্ল্যান করে খাবার এ বিষ মেশানো হয়েছে ....তাই নিজে না খাবার একটা অজুহাত আগে থেকে তৈরি করে রেখেছে..."
সুজাতা : " কি হলো আবার কি ভাবছো.... খেয়ে নাও.."
অখিলেশ : " না কিছু না....বলছি পেটটা না ভালো লাগছে না...তুমি খাবারটা রেখে দাও...আমি রাতে খিদে পেলে খেয়ে নেব.."
সুজাতা : " ওমা...কি হলো আবার...একটু খাও...ওষুধ খাবে কি ? "
অখিলেশ : " না  না তেমন কিছু না...ঠিক হয়ে যাবে... আচ্ছা আমি শুতে যাচ্ছি..."
এই বলে ঘরে শুতে এলো অখিলেশ...
পরদিন একটু তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে অফিসে বেরিয়ে গেল সে...সত্যি বলতে সারারাত ঘুম হয়নী অখিলেশ। সারারাত শুধু সে বাবাজির কথা গুলোই ভেবেছে...আজ অফিসে এসেও কোনো কাজে যেন মন লাগছে না অখিলেশ এর...
তপন বাবু "কি হে গেছিলে নাকি কাল বাবাজির কাছে ?"
কথাটা শুনে আচমকা বেশ হকচকিয়ে উঠলো অখিলেশ।
অখিলেশ : " ও তপনদা আপনি....না না যাওয়া হয়নি..কি হবে ওসব দিয়ে..."
তপন বাবু : " যাঃ...একটা ভালো সুযোগ হাতছাড়া করলে তবে..."
অখিলেশ : " কেন হাতছাড়া কেন ? "
তপন বাবু : " আরে আজ সকালে আমি একবার গেছিলাম... শেযার মার্কেটে কিছু টাকা লাগাবো ঠিক করলাম তাই ভাবলাম একটু বাবাজিকে জিজ্ঞাস করবো কিন্তু গিয়ে শুনলাম বাবাজি নাকি কাল সন্ধ্যে থেকেই নিখোঁজ...কপাল টাই খারাপ আমার আর কি করবো.."
অখিলেশ : " হম আর কি করবেন..."
হঠাৎ অফিসের পিওন এসে সামনে একটা সিসি রেখে বললো
অফিস পিওন : " বাবু আপনার কার্বনিক অ্যাসিড...কুড়ি টাকা বেঁচেছে.."
তপন বাবু : " দুটো চা...
এই বলছি একটু চা চলবে তো ?"
অখিলেশ মাথা নেরে সম্মতি জানালো...
তপন বাবু : " হম তাহলে দুটো চা বলে দে আর বাকী তুই রেখে দে..."
অখিলেশ : " তো হটাৎ কার্বনিক অ্যাসিডের দরকার পড়লো কেন...? "
তপন বাবু : " আরে সে আর বলো না…..বাড়ির গেটের পাশে একটা কিসে গর্ত করেছে...ইদুর নাকি সাপ ঠিক বুঝছি না....তাই..."
অখিলেশ : " তো ইদুর নাকি সাপ না জেনেই কার্বনিক অ্যাসিড আনিয়ে নিলে...?"
তপন বাবু : " যাচাই করবো আবার কি...এখন কি অপেক্ষা করবো কবে ওখান থেকে সাপ বেরিয়ে কামড়াক....দেখো ভাই শত্রুকে সুযোগ দিতে নেই...আগেই আক্রমণ করে নিঃশেষ করে দিতে হয়...বুঝলে..??? 
তাই আজই গিয়ে গর্তে অ্যাসিড ঢালবো..."
এই বলে উঠে নিজের টেবিলে গেল তপন বাবু। কিন্তু তপন বাবুর কথাটা যেন বারবার মাথার মধ্যে ঘুরতে লাগলো অখিলেশ এর...."শত্রুকে সুযোগ দিতে নেই...শত্রুকে সুযোগ দিতে নেই...আগেই আক্রমণ করে নিঃশেষ করে দিতে হয়..."
বিকেল ৪ টে... 
অফিস থেকে আজ একটু তাড়াতাড়ি বেরোলো অখিলেশ...আজ অফিসে দিনটা খুব একটা ভালো গেলো না তার..সারাদিন শুধু বাবাজির কথা গুলোই চিন্তা করেছে সে...
অখিলেশ : " ছি ছি...শেষে তার আদরের স্ত্রী যাকে সে এতো ভালোবাসে...এত বিশ্বাস করে সেই কিনা নিজের পুরনো প্রেমিকের সাথে মিশে তাকে খুন করতে চাইছে... ইশ... ভগবান কেন করলে আমার সাথে এরম..??"
সাধারণত অফিসে কাজে ভুল হয়না অখিলেশ এর কিন্তু আজ এসব চিন্তায় একাধিক বার কাজে ভুল করে বসের থেকে অল্পবিস্তর কথাও শুনতে হয় তাকে...সত্যি বলতে এসব ভাবতে ভাবতে তার নিজেকেই তার যেন কেমন অসুস্থ লাগছে...রাতে ঘুম নেই..খাওয়া নেই...সব সময় মৃত্যু ভয়...এভাবে চললে ধীরে ধীরে তো সে পাগল হয়ে যাবে...না এভাবে চলতে দেওয়া যাবে না...কিছু একটা বিহিত করতেই হবে...
হঠাৎ আবার তার তপন বাবুর কথা গুলো মাথায় এলো তপন বাবু : " শত্রুকে সুযোগ দিতে নেই...আগেই আক্রমণ করে নিঃশেষ করে দিতে হয়..."
বিকেল ৫ টা...বাড়িতে পৌঁছে দরজায় তালা দেওয়া দেখে আশ্চর্য হল অখিলেশ...
নিচে গিয়ে দারওয়ানকে জিজ্ঞাস করায় সে বললো যে সুজাতা নাকি একজন মাঝ বয়েশি যুবকের সাথে বেড়িয়েছে..
কথাটা শোনা মাত্র মাথাটা আগুন হয়ে গেলো অখিলেশ এর..। 
অখিলেশ : " ছি ছি সুজাত এতো নীচে নেমে গেছে...কাল আমি ধরে ফেলে ছি বলে আজ প্রেমিককে নিয়ে বাইরে ফুর্তি করতে গেছে...ছি ছি.."
নিজের ব্যাগ থেকে ডুবলিকেট চাবিটা বার করে ফ্ল্যাটের গেট খুলে ভেতরে গেল অখিলেশ..আজ ফাঁকা ঘরটা তার যেন বেশ ভালো লাগছিলো..অদ্ভুত একটা শান্তি যেন পাচ্ছিল সে...কোনো মৃত্যু ভয়, কোনো চিন্তা যেন তাকে তাড়া করে বেরাচ্ছিলো না...কিন্তুু এ শান্তি কতক্ষনে র....একটু পরই তো এসে যাবে সুজাতা...না একটা কিছু উপায় আজ করতেই হবে...তপন বাবুই ঠিক বলেছেন....শত্রুকে সুযোগ দিতে নেই...সত্যি আর নয়...এবার আক্রমণ করবে সে.. সেও এবার বাড়ির কাল নাগিনী কে নিঃশেষ করবে...
কিন্তু কি করবে সে....কিছু হলে তো পুলিশ কেস হবে...তখন তো আরো বেশি প্রবলেম হবে...কি করা যায়....এসব ই ভাবছিল হঠাৎ একটা বুদ্ধি খেলে গেল অখিলেশ এর মাথায়...
আচ্ছা যদি খুন টা খুন না হয়ে হয় কোনো অ্যাকসিডেন্ট...তাহলে...তাহলে তো আর কোনো অসুবিধা নেই....দুর্ঘটনার তো আর শাস্তি হয় না...
কিন্তু কি ভাবে করবে এটা সে...একটা প্ল্যান তাকে বার করতেই হবে...
হঠাৎ তার খেয়াল এলো তাদের ফ্ল্যাটের ছাদ টায় পাঁচিল দেওয়া নেই....আর সুজাতা বেশ কদিন ধরেই তাকে বলেছিল একদম ভোরবেলা ছবি তুলবে..নতুন ক্যামেরা টা কেনার পর আর তেমন ছবি তোলা হয়নি...তাহলে এই তো সুযোগ...কাল ই তোলা হবে সুজাতার ছবি....শেষ ছবি...
এসব ভেবে মনে মনে যেন এক অদ্ভুত আনন্দ পেল অকিলেশ..
হঠাৎ কলিং বেলের আওয়া যে চমকে উঠলো অখিলেশ..
সুজাতা এসেছে...
অখিলেশ : " কোথায় গেছিলে ? "
সুজাতা : " আরে এই তো কাছেই..."
অখিলেশ : " হম আমি ৫ টায় এসে তালা দেখে দারোয়ানকে জিজ্ঞাস করায় ও বললো তুমি কোন এক ছেলের সাথে বেরিয়েছো..."
সুজাতা : " আরে ছেলে বলতে আমার বান্ধবী..আরে ওই যে রিমা ওর হাসব্যান্ড...সে জানো না ওদের নতুন ফ্ল্যাট রং হোয়েছে সে এখন আমাকে দেখাবেই...আমি বললাম আমার শরীর ভালো নেই...শুনে সে ওর হাসব্যান্ড এসে গাড়ি করে নিয়ে গেল...যাই হোক তুমি আজ আগে আসবে সেটা জানাতে পারতে তাহলে আর যেতাম না.."
অখিলেশ মনে মনে ভাবলো..
অখিলেশ : " হম হম আগেভাগে জানালে কি আর তোমার আসল রূপটা জানতে পারতাম.."
সুজাতা : " কি হলো আবার কি ভাবছো...কিছু খেয়েছো এসে ???"
অখিলেশ : " হম হম খেয়েছি...রাতে আর খাবো না...।
শোনো না বলছি তুমি অনেক দিন ধরেই বলছো একটা সকাল বেলার সূর্য ওঠার ফটোসুট করার...চলো কাল ভোর বেলা ছাদে গিয়ে করবো...ঠিক আছে..."
সুজাতা : " বাঃ...হঠাৎ এতো সুবুদ্ধি হলো কি করে...নিশ্চই নিজের ডিপি চেঞ্জ করবে তাই আমার অজুহাতে নিজের ছবি তুলবে বুঝেছি..."
এই বলে একটু হাসলো সুজাতা..
অখিলেশ : " না না কাল সত্যি তুলবো তোমার ছবি.."
ঠিক যেমন ভাবনা তেমনি কাজ...পরদিন সকালে তাড়াতাড়ি উঠে সুজাতা কে রেডী হতে বলে ক্যামেরা নিয়ে ছাদে গেল অখিলেশ...
সবে পূবের আকাশ আলো করে রাতের অবসান ঘটিয়ে দিবালোকের উদয় হচ্ছে...সত্যি কি অপূর্ব দৃশ্য...
অখিলেশ : "সুজাতার জীবনের শেষ দৃশ্যটা সত্যি অপূর্ব.." 
মনে মনে ভাবলো অখিলেশ..
এমন সময় সুজাতাও এসে হাজির...
অখিলেশ : "উফ...!!!! কি অপূর্ব লাগছে সুজাতাকে...সত্যি ভাবতেই অবাক লাগে এরম সৌম্য উজ্জল রূপের পিছনে লুকিয়ে আছে এক দুশ্চরিত্রা কাল নাগিনী..ছি ছি..."
সুজাত : " কি হলো দাড়িয়ে দেখছো কি...কোথায় দাড়াব বল..ছবি কিন্তু ভালো আসা চাই...এক হাজারের কম লাইক আসলে কিন্তু হবে না..."
এই বলে একটু হাসলো সুজাতা...
অখিলেশ : " হম হম লাইক দিয়ে ভরে যাবে চিন্তা করো না...
আচ্ছা বলছি তুমি একদম ধারে গিয়ে দাড়াও সূর্যের দিকে মুখ করে...আমি তোমার ব্যাক প্রোফাইল থেকে একটা ছবি তুলবো...কাল ফেইসবুকে একজনের দেখলাম খুব সুন্দর...তোমার ও ওরম তুলবো.."
সুজাতা : " আচ্ছা ঠিক আছে..."
সুজাতা গিয়ে ছাদের একদম ধারে পেছন ফিরে সূর্যের দিকে মুখ করে দাড়ালো....
এবার যেন শরীরে একটা শিহরণ খেলে গেল অখিলেশ এর
....এই তো সুযোগ....তার সমস্ত কষ্ট...ভয়ের থেকে মুক্তির সুযোগ...আর দেরি করা যাবে না...
এই ভেবে দৌড়ে গিয়ে পিছন থেকে সুজাতাকে ধাক্কা দিতে গেলো অখিলেশ...
শেষ মুহর্তে হঠাৎ সুজাতা সরে গিয়ে অখিলেশ এর দিকে ঘুড়ে কিছু একটা বলতে গেলো সে...
সুজাতা : " আরে বলছি শোনো না....
একি করছো...!!!!!!"
অখিলেশকে দেখে আশ্চর্য হলো সুজাতা কিন্তু অখিলেশ সামলাতে পারলো না নিজেকে...শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে সোজা নীচে এসে পড়লো পাঁচ তোলার উপর থেকে...
ভয়ে চিৎকার করে উঠলো সুজাত...
মাটিতে পড়ে মরন যন্ত্রণাতে ছটফট করতে করতে অখিলেশ দেখতে পেল সেই সৌম্য দর্শন বাবাজিকে...
অখিলেশ যন্ত্রণায় ছট্ফট্ করতে করতে জিজ্ঞাস করলো..
অখিলেশ : " কেন করলে তুমি এরম...আমার বউ তো আমায় মারেনি...তাহলে কে আমায় ভুল বলে আমার জীবন টা কে নরক করে তুলেছিলে...তুমি সাধু না..তুমি পিশাচ... আমায় মিথ্যা বলে কি আনন্দ পেলে...???"
বাবাজি হেসে উত্তর দিল...
বাবাজি : "মিথ্যা তো আমি বলিনি... তোর মৃত্যুর কারণ তুই নিজেই....কারণ ভালো তুই শুধু নিজেকেই বাসিস...বউকে ভালোবাসলে তাকে মারতে চাইতিস না..."
এই বলে চোখের সামনে ধীরে ধীরে বাতাসে মিলিয়ে গেলো বাবাজি....।

       








Tuesday, August 4, 2020

তৃষা

তৃষা : হ্যালো...তুমি কতক্ষনে বাড়ি আসবে ? আমার একা একা খুব ভয় করছে। প্লীজ একটু তাড়াতাড়ি এস। (কাদতে কাদতে বললো তৃষা)

বিজয় : উফ...বন্ধ করবে তোমার এই পাগলামো..আমি কাজ করছি। ( বিরক্তির সুরে বললো বিজয় )

তৃষা : প্লীজ আমার কথাটা বিশ্বাস করো। কারা যেন ঘুরে বেড়ায় আমার পেছন পেছন। আমার খুব ভয় করছে। প্লীজ তুমি চলে এসো। প্লীজ চলে এসো। ( খুব করুন ভাবে কাদতে কাদতে বললো তৃষা )

বিজয় : উফ... দেখ তৃষা তুমি তোমার এই পাগলামো বন্ধ করো। ভূত বলে কিছু হয়না। তোমার এই পাগলামোর জন্য আমার জীবনটা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। মাঝে মধ্যে মনে হয় তোমায় বিয়ে করাটা ই আমার জীবনের সবচেয়ে বড়ো ভুল ছিল। খবরদার আর ফোন করে ডিস্টার্ব করবে না। ( বিরক্তির সুরে বললো বিজয় )

তৃষা : বাবু বিশ্বাস করো আমি সত্যি বলছি.....তারা আছে....বিশ্বাস করো তারা আছে....

" বাঃ ভালই তো অফিসে বসে প্রেম হচ্ছে।" পেছন থেকে বললো বিজয়ের বস। তাড়াতাড়ি ফোনটা কেটে দিয়ে 

বিজয় বললো : না স্যার...একটু দরকার ছিল...

বস : সেই...অফিসে এসে প্রেম করাটাই তো দরকার সেটার জন্যই তো মাইনে নাও। কাজ তো হয়না তোমার দ্বারা। গত দুমাস ধরে টার্গেট পূর্ণ হচ্ছে না। বসে বসে তো মাইনে নিচ্ছ আর বউএর সাথে অফিসে বসে প্রেম করছো। অতো প্রেমের ইচ্ছে থাকলে চাকরিটা ছেড়ে বউএর কোলে গিয়ে বসো। ছোটলোক কামচর যত সব। আর এরম দেখলে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে দূর করে দেব অফিসে থেকে।

লজ্জায় মাথাটা হেট হয়ে গেল বিজোয়ের। সত্যি আজ তৃষার জন্য অফিসে সবার সামনে ছোটো হতে হলো তাকে। এসব শুধু তৃষার পাগলামির জন্য।

ফোনটা হঠাৎ কেটে যাওয়াতে একটু দুঃখই পেল তৃষা। কিন্তু পরে আবার মনে মনে ভাবলো : সত্যিই তো বিজয় ঠিকই বলছে। আজ এক বছর হতে যায় তাদের বিয়ের। ছোটো থেকে অনাথ আশ্রমে বড়ো হয়েছে সে। আপন বলতে কেউই ছিলো না তার। কিন্তু বিজয় যেন তার সেই দুঃখ ভুলিয়ে দিয়েছে। বিজয়ই তাকে বুঝতে শিখেছে আপন মানুষের ভালোবাসা কি হয়। সে জানে বিজয় তাকে খুব ভালোবাসে। কিন্তু আজ তার এই  ভয়ের রোগই যেন দিন দিন বিজয়কে তার থেকে দূরে করে দিচ্ছে। কিন্তু সে তো মিথ্যা বলে না। সত্যি যেন কারা ঘুরে বেড়ায় তার চার পাশে। তাদের অনুভব করতে পারে সে। কিন্তু বিজয়কে কিছুতেই সে বিশ্বাস করাতে পারে না। কিন্তু কি করবে সে....
তৃষা ঠিক করলো আজ বিজয় বাড়ি আসলে তার সাথে আলোচনা করে একটা রাস্তা বার করবে। এভাবে দিনের পর দিন বিজয়ের ধীরে ধীরে দূরে চলে যাওয়াটা মেনে নিতে পারবে না তৃষা। সে হারাতে চায় না বিজয় কে।

সন্ধ্যে ৬টা...
ধীরে ধীরে সন্ধ্যে নেমে এলো...ভয়টাও এবার আরো একটু বেশি করে পেয়ে বসলো তৃষাকে। বারবার ঘড়ির দিকে তাকিয়ে অধীর ভাবে বিজয় এর অপেক্ষা করতে লাগলো। অন্ধকার বাড়ার সাথে সাথে তৃষার ভয় যেন আরো বেশি করে জাকিয়ে বসলো। মনে মনে ভাবছিল বিজয় কে ফোন করবে নাকি ঠিক অমনি কলিং বেলটা বেজে উঠলো।
"বিজয় এসছে..."
তৃষা যেন হাতে চাঁদ পেল। খুশির সঙ্গে তাড়াতাড়ি গেট খুলতে গেল।

তৃষা : আজ এত দেরি করলে?? তুমি যেন বাবু আমার কি ভয় করছিল। তুমি তখন ফোনটা কেটে দিলে। আমি জানি তুমি অফিসে কাজে থাকো। আমি তোমায় ফোন করে ডিস্টার্ব করি। কিন্তু বিশ্বাস করো বাবু আমি সত্যি বলছি কারা যেন আছে গো। ঘুরে বেড়ায় আসে পাশে। আমি বুঝতে পাড়ি। দেখ আমি ইন্টারনেট থেকে একজনের খোজ জোগাড় করেছি। সে এইসব কেস দেখে। বাবু কাল চলো আমি আর তুমি যাই... ও বাবু যাবে তো ? কিছু বললে না?

বিজয় : উফ চুপ করবে.....কোথাও যেতে পারবো না তোমার সাথে তোমার এই পাগলামো র জন্য। আর শোনো এসব ভূত বলে কিছু হয়না। আসলে তুমি একটা পাগল। তোমার জায়গা পাগলা গারদ। তোমায় বিয়ে করাটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড়ো ভুল ছিল। আমার জীবন টা পুরো নষ্ট করে দিলে তুমি। এবার আমায় একটু মুক্তি দাও। একটু শান্তি চাই। 

তৃষা : এরম বলো না বাবু। আমার তুমি বাদে আর কে আছে। আমি তোমায় খুব ভালোবাসি। প্লীজ এরম বলো না। বিশ্বাস করো আমি পাগল নই। সত্যি তারা আছেন।আমি বুঝতে পারি  আমাদের আসে পাশেই আছে। বাবু এরম করো না।
এই বলে বিজয় কে জড়িয়ে ধরলো তৃষা।

বিজয় : চুপ কর। একটা আস্ত পাগল। তোর ভূত আছে তো ঠিক আছে তুই তোর ভূতের কাছেই থাক।

এইবলে তৃষাকে এক ধাক্কা দিয়ে বেডরুমে ঢুকিয়ে বাইরে দিয়ে গেট লক করে দিলো বিজয়। 
মনে মনে ভাবলো থাক রুমে বন্দী  হয়ে। খিদে পেলে সব পাগলামো বেরিয়ে যাবে।

স্নান করে ফ্রেশ হয়ে ডাইনিং টেবিলে বসলো বিজয়। হঠাৎ তার মনে পড়লো দু ঘণ্টা হতে চললো তৃষা কে বেড রুমে আটকে রেখেছে বিজয়। এবার মনে মনে তার একটু অনুতাপ হলো।
"ইশ সত্যি রাগের মাথায় কি বাজে ব্যবহারটাই না করলাম ওর সাথে। অফিসে অপমানের সমস্ত রাগটা বেচারীর উপর দেখলাম। সত্যিই তো বেচারীর আমি বাদে আর আছে কে.…. ওর কষ্টটা আমি না বুঝলে আর কে বুঝবে...দুপুরেও ভয় ভয় করে বেচারি খেয়েছিল নাকি কে জানে। আজ তো ওকে একবার জিজ্ঞাস ও করি নি দুপুরে ও খেয়েছিলো কি না..." মনে মনে ভাবলো বিজয়। বেশ কষ্টই হল তার এসব ভেবে। বিজয় এবার উঠে বেডরুমের গেটটা খুলে তৃষা কে ডাকতে গেল।

কিন্তু গেট খুলে ভয়ে শিউরে উঠলো বিজয়...মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আছে তৃষা। মাথা ফেটে রক্ত বেরিয়ে মেঝেতে কাল হয়ে জমাট বেঁধে আছে। বিজয় তাড়াতাড়ি গিয়ে তৃষার পালস চেক করলো.....
না আর বেঁচে নেই তৃষা..
বিজয়ের যেন মাথা মাথা কাজ করছে না। ভয়ে এবং দুঃখে তার নিজকে দিকবিদিক শূন্য মনে হতে লাগলো। চোখের সামনে অন্ধকার হতে লাগলো।
কিছু ক্ষণ পর ধীরে ধীরে নিজের হুস ফিরে পেল বিজয়। তখন মাটিতে পরে আছে তৃষার নিষ্প্রাণ দেহ। কান্নায় বুকটা ভেঙে এলো বিজোয়ের....কি ভুলটাই না করলো সে....রাগের মাথায় কি খারাপ ব্যবহারটাই না করলো..তৃষার মৃত্যুর জন্য সেই দায়ী। নিজেকে কোনো দিনও ক্ষমা করতে পারবেন না আর সে...
হঠাৎ একটা কথা মাথায় আসতে আঁতকে উঠলো বিজয়।
" ঘরে তো শুধু সে আর তৃষা ছিলো। পুলিশে জানাজানি হলে তারা তো আমাকেই কেই খুনি ভাববে। তালে কি এবার আমায় হাজত বাস করতে হবে...?? " মনে মনে ভাবলো বিজয়।

হঠাৎ বিদ্যুতের বেগে একটা বুদ্ধি খেলে গেল বিজয়ের মাথায়।
" তৃষা তো অনাথ... ওর কেউ নেই। তাহলে রাতারাতি যদি আমি লাশটা কোথাও পুতে ফেলি তাহলেই তো আর কোনো প্রমাণ রইলো না।"
"হম এটাই ঠিক হবে " মনে মনে বললো বিজয়।
শেষ বারের মতন তৃষার নিষ্প্রাণ দেহ টাকে একবার জড়িয়ে ধরলো বিজয়। সত্যি কতো ভালোবাসতো বিজয় কে সে।
" আমায় ক্ষমা করো তৃষা " মনে মনে এই বলে লাশটাকে একটা সুটকেসে ভরলো বিজয় সাথে তৃষার ফোন ড্রেস সব কিছুই ভরলো। গাড়ির ড্ডিকিটা খুলে সুটকেসটা ভেতরে ভরে গাড়ি ছুটিয়ে নিয়ে চললো একটু নির্জন স্থানের উদ্দেশ্যে । যেমনি ভাবা তেমনি কাজ। একটা নির্জন স্থান দেখে সুটকেসেটা পূতে ফেললো বিজয়।

রাত ১ টা..
অবশেষে বাড়ি ফিরলো বিজয়। ঘরে ঢুকেই ঘরটা খুব ফাঁকা ফাঁকা লাগছিলো বিজয়ে র । মন খুলে কাদতে ইচ্ছে হচ্ছিল তার। কি থেকে কি হয়ে গেল আজ তার জীবনে....
হঠাৎ একটা কথা মনে হলো বিজয়ের...
আজ অনেক দিন পর তার ঘড় আবার শান্ত। আর কেউ ভূত আছে ভূত আছে করে তাকে বিরক্ত করবে না। অবশেষে সে মুক্তি পেলো এসবের থেকে। এবার যেনো বেশ একটু হাসি ই এলো বিজয়ের মুখে....
হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠলো। 
বিজয় : এতো রাতে আবার কে ফোন করলো ??!!
 
অন্য মনস্ক ভাবেই ফোনটা হাতে নিয়ে রিসিভ করতে গিয়ে হটাৎ স্ক্রীনে চোখ পড়ায় একটা ভয়ের স্রোত বয়ে গেল বিজয়ের শিকদারা বেয়ে।
স্ক্রিনে বড়ো বড়ো করে ভেসে উঠছে :
 " incoming video call 
         wife calling"
ভয়ে কি করবে বুঝতে পারছিলো না বিজয়। তার বুকের ভেতর যেন দামামা বাজতে লাগলো আর তার সাথে তাল মিলিয়ে বেজে চললো তার ফোন....

ভয়ে দিক বিদিক জ্ঞান শূন্য হয়ে ফোনটা কেটে দিল বিজয় কিন্তু না ফোন কাটা গেলো না। 
ধীরে ধীরে ফোনের স্ক্রীনে ভেসে উঠলো তৃষার বীভৎস রক্তাক্ত মুখটা....
আর সাথে শুধু এক আওয়াজ ভেসে এলো....
" বাবু...বলেছিলাম না তারা আছে....."

Wednesday, July 22, 2020

ভালোবাসা

সেদিন প্রথম আলাপের ক্ষণে,
ভাবিনি তো তুই হবি মোর..
হবি এতটা কাছের..
হবি এতটা নিজের..
ভাবিনি তো তুই করে নিবি....
করে নিবি তুই এতটা আপন মোরে।
হ্যা তবে ভেবে ভয় লাগে..
ভেবে ভয় লাগে যদি ছেড়ে যাস ..
তবে থাকতে কি পারবো তোকে ছাড়া..??
বাঁচতে কি পারবো আমি..
হারিয়ে তোর আমি এহেন ভালোবাসা..??
তাই আজ কথা দে ..
কভু যাবিনা তুই দুরে...
কথা দে আসুক যতই বাঁধা...
বাধবি তোর সুর শুধু আমার সুরে...
কথা দে কভু তুই যাবি না দূরে..
কথা দে কভু যাবি না দূরে...

                  সুদীপ দে

Tuesday, July 7, 2020

ভাগ্যবান

সকাল সকাল ফোনের আওয়াজে ঘুমটা ভাঙলো রিয়ার।
"হ্যালো বাবু..." ঘুমের চোখে বললো রিয়া।
" উঠে গেছে আমার সোনাই ? " জিজ্ঞাস করলো অভীক।
" না.....উঠবো...তুমি কি করছো বাবু ? " জিজ্ঞাস করলো রিয়া।
" আমি উঠে গেছি সোনাই... শোনো তুমি উঠে ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট করে নাও...আমি অফিসে বেরোলাম...লাভ ইউ সোনাই " বললো অভীক।
" লাভ ইউ টু বাবু। সাবধানে যেও। " বলে ফোনটা রাখলো রিয়া।
আজ ৬ মাস হয়ে গেল রিয়া আর অভীকের সম্পর্কের।
রিয়ার আজও মনে আছে। সেদিন সকাল সকাল ফেসবুক খুলেই প্রথম ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট ছিলো অভীকের।
দেখতে বেশ ভালো অভীক। একটি বেসরকারি ফার্মে ভালো পোস্টে চাকরিও করে। রিয়া ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট অ্যাকসেপ্টও করে নেয়। তারপর থেকেই কথা বলা শুরু। শুরু হয় দুজনের দুজনকে ভালোলাগা। হয়তো বরুণের দেওয়া আঘাতটাই রিয়াকে আরো বেশি কাছে ঠেলে দেয় অভীকের। রিয়া অভীককে সব বলেছিল। কীভাবে সে বরুণের মিথ্যে প্রেমের জালে ফাঁসে। কীভাবে বরণ তাকে দিনের পরদিন মিথ্যা বলে ঠকিয়েছে। কীভাবে সে দিনের পর দিন রিয়ার মনের অনুভূতি গুলো নিয়ে খেলেছে। অভীক সব শুনত। সত্যি বলতে অভীকই রিয়াকে আবার নতুন করে হাসতে শিখিয়েছে। রিয়া বুঝতো অভীক তাকে খুব ভালোবাসে। একদম যাকে বলে নিঃসার্থ ভালোবাসা। সত্যি বলতে যদি অভীক না থাকতো তালে হয়তো রিয়া আজও চোখের জলে দিন কাটাতো। হয়তো আস্তে আস্তে পাগলই হয়ে যেত। তাই তিন মাস আগে যখন রিয়ার সাথে প্রথম দেখাতেই অভীক তাকে নিজের ভালোবাসার কথা জানায় রিয়া আর মানা করতে পারেনি অভীককে। আসলে রিয়াও নিজের অজান্তেই অভীককে ভালোবেসে ফেলেছিল। অভীককে রিয়ার মা বাবারও খুব পছন্দ। অভীক বলেছে এই বছর পুজোয় গ্রামের বাড়ি থেকে তার মা বাবাকে আনবে রিয়াদের বাড়িতে। বিয়ের পাকা কথাটাও সেদিনই বলে নেবে। রিয়ার মা বাবাও অমত করেনি। আর করবেনই বা কেন... অভীকের মতন এরম ভালোছেলেতো সব মা বাবাই চায় নিজের মেয়ের জন্য। দেখতে ভালো। চাকরিও ভালো করে। শিক্ষিত এবং সাথে ব্যবহারও খুব ভালো। বড়দের শ্রদ্ধা করে। সব চেয়ে বড়ো কথা রিয়ার মা বাবাকেও অভীক নিজের মা বাবার মতনই ভালোবাসে। এর চেয়ে বেশি আর কি বা চাইবে এক মেয়ের মা বাবা....।
সত্যি খুব ভাগ্যবান সে। নয়তো আজকাল যা সব ছেলে। এইতো গতকালেরই কথা। পেপারএ দেখলো একটা মেয়ে নাকি সুইসাইড করেছে। মেয়েটার বয়ফ্রেন্ড নাকি মেয়েটাকে কিছু ছবি নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করছিল। সত্যি কি করে পারে মানুষ এসব। আর মেয়েটাই বা কেমন...!! সত্যি হতভাগী মেয়েটা নয়তো এরম ভুলভাল ছেলেদের কেউ বিশ্বাস করে...!!!
ভগবানের অশেষ কৃপা যে সে অভীকের মতন কাউকে পেয়েছে নয়তো না জানি তার কি হতো....এসবই ভাবছিল রিয়া হঠাৎ তার মা বলে উঠলো " কি রে উঠবি না ? তুই নাকি বাজার যাবি... বললি কি সব রান্না করার জিনিস আনবি কাল অভীকের জন্মদিনে রান্না করবি বলে....১১টা বাজতে যায়...আর কখন বাজার যাবি..."
"হম উঠছি দাড়াও " বললো রিয়া।
দুপুর ১টা নাগাদ বাজার থেকে ফিরলো রিয়া। অভীকের পছন্দের সব জিনিস এনেছে সে। জীবনে প্রথমবার কাউর জন্য রান্না করবে রিয়া। মনে মনে খুব একসাইটেড লাগছে তার।
সে মাকে বললো " মা আমি সব নিয়ে এসছি। তুমি একটু ধুয়ে রেডী করে রাখো। আমি সন্ধ্যে বেলা কিছুটা করে রাখবো। নয়তো কাল সকালে সময় পাবো না। আর বলছি শোনো আমি কেকটা অর্ডার করে এসছি। বাবা কে বলবে কাল একটু গিয়ে কেকটা সকাল সকাল নিয়ে আসতে। "
আজ সারাটা দিন শুধুই খালি অভীককে মনে পড়ছে রিয়ার। মনে হচ্ছে কখন রাত ১২টা বাজবে সে প্রথম উইসটা করবে তার অভীককে। এই প্রথম অভীকের জন্মদিন সেলিব্রেট করবে সে। কিছু যেন খামতি না থাকে। সবকিছু পারফেক্ট করতে হবে তাকে। আসলে রিয়ার হাসির একমাত্র কারণও তো শুধু অভীকই। তাই অভীকের খুশিটাই রিয়ার কাছে সব চেয়ে দামি। 
রাতের খাবার সেরে উঠে আজ ব্যাকুল ভাবে অপেক্ষা করছিল রিয়া ১২টা বাজার। অবশেষে ১২টা বাজলো।
" হ্যাপি বার্থডে বাবু " বললো রিয়া।
" থ্যাঙ্ক ইউ সোনাই " বললো অভীক।
" বলো বাবুর কি চাই বার্থডেতে ?" জিজ্ঞাস করলো রিয়া।
" আমি আর কি চাইবো সোনাই...আমায় তো ভগবান তোমার মতন একজনকে দিয়েছে। আর আমার কিছু চাইবার নেই। শুধু এটুকু বলবো সবসময় এভাবেই আমার সাথে থেকো। কখনো আমায় ছেড়ে যেও না। লাভ ইউ সোনাই। " বললো অভীক।
" লাভ ইউ টু বাবু। তোমায় ছেড়ে কোথায় যাবো বলো বাবু...... তুমিইতো আমার সব।
যাইহোক কালকের প্ল্যান মনে আছেতো ? আমি কিন্তু রান্না করে কেক নিয়ে তোমার ফ্ল্যাটে আসছি ওই ধরো সাড়ে নটা নাগাদ। " বললো রিয়া।
" আচ্ছা সোনাই । ঠিক আছে সোনাই আমি ফোনটা রাখি বাড়ি থেকেও ফোন করছে। লাভ ইউ। কাল দেখা হচ্ছে। " বললো অভীক।
" আচ্ছা বাবু । লাভ ইউ টু। " এই বলে ফোনটা রাখলো রিয়া।
আজ ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই অধীর ভাবে অভীক অপেক্ষা করছিল রিয়ার। 
আজ প্রথমবার রিয়া তার ফ্ল্যাটে আসবে। সব কিছু সুন্দর করে গুছিয়ে রেখেছে অভীক।
হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠলো। তাড়াতাড়ি গিয়ে গেট খুললো অভীক।
উফ্!!!!!! কি অসাধারণ সুন্দর লাগছে রিয়াকে....!!! গেট খুলে রিয়ার দিকেই তাকিয়ে রইলো অভীক।
" আরে কি হলো.....ভেতরে যেতে দেবে নাকি এখানেই দাড়িয়ে থাকবো ? " হাসতে হাসতে বললো রিয়া।
" হম হম ভেতরে এসো। " একটু লজ্জা পেয়ে বললো অভীক।
" বাবু তোমার বার্থডের জন্য দেখো আমি কতো কিছু রান্না করেছি। সেই কাল সন্ধ্যে থেকে করছি। এই দেখো চিকেন কষা...চিংড়ির মালাইকারি...কাবাব...আর সাথে বিরিয়ানি। কি জমবে তো বাবু ? আর চকোলেট কেকও আছে সাথে। " বললো রিয়া।
" বাবারে এতো কিছু রান্না করেছো তুমি.....!!! সত্যি বলতো নিজে করেছো নাকি আমার সাসু মাকে খাটিয়েছো ? হেসে জিজ্ঞাস করলো অভীক।
" এরম বললে তো.... যেন আমি কবে থেকে ইউটিউব দেখে দেখে রান্না গুলো খুঁজে রেখেছিলাম তোমার জন্মদিনে করবো বলে আর তুমি আমায় এরম বলছো। " বেশ একটু অভিমান করেই বললো রিয়া।
এবার রিয়াকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে অভীক বললো " রাগ করতে নেই সোনাই....তুমিতো আমার সোনামনা....তুমি রাগ করলে হয়নাকি....আমিতো মজা করছিলাম। "
রিয়া যেন অনুভব করতে পারছিল অভীকের নিশ্বাস গুলো। কখনও এতো কাছে আসেনি কেউ তার। অভীকের গরম নিশ্বাস গুলো যেন রিয়াকে আরো অভীকের কাছে টানছিল। অভীকের গায়ের গন্ধ যেন রিয়াকে পাগল করছিল।
" বাবু....!!!" লজ্জা পেয়ে বললো রিয়া।
" কি হল সোনাই....!!! তুমিতো আমারই তাই নয়কি ? আর আমিওতো তোমারই .......বিশ্বাস আছেতো সোনাই ? "
" হম বাবু..... আই লাভ ইউ বাবু..." বললো রিয়া।
এবার রিয়াকে কাছে টেনে জড়িয়ে ধরে অভীক বললো " আই লাভ ইউ টু সোনাই.....কাছে এসো...আর দূরে থেকো না। "
" হম বাবু " বললো রিয়া।
ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠ থেকে ঘনিষ্ঠতর হল দুজনে। আজ প্রথম বার কাউকে এতো কাছে পাবার অনুভূতি। আজ নিজের সর্বস্ব দিয়ে অভীককে ভালোবাসলো রিয়া। তার সবটা আজ থেকে অভীকের। তার জীবন এখন থেকে শুধুই অভীকের। 
" বাবু আমরা ঠিক করলামতো ? " অভীকের বুকে মাথা রেখে জিজ্ঞাস করলো রিয়া।
" সোনাই তোমার ট্রাস্ট নেই আমায় ? আমি আছিতো। আর তুমিতো আমারই আর আমি তোমার। " বললো অভীক। 
" বাবু আমি একটু ফ্রেশ হয়ে আসি। তারপর কেকটা কাটবো আর খাবার গুলোও খেয়ে নিতে হবে এবার নয়তো নষ্ট হবে সবটা। " এই বলে উঠে বাথরুমে ফ্রেশ হতে গেল রিয়া।
অভীক বিছানা থেকে নেমে আসতে আসতে সামনে রাখা বইএর টেবিলটার দিকে এগোলো।
" রেকর্ডিংটা ঠিকঠাক হয়েছেতো ? আজকাল ভালো ভালো রেকর্ডিং না হলে ভিডিও মার্কেটে ভালো কাটে না " মনে মনে এই ভাবতে ভাবতে বইএর পেছন থেকে ক্যামেরাটা বার করলো অভীক।
" রিয়া মালটার বেশ পইসা আছে। বেশ মালদার আইটেম। দেখি যদি লাখ পাঁচ সাত আদায় করা যায়। একে পটাতে এমনি অনেক ধার হয়েছে তার উপর আগের ভিডিওটা থেকে কিছুই ইনকাম হয়নি। তার উপর পুলিশের ঝামেলা সামলাতে হয়েছে। সব মিলিয়ে বহুত ধার বাকী হয়ে গেছে। দেখাযাক কতো আদায় করা যায় মালটার থেকে। " এসবই মনে মনে ভাবছিল অভীক। হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠলো। 
" রিয়া কলিং..." মোবাইলের উপর ভেসে উঠলো।
বেশ আশ্চর্য হল অভীক। 
" বাথরুম থেকে ফোন করছে....!!!! কি আশ্চর্য মেয়েরে বাবা...!!! " মনে মনে ভাবলো অভীক।
" হ্যালো " ফোনটা ধরে বললো অভীক।
" বাবু বাবু প্লীজ রাগ কোরোনা....দেখো আমি সকালে উঠে রেডী হচ্ছিলাম। বাবা তোমার কেকটা আনতে যাচ্ছিল হঠাৎ কিভাবে যেন সিড়ি থেকে পড়ে গেল। বাড়িতে সেকি অবস্থা জানো না। এই ডক্টর গেল বাবাকে দেখে। প্লীজ বাবু রাগ কোরোনা। আমি কথা দিচ্ছি কাল আসবো। আর তুমি পারলে একটু এসো সময় করে। অনেক কিছু রান্না করেছি তোমার জন্য। " বললো রিয়া।
তাড়াতাড়ি বাথরুমের দিকে ছুটলো অভীক।
এক ধাক্কা মেরে বাথরুমের দরজা খুলে ফেললো অভীক।
কিন্তু কোথায় কে.....!!!!! কেউ নেই কোথাও....
অভীক তাড়াতাড়ি এসে ভিডিওটা অন করলো। বুকের ভেতর তার হৃদস্পন্দন এখন দ্বিগুণ বেগে চলছে। এসির মধ্যেও বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে অভীকের কপালে। ধীরে ধীরে ভিডিওটা অন করলো অভীক।
" কিন্তু একি........!!!!! ভিডিওতে এটা কে!!!!... এ... তো.. এ তো দিয়া !!!!.... কিন্তু দিয়া তো..!!! দিয়াতো দুদিন আগে আত্মহত্যা করেছে......!!!!!" 
পেছন থেকে যেন এবার এক বিকট হাসি শুনতে পেল অভীক.....
এক ভিসৎসো গলায় ভেসে এলো " ও বাবু.....কাছে আসবে না আমার.....এসো বাবু......কাছে এসো...."

ফোনের আওয়াজে ঘুম ভাঙলো রিয়ার।
" সীমা ফোন করছে.....!!! কি ব্যাপার হঠাৎ বিকাল বিকাল ফোন...." মনে মনে ভাবতে ভাবতে ফোনটা ধরলো রিয়া।
"হ্যালো রিয়া…...এক্ষুনি একবার খবরটা শোন " বললো সীমা।
" আরে কেন? কি হলো বলবি তো ? " জিজ্ঞাস করলো রিয়া।
" তুই এক্ষুনি দেখ একবার। আমি রাখছি...। " বললো সীমা।
" কি আজব মেয়ে....!!! হঠাৎ করে ঘুম থেকে ডেকে খবর শুনতে বলে কেটে দিলো...." মনে মনে ভাবলো রিয়া। 
বিছানা থেকে উঠে রিমোটটা নিয়ে খবর চালালো।

.....ব্রেকিং নিউজ....
নিজের ফ্ল্যাটে আত্মঘাতী যুবক।
যুবকের নাম অভীক সরকার। দুপুর ১টা নাগাদ নিজের ফ্ল্যাটে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় যুবকের দেহ।
পুলিশ যুবকের ফ্ল্যাট থেকে একটি ভিডিও উদ্ধার করে যেখানে যুবকের স্বীকারোক্তি....
" তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। একাধিক মেয়ের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে তাদের গোপন ছবি নিয়ে তাদের ব্ল্যাকমেইল করাই তার পেশা। দুদিন আগে দিয়া বলে যে মেয়েটির আত্মহত্যার ঘটনা সামনে আসে তার জন্যও সেই দায়ী। সে ওই মেয়েটিকে দিনের পর দিন ব্ল্যাকমেইল করায় সেই মেয়েটি আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। "
পুলিশ যুবকের ল্যাপটপ থেকে অনেক মেয়ের গোপন ছবি এবং ভিডিও উদ্ধার করে। ঘটনাটির তদন্ত করছে লোকাল থানার পুলিশ।

নিজের কানকে যেন বিশ্বাস করতে পারছিলো না রিয়া। ধীরে ধীরে দুঃখে কান্নায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লো রিয়া।
শুধু একটাই কথা তার মনে হচ্ছিল " কি বলবে আজ সে নিজেকে....হতভাগী...নাকি... ভাগ্যবান..!!!? "

Monday, June 22, 2020

ভালবাসি

থাকতেই না হয় হাতটা ধর...
ধরে জিজ্ঞাস করো কেমন আছি..
যদি নাই থাকি কাল...
তখন ছবির নিচে
হবে লাভ কি লিখে..
"আমি তোমায় ভালোবাসি..
আজও তোমায় ভালোবাসি "

Monday, June 15, 2020

ভূত নাকি অদ্ভুত

ভূত কি আছে? হয়তো আছে বা হয়তো নেই ? সত্যি বলতে তারা আছেন কি নেই সেই প্রমাণ দেওয়া বা পাওয়া কোনটার প্রতিই আমার বিন্দু মাত্র আগ্রহ নেই আমার। তাদের অনেক কৃপা আর আমার পরম সৌভাগ্য যে তারা নিজের দর্শন দিয়ে আমায় কখনো তাদের অস্তিত্বের প্রমাণ দিতে আসেননি। যদি আসতেন প্রমাণ দিতে তাহলে হয়তো আমার ইহলোক যাত্রার সমাপ্তি আর পরলোক যাত্রার সূচনা তখনই হয়ে যেত। 
তবে একবার একটা অভিজ্ঞতা হয়েছিল তবে তা ভূত নাকি অদ্ভুত তা আমি জানি না। সেটা না হয় আপনারাই বিচার করুন।

তখন আমি কলেজে পড়ছি। বেশ ভালই ছিল দিনগুলো। কলেজে বন্ধুদের সাথে ক্যান্টিনে আড্ডা দিয়ে ভালই কাটছিল আমার। একজন গার্লফ্রেন্ডও জুটিয়ে ছিলাম। শুধু একটাই অসুবিধা ছিল। আমাদের বাড়িতে দুটো রুম। একটা মা বাবার আর একটায় আমি আর ভাই থাকি। ভাই বড়ো হয়েছে তাই ওর সামনে রোজ রাতে ফোনে প্রেম করাটা একটু দৃষ্টিকটু লাগবে। অগত্যা রাতে কথা বলার উদ্দেশ্যে আমি রাতে ছাদে শোয়া শুরু করলাম। তবে বাড়িতে অজুহাত দিলাম যে ঘরে গরম লাগে রাতে আমার তাই নিলি বিলি ঠান্ডায় আমি ছাদে শোবো। অগত্যা শুরু হল আমার ছাদে শোয়া। রাতে খোলা আকাশের নিচে হাতে সিগারেট সাথে কানে ফোন আর ফোনের অপর প্রান্ত থেকে ভেসে আসা নিজের ভালোবাসার মানুষটার মধুর কণ্ঠস্বর। রোমান্স যেন পুরো জমে উঠতো। দিনের পর দিন এভাবে বেশ ভালই চলছিল।
একদিন এরমই কথা বলতে বলতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।
হঠাৎ একটা আওয়াজে ঘুমটা ভেঙে গেল। ধরপড়িয়ে উঠে বসলাম।
" কে? কে ওখানে ? " বলে চিৎকার করলাম।
একেই অমাবস্যার রাত। তার উপর আবার লোডশেডিং। অন্ধকারে কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। তবে একটু কাছে যেতে লক্ষ্য করলাম একটা মিশকালো মূর্তি পাঁচিলের গা ঘেঁষে বসে আছে।
আমি এগিয়ে গিয়ে আবার জিজ্ঞাস করলাম, " কে ? কে ওখানে ? "
এবার উত্তর এলো।
"কাছে আসবেন না বাবু " উত্তর দিল ছায়া মূর্তি।
"কে তুমি ? এখানে এলে কি ভাবে ? " জিজ্ঞাস করলাম আমি।
" বাবু , আমি চোর " উত্তর দিল ছায়া মূর্তি।
" অ্যা, চোর ? বলে কী। এই ব্যাটা তুই চুরি করতে এসছিশ। দাড়া দেখাচ্ছি মজা। " এই বলে ছাদের ধারে পরে থাকা একটা লোহার রড নিয়ে এগিয়ে গেলাম ছায়ামূর্তির দিকে।
" বাবু দাড়ান এগোবেন না " বলে আর্তনাদ করলো ছায়া মূর্তি।
আমি একটু এগিয়ে দাড়িয়ে গেলাম।
একটা বিচ্ছিরি গন্ধ নাকে এলো। 
" ইশ.....কি বিচ্ছিরি গন্ধরে বাবা..." বলে আমি নাক চাপা দিলাম।
" বাবু ক্ষমা করবেন। গন্ধটা আমার থেকেই আসছে।" বললো ছায়া মূর্তিটি।
" ইশ..... ডোবার জলে স্নান করিস নাকি....??? কি গন্ধরে বাবা...এই তোর বউ তোর পাশে শুতে পারে ?? " হাসতে হাসতে জিজ্ঞাস করলাম আমি।
পকেট থেকে একটা সিগারেট বার করে মুখে দিয়ে দিয়াশলাইটা ধরাতে ধরাতে জিজ্ঞাস করলাম " হ্যারে চুরি করিস কেন ? আজ তো ধরা পড়ে গেলি....এবার তো পুলিশ পিটাবে...।"
"বাবু জ্বালাবেন না.... দয়া করে আগুন জ্বালাবেন না। " মিনতির সুরে আর্তনাদ করলো ছায়ামূর্তি। 
এবার আমি মনে মনে একটু আশ্চর্য হলাম...
" কেন আগুন জ্বালাবো না কেন ? " জিজ্ঞাস করলাম আমি।
" বাবু আগুন জ্বালালে আমাকে চলে যেতে হবে। সদ্য সদ্য শরীর ছেড়ে তেনাদের দুনিয়াতে এসছিতো তাই স্থূল শরীর ধারণটা এখনও ভালো রপ্ত করতে পারিনি। অন্ধকারে ঠিক আছে কিন্তু আলোতে ঠিক ধরে রাখতে পারবো বলে মনে হয়না। আর বাবু হয়তো আপনিও ভয় পাবেন আমাকে দেখে। " বললো ছায়া মূর্তি।
" বলে কী লোকটা ? একি চোর নাকি পাগল?? " মনে মনে ভাবলাম আমি।
" কিসব বলছো....তেনাদের দুনিয়া মানে....ফাজলামো হচ্ছে? একে তো চুরি করতে এসছো তার উপর ফাজলামো মারছো। দাড়াও দেখাচ্ছি মজা। " এই বলে আমি এগোতে যাবো ......
অমনি ছায়া মূর্তি আবার বলে উঠলো...." বাবু আমি ফাজলামো মারছি না। আজ রাতে আমি মিত্তিরদের বাড়িতে গেসিলাম চুরি করতে....চুরি করে পালাতে গিয়ে তারা হুরোত পা পিছলে দোতলার ছাদ থেকে সোজা পরি পাশের পচা ডোবায়। বাবু আমি সাঁতার জানি না তাই আর উঠে আসতে পারিনি। ওই যে নারকেল গাছটা দেখছেন...প্রথমে ঠিক করি ওখানেই যাবো। কিন্তু গিয়ে দেখি ওখানেই আগে থেকেই কে বসে আছে। আমি অনেক বার বললাম আমায় একটু থাকতে দিতে। বললাম কিছুদিনের মধ্যেই একটা অন্য গাছ দেখে আমি চলে যাবো। না জানি কি বুঝলো সে....একদম দাঁত মুখ খিঁচিয়ে মারতে ছুটে এলো। আমি ভয়ে আপনার ছাদে এসে একটু আশ্রয় নিলাম। বাবু দোহাই আপনার....আমি নতুন নতুন ভূত হয়েছি। দয়া করে আমাকে এখন তাড়াবেন না। আমার খুব ভয় করছে। একটু আলো বেরোলেই আমি চলে যাব। এই কথা দিলাম আপনাকে। " 
এবার আমার মনে মনে একটু হাসি এলো।
কি আজব ভূত রে.....ভয় দেখাবে কি.... এ তো নিজেই ভয় পেয়ে বসে আছে।
" আচ্ছা সে ঠিক আছে কিন্তু...এরম পচা গন্ধ আসছে কেন তোমার থেকে...? " জিজ্ঞাস করলাম আমি।
" বাবু , আপনাকে বললাম না পচা ডোবায় ডুবে মরেছি তাই ওই পাকের গন্ধই গায়ে একটু লেগে রয়েছে আর কি..." বললো ছায়া মূর্তি।
"হম....বুঝলাম...তো ঠিক আছে তবে তুমি থাকো এখানে। আমি নিচে গেলাম ঘুমাতে। তোমার এই পচা ডোবার গন্ধে তো আমার পক্ষে এখানে আর ঘুমানো সম্ভব না..." বলে মাদুর নিয়ে নিচের দিকে সিড়ির দিকে এগোলাম।
" বাবু....একটা সাহায্য করবেন ? " পেছন থেকে ডাকলো ছায়া মূর্তি।
"কি সাহায্য বলো শুনি....." জিজ্ঞাস করলাম আমি।
" বাবু আপনার দিয়াশলাই এর বাক্সটা আমায় দিয়ে যাবেন ? " বললো ছায়া মূর্তি।
" এই রে.... এ কেমন ভূত....ভূত হয়ে আগুন চাইছে। কি আশ্চর্য রে বাবা। " মনে মনে ভাবলাম আমি।
" তুমি তো ভূত তালে তুমি দিয়াশলাই দিয়ে কি করবে শুনি ? " জিজ্ঞাস করলাম আমি।
" আজ্ঞে বাবু ওই ডোবায় ডুবে কানে জল ঢুকে গেছে। একটু পরিষ্কার করবো নয় তো কেমন সো সো করছে....একেই গায়ের চামড়া সব চলে গেল...শরীরে সব জায়গা দিয়েই হাওয়া ঢুকছে তার উপর কানের এরম সো সো শব্দ ভালো লাগছে না...তাই একটু দিয়াশলাই দিয়ে পরিষ্কার করতাম আর কি..." বললো ছায়া মূর্তি।
" ঠিক আছে রাখো.." এই বলে দিয়াশলাইটা ছুড়ে দিলাম ছায়া মূর্তির দিকে।
সিড়ি দিয়ে নামতে নামতে বলে গেলাম " চলে যেও কিন্তুু....কাল যেন আর না দেখি....রোজ রোজ তোমার পচা ডোবার গন্ধ আমি সহ্য করতে পারবো না.....মনে থাকে যেন। "

পরদিন সকালে ঘুম ভাঙলো বাবার চিৎকারে।
" আরে খবর শুনেছো...কাল মিত্তির বাবুদের বাড়িতে চুরি হয়ে গেছে....দেখো এই জন্যই বলি গেটে সব সময় তালা মেরে রাখবে। কি বিপদ...কি বিপদ " বললো বাবা।
" আরে ধুর.....রাখো তোমার মিত্তির বাবুর কথা...সকাল সকাল আমাদের বাড়িতে কি হয়ে গেছে সেটার তো খোজ রাখো ???..." ....চিৎকার করতে করতে সিড়ি দিয়ে নামলো মা।
"কেন কি হয়েছ ?" জিজ্ঞাস করলো বাবা।
"কি হয়েছে.....দেখো গিয়ে ছাদে....ছাদে কে পায়খানা করে চলে গেছে। তার উপর পুরো ছাদে বিড়ির আধখাওয়া টুকরোতে ভর্তি.... ইশ্...কে পরিষ্কার করবে এখন....এই তুমি আমাদের ওই বাগান পরিষ্কার করে ছেলে টাকে ফোন করে ডাকো। আমি এসব পরিষ্কার করতে পারবো না । আর তোমার বড়ো ছেলে কোথায়....ডাকো ওকে ঘুম থেকে...আজ থেকে ওর ছাদে শোয়া আমি বার করছি " চিৎকার করতে করতে আমার রুমে ঢুকলো মা।





Wednesday, June 10, 2020

গল্প

দেখতে দেখতে আজ তিন মাস হয়ে গেল কিন্তু উপেনবাবুর কলম যেন আর আগের মতন চলতে চায় না। একসময় ভূতের গল্প লিখে খুব নাম করেছিলেন উপেনবাবু।কলেজস্ট্রিট চত্ত্বরে উপেন্দ্রনারায়ণ চ্যাটার্জীর বই কিনতে লাইন পড়ত। কিন্তু শেষ একবছর ধরে যেন মা সরস্বতী আর মুখ তুলে চাইছেন না তার দিকে। শেষ দুটো গল্পের বই একদম চলেনি। শেষ তিনমাস একটা গল্প পর্যন্ত লিখে উঠতে পারেনি সে। মাথা যেন আর কাজ করছে না তার। এদিকে প্রকাশকের তাগাদা বাড়ছে দিনদিন। কি করবে এসবই ভাবছিলেন হঠাৎ পাশের ফোনটা বেজে উঠলো। 
"হ্যালো" বললেন উপেনবাবু।
"উপেনদা আমি মণ্ডল পাবলিশার্স থেকে বলছি। আমাদের নতুন ভূতের গল্প সমগ্রর জন্য বাকী সব লেখকরা গল্প দিয়ে গেছেন। আপনার গল্পটা পেলে মানে বুঝতেই পারছেন পুজো আসতে চললো এবারতো ছাপাতে দেরি হয়ে যাবে।"
"হম, ঠিক আছে পরের সপ্তাহে এসে নিয়ে যাবেন।" এই বলে ফোনটা রাখলেন উপেনবাবু।
"বলেতো দিলাম পরের সপ্তাহে গল্প নিতে আসতে কিন্তুু দেবটাকি ??? মাথাতো একদম ফাঁকা। একটা প্লট ও মাথায় নেই। না জানি কি হতে চলেছে।" এসবই মনে মনে ভাবছিলেন হঠাৎ পেছন থেকে চাকর নিধিরাম বললো " বাবু খাইয়া লন, অনেক বেলা হইসে।"
"তুই রেখেদেরে নিধি। আমার মনটা ভালো নেই। খেতে ইচ্ছে করছে না" বেশ নিরাশ ভাবেই বললেন উপেন বাবু।
"কেন বাবু ? কি হইলো আপনার ? খাওন ফালাইয়া থুইতে নাই। খাইয়া লন।" বললো নিধিরাম।
"তুই বুঝবি না। তিনমাস কেটে গেল কিছু লিখে উঠতে পারিনি। এদিকে প্রকাশকরা তাগাদা দিচ্ছে। কিছু ভালো লাগছেনা " বেশ দুঃখের সাথেই বললেন উপেনবাবু।
"হও...তো হের লিগা আপনে খাওনের পাত ফালাইয়া থুইলেন।
দেখেন কর্তা মশাই আমি মুক্কসুক্কো মানুষ। আপনাগো এতো লেখাপড়া আমি বুঝিনে। তবে এমন ঘরের মৈধা আটকাইয়া থাকেন বৈল্লাই আপনার মন খারাপ করে। এককাম করুন একটু ঘুইরা আহুন কোথাও দিয়া। দেখবেন সব ঠিক হইয়া যাইবো। আর এখন মন খারাপ না কইরা খাইয়া লন।" এই বলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল নিধিরাম।
"কথাটা কিন্তুু ঠিকই বলেছে নিধিরাম। সত্যিতো কতদিন হয়ে গেছে কোথাও যাওয়া হয়নি তার। তার ছোটো ভাই  থাকে মালদাতে। কতবার সে তাকে যেতে বলেছে কিন্তু উপেনবাবুর আর যাওয়া হয়ে ওঠেনি। তবে এবার সে যাবে। দুদিনের জন্য একটু ঘুরে আসলে মনটা একটু ভালো হবে। তারপর কলকাতায় ফিরে না হয় কিছু একটা লেখা যাবে।" এসবই ভাবতে ভাবতে খেতে বসলেন উপেন বাবু।
দুপুরে খেয়ে উঠে ছোটো ভাইকে ফোন করলেন উপেন বাবু।
"হ্যালো, ছোটন..." বললেন উপেন বাবু।
"হ্যা দাদা বল। কেমন আছো তুমি ? " তার ভাই জিজ্ঞাস করলো।
"হ্যা আমি ভালো আছি। শোন যেটা বলার জন্য তোকে ফোন করলাম। বলছি কাল রাতের ট্রেনে আমি আসছি তোদের ওখানে। দুদিনের থাকবো। " বললেন উপেন বাবু।
" আরে বাহ। আমি ড্রাইভার পাঠিয়েদেব দাদা। শ্যামলী খুব খুশি হবে।" বললো ছোটন।
"হম সেসব ঠিক আছে। তবে বেশি রান্না করিস না। আমার এমনি পেট ভালো নেই। একটু জল হাওয়া বদলাতে আসবো। রাখলাম তবে। " এই বলে ফোনটা রাখলেন উপেন বাবু। 
পরদিন রবিবার। হাওড়া থেকে দুপুর ৩:২৫ এর মালদা ইন্টারসিটি ধরে রওনা দিলেন উপেনবাবু। অন্যান্য দিনের থেকে আজ কামরাটা একটু বেশিই ফাঁকা।  জালনার ধারে বসে বাইরের পরিবেশ দেখতে বেশ ভালই লাগছিল তার। সত্যি এতদিন পর বাইরে বেরিয়ে বেশ মনটা ভালো লাগছে। কতদিন পর ভাইকে দেখবে। ছোটো বেলার স্মৃতি গুলো বেশ মনে পড়ছিল। তার বাবা সেবার তাদের নিয়ে সিমলা বেড়াতে যাবার সময় এই জানলার ধারে বসা নিয়ে কি ঝগড়াই না হয়ে ছিল তার সাথে তার ভায়ের। সত্যি ওই দিন গুলোই ভালো ছিল। বড় হয়ে যেন জীবনের মজাটাই নষ্ট হয়ে গেছে।
"কত দূর যাওয়া হবে মশাইয়ের ?" হঠাৎ একটা অচেনা গলার প্রশ্নে চমকে উঠলেন উপেনবাবু।
সে লক্ষ্যই করেনি কখন একজন ব্যক্তি এসে তার সামনের সিটে বসেছে।
"যাওয়া বলতে এই একটু মালদা যাচ্ছি" বললেন উপেনবাবু।
"ও আচ্ছা। কী বাড়ি নাকি মালদাতে নাকি চাকরি ?" জিজ্ঞাস করলো আগুন্তক।
"দুটোর একটাও না।" বললেন উপেনবাবু।
"ও তাহলে ? " জিজ্ঞাস করলো আগুন্তক।
"আমি যাচ্ছি নিজের ভায়ের বাড়ি।" বললেন উপেনবাবু।
লোকটার হঠাৎ করে এরম গায়ে পড়ে প্রশ্ন করা দেখে বেশ বিরক্তই অনুভব করছিলেন উপেনবাবু। বেশ ভালোই বসে ছিলেন কোথা থেকে এ এক উটকো লোক এসে সব গন্ডগোল পাকিয়ে দিল।
" তো মশাইয়ের নাম কি ? কি করা হয় ?
মনে মনে ভাবছেন বলুন, কি এক উটকো লোক গায়ে পড়ে খালি প্রশ্ন করে যাচ্ছে। কি ঠিক বললাম তো ? " একটু হেসে জিজ্ঞাস করলো আগুন্তক।
এবার একটু লজ্জা পেয়ে উপেনবাবু বললেন " আরে না না তেমন কিছু না। আমার নাম উপেন্দ্রনারায়ণ চ্যাটার্জি। আমি পেশায় লেখক।"
"ওরে বাবা!!! লেখক !! বিশাল ব্যাপারতো !!!
তো কি রকম গল্প লেখা হয় ? ওই সমাজ আর জাতীর উত্থানের জন্য সোশ্যালিস্ট লেখা নাকি ওই সম্পর্কের ঘোর প্যাঁচালো উপন্যাস??" একটু ব্যাঙ্গাত্মক ভাবেই জিজ্ঞাস করলো আগুন্তক।
" আজ্ঞে না। আমি ভূতের গল্প লিখি।" বেশ একটু রেগেই বললেন এবার উপেন বাবু।
"ওমা ভূত !!!!!!!! 
তো মশাই রেগে যাচ্ছেন কেন ? আমিতো এমনি একটু মজা করলাম। আর বাঙালি মানেই তো একটু মজা একটু আড্ডা নিয়ে জীবন কাটানো। ঠিক কি না বলুন ?"
বললো আগুন্তক।
উপেনবাবু এবার একটু মুচকি হেসে সম্মতি দিলেন।
"আচ্ছা তো মশাই ভূতের গল্প লেখেন.....তো ভূত দেখেছেন কখনও ? " জিজ্ঞাস করলো আগুন্তক।
"না আমি কখনো দেখিনি আর সত্যি বলতে আমি ভূতে বিশ্বাসও করি না। " বললেন উপেনবাবু।
" সেকি মশাই !!! আপনি ভূতের গল্প লেখেন আর এদিকে নিজেই ভূতে বিশ্বাস করেন না?? " জিজ্ঞাস করলো আগুন্তক।
" হ্যা তো ? মানে আপনি কি বলতে চাইছেন ভূতের গল্প লিখি বলে আমায় ভূতে বিশ্বাস করতেই হবে তাই তো ? মানে ধরুন আপনার কথা অনুযায়ী যারা ধরুন ক্রাইম নোভেল লেখে তারা এক একজন ক্রিমিনাল বা ক্রাইম করাতে বিশ্বাসী তাই তো ?" বেশ রেগেই বললেন এবার উপেন বাবু।
" আরে মশাই রাগ করছেন কেন? আমি সেটা বলিনি। আমি তো জাস্ট জিজ্ঞাস করলাম।
আচ্ছা চলুন আপনিতো ভূতে বিশ্বাস করেন না ঠিক আছে আপনাকে আমি একটা কাহিনী শোনাবো। আপনি শুনে বলুন ভূত আছে কি নেই ....ঠিক আছে? " জিজ্ঞাস করলো আগুন্তক।
উপেনবাবু এবার মনে মনে ভাবলেন যে ঠিক আছে, না হয় শোনাই যাক একটা গল্প। এতটা রাস্তা একা একা বসার চেয়ে একটা গল্প শুনলে ক্ষতি কি....আর এমনিও সে নতুন গল্প খুঁজছিল তো কোন নতুন প্লটও হয়তো মাথায় এসে যেতে পারে গল্প শুনতে শুনতে।
উপেনবাবু উত্তর দিলেন " ঠিক আছে শোনান " ।
আগুন্তক বলা শুরু করলো......
এই কাহিনীটা দুই বন্ধুর। ছোটো থেকেই খুব ভালো বন্ধু  রাতুল আর সৌরভ। স্কুল কলেজ সব জায়গাতেই একসাথে ছিলো তারা। ভগবান যেন সব কিছুই তাদের মধ্যে সমান ভাবে ভাগ করে দিয়েছিল। সে তাদের পরীক্ষার নম্বর হোক বা ফুটবল মাঠের গোল সংখ্যা সবেতেই যেন দুজনে সমান। এমনকী কলেজের গন্ডি পেরিয়ে চাকরিও দুজনে একসাথে এক অফিসেই পেল। বেশ ভালই দিন কাটছিল তাদের। এরপর তাদের একদিন আলাপ হল নিশার সাথে। তাদের অফিসে ইন্টার্নশিপ করতে এসছিল নিশা। সেখান থেকেই আলাপ দুই বন্ধুর সাথে। দেখতে খুবই সুশ্রী ছিল নিশা। সত্যি বলতে যেন রূপে গুনে পরিপূর্ণ এক অপ্সরা ছিল নিশা। কিছু দিনের মধ্যেই রাতুল নিশার প্রেমে পড়ে। নিশাও মনে মনে রাতুলকে পছন্দ করতো। তাই রাতুল নিজের মনের কথা বলার পর নিশা নিজের গোপন ভালোলাগার কথা রাতুলকে জানায় এবং আস্তে আস্তে তাদের প্রেম আরো গভীর হয়ে ওঠে। একবছর কোর্টসিপের পর তারা বিবাহ বন্ধনে আবন্ধ হয়। বেশ ভালই চলছিল সব। রাতুল আর নিশা ঘুরতে যেত সাথে সৌরভও থাকতো। তিনজনের বেশ একটা জুটি হয়ে গেছিলো। রাতুল আর নিশার বিয়ে হয়েছে ঠিকই কিন্তু তাদের সেই জুটি কিন্তুু ভাঙেনি।
একদিন শীতকালে সৌরভ বললো " বলছি ভাই একটা পিকনিকে গেলে হয়না? অনেকদিন কোথাও যাইনা। চলনা আমি তুই আর নিশা মিলে ঘুরে আসি।"
এবার নিশা মুচকি হেসে বললো " সেই শুধু কি আমরা তিনজন?? সাথে কিন্তুু আরেকজন থাকলে মন্দ হয়না...
আমি কিন্তু সব খবরই পাচ্ছি।"
এবার রাতুল জিজ্ঞাস করলো " কি খবর গো ? কি গল্পটা কি ? "
নিশা হেসে বললো " গল্প.....সে তো তোমার বন্ধুই বলবে। খুবতো ঘুরতে যাওয়া হচ্ছে রিয়াকে নিয়ে....খবর কানে আসছে সৌরভদা...কি ঠিক বলছি তো ???"
এবার রাতুল বললো " আরে রিয়া মানে তোমার ঐ ছোটো মামার মেয়ে???"
"আজ্ঞে হ্যাঁ.....আপনার প্রিয় বন্ধুটি আপনার ভায়রা হতে চাইছে বুঝছেন তো মশাই......" মুচকি হেসে বললো নিশা।
"আরে ধুর....তেমন কিছু না....ওই মানে একটু কথা হয়....কখনো একটু এদিক ওদিক দেখা হয়ে যায় ব্যাস...তেমন কিছুনা গো..." বেশ লজ্জা পেয়ে বললো সৌরভ।
"আরে বুঝি বুঝি সৌরভদা......প্রেম জমে ক্ষীর হচ্ছে। মামা একটু রাগী কিন্তুু আমায় খুব ভালোবাসে। আমি যদি রিয়াকে আমার সাথে ঘুরতে নিতে চাই তবে মামা মানা করবে না" হাসতে হাসতে বললো নিশা।
"ঠিক আছে তবে এই কথাই রইলো যে আমরা চারজন ঘুরতে যাচ্ছি।" বললো সৌরভ।
"হম সে ঠিক আছে কিন্তু যাবিটা কোথায় সেটা ভেবেছিস ? " জিজ্ঞাস করলো রাতুল।
" আমার এক বন্ধুর বাপ ঠাকুর্দার একটা ডাক বাংলো আছে ওই হুগলির ওদিকটায়। ভাবছি ওখানেই যাব। একটু গ্রাম্য পরিবেশে সময় কাটাতে ভালই লাগবে। নয়তো এই কলকাতা শহরের এত শোরগোল আর যেন ভালো লাগেনা। " বললো সৌরভ।
" হম... আইডিয়াটা মন্দ না। হুগলি মোটামুটি কাছের মধ্যেই হবে তো যাতায়াতের চাপও হবে না। কি বলিস ??? " বললো রাতুল।
" একদম ঠিক ভাই। তবে রাতুল ভাই তোকে কিন্তু একটা কাজ করতে হবে। আমি খোজ নিয়েছিলাম বুঝলিতো। জায়গাটার আসে পাশে তেমন কোনো হোটেল নেই তাই রান্নাটা ওখানের থেকে ঠাকুর জোগাড় করেই করতে হবে। তো আগের দিন তোকে একটু চলে যেতে হবে। গিয়ে ওই বাড়িতে উঠবি। সন্ধেবেলা বেরিয়ে একটু একটা ঠাকুর ঠিক করে রাখবি আর একটু বাজারটা করে রাখবি। আমি নিজেই চলে যেতাম কিন্তু জানিসতো মার বয়েশ হয়েছে। রাতে একা রাখতে ভরসা পাইনা তাই তোকে বলছি আর কী।" বললো সৌরভ।
" ঠিক আছে ভাই চাপ নেই। আমি নিশা আর রিয়া আগেরদিন চলে যাব। তুই পরের দিন সকাল সকাল চলে আয় ঠিক আছে? " বললো রাতুল।
"আরে ভাই শোন শোন রিয়া আর নিশাকে আগের দিন নিয়ে যাসনা। গ্রামের জায়গা ভাই। তার উপর নির্জন পরিবেশ। দুটো মেয়ে নিয়ে তুই একা থাকবি রিস্ক হয়ে যাবে।" বললো সৌরভ।
" হম....সৌরভদা ঠিকই বলেছে। আর এমনিতেও মামা রিয়াকে সারা রাত বাইরে থাকতে দেবেনা। আমি বললে যেতে দেবে কিন্তু সারা রাত বাড়ির বাইরে মামা কিছুতেই রিয়াকে ছাড়বে না। " বললো নিশা।
" ঠিক আছে....কিন্তু মানে আমি একা পুরো বাড়িতে থাকবো!!!!? " একটু ইতস্তত করে বললো রাতুল।
এবার সৌরভ হো হো করে হেসে উঠলো..." ভাই তোর সেই ভূতের ভয় এখনও যায়নি না? একা থাকতে ভঁয় পাচ্ছিস? ঠিক আছে ভাই ছার আমিই চলে যাব আগের দিন। "
এবার নিশাও হেসে উঠলো...." সেকি তুমি ভূতে ভয় পাও....এটা তো জানা ছিল না।"
" আরে নিশা তুমি জানো না। রাতুলের ভূতে খুব ভয়। স্কুল কলেজে ওকে যে আমরা কতবার ভয় দেখিয়েছি.....মানে তুমি বললে বিশ্বাস করবে না। " বললো সৌরভ।
এবার একটু লজ্জাই হল রাতুলের। যতই হোক বৌএর সামনে এরম বললে খারাপ লাগাটাই স্বাভাবিক।
"ধুর ভাই তুই না। ওসব ভূতের ব্যাপার না ভাই। আমি জাস্ট বললাম যে আমি একাই থাকবো।
যাই হোক আমি পৌঁছে যাব। কোন চাপ নেই। এবার কবে যাবি সেটা বল " বললো রাতুল।
"এইতো আজ বুধবার তো এককাজ কর এই রবিবারই চল, এখনতো এমনিও অফিসে কাজের চাপ কম তাই চল এই সপ্তাহে ঘুরে আসি। কবে আবার হেড অফিস থেকে নতুন প্রজেক্টের অর্ডার এসে যাবে তখন দেখবি রোববারও কাজে যেতে হবে। তুই তালে শনিবার বিকেল বিকেল বেরিয়েযা আমি তোকে ঠিকানাটা বলে দেব।" বললো সৌরভ।
"হম সে যা বলেছিস। হেড অফিস যেকোনো দিন মাথায় বাজ ফেলবে....। যাই হোক ঠিক আছে তালে একদম এই কথাই রইলো। আর তুমি মামা কে আজ ফোন করে রিয়াকে ম্যানেজ কর ঠিক আছে।" নিশাকে বললো রাতুল।
"হম দেখি রাতেই করবো ফোন আজ " বললো নিশা।
"এই রাতুল ভাই একটু লাঞ্চ টাইমে আসিস কথা আছে..." পরদিন অফিসে এসেই বলল সৌরভ।
"হম...বল ভাই.." বললো রাতুল।
" লাঞ্চ করে নিয়েছিস নাকি ক্যান্টিন যাবি ?" জিজ্ঞাস করলো সৌরভ।
"না না লাঞ্চ করে নিয়েছি ভাই...তুই বল তখন কি কথা আছে বললি।" বললো রাতুল।
" ও হ্যা....বলছি ভাই শোন আমি দুদিন অফিস আসবো না। মার বাতের ব্যাথাটা বেড়েছে। দেখি কাল একটু ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাব। তুই এই চাবি টা রাখ আর এই কাগজ টায় ঠিকানা লেখা আছে। ওই খন্নান স্টেশনে নেমে টোটো করে নিবি। আর যাবার সময় বাজারটা করে নিস। আর ভাই শোন না ওখানে বাজারে বিলের দোকানের খাসী নাকি হেব্বি ভাই...একটু দুকেজি নিয়ে নিস ভাই। রবিবার অনেক লাইন পড়বে তাই তুই আগেরদিনই নিয়ে রাখিস ভাই।" বললো সৌরভ।
" ঠিক আছে ভাই সব হয়ে যাবে। তুই শুধু সকালে নিশা আর রিয়াকে নিয়ে এসে যাস ব্যস....লেট করিস না আবার " বললো রাতুল।
শনিবার সন্ধ্যা ৭টা। খন্যান স্টেশনে নামলো রাতুল। স্টেশনের কাছেই বাজার। আগে গিয়ে বাজারটা করতে হবে। সৌরভ আবার বলেছে বিলের দোকানের খাসীর মাংস নিতে হবে। বাজারে জিজ্ঞাস করাতে বিলের দোকান খুঁজে পেতে অসুবিধা হল না রাতুলের।
" ভাই রাং এর কাছ থেকে দু কেজি কাটো না " খাসীর দোকানে গিয়ে বললো রাতুল।
"এই রাং এর কাছ থেকে দু কেজি মাল কাট রে " দোকানে বসে থাকা একটা সন্ডা মার্কা লোক চিৎকার করলো।
"দাদা....নতুন নাকি...আপনাকে তো আগে দেখিনি এখানে। " জিজ্ঞাস করলো দোকানের লোকটা।
"হম...একটু পিকনিকে এসছি। ওই ডাকবাংলোয় উঠেছি।" বললো রাতুল।
"ডাকবাংলো.... মানে ওই মিত্তিরদের ডাক বাংলো ?" বেশ আশ্চর্য্য হয়েই জিজ্ঞাস করলো লোকটা।
"হম...ওটাই " উত্তর দিল রাতুল।
" দাদা...একটু সামলে থাকবেন। বাড়িটা ভালো না" বললো লোকটা।
" মানে ? " জিজ্ঞাস করলো রাতুল।
" মানে বলতে দাদা...বাপ ঠাকুরদার মুখে শুনেছি...ওই বাড়িতে এক পাগলী মহিলা থাকত। বাড়ির চারি দিকে একটা পুতুলকে কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়াতো আর কি সব আবোল তাবোল ইংরেজি ছড়া বলতো। তারপর একদিন হঠাৎ রাতে নিজের স্বামীকে খুন করে দোতলার বারান্দার করিকাঠ থেকে ঝুলিয়ে দেয় এবং নিজেও দোতলা থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করে। তারপর থেকে ওই বাড়িতে আর কেউ থাকেনি। তাই বললাম একটু সামলে থাকবেন।
যাই হোক এই নিন দাদা। আপনার হলো ১২০০ টাকা। " মাংসের ব্যাগটা এগিয়ে দিয়ে বললো লোকটা।
লোকটাকে টাকা মিটিয়ে এগিয়ে গেল রাতুল।
একটা টোটো ধরে ডাক বাংলোয় পৌঁছালো রাতুল।
"কিন্তু গেটে তালা নেই কেন... তালে কি ভেতরে কেউ আছে ?" এমনটা ই মনে মনে ভাবছিল রাতুল। 
হঠাৎ গেট খুলে বেরিয়ে এলো সৌরভ...
"একি তুই এখানে ? " বেশ আশ্চর্য্য হয়েই জিজ্ঞাস করলো রাতুল। 
"তুই তো বললি কাকিমা কে রাতে একা রাখবি না...তালে আবার এলি কেন ?? " জিজ্ঞাস করলো রাতুল।
" আরে ভাই...ভাবলাম তুই একা ভয় পাস যদি তাই চলে এলাম। পাশের বাড়ির কাকীমাকে বলে এসছি একটু মাকে দেখতে " বললো সৌরভ।
" যাক ভালই হল। নে এবার মাল গুলো ধর একটু। এতো বাজার টেনে হাত ব্যাথা হয়ে গেছে ভাই। " বললো রাতুল।
"হম...হম দে ভাই " বললো সৌরভ।
" এই ছোট ব্যাগটা সামলে ধরিস একটু মিষ্টি আর পাউরুটি আছে রাতে খাওয়া যাবে ভাই। আর ভাই বলছি ঠাকুরের ব্যাবস্থা হয়নি। ওটার কি হবে ? " বললো রাতুল।
" হম....চাপ নিতে হবে না। আমি দেখছি। তুই ভেতরে আয়ে.." বললো সৌরভ।
" উপরে দোতলার রুমটা পরিষ্কার করা আছে। ওটাতেই চলে যা। আমি আসছি এগুলো গুছিয়ে।" বললো সৌরভ।
রাতে ডিনার সেরে রাতুল একটা ম্যাগাজিন খুলে পড়তে পড়তে একটু ঘুমিয়ে পড়েছিল।
হঠাৎ সৌরভের গলার আওয়াজে ঘুম ভাঙলো রাতুলের।
" জেগে আছিস রাতুল ভাই? " বাইরে থেকে জিজ্ঞাস করলো সৌরভ।
" হম রে ভাই....আয়ে ভেতরে " বললো রাতুল।
ঘরে ঢুকলো সৌরভ।
" কিরে তোর কি ব্যাপার বলতো??? ডিনারটাও করলি না। খালি এদিক ওদিক চলে যাচ্ছিস। পাচ্ছিই না তোকে..." বললো রাতুল।
" ভাই রাতুল তোকে কটা কথা আমি বলতে চাই। তোকে না বললে আমি শান্তি পাচ্ছি না। " বললো সৌরভ।
" হম বল কি কথা...?" জিজ্ঞাস করলো রাতুল।
"তুই জানিস আজ তোকে এখানে আসতে বলার একটা কারণ ছিল।" জিজ্ঞাস করলো সৌরভ।
" হম জানি তো....সে তো তুই সেদিন ই বললি" বললো রাতুল।
একটু মুচকি হেসে সৌরভ বললো " না...তুই জানিস না...জানলে আসতিস না কখনো। তুই জানিস তোকে আজ আমি এখানে খুন করবো বলে ডেকেছিলাম।"
কথাটা শুনে বুকটা কেপে উঠলো রাতুলের। 
"কি বলছে তার বন্ধু। সে তো সৌরভের কোন ক্ষতি করেনি। তালে কেন এসব বলছে সৌরভ.... সৌরভ কি আবার ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে তাকে..." এসব ই মনে মনে ভাবছিল রাতুল।
হঠাৎ সৌরভ আবার বলে উঠলো " কি ভাবছিস আমি মজা করছি....তোকে ভয় দেখাচ্ছি?
ভুল ভাবছিস। আমি এক বিন্দুও মজা করছি না। আমি সত্যি তোকে আজ খুন করতে ডেকেছিলাম" ।
এবার রাতুল একটু আশ্চর্য্য হল যে সৌরভ বুঝলো কি করে সে মনে মনে কি ভাবছে। অনেক সাহস করে জিজ্ঞাস করলো রাতুল " আমায় কেন মারতে চাস ভাই? তুই তো আমার বন্ধু সেই ছোটো বেলা থেকে। আমি কি ক্ষতি করেছি ভাই তোর ? "
" ক্ষতি.....জানিসনা তাই না...যেদিন নিশাকে প্রথম দেখি সেদিন থেকে আমি নিশাকে পাগলের মতন ভালোবেসেছি কিন্তুু ও পছন্দ করলো তোকে। তোর জন্য আমি নিশাকে হারিয়েছি..." রাগের সাথে চিৎকার করে বললো সৌরভ।
সৌরভ বলে চললো " ভেবেছিলাম তোকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিলে তারপর নিশাকে নিজের মনের কথা জানাবো। তাই আজ তোকে ডাকি। তোকে ভয় দেখিয়ে খুন করতাম। সেই ভাবে প্ল্যানও করেছিলাম। সেই বৃহস্পিবার রাতেই আমি এখানে এসে যাই। এই বাড়িটা আমি আগেই বুক করে...বুড়ো গার্ডকে কিছু টাকা দিয়ে চাবি নিয়ে যাই। এই বাড়ি আমার কোন বন্ধুর বাড়ি না। তোকে প্ল্যান করে সেদিন আগের রাতে আনানোর ব্যবস্থা করি যাতে রাতে তোকে ভয় দেখানো যায়। ওই যে মাংসের দোকানে তোকে গল্প শোনানো হল এই বাড়ির ব্যাপারে। সেই গল্পটাও আমার তৈরি। একটু টাকা দিতেই সে রাজি হয়ে গেল তোকে ওই গল্প শোনাতে। একটা মেয়েও ঠিক করেছিলাম যে এসে সেই গল্পের মতনই হাতে পুতুল নিয়ে ঘুরতো আর টুইঙ্কেল টুইঙ্কেল কবিতাটা বলতো।"
একটু থামলো সৌরভ।
"তো আমায় মারলি না কেন ?" কাঁপা কাঁপা গলায় জিজ্ঞাস করলো রাতুল।
হা হা করে ঘর কাপিয়ে হাসলো সৌরভ।
"তোকে মারবো ঠিক করেতো ছিলামরে বন্ধু কিন্তুু জানিসতো উপর ওয়ালা সব কিছুর বিচার করে। তুই খুব ভালো। আমায় ভাইয়ের মতন দেখতিস আর আমি বন্ধুর বৌএর দিকে বাজে নজর দিয়েছি। ভগবান মাফ করেনিরে ভাই। ভগবান মাফ করেনি। আমার শাস্তি আমি পেয়ে গেছি। তবে আমি তোর অপরাধী তাই তোকে সব সত্যিটা বলে শান্তি পেলাম। পারলে আমায় ক্ষমা করে দিস।" আস্তে আস্তে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল সৌরভ।
তাড়াতাড়ি সৌরভের পেছন পেছন বেরোলো রাতুল।
"দাড়া ভাই... দাড়া দাড়া" চিৎকার করলো রাতুল।
ঘর থেকে বেরিয়ে বারান্দায় এসে দাড়ালো রাতুল কিন্তুু কোথায় সৌরভ। কেউ নেই কোথাও....হঠাৎ
সামনে তাকাতেই রক্ত জল হয়ে এলো রাতুলের। সামনে দোতলার বারান্দার করিকাঠ থেকে ঝুলছে সৌরভের প্রাণহীন দেহ।
রাতুল চিৎকার করলো "সৌরভ!!!"
উত্তরে শুধু একটা মেয়েলি কণ্ঠ ভেসে এলো " টুইঙ্কেল টুইঙ্কেল লিটল স্টার... হাউ আই ওয়ান্ডার ওয়াট ইউ আর...."।
"কি বলুন কি বলবেন এবার" জিজ্ঞাস করলো আগুন্তক।
" রাতুলের কি হল ? আর আপনি এই গল্প জানলেন কি করে ? " জিজ্ঞাস করলেন উপেন বাবু।
মুচকি হেসে উত্তর দিল আগুন্তক " সব প্রশ্নের উত্তর হয়না মিস্টার উপেন্দ্র নারাযণ চ্যাটার্জী "।
"আমি উঠি...ফারাক্কা এসে গেছে আমায় নামতে হবে " এই বলে আগুন্তক উঠে গেল। 
"আরে মশাই দাড়ান..." এই বলে উঠতে যাবেন উপেন বাবু হঠাৎ নজর পড়লো একটা ডায়েরির দিকে।
" আরে ও মশাই দাড়ান...দাড়ান...আরে আপনার নামটা বলে যান। আপনার ডায়েরি ফেলে গেলেন মনে হয় দেখুন " এই বলে পেছন পেছন চিৎকার করতে করতে এগিয়ে গেলেন উপেন বাবু।
কিন্তু কোথায় কেউ....কেউ কোথাও নেই...যেন অদৃশ্য হয়ে গেল মানুষটা। অগত্যা আবার নিজের সিটে ফেরৎ আসার সময় কৌতূহল বসত ডায়েরিটা খুললেন উপেন বাবু।
ডায়েরিতে লেখা ছিল...
ক্ষমা করবেন। ৪ মাস হল আমার চাকরি নেই। বাড়িতে দুই মেয়ে আছে আমার। খুবই ছোটো তারা। আমার স্ত্রী মারা গেছে ৬ মাস হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে এই চুরির পথ বেছে নিলাম। আপনি স্টেশনে যখন ট্রেনের টিকিট মেলাতে ব্যাগ খুললেন তখনই আপনার ব্যাগে দুহাজার টাকার নোটের বান্ডিলটা লক্ষ্য করেছিলাম। তাই প্ল্যান করে জিনিসটা চুরি করলাম। পারলে ক্ষমা করবেন। আপনার নাম জানা রইলো। কখনো সম্ভব হলে আপনাকে টাকা ফেরত দিয়ে আসবো।
                                                             ইতি
                                                  এক অসহায় বাবা

উপেন বাবু তাড়াতাড়ি নিজের সিটে পৌঁছালেন। না তার ব্যাগটা আর নেই।
উপেন বাবু মনে মনে ভাবলেন " একটা নতুন গল্পের বদলে একটা অসহায় বাবকে সাহায্য। না খুব একটা ক্ষতি হয়নি তার।
মুচকি হেসে নিজের সিটে বসে পড়লেন উপেন বাবু।






Wednesday, May 13, 2020

বাজি

কলেজের ক্যান্টিনে বসে অনেক্ষন ধরে সুজয়ের কথা শুনছিল কমল। কমল আর সুজয় ছোটো থেকে বন্ধু। সেই প্রাইমারি স্কুলে বেঞ্চে বসা নিয়ে মারামারি থেকে শুরু তাদের বন্ধুত্বের। তারপর স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে এখন কলেজেও একসাথে তারা। তবে এসবের মাঝেও সুজয়ের এই সবকিছুতে এরম আত্তম্বরি ভাবটা একদম ভালো লাগেনা কমলের। আজও সুরেশের কাছে তার গ্রামের বাড়ির ভূতের গল্প শোনার পর থেকে সমানে হাসি উড়িয়ে যাচ্ছে সুজয়। জিনিসটা মোটেই ভালো লাগছিলো না কমলের। 
অনেক্ষন সহ্য করার পর অবশেষে কমল বলল, 
কমল : " এই যে এত বড় বড় কথা বলছিস যে ভূত বলে কিছু নেই, ওসব মনের ভুল, তো কখনো এটা মনের ভুল নাকি সত্যি সেটা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিস ? দিনের বেলায় বন্ধুদের মাঝে বসে নিজের বীরত্ব দেখানো খুব সোজা বুঝলিতো। " 
সুজয় : " ও আচ্ছা তাই নাকি, তো তুই প্রমাণ দিতে পারবি বল তালে আমি প্রমাণ নিতে রাজি, কিন্তুু ভাই ওই পাশের বাড়ির কাকিমার কাছে শুনছি, জেঠিমার কাছে শুনেছি এসব বলতে আসবি না। এসব বাদে আর কোন প্রমাণ থাকলে দিতে পারিস নয়ত চেপে যা" 
(বেশ অবজ্ঞার সুরেই বললো সুজয়।)
কমল : " নারে কাকিমা জেঠিমার গল্প তোকে দেবো না। আর হ্যা প্রমাণ আমি দেবো না। প্রমাণ তুই নিজেই পাবি।
তোর আমার ছোটো কাকার কথা মনে আছে? " বললো কমল।
সুজয় : " তোর ছোটো কাকা মানে ওই বিল্টুর বাবা?" জিজ্ঞাস করলো সুজয়।
কমল : " হ্যা, বিল্টুর বাবা। " বললো কমল।
সুজয় : " তো কি তোর ছোটো কাকা ভূত পুসেছে বাড়িতে? নাকি তোর ছোটো কাকা ভূতের শোরুম খুলেছে ? " 
হাসতে হাসতে জিজ্ঞাস করলো সুজয়।
কমল : " সব কিছুতে এরম হাসাহাসি করিসনা, একটা কথা জানিসতো দেয়ার ইজ মোর থিংস ইন হেভেন অ্যান্ড এ্যার্থ, হরেসিও, দ্যান আর ড্রিমট অফ্ ইন্ ইউর ফিলোসফি। " 
একটু গম্ভীর হয়েই বললো কমল।
সুজয় : " থাক ভাই সকাল সকাল তোর শেক্সপিয়ার তোর কাছেই রাখ, কি প্রমাণ দিবি এবার সেটা বল " বললো সুজয়।
কমল আবার বলতে শুরু করলো, 
কমল : " আমার ছোটো কাকা দুবছর আগে বারাসাতের ভেতরের দিকে একটা পুরনো বাড়ি কিনেছিল, বেশ ভালই ছিল সব কিছু, বেশ সস্তাতেই পেয়েছিল বাড়িখানা। একটু ভেতরের দিকে কিন্তুু আজকের দিনে দোতলা বাড়ি আট লাখ টাকায় পাওয়া মানে ভগবানের দর্শন পাওয়া। যাইহোক প্রথমেতো সব কিছু ঠিকই লাগছিলো কিন্তুু কিছু দিন পর থেকেই কিছু আশ্চর্য রকম ঘটনা ঘটা শুরু হল। একদিন যখন বিল্টু আর আমার ছোটো কাকিমা সন্ধেবেলা বাড়িতে একাছিল তখন হঠাৎ বাড়ির দক্ষিণ পশ্চিম দিকের একটা ঘর থেকে একটা নুপুর পরে হাঁটার শব্দ আসে। আমার কাকিমা গ্রামের মেয়ে, খুব সাহসী, সে ভাবলো হয়ত কোন সাপ ঢুকেছে কারণ গ্রামের দিকে একধরনের সাপ দেখা যায় যারা মাটির উপর দিয়ে চলার সময় এরম নূপুরের শব্দ করে। কাকিমা একটা লাঠি হাতে দক্ষিণ পশ্চিমের ঘরটায় গেলো সাপটাকে তাড়াতে কিন্তুু ঘর তো খালি, কোথাও কিছু নেই, কাকিমা মনের ভুল ভেবে ফেরত আসতে যাচ্ছিল ঠিক সেই সময় পেছন থেকে একটা মেয়ের গলার স্বর ভেসে এলো " ভালোচাস তো এই বাড়ি ছেড়ে আজই চলে যা, নয়তো পরিণাম ভালো হবে না। " এই শুনে ভয়ে চিৎকার করে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন কাকিমা। মায়ের চিৎকার শুনে বিল্টু ছুটে আসে। মাকে মেঝেতে পরে থাকতে দেখে ভয়ে কাদতে কাদতে পাশের বাড়ি থেকে লোক ডেকে আনে। তারা এসে চোখে মুখে জল দেওয়াতে জ্ঞান ফেরে কাকিমার। কাকিমা তাদেরকে সবকিছু বলাতে তারা বলে যে এই বাড়ির যে আসল মালিক তার বউ নাকি এই দক্ষিণ পশ্চিমের ঘরটাতেই গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছিল। তারপর থেকেই বাড়িটার বদনাম আছে। অনেক ভাড়াটে এসেছে এর আগেও কিন্তুু কেউ থাকতে পারেনি দুদিনের বেশি, শেষে কিছুটা বাধ্য হয়ে বাড়ির মালিক বাড়িটা বিক্রি করে দেয়। রাতের দিকে কাকা বাড়ি ফিরে কাকিমার কাছে সব কিছু শুনে বাড়ির দালালকে ফোন করে। প্রথমে সে কিছু শিকার না করলেও অনেক চাপা চাপির পর সমস্ত ঘটনা স্বীকার করতে বাধ্য হয়। পরদিন শেষে বাধ্য হয়ে ছোটো কাকা নিজের পরিবার নিয়ে সেই বাড়ি ছেড়ে আমাদের বাড়ি এসে ওঠে। তখন থেকে ওরা আমাদের সাথেই আছে। "
" তো এর থেকে কি প্রমাণ হল ? আগেই বলেছিলাম এরম কাকিমা জেঠিমার গল্প শোনাবি না। যতসব আজগুবি গল্প। তোর কাকু কাকিমা ওখানে বাড়ি কিনে বুঝেছে যে ওমন অজ পাড়াগায়ে থাকলে ছেলেকে ভালো স্কুলে ভর্তি করতে পারবে না তাই ওসব অজুহাত দিয়ে কলকাতাতে তোদের সাথে এসে থাকছে। ব্যাস আর কিছু না। তোর বাবা সোজা মানুষ তাই ওসব চালাকি বোঝেনি। " বেশ রেগেই বললো সুজয়।
" দেখ সুজয়, কাউর ব্যাপারে না জেনে কথা বলা উচিত না। আর হ্যা তুই প্রমাণ চাস তো ঠিক আছে যদি সাহস থাকে তাহলে একলা আমার কাকার ওই বাড়ির দক্ষিণ পশ্চিমের ঘরটায় এক রাত কাটা দেখি কত সাহস তোর। বল রাজি ? আর যদি রাজি না হস তাহলে আজ সবার সামনে স্বীকার কর যে তুই ভূত ভয় পাস।" বেশ চিৎকার করে বললো কমল।
" ভাই শুধু তোর ভূত দেখতে সেই বারাসাত যাওয়া, ঠিক পোসাবে না ভাই। " বেশ হাসতে হাসতে বললো সুজয়।
" ও এই ব্যাপার, ঠিক আছে চল, এক হাজার টাকার বাজি রইলো। যদি তুই একলা ওই ঘরে একরাত কাটিয়ে আসিস তাহলে আমি তোকে এক হাজার টাকা দেবো আর সকলের সামনে তোর বীরত্ব স্বীকার করে নেবো। আর যদি না পারলি তাহলে তুই আমায় এক হাজার টাকা দিবি আর সকলের সামনে স্বীকার করবি যে তুই কাপুরুষ। বল দম আছে ? " এবার বেশ ব্যাঙ্গাত্মক সুরে কথা গুলো বললো কমল।
কথা গুলো এবার একটু সম্মানে লেগেছিল সুজয়ের। সে বললো ঠিক আছে সে রাজি। তবে কথার যেনো খেলাফ না করে কমল। "বাজির টাকা ফেলে রাখা ভালো কাজ না, মনে থাকে যেনো।" হাসতে হাসতে বললো সুজয়।
এবার কমলও বেশ হাসতে হাসতে বললো " ঠিক ঠিক বাজির টাকা ফেলে রাখা উচিত না। তাহলে তোরা সবাই শুনেছিস তো ভাই, সুজয় কিন্তুু বলেছে ও যদি না থাকতে পারে সেই ঘরে তাহলে আমায় এক হাজার টাকা দেবে আর সাথে স্বীকারও করবে যে ও ভীতু। "
উত্তরে সবাই এবার একসাথে বললো " হম শুনেছি, শুনেছি। কিন্তু এই বাজিটা হবে কবে ? "
"যেদিন সুজয় বলবে" বললো কমল।
" দেরি করে কি লাভ, এই তো বারোটা বাজে। আজ তো তেমন একটা ক্লাস ও নেই। আমি তাহলে এখন বাড়ি যাই। বিকেল ৪টে নাগাদ শিয়ালদা স্টেশনে কমল অপেক্ষা করিস। ঠিক আছে? " বললো সুজয়।
"ঠিক আছে, কিন্তুু ৪টে না তাহলে সাড়ে পাঁচটা কর। ৪টে নাগাদ আমার একটু পড়ানো আছে সেটা শেষ করে আসবো।" বললো কমল।
"ঠিক আছে। আজ তাহলে ঠিক সাড়ে পাঁচটায় শিয়ালদা স্টেশন।" বললো সুজয়।
ঠিক যেমন কথা তেমনি কাজ। ঠিক সাড়ে পাঁচটায় শিয়ালদা স্টেশনে হাজির হলো কমল। সে দেখলো সুজয় আগে এসে নিজেই দুটো বারাসাতের টিকিট কেটে দাড়িয়ে আছে। তারা দুজনে বারাসাত লোকালে চেপে বসলো। ট্রেনটা বেশ ফাকাই ছিলো। দুজনে গেটের সামনেই দাড়িয়ে রইলো। ট্রেনে যেতে যেতে সূর্যাস্ত দেখতে বেশ ভালই লাগছিল। তবে মাঝে মাঝে সুজয়ের সেই সকালের কথা নিয়ে উল্টো পাল্টা ইয়ার্কি গুলো যেন ঠিক ভালো লাগছিল না কমলের। মনে মনে ভাবছিল দাড়াও বাছাধন রাতে বুঝবে মজা। সন্ধ্যে সাড়ে ৬টা নাগাদ ট্রেন থেকে নামলো তারা। স্টেশনের সামনে থেকেই টোটো ধরে কমলের কাকার বাড়ি পৌঁছালো তারা।
বাড়ির দরজাটা খোলার সাথে সাথেই একটা ভ্যাপসা আস্টে গন্ধ এলো তাদের নাকে। কমল আরচোখে একবার চাইলো সুজয়ের দিকে। সুজয় বললো, " ভাই তাকাচ্ছিস কি...পুরনো বাড়ি অনেকদিন বন্ধ থাকলে এরম গন্ধ হয়। এতে তাকানোর কিছু নেই। " প্রথমে বাড়িটা দুজনে একবার ভালো করে ঘুরে দেখে নিলো। সন্ধ্যে সাড়ে সাতটা নাগাদ সুজয়কে রেখে কমল ফিরে গেল।
কমল চলে যাবার পর সুজয় আরো একবার ঘর গুলো ভালো করে ঘুরে দেখে নিলো। দক্ষিণ পশ্চিমের ঘরটাকে একটু ঝার দিয়ে পরিষ্কার করে নিয়ে একটা চাদর পেতে বিছানা করে রাখলো সুজয়। সে আসার সময় বাড়ি থেকে রুটি তরকারি করে এনেছিল। রাত নটা নাগাদ রাতের খাবার খেয়ে একটা গল্পের বই নিয়ে বিছানায় শুয়ে পরলো সুজয়। গল্পের বইটা পড়তে পড়তে কখন যে সে ঘুমিয়ে পড়েছিল সে নিজেই জানে না। হঠাৎ ঢং ঢং করে ঘড়িতে ১২টা বাজার আওয়াজে ঘুম ভাঙলো সুজয়ের। কিন্তু ঘুম থেকে উঠে বেশ আশ্চর্য হল সে কারণ সে তো ঘরে কোনো ঘড়ি দেখেনি তালে ঘণ্টা বাজার আওয়াজ এলো কথা থেকে। আজ আসার সময় সাথে করে একটা টর্চ এনেছিল সুজয়। ঘুমানোর সময় টর্চটা বার করে মাথার পাশে রেখেছিল কিন্তুু কই টর্চটা পাচ্ছে না কেন সে...!!! সুজয় প্রাণপণে টর্চটা খুঁজতে লাগলো কিন্তু কিছুই পেলো না। এবার হঠাৎ কানে এলো পাশের ঘরে কে যেন নুপুর পড়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে। তবে সুজয় এতো সহজে ভয় পাবার পাত্র নয়। সে অন্ধকারে হাতরে হাতরে পাশের ঘরে গেলো।
"কে এখানে? কে এখানে জবাব দাও ? " জিজ্ঞাস করলো সুজয়।
হঠাৎ আওয়াজটা বন্ধ হয়ে গেল। চারিদিক শান্ত। সুজয় অন্ধকারেই এদিক ওদিক দেখার চেষ্টা করতে লাগলো। এতক্ষণে অন্ধকারটা তার চোখে সয়ে গেছে। হঠাৎ সে শুনলো একটা কান্নার শব্দ ভেসে আসছে সেই দক্ষিণ পশ্চিমের ঘরটা থেকে। এবার সুজয় ছুটে গেল সেই দক্ষিণ পশ্চিমের ঘরটায়। কিন্তুু ঘরের সামনে পৌঁছেই সুজয়ের মেরুদন্ড বেয়ে যেন বরফের স্রোত বয়ে গেল। জানলা থেকে আসা হালকা চাঁদের আলোয় সুজয় দেখলো একটা সাদা শাড়ী পড়ে একটা কঙ্কাল দেওয়ালে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে তারই দিকে তাকিয়ে। মুহুর্তের মধ্যে হাত পা ভয়ে অবস হয়ে গেল সুজয়ের। তার কানে ভেসে এলো একটা মেয়ের কণ্ঠ " কেন এসছিস এখানে ? এটা আমার বাড়ি...ভালোচাস তো এক্ষুনি বেরিয়ে যা আমার বাড়ি থেকে। "
ভয়ে সুজয়ের গলা শুকিয়ে এলো। সে চিৎকার করার চেষ্টা করলো কিন্তু চিৎকার বেরোলো না। কোনো মতে প্রাণপণে ছুটে বাড়ি থেকে বের হয়ে পালালো সুজয়। অন্ধকারে দিক বিদিক শূন্যের মতন ছুটে চললো সুজয়।
"উফ কমলদা এবার লাইটটা জ্বালাও, প্রচণ্ড মশা কামড়াচ্ছে।" কমলের ছাত্রী সুমনা বলে উঠলো।
সেই কখন থেকে তোমার জন্যে অন্ধকারে বসে রয়েছি নুপুর পরে। মশা কামড়ে ফুলিয়ে দিলো। শুধু আমিনিয়ার বিরিয়ানির লোভ সামলাতে পারিনি বলে তোমার সাথে যোগ দিলাম, নয়তো কখনো তোমার সাথে যোগ দিতাম না। মালতির বাড়িতে রাতে গ্রুপ স্টাডি করবো বলে মাকে ম্যানেজ করে এলাম।
আর তুমিও পারো বটে, কি ভয়টাই না দেখাল
 সুজায়দাকে। বেচারা সুজায়দা।
এবার কমল লাইটটা জ্বালালো। হাসতে হাসতে বললো, "আরে তুই সুজয়কে জানিস না। বেটার সব কিছুতে বড়ো বড়ো কথা খালি। আচ্ছা করে জব্দ হয়েছে বেটা আজ।" হাসতে হাসতে বললো কমল।
" আচ্ছা কমলদা দেওয়াল ঘড়িটা তো তুমি আমার সামনেই লাগলে আর আমায় তো নুপুর পড়িয়ে ভূত বানিয়ে সুজয়দাকে ভয় দেখালে কিন্তুু কঙ্কালটা পেলে কোথায় আর তুমি সুজয়দাকে যে গল্পটা বলেছিলে সেটাকী সত্যি " জিজ্ঞাস করলো সুমনা।
"আরে কঙ্কালটা আমাদের কলেজের বায়োলজি ল্যাবের। গার্ডকে একশো টাকা হাতে দিতেই সুড়সুড় করে কঙ্কালটা এনে আমায় দিলো। বললো কাল সকালে যেন ফেরত দিয়ে যাই। আর গল্পটা আগা পাঁচতলা পুরোটাই আমার কল্পনা ছিল। এই বাড়িটা আমার ছোটো কাকা ছমাস আগে কিনেছে। মাস দুই আগে গৃহ প্রবেশের পুজো ও করে নিয়েছে কিন্তু আমার কাকার ছেলের ফাইনাল পরীক্ষা না হলে স্কুল বদলানো যাবে না তাই ওরা এখনও এখানে এসে ওঠেনি। ভাইয়ে র অ্যানুয়াল পরীক্ষাটা হলেই ওরা এখানে চলে আসবে।" হাসতে হাসতে বললো কমল।
পরদিন সকালে একটু তাড়াতাড়ি কলেজের জন্য বেরোলো কমল। আজ তার মনে একটা অদ্ভুত আনন্দ। আজ কলেজে গিয়ে সবটা বলবে সে সবাইকে। আজ আচ্ছা করে শায়েস্তা করবে সে সুজয়কে।
হঠাৎ পেছন থেকে সুজয়ের গলা ভেসে এলো " কমল, ওই কমল, দারা....। "
কমল পেছন ঘুরে বললো, " আরে সুজয় আজ এত সকাল সকাল...? "
" হ্যারে আজ একটু আগেই এলাম, এইনে তোর বাজির এক হাজার টাকা রাখ।" , বলে পকেট থেকে দশটা একশো টাকার নোট বার করে সুজয় কমলকে দিলো।
টাকাটা নিয়ে কেমন যেন একটু খারাপ লাগলো কমলের। যতই হোক সুজয়কেতো সে প্ল্যান করে ভয় দেখিয়েছে। সুজয়তো আর সত্যি ভূত দেখে ভয় পায়নি।
" না টাকাটা নেওয়া উচিত হচ্ছে না তার। সে সব সত্যিটা বলে টাকাটা ফিরিয়ে দেবে সুজয়কে । " মনে মনে ভাবলো কমল।
" এই সুজয় একটু দারা। " পেছন থেকে ডাকলো কমল।
শোন ভাই, তোর সবসময় এরম সবকিছু নিয়ে হাসি ওড়ানোটা আমার একদম ভালো লাগেনা। কাল তুই সুরেশের গ্রামের বাড়ির ভূতের গল্পটা নিয়ে এত হাসি উরাচ্ছিলি সেটা আমার ভালো লাগছিল না। তাই তখনই প্ল্যান করি যে তোকে একটা উচিত শিক্ষা দেবো। তাই কাল তুই যখন কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার জন্য বেরিয়ে গেলি তখন আমি প্ল্যান করলাম সবটা। কঙ্কালটা যেটা তুই দেখেছিলিস কাল রাতে সেটা আমাদের বায়োলজি ল্যাবেরই। আর যেই মেয়েটার গলা শুনেছিলিস সেটা আমার স্টুডেন্ট সুমনা। দেখ তোকে সবটা সত্যি বললাম, রাগ করিস না ভাই। এই টাকাটা তুই রাখ। এটার কোনো দরকার নেই । " এই বলে কমল হাজার টাকা সুজয়ের দিকে ফিরিয়ে দিল।
"সব বুঝলাম ভাই কিন্তুু আমি রাগ করিনি কমল। তবে টাকাটা তুই রাখ। যতই তুই প্ল্যান কর কিন্তুু আমি বুঝে গেছি যে ভূত আছে। আর আমি তো ভয়ও পেয়েছি কাল। তাই এই টাকাটা তোরই প্রাপ্য।" এই বলে টাকাটা কমলকে ফিরিয়ে দিয়ে সুজয় হাঁটা দিলো।
"বুঝলাম, কিন্তুু তুই যাচ্ছিস কোথায় ? কলেজে যাবি না? আজতো নোটস দেবে বলেছিল আমাদের স্যার। তুই ভুলে গেছিস? " জিজ্ঞাস করলো কমল।
"নারে আর কলেজ যাব না, তুই কর কলেজ। আমার আর নোটস লাগবে না। আমি চললাম, আমার কাজ আছে। বিদায় কমল " এই বলে এগিয়ে গেল সুজয়। আস্তে আস্তে ভিড়ে মিলিয়ে গেল সুজয়।
সুজয়ের কথা গুলো একটু কেমন যেন লাগলো আজ কমলের। হয়তো আজ কলেজে সবার সামনে যদি অপমান করে কমল তাকে তাই হয়তো আজ কলেজে এলো না মনে হয় সুজয়। যাই হোক কি আর করা যাবে, তবে আজ নোটস দিলে সুজয়ের জন্য একটা কপি করে রাখবে সে। এসবই ভাবতে ভাবতে কলেজে পৌঁছালো কমল। তবে কলেজটা আজ যেন একটু ফাঁকা ফাঁকা লাগছিলো কমলের। কাউকে দেখছিনাতো।
"এই কমল তুই এখানে? খবর শুনিসনি ??" পেছন থেকে ডেকে জিজ্ঞাস করলো সুরেশ।
"কিসের খবররে ? কলেজে আমাদের ডিপার্টমেন্টের কাউকে দেখছিনা কেন রে ? কিছু হয়েছে নাকি ? " জিজ্ঞাস করলো কমল।
" সেকি তুই এখনও খবর পাসনি....? আমাদের সুজয় তো কাল কলেজ থেকে ফেরার পথে রোড অ্যাকসিডেন্টে মারা গেছে। আজ সকালে মর্গ থেকে বডি নিয়ে বাড়ি এসেছে। সবাই তো সেখানেই গেছে। আমিও তো ওখানেই যাচ্ছিলাম। তুই যাবি তো চল। " দুঃখের সাথে বললো সুরেশ। 
কথাটা শুনে যেন বিশ্বাস করতে পারছিল না কমল। স্তম্ভিত হয়ে দাড়িয়ে রইলো কমল। তার দুচোখ ভরে উঠলো কান্নায়। শুধু একটা ক্ষীণ স্বর তার কানে ভেসে এলো " বিদায় বন্ধু। চির বিদায় "



Friday, May 1, 2020

নিখোঁজ

একটা চিৎকারে ঘুমটা ভেঙে গেলো তুহিনের। আবার অশান্তি করছে তার বাবা। এই জিনিসটা একদম ভালো লাগেনা তুহিনের, ছোটো থেকেই সে দেখছে এই এক জিনিস। প্রায় প্রতিদিনই তার বাবা বিভিন্ন কারণে ঘরে অশান্তি করে এবং তার মাকে মারধর করে। তুহিনের খুব কষ্ট হয়। মাকে খুব ভালোবাসে সে। সে অনেকবার মাকে বুঝিয়েছে যে সে যেন তার বাবাকে ছেড়ে দেয়। তার মা আর সে এই বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও গিয়ে থাকবে। তুহিন না হয় কোথাও একটা ছোটো খাটো কাজ করবে তাতে চলে যাবে তাদের। কিন্তু অনেক বুঝিয়েও মাকে রাজি করাতে পারেনি তুহিন। তার মার আসলে অনেক স্বপ্ন তুহিনকে নিয়ে, সে চায় তুহিন ভালো করে পড়াশুনা করে অনেক বড়ো হোক। লোকে যেনো তাকে তুহিনের মা বলে সম্মান করে, তাই শত কষ্ট, লাঞ্ছনা সত্বেও নিজের স্বামীকে ছেড়ে যায়না সে। যতই হোক তুহিনের খাওয়া পড়ার খরচ তো তার স্বামীই চালাচ্ছে, তাই ছেলের মুখ চেয়ে সব সহ্য করছে। তুহিন এসবই বোঝে কিন্তুু যখন তার বাবা তার মাকে মারধর করে তখন যেন নিজেকে ঠিক রাখতে পারেনা তুহিন। মনেহয় যেন তার মার এই অবস্থার জন্য সেই দায়ী। এসব ভাবছিল তুহিন, হঠাৎ একটা খুব জোড়ে চিৎকারের আওয়াজ পেয়ে নিজের ঘরের দরজা খুলে বেরিয়ে এলো তুহিন। 
বাবা, এভাবে মারছো কেন মা কে? তুহিন প্রশ্ন করলো তার বাবাকে।
"হতচ্ছাড়া ছেলে, আমার পয়সাতে খাবি পড়বি আবার আমায় প্রশ্ন করতে এসছিস??? দূর হও এখান থেকে।"
তুহিন আবার নিজের বাবাকে বললো, " তুমি যদি এভাবে মাকে মারো তাহলে কিন্তুু আমি এবার পুলিশে রিপোর্ট করবো তোমার নামে।"
এবার যেন তুহিনের বাবা আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারলো না, রাগে যেন এক মূর্তিমান শয়তনের মত ছুটে গেলো তুহিনকে মারতে।
"খুব কথা হয়েছে তোর তাই না, পুলিশে যাবি তুই,, রিপোর্ট করবি,, দারা করাচ্ছি তোর রিপোর্ট। আজ তোকে আর তোর মাকে খুন করে আমি মুক্তি পাবো। " এই বলে একটা লোহার রড হাতে তুহিনের দিকে এগোলো তার বাবা। পেছন থেকে তুহিনের বাবার পা দুটো চেপে ধরলো তুহিনের মা, " ওকে ছেড়ে দাও, ও বাচ্চা, তোমার ছেলে ও, ওকে ছেড়ে দাও। "
"ঘরে যাও তুহিন, তোমায় আমার দিব্যি ঘরে যাও। নিজের মার কথা রাখো। ঘর থেকে বেরোবে না.." বেশ একটা আর্তনাদের সুরেই চিৎকার করে বলল তুহিনের মা।
তুহিন ঘরে গিয়ে দরজা লাগিয়ে, দরজার পেছনে দাড়িয়ে শুনতে লাগলো তার মার করুন আর্তনাদ গুলো। চোখ দুটো কষ্টে কেদে উঠলো তুহিনের।
বেলা ১২টা নাগাদ ঘড়ির শব্দে ঘুম ভাঙলো তুহিনের। নিজের অজান্তেই কাদতে কাদতে কখন ঘুমিয়ে পড়েছিল সে।
এখন ঘর পুরো শান্ত, দরজা খুলে বেরিয়ে এলো তুহিন। তার মা বিছানা ঝাড়তে ঝাড়তে বললো, " গরম জল করে দিয়েছি, যাও স্নান করে এসো তুহিন, খেতে বসতে হবে "
তুহিন আশ্চর্য ভাবে তাকিয়ে রইলো তার মার দিকে,,,
এতো অত্যাচার সহ্য করেও কি ভাবে কেউ থাকতে পারে!!!! সত্যি এই জন্যই হয়তো মা সব চেয়ে মূল্যবান। নিজের সন্তানের জন্য সবকিছু মেনে নিতে পারে সে।
"কি হল,, তাকিয়ে আছিস কি??? শীতের বেলা এখন....যা তাড়াতাড়ি স্নানে যা" একটু বেশ জোরেই বললো তুহিনের মা।
"মা তুমি কেন এসব সহ্য করো বলতো?? আমিতো বলছি আমি একটা কাজ দেখছি, আমি সকালে কাজ করবো আর বিকালে পড়াশুনা করবো। কোনও অসুবিধা হবে না। আমার উপর একটু ভরসা করো একটা ছোট খাটো কাজ আমি ঠিক জোগাড় করে নেব। ও মা.. শোনো না মা..আর থেকো না এখানে। ওই লোকটা একদিন তোমায় মেরে ফেলবে।" বেশ কান্না ভেজা গলায় বললো তুহিন।
"এই দেখো পাগল ছেলে আমার, আরে পাগল এতো বর ছেলে কাদতে আছে নাকি" এই বলে তুহিনকে বুকে টেনে চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে তার মা বললো ঠিক আছে এসব নিয়ে পরে কথা হবে। যাও এখন স্নানটা সেরে এসো খেতে বসতে হবে।
দুপুর দুটো নাগাদ খেয়ে উঠলো তারা দুজন। খেয়ে উঠে বাসন গোছাতে গোছাতে তুহিনের মা বললো " বেলা দুটো বেজে গেলো, তোর বাবা সেই সকালে ঝগড়া করে বেরোলো, এখনও ফিরলো না। খাবার উপরে রাগ কিসের কে জানে!!! ঘরে এসে খেয়ে যেতে পারতো। "
এবার যেন তুহিন বেশ রেগে গেলো, " মা তুমি এখনও ওই বাজে লোক টাকে নিয়ে ভাবছো!!! ভালো হয়েছে আসেনি, মুখ দেখতেও ইচ্ছে করে না.. "
"এরম বলতে নেই তুহিন, সে তোমার বাবা", বেশ একটু রেগেই বললো তুহিনের মা।
ঘড়িতে ঢং ঢং করে রাত ১১টা বাজলো। "তুহিন তোর বাবাতো এখনও ফিরলো না। একটু তোর সৌমেন কাকুর বাড়ি গিয়ে দেখ না তোর বাবার কোন খোঁজ পাস নাকি..." বেশ চিন্তিত ভাবেই বললো তুহিনের মা। ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও খোঁজ নিতে বেরোলো তুহিন। এক ঘন্টা পরে বাড়ি ফিরলো তুহিন, না তবে তার বাবার কোন খোঁজই পায়নি সে।
দেখতে দেখতে পরদিন দুপুর হয়ে গেলো। না এখনও বাড়ি ফেরেনি তুহিনের বাবা। এবার তুহিনেরও একটু চিন্তা হল। সে নিজের মা কে বললো " কোথায় গেলো বলতো মানুষটা, দুদিন হতে চললো বাড়ি ফিরছে না!!! "
সেটা তো আমিও ভাবছি, তুই এক কাজ কর স্নানটা সেরে খেয়েনে তারপর না হয় একবার থানায় গিয়ে একটা মিসিং ডাইরি করে আয়। আজ আমি তোর জন্য খাসীর মাংস করেছি। স্নান করে এসে খেতে বসলো তুহিন। যদিও খাসীর মাংস তার খুবই পছন্দ কিন্তুু আজ যেন তার ঠিক ভালো লাগছিল না খেতে। তার মা জিনিসটা লক্ষ্য করে বললো কি হল ভালো হয়নি খেতে? এটা কিন্তু নতুন ধরনের খাসী। মন্টুর মা বললো রহিমের দোকানে নতুন খাসী এসেছে বোম্বে থেকে, খেতে একটু অন্য রকম কিন্তুু দামটা অনেক সস্তা তাই ভাবলাম তোকে একটু রান্না করেদি। তবে তোর ভালো না লাগলে আর আনবো না।
তুহিন খেতে খেতে মাথা নাড়িয়ে বললো, " না না ঠিক আছে খারাপ না, দাম কম হলে আনতে পারো । "
খেয়ে উঠে পুলিশ স্টেশন গেল তুহিন তার বাবার নামে মিসিং রিপোর্ট লেখাতে।
আরো একটা দিন কেটে গেল। না আজ ও ফিরলো না তার বাবা। তুহিন একটু চিন্তিত ভাবেই তার মাকে জিজ্ঞাস করলো " কি ব্যাপার বলতো, দুদিন হয়ে গেলো কিন্তুু বাবাতো ফিরলো না। এদিকে ঘরে খাবার ও প্রায় শেষ। বাবা টাকা না আনলে আমরা চলবো কি করে মা??? আমরা খাবো কি....???"
"তুই চিন্তা করিস না আমি আছি তো,, তুই যা গিয়ে পড়তে বস...কালকের মাংশ কিছুটা ফ্রিজে রাখা আছে আজ ওটাই করে দিচ্ছি খেয়েনে " এই বলে রান্না ঘরে গেলো তুহিনের মা।
আজ তিন দিন কাটতে চললো, না এখনও এলো না তুহিনের বাবা। তুহিন এবার কাঁদো কাঁদো মুখে তার মাকে বললো " মা....বাবা যদি টাকা নিয়ে না আসে তো আমরা খাবো কি গো, কি হবে আমাদের?? "
এবার তুহিনের মা বেশ গম্ভীর ভাবেই বললো " তুই একটা ছোটো খাটো কাজ দেখ তুহিন, যা টাকা মজুত আছে তাতে আরও এক সপ্তাহর মত চাল ডাল জোগাড় করা যাবে। আর রহিমের থেকে ধারে কিছুটা মাংশ এনে রাখছি। রহিম তোর বাবার ছোটো বেলার বন্ধু তাই আমাদের বিপদে পাশে দাড়াতে রাজি হয়ে ধারে জিনিস দিতে রাজী হয়েছে কিন্তুু তুই এর মধ্যে কোনো একটা কাজ দেখ। "
দিন কেটে চললো কিন্তুু তুহিনের বাবার কোনো খোঁজ মিললো না। রোজ সকালে তুহিন কাজ খুঁজতে বেরোয়। যেকোনো কাজ একটা হলেই হবে তার। শুধু বদলে কটা টাকা দিলেই হবে কিন্তু না কিছুই লাভ হয়না। রোজ রাতে নিরাশ হয়ে বাড়ি ফেরে তুহিন। এখন যেন তুহিনের রোজের রুটিন হয়ে গেছে রোজ সকালে সেই রহিমের বোম্বাই খাসীর ঝোল খেয়ে বেরোনো তার পর সারাদিন নানা অফিস থেকে ধাক্কা খেয়ে নিরাশ হয়ে রাতে বাড়ি ফেরা। দেখতে দেখতে প্রায় এক সপ্তাহ কেটে গেল। তুহিন তার মায়ের করুন মুখটার দিকে যেন আর তাকাতে পারে না। এমনই অকর্মন্ন সে,  একটা কাজ খুঁজে দুটো টাকা রোজগার করেও মাকে দিতে পারছে না। এসবই ভাবছিল তুহিন হঠাৎ একটা ফোন এলো, হ্যালো, তুহিন অধিকারী বলছেন ? আমি নেবুলা কোম্পানী থেকে বলছি, আপনি গতকাল আমাদের এখানে ইন্টারভিউ দিয়ে গেছিলেন, আপনি ইন্টারভিউতে সিলেক্ট হয়েছেন। আপনি কাল সকালে অফিসে এসে জয়নিং ফর্মালিটিটা পূর্ণ করে যাবেন। তুহিন ঠিক করলো কাল জইনিং লেটার একেবারে এনে মাকে দেখিয়ে সারপ্রাইজ দেবে। পরদিন সকালে না খেয়েই একটু তাড়াতাড়ি বেরিয়ে গেলো তুহিন। মাকে বলে গেল মা আমি এসে খাবো। দুপুরের মধ্যে জইনিং লেটার নিয়ে বাড়ি ফিরছিল সে। রহিমের দোকানের পাস থেকে ফেরার সময় তার মনে হলো, তার রহিম চাচা তাদের খারাপ সময় সাহায্য করেছে তাই এই খুশির খবরটা তাকেও একবার বলা দরকার।
"ও রহিম চাচা কেমন আছো? যেন আমি চাকরি পেয়ে গেছি। বাবা মিসিং হবার পর তুমি আমাদের পাশে দাড়িয়ে ছিলে.....তার জন্য অনেক ধন্যবাদ...তবে তোমার বোম্বাই এর খাসী দামে কম হলেও খেতে কিন্তুু  তেমন ভালো না।" এই বলে নিজের হাতের খাম থেকে জইনিং লেটারটা বার করে দেখাল সে।
"শুনে খুব খুশি হলাম তুমি চাকরি পেয়েছ কিন্তুু বাবু আমি তো কোনো বোম্বের খাসী বিক্রি করি না। আমি তো তোমার কাছে এই প্রথম শুনলাম এটা।" বেশ আশ্চর্য্য ভাবেই বললো রহিম চাচা।
"কি বলছো চাচা মা তো তোমার থেকে ধার করে নিয়ে যেত। গত এক সপ্তাহ ধরে ওই খাসী খেঁয়েই তো আছি আমি আর মা। তোমার বয়েসের সাথে সাথে স্মৃতি শক্তি টাও গেছে মনে হচ্ছে.." এই বলে হাসতে হাসতে নিজের বাড়ির দিকে পা বাড়ালো সে।
সত্যি রহিম চাচার কি ভুলো মন.....তবে সত্যি কি ভুলো মন নাকি তার বন্ধুর পরিবারের সবার সামনে মান সম্মান নষ্ট না হয় তাই ধারের কথাটা এরম অস্বীকার করে গেলো!!!??? সত্যি কত বর মন রহিম চাচার...শ্রদ্ধায় বুকটা ভরে উঠলো তুহিনের। বাড়ি এসে তুহিন দেখলো দরজায় তালা বন্ধ। অনেক সময় তার মা দুপুরে পাশের বাড়ির মন্টুদের বাড়িতে যায় পানের আসরে সেটা তুহিন জানতো আর চাবিটা দরজার পাশের টবের নিচে রেখে যায়। তুহিন চাবিটা বার করে ঘরে ঢুকলো। হাত পা ধুয়ে ফ্রেশ হল সে। সকাল দিয়ে কিছু খায়নি। খুব খিদে পেয়েচে। মাকে ডাকবে কি একবার...??? না থাক গল্প করছে করুক। এই এক সপ্তাহ খুব খারাপ সময় গেছে তাদের....একটু মন খুলে হাসেওনি তার মা....আজ একটু গল্প করুক। আজ তো তাদের খুশির দিন। সব কষ্টের অবসান তাদের। আর খাবার তো ফ্রিজে আছে সে একটু না হয় গরম করে নেবে।
কিন্তুু একি.......কালো কাপড় দিয়ে মুড়ে কি ঢাকা রয়েছে এটা ফ্রিজের ভিতর!!!!!
কাপড়টা সরাতেই যেন বুকের রক্ত হিম হয়ে গেল তুহিনের...... 
নিজের চোখ কে যেন বিশ্বাস করতে পারছিল না তুহিন!!!!
ফ্রিজে কালো কাপড়ে মুরিয়ে রাখা হয়েছ তারই হারিয়ে যাওয়া বাবার কাটা মুন্ডু!!!!!!!!!!!!!!!
তুহিনের মনে হচ্ছিলো সে অজ্ঞান হয়ে যাবে।
হঠাৎ বাইরে থেকে তুহিনের মার স্বর ভেসে এলো ,
" তুহিন তুই এসে গেছিস নাকি, এতো আগে আসবি বলে যাবি তো। তোর জন্য আজ বোম্বাই খাসীর মাথার ঝোল করবো ভেবেছিলাম। তুই হাত পা ধুয়ে নয় আমি করে দিচ্ছি ততক্ষনে। "

A tour to remember

hi....
friends...
how are you........????? 
Today I am a bit upset & trying to recollect my good memories as doing that the most happiest memory that I recollect is my last Digha Tour. A few months back in July. One day after our survival of sun burned weather of the whole day. We were discussing about the hotness of the day & pulling each others legs by commenting on each others girlfriends just for fun. Suddenly Sayan(one of my best friends) get up & started roaring to us & said..."SAALA KOTHAO GHURTE CHOL NA. AI BAABAAL AR VALO LAAGCHE NA(tired of all these nonsense. Lets go for an outing)......" & suggested "Darjiling" for the outing. We suddenly stunned & looked to him like he was not an earthly creature for a few minutes. Then we again started laughing this time on him & this time more loudly too. But a few days later the topic of an outing aroused again & this time we were more serious than the last time. So we have a proposal of Darjiling & we started discussing about the budget of the outing. After three days of discussion we finally concluded  the fact that........" DARJILING JATE BAHUT KHORCHA RE(the outing of Darjiling is too expensive)". So the Darjiling tour is now in the garbage box. Now one of us named Mainak suggested to set to Sundarban but Soumya Shoot that idea horribly on the spot & tired of that Sayan said..."DHUR....OSOB CHAR....MURSIDABAD CHOL....SOUMYA AR HOSTEL A THAKBO.....TOTAL PARTY KORBO(stop all these nonsense lets set for Soumya's hostel at Mursidabad & will have a total party over there)" & Soumya again come to the act & stop Sayan by saying some horrible slang & after few minutes its became my turn to have slangs from Soumya as I suggested to set for Digha because last year we went to the same place & no one interested in my idea but suddenly one of us named Shiba(Shibashis) came to support my idea & said...." ARE DIGHA CHOL OKHAN THAKE MONDERMONI JAOA JABE...JAGA TA KHUB VALO...BEACH TAO NAKI BAPOK...(hey lets set for Digha..& then move to Mondermoni from there..Mondermoni is very nice place & it has a very beautiful beach too...)". Now we started a serious discussion on it & we all found nothing bad in it so we fixed for it & now for the first time Rahul came to the act by putting his girlfriend on hold over the phone & asked...."BHAI KI THIK KORLE?????? KOTO KHORCHA PORBE??(what has decided? how much money will cost to each??)" & now Sayan & Soumya started throughing slangs to Rahul like a rap singer. So after a long discussion we finally set Modermoni for our outing & Shiba promised to book rooms & with that our meeting was adjourned for the day. On the next evening. Shiba said that he booked a dormitory room in Youth Hostel & it will cost Rs.100 to each of us & we have to pay half of that money now to Shiba as he already paid the half of the whole amount to book the room.s. So we paid half to Shiba. So its decided that we(me,soumya,sayan,shiba,rahul,mainak & jit) would set for Digha on 13th July in morning. So as decided we went to Howrah at 6:30am to catch 7am train. But at about 6:45am Rahul said..."BHAI HAGA PAYECHA...JATEI HOBE(friends i have a nature's call & I have to respond to it now.......)" so Rahul went to respond along with Shiba....& Soumya & Jit went to have a cup of hot tea & me,Mainak & Sayan went to the train to have seats for us but there is no seat free in general compartment so we have our seats in reserve when TT come he fined us Rs.100 & we paid it. But in the train the most embarrassing thing happened to Sayan, as some special earthly creature came to us & demanded money & when Sayan ignored by not responding to them. They pressed Sayan's pe**s & threat to get naked in front of him. We paid Rs.10 to them. They blessed us & leave but take away Sayan's virginity too. So Sayan a bit upset as he lost something. But now Jit decided to join Sayan so he sacrificed his sun glass. At about 11:30am finally we reached Digha. Now we set for our next destination that is our dormitory room. It was 10 minutes of walking distance from the New Digha Rail Station. So it was about 11:45 am we reached the New Digha Youth Hostel. Where we booked our room. We changed our dress & had massala bread as breakfast which was send by Shiba's girlfriend for us. So at 12:30 pm we set to have a cool bath at the beaches of Digha. So went to the beach but among them I used to have a little fear from sea. So I stayed close to the bank. But Mainak, Shiba, Soumya, Jit, Rahul went too far but frankly speaking i didn't have that much guts to go deep in the sea. So I stayed safe at the bank & after some time Sayan also realized my idea & decided to stay safe at about 4 pm we completed our bath. As we were too hungry to have food. So we came back to our room, had a quick bath of fresh water & again set to search food. It was around 5:30 pm we returned to the hostel & ready to have a game of cards named 29. So Sayan teamed up with me & challenged Soumya & he accept the challenge by teaming up with Jit so the battle began. The red bed cover symbolized the bloody battle field. The battle continued for 3 hours until Shiba forced us to set out to have a night view of the see. So we went to Old Digha to witnessed the cruelty of the sea at night. The sea was flexing all its muscles & roaring at its best. We had a walk on the side ways of the sea & in doing that we ate so many things because of walking a long distance we were a bit tired. So we decided first to hire a car for tomorrow to set for Mondermoni & later to have dinner. So we went to hotel named Nilajana but the hotel was about to close on that time but they take our order but serve the order a bit late & because of that we got a bit late to reach to the hostel. So the owner of the hostel showed a bit anger over us but we chilled that now at night a very huge problem come out to us because earth's most annoying creature "MOSQUITO" but some how we managed. We woke up at about 9 am at the morning & got fresh & had our breakfast quickly to set for the Mondermoni. Our hired car came to our hostel to pick us at 11 am. So now finally we set for Mondermoni. It took one and half hour to reach to our most desired place. Firstly our driver put us on a lonely beach. We were alone there. We immediately started our photo shoot with various & amazing posses but a problem took place when we discovered that there were some huge boulders in the sea & some huge holes too & these things may cost us a very terrible memory. So we ask our driver to move to another place & now we were in a beach. Full of God's greatest creations. So we started our bathing & photo shoot here again & we also enjoyed some our of beach cricket. There I took an awesome catch like Ricky Ponting. Now it is round about 3 pm when we decided to have our lunch. We went to a dhaba for lunch & then set back to hostel. We were so tired on that day so we decided to stay in rather than stay out the rest of the day had so boring hours. So there is no more masti for that day. On the next morning it was the judgment day for Rahul, Sayan & Shiba. They were a bit tensed then but it arousesd its height at 12noon as it was the time for judgment. Suddenly our phones stooped working. The air of the room became more & more filthy. We clearly sensed of evil. Darkness was knocking on the doors of our peaceful room. Suddenly like "Brahamma" ,,, "Bishnu",,,,, & "Mahesware",,,three good news came there to save us that were Sayan completed his graduation with 50%,,,,,Rahul with 51% & last but not the least the "MAHESWARE" Shiba with 73% with these three good news we decided to set back to our own CITY OF PALACE KOLKATA.

Wednesday, April 22, 2020

ভয়

খবরটা পাবার পর থেকেই মনটা ভালো নেই বিকাশের।
রাজেশ তার ছোটবেলার বন্ধু ছিলো কিন্তুু এভাবে হঠাৎ করে রাজেশের মারা যাওয়াটা ঠিক মন থেকে মেনে নিতে পারছেনা বিকাশ। আজ সকালে রাজেশের ভাই ফোন করে খবরটা দেবার পর থেকেই যেনো আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারছেনা বিকাশ। কদিন আগেই তো ফোনে কথা হলো তার রাজেশের সাথে। ভালোই তো কথা হয়েছিলো, রাজেশ বলেছিল একদিন তার ফ্ল্যাট দেখতে আসবে, কিন্তুু একি হয়ে গেলো, আজ আর রাজেশ নেই, না সত্যি এটা মানতে পারছেনা বিকাশ। অনেক কষ্টে মনকে শক্ত করলো বিকাশ, শেষ দেখাটা সে দেখতে যাবে রাজেশকে, যাবে সে নিজের ছোটো বেলার বন্ধুর শেষ যাত্রায় তার সঙ্গী হতে। নিজের গ্রামের পথে রওনা দিলো বিকাশ। আজ তার নিজের গ্রামের চেনা পথ গুলো খুব যেনো একা লাগছিলো। কত স্মৃতি জড়িয়ে আছে তার এবং রাজেশের এই পথ ঘাটে। সেই ছোটো বেলায় বিকালে একসাথে খেলতে যাওয়া, লোকের বাড়ির বাগান থেকে ফল চুরি করা, কতো আনন্দের দিন ছিলো কিন্তুু আজ তার বন্ধু, তার সঙ্গী তাকে চিরো কালের মতো ছেড়ে চলে গেলো। অবশেষে রাকেশের বাড়ি পৌঁছালো সে। উঠনেই রাখা হয়েছে রাজেশের নিষ্প্রাণ দেহটা, পাশে বসে কেদে চলেছে তার হতভাগী মা। বিকাশ যেনো তাকাতে পারছিলনা রাজেশের সেই মুখের দিকে, কান্নায় ফেটে যাচ্ছিলো তার বুক, মনে পড়ছিলো তার রাজেশের সেই হাসি হাসি মুখটা, তাদের একসাথে আড্ডা দেবার দিন গুলো, একসাথে করা দুষ্টুমি গুলো। কিন্তুু আজ সব শেষ, আর কোনো দিনও রাজেশ সাড়া দেবে না তার ডাকে। বিকাশ রাজেশের ভাইকে ডেকে জিজ্ঞাস করলো কি করে হলো ? রাজেশের ভাই বললো তার দাদা নাকি আজ সকালে বিকাশের ফ্ল্যাটে তার সাথে দেখা করতে যাবে ঠিক করেছিল তাই সকাল সকাল স্নান করতে গেছিলো কিন্তুু হঠাৎ করে বাথরুমে পা পিছলে পড়ে গিয়ে মাথায় চোট পেয়ে জ্ঞান হারায়। কিছুক্ষন পর তার মা বাথরুমে গিয়ে সব দেখে ডাক্তার ডেকে আনে। ডাক্তার এসে পরীক্ষা করে তার দাদাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। এবার যেনো আরো বেশি করে কেদে উঠল বিকাশের মনটা, তার সাথে দেখা করতেই তো আসছিলো রাজেশ, কিন্তুু ভগবানের একি খেলা, শেষ দেখাটাও হলো না। বিকেল ৫টা নাগাদ রাজেশের শেষকৃত্য সম্পন্ন হলো। আজ বাড়ি ফিরতে ফিরতে শুধু রাজেশের মুখটাই মনে পড়ছিল বিকাশের। রাজেশ তো তার সাথেই দেখা করতে আসছিলো। বলেছিল তার ফ্ল্যাট এসে দেখে যাবে। আর আসা হলোনা রাজেশের। এই ভেবে ভেবে দীর্ঘশ্বাস ফেলছিল বারবার বিকাশ। বাস থেকে যখন নামলো বিকাশ ঘড়িতে রাত ১১টা বাজে। একেই রাত হয়েছে তার উপর আবার শীতকালের রাত, রাস্তা ঘাট পুরো নিঝুম হয়ে আছে। আজ আর খাবার কিনলো না বিকাশ। যদিও সকাল থেকে কিছুই খায়নি আজ বিকাশ কিন্তুু তবুও আজ তার খিদে নেই, বাড়ি পৌঁছে এক গ্লাস জল খেয়ে শুয়ে পড়লো বিকাশ। কিন্তুু ঘুম তার কিছুতেই আসছে না। সে যেনো ভুলতে পারছে না তার বন্ধুর সেই করুন মুখটা। হঠাৎ কিসের যেনো একটা আওয়াজ এলো, বেশ চমকে উঠলো বিকাশ। মনে হলো কে যেনো একবার তার দরজাতে ঠকঠকালো। ধরপরিয়ে উঠে বসলো বিকাশ। এতো রাতে কে এলো আবার। বিকাশ লাইট জ্বালিয়ে দেখলো রাত তখন 
২টো বাজে। এতো রাতে কে এলো তার দরজায়?? বিকাশ উঠে গিয়ে দরজা খুললো কিন্তুু কোথায় কে..কেউ নেই। অন্ধকার ফাঁকা সিড়ি বাদে আর কিছুই নেই বাইরে। হয়তো মনের ভুল হলো বিকাশের, আসলে সকাল দিয়ে কিছু খায়নি তো সে তাই হয়তো এসব ভুলভাল ভ্রম হচ্ছে তার। আবার বিকাশ নিজের বিছানায় শুতে এলো কিন্তুু বৃথা চেষ্টা, ঘুম তার এবারও এলো না। বিছানায় শুয়ে এপাশ ওপাশ করছে হঠাৎ আবার সেই ঠক ঠক শব্দ। বিকাশ এবার উঠে বসলো, না কোনো ভ্রম হয়নি তার, সে স্পষ্ট শুনেছে এবার। কে যেনো তার দরজায় টোকা মারলো " ঠক ঠক ", " ঠক ঠক " । কিন্তুু এতো রাতে কে বারবার মজা করছে তার সাথে। হঠাৎ পিঠের শিকদারা বেয়ে যেনো বরফের স্রোত বয়ে গেলো তার। হঠাৎ তার মনে এলো রাজেশের ভাইয়ের কথা গুলো। তার বন্ধুতো তার সাথে দেখা করতে আজ তার ফ্ল্যাটেই আসছিলো। তবেকি....তবেকি অশরীরী হয়ে শেষ দেখাটা দিতে এলো বিকাশকে। বিকাশের মাথা কাজ করছে না, তার হৃদস্পন্দন যেনো ১০০ গুন বেড়ে গেছে। এই শীতকালেও মাথায় বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে বিকাশের। হঠাৎ আবার সেই আওয়াজ " ঠক ঠক " ঠক ঠক "। এবার যেনো আওয়াজটা একটু দ্রুত হলো যেনো দরজার ওপর প্রান্তের জীবটি অধৈর্য হয়ে উঠছে ভেতরে প্রবেশের জন্য। ক্রমশ আওয়াজটা যেনো দ্রুততর হতে লাগলো। বিকাশের বুকের ভেতর যেনো দামামা বাজতে লাগলো। গলা শুকিয়ে এসেছে বিকাশের। ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ হতে লাগলো বিকাশের, সে দেখলো যেনো তার বন্ধু হাতছানি দিয়ে ডাকছে তাকে আর সেও যেনো এগিয়ে যাচ্ছে তার ডাকে সাড়া দিতে!!!!!!!!.........

দারোগা বাবু দরোয়ান কে ডেকে বললো তুমিই প্রথম দেখলে লাশটা। দারোয়ান বললো হ্যা স্যার। রোজ সকালে বিকাশ বাবুর ঘরে আমি বাজার থেকে দূধ কিনে দিয়ে আসি। আজ গিয়ে দেখি বাবুর দরজা বন্ধ। অনেক্ষন ডাকাডাকি করেও কোনো ফল হলো না দেখে আমার সন্দেহ হয় তাই অফিস রুমে গিয়ে ডুপ্লিকেট চাবি নিয়ে গেট খুলে দেখি বিকাশ বাবু মাটিতে পরে আছেন। আমি তারাতারি ডাক্তার বাবু কে ডেকে আনি। ডাক্তার বাবু এসে পরীক্ষা করে ওনাকে মৃত ঘোষনা করেন। কেউ কি এসেছিল কাল তোমার বাবুর সাথে দেখা করতে? দারোয়ান বললো না স্যার। কিন্তুু কাল বাবু অনেক রাত করে বাড়ি ফেরেন। মুখ দেখে একটু দুঃখী দুঃখী মনে হচ্ছিলো। "ঠিক আছে তুমি যাও" দারোগা বাবু বললো।
ফ্ল্যাটটা একটু ঘুরে দেখেছিল দারোগা। হঠাৎ দরজায় আওয়াজ হলো "ঠক ঠক" , "ঠক ঠক" l
দারোগা বেরিয়ে বিরক্ত হয়ে হাবিলদার কে বললো "ঠক ঠক" করছিস কেনো ? দরজাতো খোলাই আছে, দেখছিস না আমি একটু ইন্সপেকশন করছি ফ্ল্যাটটা। হাবিলদার একটু ভয়ে থতমতো খেয়ে বললো আজ্ঞে স্যার আমি "ঠক ঠক" করিনি স্যার, দরজার বাইরের দিক দিয়ে দুটো টিকটিকি দৌড়াচ্ছিল দরজর উপর দিয়ে স্যার, তাই আওয়াজ হলো, আমি কিছু করিনি।
দারোগা বিরক্ত হয়ে বললো ঠিক আছে, ঠিক আছে, অনেক হোয়েছে এবার দয়া করে গিয়ে জিপটা স্টার্ট করো আর লাশটা কে মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করো।

Monday, April 13, 2020

অতীত

১২ ই এপ্রিল, দিনটা কখনো ভুলবে না অনিকেত। একবছর আগে ঘটে যাওয়া এক ঘটনা আজকের দিনটাকে তার কাছে করে রেখেছে চির বিভীষিকাময়।
আজও অবসরে সে ভাবে সত্যি কি ঘটেছিল সেদিন?? কি দেখেছিল সে, সে কি....!!! না ঘটনাটা প্রথম থেকেই বলা দরকার। আজ থেকে ঠিক এক বছর আগের কথা, আজকেরই দিনে অফিস থেকে বাড়ি ফিরছিল সে, কিন্তুু অন্য দিনের চেয়ে আজ একটু বেশি দেরি হয়ে গেছে তার। যাইহোক রোজকারই মতন আজও একটা অটোর অপেক্ষায় দাড়িয়ে আছে সে, অবশেষে একটা অটো পেলো কিন্তুু রোজকার মত আজ অটোটা পুরো ফাঁকা না, প্রথম থেকেই একজন মাঝ বয়সি মহিলা প্যাসেঞ্জার বসে রয়েছে। যাইহোক ভালই হলো একলা যাবার থেকে একটা সঙ্গী খারাপ কি। যাইহোক অটোতে চেপে বসলো অনিকেত। পাশে বসে বেশ ভালই লাগছিল অনিকেতের, যুবতীকে দেখে বাঙালি মনে হচ্ছে, দেখতেও বেশ সুশ্রী। বেশ কথা বলতে ইচ্ছে হচ্ছিল অনিকেতের, কিন্তুু সংকোচ বোধ হচ্ছিল পাছে সে অনিকেত কে ভুল বোঝে। একেই অনেক রাত তার উপর একলা মেয়ে, থাক দরকার নেই কথা বলে, কোথায় আবার কি ভাববে, শেষে দেখবে হয়তো সোশাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়ে বসে আছে সে। না থাক দরকার নেই। এইসব ভাবছে অনিকেত হঠাৎ পাশ থেকে একটা প্রশ্ন এলো " অফিস থেকে ফিরছেন ? " সত্যি বলতে একটু হকচকিয়ে গেলো অনিকেত, অপ্রস্তুত ভাবে উত্তর দিলো " মানে ওই মানে একটু দেরি ".. যুবতী হেসে উঠলো " আরে আপনি ভয় পাচ্ছেন কেনো? " একটু লজ্জা পেয়ে অনিকেত বললো না না আসলে মানে ঠিক বুঝতে পারিনি। মেয়েটি আবার হেসে জিজ্ঞাস করলো তো আপনার নাম কি ? অনিকেত উত্তর দিলো। এবার অনিকেত একটু সাহস পেলো সেও যুবতীটিকে তার নাম জিজ্ঞাস করলো। যুবতী বললো তার নাম অনুরাধা। সে একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করে। আস্তে আস্তে কথা শুরু হলো দুজনের। বেশ ভালো লাগছিলো পুরো ব্যাপারটা অনিকেতের। হয়তো অনুরাধারও বেশ ভালই লাগছিল অনিকেতকে। কিন্তুু হঠাৎ একটি বিকট শব্দে কথা বন্ধ হলো তাদের। "কি হলো ভাই ? " অটোওয়ালা কে জিজ্ঞাস করলো অনিকেত। দাদা টায়ার ফেটেছে। অটো আর যাবে না। আপনারা এখানেই নেমে যান। যথারীতি বাধ্য হয়ে অটো থেকে নেমে গেলো তারা, অনিকেত জোর করে দুজনেরই ভাড়াই মিটিয়ে দিলো। অটোওয়ালা অটো ঠেলতে ঠেলতে ধীরে ধীরে রাতের অন্ধকারে মিলিয়ে গেলো। এখন নিঝুম রাতের শান্ত পরিবেশে শুধু দুটি প্রাণী অনিকেত আর অনুরাধা। কেমন একটা ভাব হচ্ছিল অনিকেতের। আগে কখনো এরম পরিস্থিতিতে পড়েনি সে। অনিকেত হঠাৎ দেখলো অনুরাধার মুখটা একটু ম্লান হয়ে এসছে। সে একটু সাহস করে অনুরাধাকে বললো " আপনি কিছু মনে না করলে আমি কি আপনাকে বাড়ি ছেড়ে দেবো ? " অনুরাধা কিছু উত্তর করলো না কিন্তু তার মুখ দেখে অনিকেত বুঝছিলো সে ভয় পেয়েছে কোনো কারণে। অনিকেত আবার সাহস করে বললো " দেখুন এখন এখানে কোনো গাড়ি পাবেন না, তার চেয়ে বরং চলুন হাঁটা শুরু করি একসাথে। আমি না হয় আপনাকে বাড়ি অবদি ছেড়ে দিয়ে আসবো। অনুরাধা এবার একবার মুখ তুলে চাইলো অনিকেতের দিকে। আহা কি সুন্দর মুখ খানি, কি মায়া এ চোখের। এ চোখ যেনো এক দৃষ্টিতেই পাষাণ হৃদয়েও প্রেম জাগাতে পারে। অনুরাধা হাটতে শুরু করলো অনিকেতের সাতে। অনিকেত আবার একটু সাহস করে জিজ্ঞাস করলো " আপনি কি ভয় পেয়েছেন কিছুতে ? " এবার অনুরাধা উত্তর দিল "না আসলে এত রাতে মানে আমরা দুজন একা, আজকাল দিনের যা অবস্থা তাই
একটু মনটা কেমন কেমন করছে আর কি" অনিকেত এবার শক্ত করে অনুরাধার হাতটা চেপে ধরলো, বললো তুমি ভয় পেও না অনুরাধা, আমি আছি তোমার সাতে। "আপনি" থেকে দুটি প্রাণী "তুমি" তে এসে পৌঁছালো। একে অপরের প্রতি বিশ্বাসটা যেনো বেশ শক্ত হচ্ছিলো। কথা বলতে বলতে এগিয়ে চললো দুজনে। অনিকেত শক্ত করে ধরে রেখেছে অনুরাধার হাত। অনুরাধা ও যেনো ভরসা ফিরে পেয়েছে, তার মুখের সেই ভয়ার্থ ভাব কেটে বেশ সেই হাসি খুশি মুখটা ফিরে এসেছে। কিন্তুু সামনে ওরা করা এগিয়ে আসছে। একদল ছেলে সামনে এসে দাড়ালো অনিকেত ও অনুরাধার। ঘিরে ধরলো তাদের। অনিকেত শক্ত করে চেপে ধরে রয়েছে অনুরাধাকে। হঠাৎ একজন অনুরাধার হাত ধরতে এলো অমনি বিদ্যুৎবেগে তার উপর ঝাপিয়ে আক্রমণ করলো অনিকেত। একে একে সবাই এবার ঘিরে ধরলো অনিকেত কে। কিছুক্ষন হাতাহাতি চললো, হঠাৎ পেছন থেকে কি যেনো একটা মাথায় লাগলো অনিকেতের, মাটিতে লুটিয়ে পড়লো সে, ওরা সবাই অনুরাধাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। অনুরাধা চিৎকার করছে বাঁচাও অনিকেত, অনিকেত পরে রইলো, তার ওঠার ক্ষমতা নেই, নিজের সমস্ত ক্ষমতা দিয়েও উঠে দাড়াতে পারলো না অনিকেত। ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ হয়ে এলো অনিকেতের, শুধু কানে ভেসে আসছিলো অনুরাধার করুন চিৎকার, "আমায় ছেড়ে দাও তোমরা, অনিকেত বাঁচাও, বাঁচাও অনিকেত"....
পরদিন সকালে যখন অনিকেত চোখ খুললো তখন তাকে ঘিরে কিছু লোক দাড়িয়ে। তারা অটো নিয়ে যাচ্ছিলো, রাস্তার ধারে তারা অনিকেত কে পরে থাকতে দেখে। অনিকেত তাদের সমস্ত ঘটনা বললো। অনিকেত তাদের সাতে তন্ন তন্ন করে খুঁজলো অনুরাধাকে, না হয়তো অনুরাধাকে না, হয়তো খুঁজছিল গতরাতে পাশবিক অত্যাচারের শিকার হওয়া অনুরাধার ক্ষতবিক্ষত শরীরটাকে। কিন্তুু না কিছু নেই। অনিকেত দুঃখে এবং রাগে ভেঙ্গে পড়লো। কি দোষ ছিলো সেই নিষ্পাপ মেয়েটার। তার এখন নিজেকে ছেলে বলতে ঘেন্না হচ্ছে। না তবে ভেঙ্গে পড়লে হবে না। সে বেঁচে আছে এখনো। বদলা সে নেবে। অনুরাধার যারা সর্বনাশ করলো অনিকেত তাদের ছাড়বে না। যতদূর যেতে হয় সে যাবে কিন্তুু বদলা সে নেবে। অনিকেত এবার সোজা পুলিশ স্টেশন গেলো। গিয়ে সমস্ত ঘটনা বললো। থানার ওসি আশ্চর্য ভাবে অনিকেতকে জিজ্ঞাস করলো আপনি সঠিক বলছেন সব, মেয়েটিকে দেখলে চিনতে পারবেন? অনিকেত বললো নিশ্চই। ওসি একটি ফাইল এগিয়ে দিলো অনিকেতের দিকে। অনিকেত ফাইলটা খুলে আশ্চর্য হলো, আরে এতো অনুরাধার ছবি। অনিকেত বললো এই তো অনুরাধা। এবার থানার ওসি আশ্চর্য্য হয়ে অনিকেত কে বললো সে যেটা বলছে সেটা সম্ভব না কারন ঠিক কালকের দিনেই আজ থেকে একবছর আগে অনুরাধা বলে এই মেয়েটিকে রাতের অন্ধকারে কিছু দুষ্কৃতী ধর্ষণ করে খুন করে। সেই সময় অনুরাধার সাথে যেই ছেলেটি ছিলো সেও গুরুতর আহত হয়। সেই ছেলেটি এসেই এই রিপোর্টটা লেখায়। এসব শুনে অনিকেতের মাথা ঘুরতে লাগলো সে তার হাতের ফাইলটা উল্টে পাল্টে দেখতে লাগলো হঠাৎ তার নজর পড়লো FIR টা যে করেছে অনুরাধার সেই বন্ধুর নামের উপর।
নামটা খুবই চেনা তার, নামটা "অনিকেত" !!!!!!!! 
অনিকেতের কানে যেনো আবারও ভেসে আসতে লাগলো সেই আর্তনাদ " বাঁচাও অনিকেত, বাঁচাও "।

Friday, April 10, 2020

এপ্রিল ফুল

আরও একটা দিন কেটে গেল অজয়ের জীবনের। কিন্তুু চাকরিটা আজও হলো না তার। কমাস আগের ই কথা, ভালই চলছিল তার সব। পাঁচ বছর আগে একটা ফুটফুটে ছেলেও হয়েছে তার। বৌ ছেলেকে নিয়ে বেশ সুখেই সংসার কাটছিল তার। কিন্তুু কি থেকে কি হয়ে গেলো। হঠাৎ রাতারাতি বন্ধ হয়ে গেলো অজয়ের কোম্পানী। তিন মাস কেটে গেছে তারপর থেকে, অজয় রোজ সকালে চাকরি খুঁজতে বেরোয় কিন্তুু শুধু নিরাশ হয়ে বাড়ি ফেরে। তার কষ্ট হয় তার বউ বানীর করুন মুখটা দেখে। সত্যি বেচারী নিজের সব সখ আলহাদ বাদ দিয়ে মুখ বুজে রয়েছে অজয়ের সাতে। একটা শাড়ি পর্যন্ত কিনে দিতে পারেনি অজয় শেষ তিন মাসে তাকে। আর তার পাঁচ বছরের ছেলে বিল্টু, সে ও কতো দাবি নিয়ে আসে অজয়ের কাছে, কিন্তুু কি করবে অজয়। ভগবান তো তার প্রতি মুখ তুলে চাইছেন না। এক এক সময় ভাবে চাইনা তার এরম জীবন কিন্তুু আবার ভাবে তার চলে যাবার পর বানী আর বিল্টু কে দেখবে কে, তারা তো কোনো দোষ করেনি। এসব ই ভাবতে ভাবতে একটু ঘুমিয়ে পড়েছিল সে, হঠাৎ স্টেশনের কোলাহল এ ঘুম ভাঙলো তার। আরে স্টেশন এসে গেছে, তাড়াতাড়ি ট্রেন থেকে নামলো অজয়, ভাগ্যিস ঘুমটা ভেঙেছিল নয়তো নাজানি কোথায় চলে যেত ট্রেনের সাতে। যাই হোক আজ সে হেঁটেই বাড়ি যাবে ঠিক করেছে, রোজ রোজ দশ টাকা রিকশা ভাড়াটা আজ তার কাছে বিলাসিতার ই সমান হতে দারিয়েছে। রাত সাড়ে আটটা, অবশেষে বাড়ি পৌঁছালো অজয়। বানী জিজ্ঞাস করলো " কিগো আজ এতো দেরি হলো, কিছু ভালো খবর আছে নাকি?" অজয় রেগে গিয়ে বললো " হ্যাঁ সুখবরই তো, আজ হেঁটে বাড়ি এসছি স্টেশন থেকে, যতঃসব, চাকরি পেলে তো এসেই বলতাম, যাও আর মাথা খেও না, বিল্টু কোথায় ? " বিল্টু পাশের ঘর থেকে বাবার কথা শুনে বেরিয়ে এসে জড়িয়ে ধরলো বাবাকে, বললো বাবা পরের সপ্তাহে তো আমার জন্মদিন তো ১২ এপ্রিল, এই বছর একটা তিনতলা কেক আনবে বাবা? শুনেই অজয়ের গেলো মাথা গরম হয়ে, এক বকা দিলো। পাশের ঘর থেকে বানী এসে বিল্টুর চোখ মুছতে মুছতে নিয়ে গেলো। রাতে খেতে বসে বানী বললো " আজ কেনো বকলে ছেলেটাকে ওরম করে, ও তো বাচ্চা মানুষ, ওর তো আবদার করাটাই স্বাভাবিক, আর সত্যি তো আর কদিন এভাবে চলবে বলো, বিল্টুর স্কুলে দুমাসের মাইনে বাকি, মুদি দোকানে ধার বাকী, লজ্জায় আমি বাড়ি থেকে বেরোই না, ঘরে যা চাল ডাল ছিল তাও শেষের মুখে, কিছু একটা করো তুমি শিগগিরি। " 
অজয় সব শুনলো কিন্তুু কোনো উত্তর করলো না, ঠিক করলো কাল একটু সকাল সকাল বেরোবে, কাল সে যেখান থেকে হোক টাকা জোগাড় করে আনবে, দরকারে চুরি করতেও পিছপা হবে না সে। 
সকাল সকাল আজ বেরোলো অজয়, বানী কে কথা দিয়ে গেলো আজ সে টাকা আনবেই। স্টেশনে ঢুকতে গিয়ে ধাক্কা লেগে হাত থেকে গেলো ফাইলটা পরে, " আরে মশাই দেখে চলতে পারেননা, একি !! এতো সুবীর। সুবীর আর অজয়, কলেজের বন্ধু ছিলো, একদম যাকে বলে হরিহর আত্মা। আরে অজয় তুই এখানে, কতদিন পর দেখছি তোকে, কোথায় ছিলিস এতো দিন, কাকু কাকিমা কেমন আছেন, কাকুর বিজনেস কেমন চলছে?
আরে দারা বলছি বলছি আগে তুই বল তুই কোথায় ছিলি এতদিন, সেই তো কলেজের পর এই মুখ দেখলাম তোর, তোকে তো বিয়েতেও ডাকতে পারিনি, তোর নাম্বার ছিলো না আর সত্যি বলতে ভাই ভুলেও গেছিলাম। আর তুইও তো কোনো খোজ ই রাখলি না কলেজের পর। সুবীর এবার একটু গম্ভীর হয়ে বললো, আর বলিস না ভাই, তোর তো বাবার ব্যাবসা ছিলো, তুই তো চলে গেলি এম বি এ করতে, আর এদিকে বাবার চাকরিটা গেলো চলে, আমি যে ইন্সুরেন্স এর কাজটা করতাম সেটাতেও মন্দা দেখা দিলো, বাড়ি ভাড়া দিতে পারিনি তাই বাড়িওয়াল দিলো তাড়িয়ে, ভেবেছিলাম তোকে জানাই কিন্তু ভাবলাম কষ্টের কথা বড়লোক বন্ধুকে বলে সাহায্য নেবো, কেমন যেনো বিবেকে বাঁধলো। অজয় মনে মনে ভাবলো, আর বড়োলোক, সুবীর কি আর জানে যে তার বন্ধুর এখন দুবেলা পেটভরে খাবার অবস্থাও নেই। সুবীর বলে চললো তারপর আস্তে আস্তে একটা চাকরি জোগাড় করলাম আর সাতে ইন্সুরেন্স এর ব্যাবসা টাও চালালাম, বেশ টাকাও করলাম জানিস তো তোদের দয়াতে আজ বাড়ি করেছি নিজের, মোটামুটি ভালই আছি। বলছি চলনা তোর খুব তাড়া না থাকলে একটু আড্ডা দি। সেই কলেজের পর এই তো দেখা। অজয় জিজ্ঞাস করলো তো তুই যাচ্ছিল ই কোথায়? সুবীর বললো আরে আমি যাচ্ছিলাম আমার এক ক্লায়েন্ট এর বাড়িতে টাকা দিতে, তার টাকাটা ম্যাচিউর হোয়ে গেছে। হঠাৎ করে অজয় মনে একটা কথা খেলে গেলো, সেকি সুবীরের থেকে টাকা চাইবে? নানা সেটা বাজে দেখাব, তালে কি চুপি চুপি সুবীরের ব্যাগটা চুরি করে নেবে সে? অনেক টা টাকা, সুবীরের তো এখন অবস্থা ভালই, তালে সে নিয়ে নিলে ক্ষতি কি, কলেজে থাকতে সেও তো সুবীর কে কতো সাহায্য করেছে, সুবীরের কলেজের ফিস কতবার সে দিয়েছে, তালে আজ যদি সুবীরের অজান্তে টাকাটা সে হাতিয়ে নেয় তালে ক্ষতি কি, আর সুবীর তার ছোটবেলার বন্ধু, যদি সে চুরি করে ধরাও পরে তালেও সুবীর তো তাকে আর হাজতবাস করাবে না। সামনের চায়ের দোকানে সুবীর দুটো চা আর দুটো ডিম টোস্ট অর্ডার দিলো। আর বল অজয় বাকিদের খবর কি, যোগাযোগ আছে বাকিদের সাতে, আমার তো আর যোগাযোগ নেই কাউর সাতেই। অজয় বললো নারে আমারও আর তেমন যোগাযোগ রাখা হয়ে ওঠেনি। কিন্তুু সত্যি কি ভালো দিনগুলো ছিলো বলতো। হম সুবীর বললো, সত্যি ঠিক বলেছিস সেই কলেজে স্যারদের পেছনে লাগা, জুনিয়র মেয়েদের পটানোর ট্রাই করা, মানে সে যেনো এক আলাদাই মজা ছিলো, সত্যি রে যদি ফিরে যেতে পারতাম সেই দিন গুলোয়। অজয় আনমনা ভাবে উত্তর দিল হম ঠিক, কিন্তুু তার নজর শুধু এখন সুবীরের ব্যাগ এর দিকে। কিভাবে চুরি করবে সে এই ব্যাগ সুবীরের অজান্তে, এই চিন্তাই তার মাথায় ঘুরছে। সুবীর আরও বলে চললো, তোর মনে আছে তুই আমায় কিভাবে এপ্রিল ফুল করেছিলি? অজয় উত্তর দিলো হম, আর তুই দিব্যি করেছিলি যে তুইও নাকি আমায় এপ্রিল ফুল করবি নয়তো নাকি তুই মরেও শান্তি পাবি না। সুবীর হেসে বললো বাবা তোর তো সব মনে আছে দেখছি, কিন্তুু কি করবো বল কলেজে ট্রাই তো করেছিলাম তোকে এপ্রিল ফুল করার কিন্তুু ওই পাগলা শ্যামলের জন্য সব নষ্ট হয়ে গেছিলো সেবার। ছাড় ওসব পাগলামির কথা। এখন ভাবলে হাসি পায়। ও আরে ভালো কথা মনে পড়লো বলছি তুই কলেজে থাকতে আমার কাছে একটা ইন্সুরেন্স করেছিলি, সেটা ম্যাচিউর হয়ে গেছে। তোকে  যোগাযোগ করতে পারিনি তাই  বলা  হয় নি। এবার একটু আশ্চর্য হলো অজয়, সেতো কখনো কোনো ইন্সুরেন্স করেনি সুবীরের কাছে, তালেকি সুবীর তার মতলব বুঝে তাকে গোপনে সাহায্য করতে চাইছে? লজ্জায় মুখটা ছোট হয়ে গেলো অজয়ের। সুবীর বললো কি হলো তোর, আরে তোর মনে নেই তুই কলেজে থাকতে একটা ইন্সুরেন্স করেছিলি আমার টার্গেট পুরনো হচ্ছিলনা বোলে। যাইহোক তোর সেই টাকা সব মিলিয়ে তিন লাখ হোয়েছে। তো তুই এক কাজ কর আমার ওই ক্লায়েন্ট কেও তিন লাখ ই দেবার ছিলো তো তুই এক কাজ কর এই টাকাটা তুই নিয়ে যা, আমি দেখি কাল ওই ক্লায়েন্ট কে টাকা দিয়ে আসবো। চল আজ উঠি তালে বাড়িতে আবার একটু কাজ আছে, একদিন আয়ে পারলে আমার বাড়ি, আমার মামাবাড়ী মনে আছে তো, আমরা ওর পাশেই থাকি এখন এই বলে সুবীর বিদায় জানিয়ে হারিয়ে গেলো স্টেশনের ভির এর মধ্যে। অজয় আজ টাকাটা পেঁয়ে কি বলবে সুবীরকে বুঝতে পারছিল না, হয়তো সুবীর নিজের বন্ধুর মনের কথা বুঝে চালাকি করলো তার সাতে, হয় তো এটাই সত্যিকারের বন্ধুর পরিচয়। আজ খুব খুশি হয়ে বাড়ি ফিরলো অজয়। বাণীকে ব্যাগটা দিয়ে সব কথা খুলে বললো। আজ অজয় নিজে বিল্টু কে ডেকে বললো বল তুই কি কেক খাবি বার্থডেতে, বিল্টু বাবাকে জড়িয়ে ধরে বললো বাবা চকোলেট কেক। বাণী কে ডেকে অজয় বললো তুমি দোকানে যা ধার বাকি আছে সেটা মিটিয়ে এসো আর আমাদের ছেলের জন্য একটা ছোটো বার্থডে পার্টি হবে তো ওর বন্ধুরদের একটু বলে এসো। বাণী বললো যে বন্ধুর জন্য আজ আমাদের সুখ ফিরলো তুমি তো তাকেও ডাকতে পারতে ছেলের জন্মদিনে। অজয়ের কথাটা বেশ ভালো লাগলো সে বললো ঠিক বলেছো সুবীরকে ও ডাকবো। কিন্তুু এবার তার মনে পড়লো যা সে তো সুবীরের ফোন নাম্বার টাই নিতে ভুলে গেছে। আচ্ছা ঠিক আছে তার বাড়ি তো অজয় জানে, কাল সকালেই যাবে সুবীরের বাড়ি। ওকে নেমন্তন্ন করে আসবে। পরদিন সকালে অজয় গেলো সুবীরের বাড়ি কিন্তুু বাড়ির সামনে এতো লোক কেনো? একটা শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান মনে হচ্ছে দেখে, কিন্তুু কে মারাগেলো, কালতো সুবীর কিছু বললো না। যাই হোক অজয় ভেতরে ঢুকলো কিন্তুু একি, এ কার শ্রাদ্ধ হচ্ছে, কার ছবি এটা, সুবীর!!!!!!
অজয়ের মাথা বনবন করে ঘুরতে লাগলো, চোখের সামনে অন্ধকার, শুধু পেছন থেকে একটা চেনা গলার স্বর ভেসে এলো --- " এপ্রিল ফুল , এপ্রিল ফুল " ।