Monday, October 16, 2023

অতীতের পথ গুলো

আর ফেরা হবে না কখনো।
তবুও থেকে যাবে সবটাই 
স্মৃতির পাতায়,
থেকে যাবে সেই দিনগুলো,
থেকে যাবে সেই পথ।
মনে পড়ে এখনও,
এখনও সেই.....
না থাক সে অনেক কথা।
তবে হয়তো আজ দূরত্ব অনেক,
তবুও থাকো প্রতিদিন তুমি,
থাকো তুমি প্রতিটি ক্ষণে,
মনের ভিতরে নিরব গোপনীয়তায়।
হয়তো এটাই নিয়তি,
হয়তো এটাই শেষ পরিণতি।
তবে এখনও যখন
আনমনা হয়ে চাই অতীতের পানে,
এখনও দেখতে পাই 
হাতে হাত ধরে হাঁটছে দুটি প্রাণ,
দেখে খুশি হয় মন,
ভাবে এভাবেই থেকে যাক এরা অতীতে,
বর্তমানে নাই হোক মিল,
তবুও অতীতে থেকে যাক 
হাতে হাত দিয়ে দুটি প্রাণ,
অতীতের পাতায় স্মৃতি হয়ে,
এভাবেই থেকে যাক দুটি প্রাণ।

Friday, October 13, 2023

আমাদের দুর্গাপূজা

শরতের ওই আগমনে,
মহালয়ার এই পূণ্যক্ষণে,
দেবী পক্ষের সূচনাতে হবে আলোময় চারিদিক।
হবে কোলাহলে ভরপুর চারিপাশ,
বাজবে ঢাকির তালে ঢাকের আওয়াজ।
সেই আওয়াজে মাতবে যে মন,
মর্তে উমার হবে আগমন,
আগমনী সেই সুরে হবে আজ চারিদিক প্রানবন্ত,
দুর্গতিনাশিনীর হাত ধরে হবে,
সব দুঃখের আজ অন্ত।

আজ পাপের উপর পুণ্যের জয়,
আজ মাতৃশক্তির সূর্য উদয়,
মহালয়ার সেই পূণ্য শ্লোকে,
তাই গুঞ্জিত চারিদিক।
সেই গুঞ্জনে ব্যাকুল যে মন,
মানছে না আর কোনোই বারণ,
বহু প্রতীক্ষার অবসানে আজ,
মর্তে মায়ের ফের আগমন।


হবে সপ্তমীতে প্রথম পুজোর বাসর,
ধুনোচি নাচে জমবে আসর।
দূর্গা মায়ের চরণেতে হবে অষ্টমীর অঞ্জলী,
শাড়ি পাঞ্জাবির মাঝে হবে তখন,
কিছু দুষ্টু মিষ্টি খুনসুটি।
তবে নবমীতে এবার খাওয়ার পালা,
পোলাও আর পাঠায় ভরিয়ে থালা,
পাঁচ মিষ্টি পঞ্চান্ন ভোগে,
হবে খাবার পর্ব সারা।

তবে দশমীতে আজ উদাস যে মন,
শুরু হলো মার বিদায় বরণ,
সিঁদুর খেলার মাঝেই শুরু,
মনের মন খারাপের কারণ।

অবশেষ পালা বিসর্জনের,
মা শুধু আর কিছু ক্ষণের, 
যাবে কৈলাসে মা ফেরত আবার,
হবে প্রতীক্ষা শুরু আরও একবার।






Thursday, July 20, 2023

একটি রাতের গল্প

ভোটের ডিউটি শেষ করে বেরোতে অনেক দেরি হয়ে গেল তাপস বাবুর। হাতের ঘড়িতে দেখলেন রাত আড়াইটে বাজে। হয়তো আজ রাতটা এই ভোট কেন্দ্রেই কাটিয়ে দিলে ভালো হতো তবে দিনকালের যা অবস্থা তাতে বাড়ি ফিরে যাওয়াটাই শ্রেও মনে হলো তাপসবাবুর আর সত্যি বলতে নিউটাউন থেকে বেহালা আর কতটুকুই বা রাস্তা...!  একটা ট্যাক্সি পেয়ে গেলেই তো বাড়ি পৌঁছে গেলে সোজা বিছানায় গিয়ে আরাম করে ঘুমানো যাবে, কাল রাতে মশার জ্বালায়ে ঘুমটাও হয়নি তার উপর আজ সারাটা দিন যা গেলো....ll
"না বাড়ি ফিরে যেতেই হবে" মনে মনে ঠিক করলেন তাপস বাবু।
তবে এতো রাতে বাস পাওয়া যে সম্ভব নয় সেটা ভালো ভাবেই বুঝতে পারছিলেন তাপস বাবু অগত্যা ট্যাক্সি নেওয়া বাদে আর কোনো উপায় নেই। 
যেমনি ভাবা তেমনি কাজ তবে এত রাতে ট্যাক্সি চাইলেই তো আর পাওয়া যাবে না তাই তাপস বাবু অনলাইনে টাক্সির সন্ধান শুরু করলেন। তবে বার চার পাঁচেক ব্যর্থ চেষ্টার পর তিনি বাধ্য হয়ে হাল ছেড়ে দিলেন। 
তবে এত সহজে দমে যাবার পাত্র কিন্তু তাপস বাবু নন। হাত ঘড়িতে দেখেলন প্রায় তিনটে বাজে। মনে মনে ঠিক করলেন পায়ে হেঁটে কিছুটা এগিয়ে যাবেন যদি রাস্তায় একটা ট্যাক্সি পাওয়া যায় আর নয়তো 4টে নাগাদ বাস চালু হয়ে গেল বাস ধরে নেবেন। ততক্ষন না হয় একটু হেটে সামনে এগোনো যাক আর সত্যি বলতে সারাদিনের ধকলের পর রাতের স্নিগ্ধ নিঝুম পরিবেশটা খারাপ লাগছে না তাপস বাবুর।
কতদিনতো এমন রাত দেখেননি তাপশবাবু। নিঝুম শান্ত নিস্তব্দ রাস্তা গুলো যেন কেমন অচেনা লাগছে। মনে হচ্ছে অন্য কোনো এক জগতে আজ সে পৌঁছে গেছে। চারিদিকে যেন এক শূন্যতার শান্তি এসবই ভাবতে ভাবতে এগোচ্ছিলেন হঠাৎ তার নজর গেল সামনে দাড়িয়ে থাকা একটা সাদা ট্যাক্সির দিকে। তাপস বাবু ট্যাক্সি দেখে যেনো হাতে আকাশ পেলেন।
ঠিক করলেন যেভাবেই হোক ড্রাইভারকে রাজি করিয়ে বাড়ি ফিরবেন সে দরকারে একশো টাকা বেশি দিতেও তার অসুবিধা নেই। 
তাড়াতাড়ি ট্যাক্সির দিকে পা বাড়ালেন তাপস বাবু।
" ও ভাই যাবে তো ? বেহালা যাবো " ড্রাইভারকে জিজ্ঞাস করলেন তাপস বাবু।
ড্রাইভার কেমন যেনো একটু বিরক্ত হলো তাপস বাবুর কথায়। মুখে উত্তর না করে হাতের ইসারায় সে বুঝিয়ে দিলো সে যাবে না।
তাপস বাবুর মাথায় যেন বজ্রাঘাত হলো।

" ও ভাই কেনো যাবে না ভাই ? একশো টাকা বেশি দেবো ভাই চলোনা......ভোটের ডিউটি করে বাড়ি ফিরছি ভাই একটু চলো না " - খুব মিনতির সুরে ড্রাইভারকে বললেন তাপস বাবু।

" ধুর দাদা বললাম তো যাবো না, আপনি অন্য ট্যাক্সি দেখুন। " খুব বিরক্তির সাথে উত্তর দিল ড্রাইভার।
" আরে ভাই কেনো যাবে না? বললাম তো একশো টাকা বেশি দেবো, আচ্ছা চল দুশো টাকা বেশি দেবো। এবার চলো ভাই......"

" উফফ আচ্ছা মুস্কিলতো ! আমি তো বললাম আমি যাবো না, আমার একটা দরকারি কাজ আছে সেই কাজে বেড়িয়েছি। এখন আর ভাড়া নেবো না আপনি অন্য টাক্সি দেখুন.…" একটু রাগের সাথে উত্তর দিলো ড্রাইভার।

তাপস বাবুর এবার কেমন একটা জেদ চেপে গেল। সে ড্রাইভার কে বললো " এত রাতে কাজ !!!!!??? কেনো এরম করছো ভাই আচ্ছা চলো আমি তিনশো টাকা বেশি দেবো, দয়া করে এবার নিয়ে চলো ভাই অনেক বিপদে পরে তোমায় এত অনুরোধ করছি....., এই.....এই আমি গাড়িতে উঠলাম তোমার....."

এই বলে পেছনের সিটের গেটটা তাপস বাবু খুলে ঢুকতে যাবেন, ড্রাইভার সাথে সাথে বলে বসল " এই এই পেছনের সিটে কেনো আপনি একা মানুষতো সামনের সিটে বসুন না...."

" না না ভাই পেছনের সিটেই একটু বসি....আসলে সারাদিন টুলের উপর বসে বসে কোমর ধরে গেছ.….এখন একটু আরাম করে বসতে দাও...."
এই বলে ড্রাইভারের কিছু বলার আগেই টুক করে গেট খুলে ভেতরে বসে পড়লেন তাপস বাবু।
তবে ড্রাইভার যে এতে একটু বিরক্ত হলো সেটা তাপস বাবু ভালই বুঝলেন।
"তবে বিরক্ত হলে হোক গিয়ে....তিনশো টাকা বেশি কি এমনি এমনি দিচ্ছি নাকি...." মনে মনে ভাবলেন তাপস বাবু।

যথারীতি ড্রাইভার গাড়ি স্টার্ট দিলো। নিস্তব্দ রাস্তার বুকের উপর দিয়ে এগিয়ে চললো গাড়ি। টাক্সীর জানলা দিয়ে আসা ঠাণ্ডা হাওয়া যেনো তাপস বাবুর সারা শরীর জুড়িয়ে দিচ্ছিলো। এই নিঝুম রাতের পরিবেশ যেনো তাপস বাবু কে নিয়ে যাচ্ছিল কোনো এক কল্পনার জগতে। বেশ মনরম লাগছিল তার। 
" তুমি কি রোজ এত রাত পর্যন্ত গাড়ি চালাও ? " হঠাৎ প্রশ্নটা করলেন তাপস বাবু।

" কেনো আপনি জেনে কি করবেন ?" একটু বিরক্তির সাথেই উত্তর করলো ড্রাইভার।
" আরে ভাই রাগ করছো কেন ? কাজের চাপ কম বেশি সব প্রফেশনই আছে....তাই বলে এত রাগ করলে চলে নাকি....এই যে ধরো আমি তোমার কাস্টমার ..... এখন তুমি আমার সাথে এরম রেগে রেগে কথা বললে কি ভালো লাগে বলো তো.....এতটা রাস্তা এখন তো তুমি আর আমিই সঙ্গী একে অপরের....একটু কথা হলে সময়টাও কাটবে...." বেশ একটু হাসি মুখেই বললেন তাপস বাবু।

এবার ড্রাইভারও একটু হাসলো।
" আসলে দাদা বউয়ের সাথে খুব ঝগড়া হলো, নরমালী এরম হয়না জানেনতো.....কিন্তু আজ........থাক ছাড়ুন এসব...আপনার ভোটের কাজ কেমন গেলো ? শান্তিপূর্ণ নাকি ঝামেলা হলো ? " জিজ্ঞাস করলো ড্রাইভার।

" না না ভাই শহরের দিকে এসব ঝামেলা হয়না। সব ভালই হয়েছে। যাই হোক তবে তুমি তোমার কথাটা শেষ করলে না কেনো ? আজ একটু ঝামেলা বেশি হয়ে গেছে বলে মন খারাপ তাই তো? বউ এর সাথে ঝগড়া করে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছ তাই তো...." একটু হেসে বললেন তাপস বাবু।

"তোমরা ইয়াং ছেলে মেয়েরা পারও বটে.….আরে এরম ঝামেলা অশান্তি অনেক আসবে...মানিয়ে নিতে হবে....সংসার ধর্ম অত সোজা নয় ভায়া.." হাসতে হাসতে বললেন তাপস বাবু।

" না দাদা এই ঝামেলা অনেকটাই বড়ো হয়ে গেছিলো.....সব কিছু শেষ...নিজের হাতে শেষ করে দিয়েছি....আর কিছু ঠিক হবে না দাদা " দীর্ঘশ্বাস ফেলে কথা গুলো বললো ড্রাইভার।

তাপস বাবু এবার আর কিছু তেমন বললেন না। আসলে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে এ পারিবারিক ঝামেলা এসবে নাক গলালে বেকার ঝামেলা বাড়বে তার উপর ড্রাইভার বাবাজি রাগ করে যদি গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয় তখন বেকার তারই বিপদ বাড়বে। তাই এই ক্ষেত্রে চুপ থাকাই শ্রেয় মনে করলেন তাপস বাবু।
আবার জানলা দিয়ে বাইরের পরিবেশের দিকে মনোনিবেশ করতে যাবেন হঠাৎ পায়ে যেন কি একটা ঠেকলো তাপশবাবুর। একটা বেশ বড়সড় কিছু…...
তবে এবার কেমন জানি একটা সন্দেহ হলো এবার তাপস বাবুর। 
"গাড়ির সিটের নীচে এটা কি....!!!??
ড্রাইভার পেছনের সিটে বসতে দিতে চাইছিল না, বেশি টাকা দিতে চাওয়াতেও ভাড়া নিতে চাইছিল না!!!!???
সিটের তলায় তাহলে কি আছে.......???
একবার কি নীচু হয়ে দেখবে.......??? না তাহলে ড্রাইভার টের পেয়ে যাবে....না না এভাবে নয়...অন্য কোনো ভাবে দেখতে হবে....কিছুতো একটা আছে সিটের নিচে" এসবই মনে মনে ভাবছিলেন তাপশবাবু। হঠাৎ লক্ষ্য করলেন এই ঠাণ্ডা মনোরম পরিবেশেও তার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে। না জানতে তাকে হবেই সিটের নিচে আছেটা কি.....?
নিজের পা টাকে ভাঁজ করে আর একটু নীচে পাটা ঢুকিয়ে বোঝার চেষ্টা করলেন কি জিনিসটা.....
তবে এবার যেনো তাপসবাবুর শিকদাড়া বেয়ে একটা ঠাণ্ডা স্রোত বয়ে গেলো। তার পায়ে এবার যেটা ঠেকছে সেটা কিছুর একটা মাথা....প্লাস্টিকে মোড়া একটা মাথা....নাক কান স্পষ্ট অনুভব করতে পেরেছেন তাপস বাবু পা দিয়ে এবং শুধু মাথা নয় রয়েছে পুরো একটা শরীর।
গা টা কেমন সিউরে উঠছে তাপস বাবুর.....এটা কার লাশ গাড়িতে.... এ কার গাড়িতে উঠে বসলেন তিনি। হঠাৎ একটা কথা মনে পড়তেই চোখ মুখ পুরো ঘামে ভিজে গেলো তাপস বাবুর... " ড্রাইভার তো একটু আগে বলছিলো....তার বউ এর সাথে ঝগড়াটা একটু বেশিই হয়ে গেছে, নিজের হাতে সব শেষ করে দিয়েছে......তবে কি.....তবে কি এটা ড্রাইভারের বউয়ের লাশ......এত রাতে একটা খুনীর সাথে চলেছেন তিনি। তবে এই লাশটা গায়েব করতেই কি তবে এত রাতে বেরিয়েছে এই ড্রাইভার!!??? হ্যাঁ ঠিক ড্রাইভার তো বলে ছিল তার একটা কাজ আছে......তাহলে.....তাহলে এটা....ভাবতেই যেনো রক্ত হিম হয়ে যাচ্ছে তাপস বাবুর....এই ঠাণ্ডা পরিবেশেও তার জামা ঘামে পুরো ভিজে গেছে। 
হঠাৎ ড্রাইভার হেসে প্রশ্ন করলো " কি দাদা চুপ করে গেলেন যে ? একি এত ঘামাচ্ছেন কেনো ? পেছনে বসতে অসুবিধা হচ্ছে ? নাকি আমার ট্যাক্সিতে গরম বেশি লাগছে ? কি করবেন কিছু করার নেই.....আর এখনতো আপনি আর আমি সঙ্গী....না আমরা কেউই একে অপরকে ছেড়ে দিতে তো পারি না"
এবার আরো একবার মুচকি হেসে ড্রাইভার বললো " এই জন্যই বললাম অন্য ট্যাক্সি নিন......আসলে ওই আমার তো এসি নেই....গরম বেশি..." এই বলে আবার মুচকি হাসলো ড্রাইভার।

তাপস বাবুর মুখে কোনো উত্তর নেই....তাপস বাবুর মন বলছে ড্রাইভার বুঝতে পেরেছে যে তাপস বাবু সবটা জেনে গেছেন এবং এই ড্রাইভার এখন আর তাকে জ্যান্ত ছাড়বে না।এখন তার মন শুধু এই খুনীর হাত থেকে নিজের প্রাণ বাঁচানোর কথা ভাবছে.....উফফ কি ভুল টাই না করলো সে...এই ভোটের ডিউটি কি অবশেষ তার প্রাণটা নেবে....এসবই ভাবছিলেন তাপশবাবু হঠাৎ তার মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল….. আচ্ছা যদি গাড়ি থেকে কোনো ভাবে লাফিয়ে নেমে যাওয়া যায় তারপর না হয় দৌড় দেবেন। একটু লোকালয় দেখে গেট খুলে লাফিয়ে পড়লে কেমন হয়....তারপর না হয় দৌড়ে গিয়ে কারুর একটা বাড়ির দরজা ধাক্কাবেন.....কপালে যদি বাঁচা লেখা থাকে তবে আশ্রয় পেয়ে যাবেন। হ্যাঁ এভাবেই বাঁচা সম্ভব নয়তো এই খুনি তার ভবলীলা আজই শেষ করবে। নিজের বউকে খুন করতে যার হাত কাপেনি তার কাছে একটা অচেনা প্যাসেঞ্জার খুন করা কি খুব কঠিন??? কখনোই না। তাই এই অভিশপ্ত গাড়ি থেকে নামতে পারলেই তার বাঁচার একটা উপায় হতে পারে....

ঠিক যেমনি ভাবা তেমনি কাজ। একটা লোকালয় আসতেই আসতে করে গেটটা খুলে চলন্ত গাড়ি থেকে রাস্তায় ঝাঁপ দিলেন তাপস বাবু.….. তাল সামলাতে না পেরে সোজা গিয়ে ধাক্কা খেলেন একটা দেওয়ালে।

পরদিন সকালে সূর্যের আলো মুখে পড়াতে ঘুম ভাঙলো তাপস বাবুর। 
তিনি দেখলেন বেশ একটা ভালো ঘরে খাটের উপর শুয়ে আছেন। তাড়া তাড়ি উঠে নিজেকে পরীক্ষা করে দেখলেন। না তিনি বেছেই আছেন। তাহলে কাল রাতে.….....!!!!!!????

"কিরে তাপস উঠলি নাকি ?" আরে এটাতো শান্তির আওয়াজ।
সামনের গেট থেকে ঘরে ঢুকলো তাপস বাবুর ছোটো বেলার বন্ধু শান্তিলাল মুখার্জী।
"আরে তুই এখানে? আর আমি এখানে এলাম কি করে ? জানিস কাল কি হয়েছে....তোকে কি বলবো....?" হঠাৎ কথা বলতে গিয়ে আটকে গেলেন তাপস বাবু। সামনের গেট দিয়ে আরো একজনের আগমন হলো...তবে এইবার সেই গত রাতের ড্রাইভার....তাপস বাবুর বুকের রক্ত যেন হিম হয়ে গেলো।

"আরে সুভাষ ঘরে এসো" এবার বললো শান্তিলাল। " সুভাষ আমার বোনের বর। বাচ্চা ছেলে তবে বেচারার বাবা মা কেউ নেই। বোনের সাথে কলেজে আলাপ খুব মেধাবী ছেলে। ভালো চাকরীও করতো তবে ওর মা বাবা মারা যাবার পর ও চাকরি ছেড়ে ওদের ফ্যামিলি বিসনেস আছে ট্রাভেলার্স এর সেটাই দেখে। চারটে ট্যাক্সি আছে, তিনটে বাস আছে। খুব ভালো ছেলে। তবে ওই আজকালের ছেলেপুলে জানিস তো অল্পতেই ভেঙে পড়ে। আমার বোনের সাথে কদিন ধরে ওর একটু মন কষা কষি চলছিল তো কাল আমার বোন বলা নেই কওয়া নেই নিজের মেয়ে কে নিয়ে সুভাসকে না বলেই সোজা আমাদের দেশের বাড়ীতে হাজির। এদিকে আমার ভাগ্নির আবার আজ জন্মদিন আর সে বায়না ধরেছে বাবা মা ছাড়া কেক কাটবে না তাই আমার আদরের জামাই কে মানিয়ে বোনের কাছে নিয়ে যেতে কাল রাতে এসছিলাম ওর ফ্ল্যাটে। এসে দেখি মহারাজ বাড়ি নেই তালা বন্ধ। বাবাজি কে ফোন করছি তার ফোনটাও বন্ধ। শেষে পাশের ফ্ল্যাটের লোক আমায় চিনতো তাকে বলাতে সে ডুবলিকেট চাবি দিয়ে গেট খুলে দিল। আর ভোর রাতে দেখি মহারাজ তোকে নিয়ে হাজির। তুই বেহুঁশ ছিলিস। সুভাষ বললো তুই নাকি ওর ট্যাক্সিতে ফিরছিলিস তারপর হঠাৎ মাঝ পথে........."
" আর বলবেন না দাদা....উনি যা করলেন কাল..." এবার বললো সুভাষ।
" আরে ভালো ট্যাক্সিতে আসছিলেন হঠাৎ মাঝ পথে ট্যাক্সি থেকে রাস্তায় ঝাঁপ দিয়ে একটা দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন। আমি কিছু বুঝতে না পেরে ওনাকে গাড়িতে তুলে এই ফ্ল্যাটেই নিয়ে এলাম। আবার এদিকে সকালে দেখি কাল অনেক খুঁজে আমার মেয়ের জন্য ওর পছন্দের একটা বড় টেডি বিয়ার কিনে পেছনের সিটের তলায় রেখেছিলাম। ওনাকে মানা করলাম পেছনে বসতে উনি সেই শুনলেন না আর পুরো টেডি বিয়ার টাকে জুতো দিয়ে পাড়িয়ে নষ্ট করে দিলেন। এই দেখো তুমি নিজেই দেখো..." এই বলে আঙ্গুল দিয়ে পাশের ঘরে রাখা টেডি বিয়ারটার দিকে ইঙ্গিত করলো সুভাষ।

" আচ্ছা এসব ছাড়...বলছি সুভাষ বললো তুই ভোটের ডিউটি থেকে ফিরছিলিস...তো হঠাৎ ওর গাড়ি থেকে ঝাঁপ দিলি কেনো ? সব ঠিক আছে তো ? আর কি বলবি বলছিলিস কাল কি হয়েছে ? " জিজ্ঞাস করলো শান্তিলাল।

তাপস বাবু একটু হেসে বললো " আরে না তেমন কিছু না, আসলে ঐ সারাদিন খাইনি ভোটের কাজের প্রেসার মারাত্মক তার উপর ঝামেলা অশান্তি এসব সামলাতেই মাথা খারাপ হয়ে গেছিলো। আর ওই গাড়িতে বসে হঠাৎ শরীরটা কেমন করছিল তখন ভুল করে হাত লেগে গেটটা খুলে পড়ে গেছিলাম ওই আর কি....
যায় হোক বাড়ি থেকে ফোন করে ছিল ? আমার জিনিসপত্র গুলো কোথায় ? "

" হ্যাঁ তোর বাড়ি থেকে ফোন এসছিল আমি বলেছি তুই আমার সাথে আছিস কাল ফিরতে রাত হয়েছিল বলে আমার এখানে থেকে গেছিস...যায় হোক ফ্রেশ হয়েনে লাঞ্চ বাড়তে বলছি...." এই বলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল শান্তিলাল।

কাল রাতে নিজের বোকামোর কথা ভেবে এবার মনে মনে খুব হাসি পেল তাপস বাবুর।
" ইস.......কি সব ভুলভাল ভেবে একটা কি ভয়ানক কাজ করে বসেছিলেন....চলন্ত গাড়ি থেকে ওরম ঝাঁপ দিয়েছিলেন যদি একটা কিছু হয়ে যেত..........যাক ভগবান রক্ষা করেছেন।" এসব ভাবতে ভাবতে বিছানা থেকে উঠে মোবাইলটা হাতে নিলেন তাপস বাবু।
" দেখি কাল কেমন ভোট হলো বাকী জায়গা গুলোয়...." এই বলে মোবাইলে খবর চালাতেই একটা খবরে গা টা শিউরে উঠলো তার...
" ভোর রাতে মর্মান্তিক ঘটনা এবার কলকাতার বুকে। পার্ক সার্কাস সংলগ্ন গোবরা কবরস্থানে মিলল এক স্ত্রী এর মৃতদেহ। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে ভোর রাতে একটা সাদা ট্যাক্সিকে সন্দেহ জনক ভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায় কবরস্থানের আশেপাশে। প্লাস্টিকে মুরে ফেলে রেখে যাওয়া হয় লাশ তবে মৃতদেহের কোন পরিচয় পাওয়া যায়নি। ঘটনাটির তদন্ত করছে লালবাজার পুলিশ। "

গেটের বাইরে থেকে সুভাষের গলা কানে এলো তাপস বাবুর " লাঞ্চ করে রেডি হয়েনিন দাদা....কালকের কাজটা হয়ে গেছে....আজ কোনো অসুবিধা নেই.....আপনাকে আজ আমি পৌঁছে দেব ….....যতই হোক আমরাতো কাল রাতের সঙ্গী.....!!!!!!!" মুচকি হেসে কথা গুলো বলে গেলো সুভাষ।


Saturday, April 29, 2023

তুমি আর আমি

অবশেষে একদিন,
সেই তুমি আর আমি,
তুমি আর আমি,
ঠিক যেই ভাবে চেয়েছিলাম,
ঠিক সেই ভাবে তুমি আর আমি।
একে অপরের পাশে দাড়িয়ে,
একে অপরেতে হারিয়ে গিয়ে,
সেই তুমি আর আমি।
শত ঝগড়া, কান্নাকাটি, মান অভিমান,
তবে সব শেষে শুধু তুমি আর আমি।
প্রতিদিনের ঘোড় দৌড়ে,
ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফিরে,
অবশেষে সেই তুমি আর আমি।
তুমি আর আমি, সেই তুমি আর আমি,
প্রতিনিয়ত কাজের ফাঁকে,
ব্যস্ততার প্রাতরাশে,
অতীতের অট্টালিকায়,
বর্তমানের বারান্দায়,
ভবিষ্যতের ভূমিতে,
সেই তুমি আর আমি।
থেকে যাক এভাবেই সব,
মিলিয়ে যাক বাকি কালের তরে,
মিলিয়ে যাক সবই যা ছিল নশ্বর,
থেকে যাক শুধু তুমি আর আমি,
হয়ে অবিনশ্বর চিরতরে।



Sunday, April 9, 2023

বন

পৃথিবীর সেই আদিকাল থেকে,
ধীরে ধীরে বেড়ে উঠেছি আমি।
আমি দিয়েছি সেই প্রাণবায়ু,
যাতে প্রস্ফুটিত সমগ্র প্রাণীকুল।
আমি দিয়েছি কখনো অন্ন কখনো বা বাসস্থান,
আবার কখনো দিয়েছি ভেষজ রুপি রক্ষা কবচ,
যা রক্ষা করেছে বারংবার এ সমগ্র প্রাণী জগৎ।
তবে কেন প্রতিনিয়ত হতে হয় লুণ্ঠিত আমায়,
লুণ্ঠিত হতে হয় মানব সভ্যতার লোভের কুঠারে ?
কেন প্রতিনিয়ত হতে হয় নিশ্চিহ্ন আমায়,
হতে হয় নিশ্চিহ্ন অগ্রগতির দোহাইতে ?
তবে কি অগ্রগতির পথে এক বাধা আমি ?
কিন্তু অগ্রগতি তো হয়েছে,
হয়েছে সেই আদিম কাল থেকেই,
বর্ণিত আছে যা মানব সভ্যতার ইতিহাসে।
কিন্তু তখন তো হইনি বাধা আমি,
তখন তো ছিলাম আমি বন্ধু,
ছিলাম আমি পূজার যোগ্য,
তবে আজ কেন হয়েছি বাধা আমি ?
নাকি এসবই শুধু লোভের মোড়কে মোড়া অগ্রগতির রূপ,
যাতে হয়ে মুগ্ধ এই মানব সমাজ, 
করেছে নিজেকে অন্ধ,
হারিয়েছে বোধশক্তি, খুইয়েছে বিচার ক্ষমতা।
হয়তো এভাবেই ক্রমশ এগোবে কাল,
ধীরে ধীরে হবো আমি শূন্য,
সাথে হবে শূন্য সেই প্রাণবায়ু,
যাতে হত প্রস্ফুটিত প্রাণীকুল।
হারিয়ে যাবে সেই ভেষজ কবচ,
যাতে বারংবার রক্ষিত হয়েছিল প্রাণীকুল।
মিলিয়ে যাবে সেই বাসস্থান,
যাতে আশ্রিত ছিল বহু বন্য।
হয়তো এভাবেই হবে শেষ অগ্রগতির,
হয়তো এভাবেই হবে শুরু আরও এক আদিমের।   
                                    কবি : সুদীপ দে

Tuesday, February 14, 2023

ভালোবাসার দিন

ভালোবাসা কি হয় এক দিনে ?

তবে হবে কেন ভালোবাসার

একটি মাত্র দিন?

কিভাবে বোঝাবে,

কিভাবে বোঝাবে কেউ,

শত মুহূর্তের পরিণতিতে প্রাপ্ত ভালোবাসা,

শুধু একটি মুহূর্তে?

আদেয় কি সম্ভব,

সম্ভব কি,

শত সহস্র অনুভূতির আবেগে গড়া যে ভালোবাসা,

তা শুধু একটি বাক্যে প্রকাশ করে দেওয়া?

না, হয়তো সম্ভব নয়,

তাই হয়না ভালোবাসার কোনো দিন,

হয়না কোনো সংজ্ঞা,

না হয় কোনো শব্দ সমষ্টি,

যা করতে পারে ভালোবাসার

সম্পূর্ণ বহি প্রকাশ।

ভালোবাসাতে হয় শুধু অনুভূতি,

যা প্রকাশ পায় হৃদয়ের ভাষায়,

প্রতিনিয়ত প্রতিটি ক্ষনে

যা বোঝায় তার উপস্থিতি।

তাই ভালবাসার হয়না কোনো একটি মাত্র দিন,

সত্যি কারের ভালোবাসায়,

প্রতিটি দিন ভালোবাসার দিন।