খুব গরমের একটা দিনে সাইকেলে চেপে ডেলিভারি করতে যাচ্ছে সেলসম্যান অমিত।
ধীরে ধীরে গরমের মধ্যে সাইকেল চালাচ্ছে সে।
অমিত : উফফ গরমে জানটা যেন বেরিয়ে যাচ্ছে.....
এভাবে আর ভালো লাগে...!!! লোকের বাড়িতে ডেলিভারি দিতে যাই কেউ এক গ্লাস জলও অফার করে না। সত্যি মানুষ কেমন হয়ে যাচ্ছে দিন দিন....
(একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে....)
....দেখি পরের ডেলিভারীটা আবার কোথায় আছে...
২৩/C মতিলাল কলোনি কলকাতা ১৯...!!! (একটু আশ্চর্য হয়ে )
এই বাড়িতে কি আছে ব্যাঙ....কত খাবার আর গিফট লাগে এদের বাচ্চাদের....!!!!
এই কোম্পানি তে জইন করে এই তিন মাসে নয় নয় করে ২০ থেকে ২৫ বার এই বাড়িতে এসছি ডেলিভারি দিতে...
(একটু বিরক্তির সাথে....)
আমার বাড়িতেও আমার ছোট্ট ৫ বছরের মেয়ে আছে কই তার তো এত কিছু লাগে না।
(এবার একটু দুঃখের সাথে....)
বা হয়তো লাগে..…...কিন্তু তার অসহায় বাবার অবস্থা দেখে হয়তো সে নিজেকে মানিয়ে নেয়..
সত্যি কত বছর হয়ে গেল একটা ভালো গিফট কিনেও দিতে পারিনি মেয়ে টাকে....সামনের সপ্তাহে ওর জন্মদিন কিন্তু কিছু যে কিনে দেব সেও ক্ষমতা নেই আমার মতন এক অকর্মণ্য বাবার....
কিন্তু কিইবা করবো আমি.....
এইটুকু মাইনেতে দুবেলা দমুঠো ভাত জোটাই দায়....
এর উপর আবার গিফট কেনার টাকায় বা কোথায় পাবো...
আবার এক দীর্ঘশ্বাস....
সাইকেলে প্যাডেল করে এগিয়ে চললো অমিত।
বাড়ির গেটে পৌঁছে অমিত দেখলো গেটে তালা বন্ধ...
অমিত : এবাবা এত তালা বন্ধ...(বিরক্তির সাথে হতাশ হয়ে )
দেখি বিল এ তো ফোন নম্বর হবে...
ফোন করে দেখি...
(ফোনটা বার করে বিল থেকে দেখে নম্বরটা ফোনে ডায়াল করলো অমিত)
অমিত : হেলো মিস্টার রয়...
মিস্টার রয় : ইয়েস স্পিকিং...
অমিত : স্যার...আমি হ্যাপি চাইল্ড ডটকম থেকে বলছিলাম...একটা ডেলিভারি আছে স্যার আপনার..
মিস্টার রয় : ও হ্যা আপনি এসে গেছেন ?
অমিত : হম স্যার..
মিস্টার রয় : বলছি ভাই আমরা তো একটু বেড়িয়েছিলাম..তুমি কাল দিতে পারবে?
অমিত : স্যার অনেক দুর থেকে আসতে হয় স্যার...আপনাদের কি অনেক দেরি হবে ?
মিস্টার রয় : নানা ভাই আমরা প্রায় এসেই গেছি...আর ১৫ -২০ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে যাবো..
অমিত : তাহলে স্যার আমি কি একটু wait করে যাবে ?
মিস্টার রয় : হম করতে পারো তাহলে ভালো হয় আমরা just ১৫ - ২০ মিনিটের মধ্যেই ঢুকছি।
অমিত : ok sir আমি তাহলে wait করছি।
(বাড়ির সামনের জানলার শেডের নিচে অপেক্ষা করছিল অমিত...অপেক্ষা করতে করতে হাতের পার্সেলটা নেরে চেরে দেখছিল অমিত.. হঠাৎ দামটার দিকে চোখ গেলো অমিতের....মাত্র ২০০ টাকা..একটু আশ্চর্য হয়ে দেখলো সে...
অমিত : মাত্র ২০০ টাকা...( একটু আশ্চর্য কিন্তু খুশি হয়ে )
আরে মাত্র ২০০ টাকা দাম...তাহলে এরম একটা গিফট তো তিতলির জন্যও নেওয়া যেতে পারে..
৫টা ডেলিভারী এক্সট্রা করলেই তো মোটামুটি ২০০ হয়ে যাবে ...
এই গরমে একটু কষ্ট হবে ( একটু চিন্তার সাথে)....
না তবে তিতলির ওই হাসি মুখটর
জন্য ওটুকু কষ্ট সহ্য করা যেতেই পারে...(একটু খুশির সাথে নিজেকে নিজেই সম্মতি জানিয়ে..)
(এবার একটু উৎসুক ভাবে গিফটের দিকে চাইলো অমিত)
অমিত : আচ্ছা ওদের আসতে এখনও সময় আছে....একটু খুলে দেখবো কি গিফটটা কেমন...তিতলির পছন্দ হবে কি না...( মনে মনে চিন্তা করলো অমিত )
নানা থাক কেউ জানলে চাপ হয়ে যাবে...
কিন্তু...
কে জানবে...just একটু দেখেই আবার প্যাক করে দেবো..অসুবিধা কি আছে...
আচ্ছা তবে দেখি একটু খুলে...
(এইবার গিফটটা একটু একটু খুললো অমিত)
প্রতিবেশী : এই এই.....চুরি করবে না একদম..(চিৎকার করে..)
যেই দেখেছো ঘরে লোক নেই অমনি পার্সেল টা খুলে মালটা সাবার করে দেবার ধান্দা করছো..হাতে নাতে ধরেছি....( এই বলে প্রতিবেশী নিজের বাড়ি থেকে ছুটে অমিত এর কাছে এসে গেলো...)
একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল অমিত...
কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রতিবেশী হাত থেকে পার্সেল টা ছিনিয়ে নিয়ে নিল....
অমিত : দাদা আপনি...
প্রতিবেশী : কি আপনি... চোর কোথাকার...তোমাদের মতন চোরদের জন্যই আমরা ঠিক করে জিনিসের ডেলিভারী পাই না।
অমিত : আরে.....আরে দাদা আপনি...আপনি ভুল বুঝছেন...
প্রতিবেশী : ভুল....সব দেখেছি আমি নিজের চোখে...ভালো মানুষ পেয়ে ঠকাতে গেছিলে...পুরো হাতে নাতে ধরেছি...দেখি দেখি কোন কোম্পানি...
(t-shirt ই লেখা কোম্পানির নামটা দেখে )
"হ্যাপি চাইল্ড ডটকম.." দাড়াও তোমাদের কোম্পানি কে রিপোর্ট করছি....চোর কোথাকার...
বেরিয়ে যাও...
(এক ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দিল অমিতকে)
(নিজেকে না সামলাতে পে রে পরে গেল অমিত...)
(খুব অসহায় মনে হচ্ছিল অমিতের নিজেকে...
উঠে দাড়ালো অমিত...)
অমিত : দাদা আপনি ভুল বুঝছেন...
প্রতিবেশী : ভুল..... দূর হও....চোর কোথাকার...তুই যাবি নাকি এবার পুলিশ ডাকবো...
(কোনো উপায় না দেখে সেখান থেকে চলে গেলো অমিত)
( পরদিন সকালে একটা ফোনের আওয়াজে ঘুম ভাঙলো অমিতের )
অমিত : হম বল ভাই....
বন্ধু : এটা কি করলি ভাই....শেষে চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়লি এভাবে...
অমিত : কি....!!!!? চুরি...!!!? মানে কি চুরি করলাম..কি বলছিস....!!!!
বন্ধু : কি চুরি...!!!? একবার ফেসবুক টা খুলে দেখ...তোর চুরির ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেছে.... ছি ছি শেষে চুরি....ভাবতেও লজ্জা করছে তুই আমার বন্ধু ছিলিস...
অমিত : আরে কিসের চুরি....কিসের ভিডিও...!!!
বন্ধু : থাক আর নেকা সাজতে হবে না...তোর আসল রূপ সবাই দেখে নিয়েছে....you are exposed brother...( বেশ তাচ্ছিল্যের সুরে কথাটা বললো অমিতের বন্ধু )
অমিত : আরে আমি...হেলো...হেলো...(ফোনটা কেটে দিয়েছে তার বন্ধু..)
ফোনটা রাখতেই সাথে সাথে আর একবার ফোনটা বেজে উঠলো....
অমিত : দিদি ফোন করছে এত সকাল সকাল...!!!???
কি ব্যাপার....!!!
হ্যালো....
দিদি : হেলো....লজ্জা করেনা তোর.....ছি ছি শেষে কি না আমার ভাই.... আরে টাকার দরকার ছিল তো আমাদের বলতে পারতিস...তোর জামাই বাবু তো কত দান করে গরিবদের...তোকেও না হয় একটু কিছু দিয়ে দিত....
অমিত : আরে হলো টা কি ? আমি কি করলাম সেটা তো বল.....
দিদি : কি করলি....!!!! আহা আমার নেকা চৈতন্য... কিচ্ছু টি জানেন না বাছাধন....দেখ একবার ফেইসবুকে তোর চুরির ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেছে....তোর জামাই বাবু তো একদম বলে দিয়েছে তোর সাথে যেন আর কোনো যোগাযোগ না রাখি...আমাদের বড় সোসাইটি এসব চোরদের সাথে contact আছে জানাজানি হলে আমাদের মান সম্মানের ব্যাপার হবে...
অমিত : আরে দিদি তুই বিশ্বাস কর আমি কোনো চুরি করিনি....তুই কিসের ভিডিওর কথা বলছিস আমি তাও জানি না কিন্তু আমি সত্যি বলছি দিদি আমি কোনো চুরি করিনি রে....
দিদি : থাক আর মিথ্যা সাফাই গাস না আমার কাছে...তুই ডেলিভারির প্যাকেট থেকে জিনিস চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছিস....তোর ভিডিও ভাইরাল এখন.....ছি ছি...তোর মতন ভাই থাকার থেকে না থাকা ভালো....
(এই বলে ফোনটা রেখে দিল)
(অমিত ফোনটা ধরেই রইলো....সামনে দাড়িয়ে তার ৫ বছরের মেয়ে তিতলি)
তিতলি : বাবা তুমি কাদঁছো কেনো...?
বাবা চুরি কি গো....? তুমি কি চুরি করো ?
( তিতলি কে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেললো অমিত )
তিতলি : ও বাবা কি হলো....বল না চুরি করো তুমি ? চুরি করা কি খারাপ ?
(চোখের জলটা মুছে)
অমিত : না সোনা...তোর বাবা চুরি করে না...চুরি করে না তোর বাবা...তোর বাবা চোর নয়...
(তিতলি আরো ভালো ভাবে জড়িয়ে ধরলো অমিতকে)
(কাজে বেরোনোর সময় একবার ঘড়িটা দেখলো অমিত...আজ কাজে বেরোতে একটু দেরি হয়ে গেছে...
রাস্তায় যেতে যেতে শুধু সকালের কথা গুলোই মনে হচ্ছিল অমিতের...আজ তার সব চেনা লোক গুলও যেন কেমন সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে তার দিকে...)
অফিসে পৌঁছে সাইকেল লোক করার সময় একটা কথা কানে এলো অমিতের....
অন্য employee : এসে গেছে মালটা...ফুল ক্যাচড়া হবে..( একটু চুপি চুপি হাসি ওড়ানোর ভাবে)
আর এক employee : হম...থাক থাক...মজাটা হবে দেখ এবার...(চুপি চুপি ভাবে বললো )
(অমিত অফিসে ঢুকলো..)
অমিত : আমার আজকের ডেলিভারি এর লিস্ট টা ???
employee : লিস্ট.....(একটু মুচকি হেসে )
তোমার লিস্ট বস দেবে....যাও নিয়ে নাও..
(অমিত বুঝলো ভিডিও এর খবরটা অফিসেও পৌঁছে গেছে...তাও সাহস করে গেল বস এর রুমে )
অমিত : স্যার আসবো...?
বস : হম এসো এসো.... তোমার অপেক্ষাতেই তো বসে ছিলাম...প্রচুর নাম উজ্জ্বল করে নিয়েছো তো রাতারাতি...
অমিত : স্যার...আমি কিন্তু...
বস : কি কিন্তু.....চুরি করতে লজ্জা করেনা...? ছি ছি...চুরি করার এত সখ তো আমার অফিসের ইউনিফর্ম টা খুলে চুরি করতে যা না...আমার অফিসের নাম টা নষ্ট করছিস কেনো....
কি মরতে যে কাজ দিয়েছিলাম তোকে....
এই জন্য...শুধু এই জন্যে আমি রেকমেন্ডেশন ছাড়া কাজে রাখি না...সেদিন এসে নিজের মেয়ের দোহাই দিয়ে এমন নেকা কান্না কাদলে বাছাধন যেন ভাজা মাছটা উল্টে খেতে জানেন না....আর মনে মনে এই মতলব...
অমিত : স্যার বিশ্বাস করুন আমি কিছু করিনি...
বস : চোরকে আবার বিশ্বাস...( তাচ্ছিল্যের সুরে..)
দুর হয়ে যা এখুনি অফিসে থেকে নয়তো পুলিশ ডেকে এমন ফাঁসানো আর কোনো দিন বাইরের দুনিয়া দেখতে পারবি না...
(বস আর রুম থেকে বেরোলো অমিত.…..)
employee : চুরি বিদ্যা মহা বিদ্যা...( ব্যঙ্গাত্মক হাসির সাথে)
বাকি employee রাও এবার অমিত কে দেখে হাসতে শুরু করলো...
অপমানটা আজ আর মেনে নিতে পারছিলো না অমিত...
বাড়ি ফেরার পথে শুধু আজকের কথা গুলোই মনে হচ্ছিল তার...যেনো কথা গুলও তাকে গ্রাস করতে আসছিল...চোখে মুখে অন্ধকার দেখছিল সে....
পথচারী : ইসস পুরো স্পট হয়ে গেছে...
অন্য পথচারী : কি করে হলো...
পথচারী : সাইকেলে করে আসছিল....ওদিক থেকে গাড়ি এসে মেরেছে পুরো স্পট ওখানেই....
আরেক পথচারী : আরে এরই ভিডিও ফেইসবুকে ছিল না...!!! এ মালটা তো চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছে...মাল কারুর জিনিস ঝেড়ে আবার পালাচ্ছিল মনে হয়....খেয়াল করেনি.. ব্যস দিয়েছে গাড়ি উড়িয়ে..
অন্য পথচারী : আরে ভগবান আছেন তো....পাপের ফল যাবে কোথায় .......(একটু ব্যাঙ্গাত্মক হাসির সাথে )
তিতলি : পিসি বাবা কোথায় গেছে গো ? বাবা আসে না কেনো?
পিসি : তোর বাপ পাপের শাস্তি পেয়েছে....চুরির পাপ যাবে কই....
আমার ই কপাল মন্দ এই এক আপদকে আমার কপালে রেখে চলে গেলো বদজাত চোর টা...
তিতলি : পিসি বাবা বলেছে বাবা চোর না...
পিসি : মুখে মুখে তর্ক.....চোরের মেয়ে আর কি শিখবি...
(তিতলি কে একটা চর মারতে এগিয়ে গেল তার পিসি অমনি কলিং বেলটা বেজে উঠলো....)
পিসি : উফফ এই ভর দুপুরে আবার কে এলো...
(গেট খুললো পিসি...)
পিসি : কাকে চাই ?
আগুন্তক : এটা কি অমিত দাসের বাড়ি ?
পিসি : হম কেন হতচ্ছাড়া টা কি আপনার বাড়ি থেকেও চুরি করেছে নাকি....চিন্তা করবেন না ভগবান সাজা দিয়ে দিয়েছে...গতকাল দুপুরে অ্যাকসিডেন্টে ইহলোক ত্যাগ করেছে চিটিং বাজ চোরটা..
আগুন্তক : হম আমি শুনেছি...আমি ওনার অফিস থেকে ওনার বাড়ির ঠিকানা টা পেলাম...উনি আমার থেকে একটা কাজ বাবদ ৫০ হাজার টাকা পেতেন...ভাবছিলাম ওনার মেয়েকে টাকাটা দিয়ে যাই...
পিসি : পঞ্চাশ হাজার....( বেশ খুশি হয়ে)
হম হম আসুন না...তিতলি তো আমার সাথেই থাকবে...আমরা তো আজ ই ওকে নিয়ে চলে যাব...
চা খাবেন তো ?
(মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো আগুন্তক...
ভেতর ঘরে চা করতে গেলো পিসি...)
(সামনে বসে তিতলি...)
আগুন্তক : আমার বন্ধু হবে?
তিতলি : না....পিসি বলেছে আমি বাজে মেয়ে আমার বাবা চোর...
কিন্তু কাকু চোর কি ? বাবা বলেছিল বাবা চোর না...
তাহলে পিসি কেনো বাবাকে চোর বলছে...
আর বাবা আসছে না কেন কাল থেকে ?
আগুন্তক : আমি জানি তোমার বাবা চোর না..আর তিতলি তো ভালো মেয়ে... তোমার বাবা আমায় বলেছে তিতলি কে নিজের কাছে রাখতে....তুমি যাবে আমার সাথে ?
তিতলি : বাবা বলেছে....( খুব মিষ্টি করে হেসে)
আগুন্তক : হম...
তিতলি : তাহলে যাব...
(চা নিয়ে ভেতর ঘর থেকে বাইরে এলো পিসি...)
পিসি : একি কোথায় গেল লোকটা...
তিতলি কোথায়....
তিতলি...
তিতলি...
এই তিতলি....
কোথায় গেল মেয়েটা…...
(পিসি নিজের স্বামী কে ফোন করে সমস্ত ঘটনাটা বললো)
পিসি : কোথায় গেলো বলতো মেয়েটা...একবার পুলিশে খবর দেব...
স্বামী : তুমি বলদের বলদ ই থাকবে.... ছাড়ো আপদ বিদেয় হয়েছে...তুমি চুপ চাপ ফেরত চলে এসো...ওসব চোরের মেয়ে কে আমাদের ঘরে রাখলে আমাদের বাবাই ও খারাপ হয়ে যাবে....
৬ মাস পর....
salesman : Hello মিস্টার রয়..
স্যার আপনার একটা ডেলিভারি আছে হ্যাপি চাইল্ড ডটকম থেকে...
মিস্টার রয় : হম আমরা বাড়িতে আছি....চলে আসুন...
salesman : উফফ এই বাড়িতে কত চাইল্ড product লাগে কে জানে...এই ৩ মাসে কতবার যে এলাম...
(কলিং বেল টিপলো salesman...)
salesman : OTP টা ?
মিস্টার রয় : হম দাড়ান...
পেছন থেকে এগিয়ে এলো তিতলি....
তিতলি : এটা আমার জন্য...
বাবা পাঠিয়েছে ?
মিস্টার রয় : হম তিতলি...
তিতলি : কি মজা...কি মজা..
(সোজা দৌড়ে ঘরের ভেতর গেল তিতলি....)
তিতলি : এই দেখ আমার নতুন গিফট….
অন্যান্য বাচ্চারা একসাথে: কি আছে.... কি আছে দেখি দেখি...
(ঘরে ঢুকলেন মিস্টার রয়.....)
মিসেস রয় এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন বাচ্চাগুলোর দিকে.....
মিস্টার রয় : কি ভাবছো...
মিসেস রয় : আমি তোমায় কখনো সন্তান সুখ দিতে পারলাম না...সেদিনের দুর্ঘটনাটা না হলে হয়তো......
মিস্টার রয় : কে বলেছে আমি সন্তান সুখ পাইনি...
এই তো আমার সব সন্তানরা...এরা সবাই তো আমাদের সন্তান...
এদের কেউ নেই...
আমাদের ও কেউ নেই...
তাই এরাই তো আমাদের সন্তান...এদের নিয়েই তো আমাদের সংসার...
(কাছে এসে মিসেস রয়ের কাধে হাত রেখে জড়িয়ে ধরে দুজনের তাকিয়ে রইলো বাচ্চা গুলোর দিকে...)