Saturday, December 14, 2024

একটি ভৌতিক রাত

অনেকদিন পর মামার বাড়ির চিঠি পেয়ে বেশ অবাকই হলো রমেন। তার মার মৃত্যুর পর এই প্রথম মামা বাড়ির চিঠি পেল রমেন। সামনের সপ্তাহে তার মামাতো বোনের বিয়ে। অনেক বছর মামা বাড়ি যায়নি সে তাই এইবার তার মামাতো বোনের বিয়েতে যাবার সিদ্ধান্ত নিলো সে। রমেন চিঠিতে দেখল আগামী সপ্তাহে বুধবার তার বোনের বিয়ে। মঙ্গলবার অফিস করে সন্ধ্যের ট্রেনে যাবার সিদ্ধান্ত নিলো সে।
সকাল সকাল বসকে সবটা বলাতে ছুটি মঞ্জুর হলেও কাজ সেরে অফিস থেকে বেরোতে বেশ দেরি হয়ে গেল রমেনের। অগত্যা ট্রেন পেতে পেতে অনেক রাত হয়ে গেল রমনের।  রাত্রি ১০:৩০ নাগাদ জগদ্দলপুর স্টেশনে নামল রমেন। স্টেশন থেকে বেরিয়ে বাস স্ট্যান্ডে গিয়ে সে জানতে পারলো যে আজ বিকালে একটি বাস এক্সিডেন্ট হওয়াতে এই রাস্তার সমস্ত বাস চলাচল বন্ধ আছে। এই শুনে বেশ চিন্তায় পড়ে গেল সে, একে এত রাত তার উপর শীত কাল, সে মনে মনে ঠিক করল স্টেশনের কাছে কোন থাকার ঘর পেলে একটা রাত কাটিয়ে কাল ভোর মামার বাড়ি রওনা দেবে। তবে তার এই পরিকল্পনা কিন্তু কাজে এলোনা। অনেক খুঁজেও একটা থাকার জায়গা জোগাড় করতে পারল না রমেন। এদিকে রমেনকে ব্যস্ত হয়ে এদিক ওদিক ছুটতে দেখে এক ভদ্রলোক জিজ্ঞাস করলেন " কি দাদা ? নতুন নাকি ? এরম রাত্রি বেলা এদিক ওদিক করছেন ? কোন বিপদে পড়েছেন নাকি ? "

"আরে দাদা আর বলবেন না, মামাতো বোনের বিয়েতে যাব বলে কলকাতা থেকে আসছি, কিন্তু ট্রেন মিস করায় আসতে দেরি হল, এখন দেখছি বাস বন্ধ তাই ভাবছিলাম যদি একটা থাকার জায়গা পাওয়া যায় তবে রাত টুকু কাটিয়ে কাল সকালে মামা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেব"  উত্তর করলো রমেন।

"এই অজ পাড়াগাঁয়ে আর কি হোটেল আছে দাদা যে আপনি থাকার জায়গা পাবেন" হাসতে হাসতে বলল ভদ্রলোক।


"হুম....তবে এই শীতের রাতে বাইরে থাকলে তো আর দেখতে হবে না...." বলল রমেন।

"তবে কোথায় আপনার মামার বাড়ি" জিজ্ঞাস করলো ভদ্র লোকটি।
রমেন উত্তর দিলো " মোশাটপুর গ্রামে"


" মোশাটপুর.....হুম...উপায় দাদা একটা আছে,...তবে..." বলল ভদ্রলোকটি।

"কি উপায় বলুন...থামলেন কেন...?" জিজ্ঞাস করলো রমেন।

" না আসলে এই ডান দিকের রাস্তাটা দেখছেন, এই রাস্তাটা দিয়ে সোজা এক কিলোমিটার গিয়ে বাঁদিক ঘুরলেই একটা শ্মশান আছে, তার পাশ দিয়ে সোজা গেলে সামনে একটা সাঁকো পার করে ওপাশে গেলেও মোশাটপুর গ্রাম। আপনার হেঁটে যেতে হয়তো খুব জোর ঘণ্টা খানেক লাগবে" বলল ভদ্রলোক।

" বাহ, তাহলে তো ভালই হল" বলল রমেন।

" না দাদা তবে একটা গণ্ডগোল আছে, আসলে আপনার পথে যেতে যে শ্মশানটা পড়বে তার খুব বদনাম আছে, রাত্রি ছাড়ুন দিনের আলোতেও কেউ ঐ রাস্তা দিয়ে যায়না......" বলল ভদ্র লোকটি।

" ধুর দাদা, আপনি আজকের দিনে আবার এসব নিয়ে পড়েছেন। ধুর ওসব কিছু হয়না, আমি ঐ রাস্তা দিয়েই যাব। রাস্তা বলার জন্য অনেক ধন্যবাদ দাদা" এই বলে সেই ভদ্র লোকের বলা রাস্তায় হাঁটা শুরু করলো রমেন।

শীতের রাত্রি চারদিক যেন নিস্তব্দ। চারিদিক যেন অন্ধকারের মধ্যে ডুবে গেছে। তবে সেই অন্ধকারেই ধীরে ধীরে এগিয়ে চলল রমেন। অবশেষে সে শ্মশানের ধারের রাস্তায় পৌঁছালো। তবে তার কিন্তু এতে কোন ভয়ের কিছু লাগলো না। গ্রামের শ্মশান সে আগেও দেখেছে তাই তার কাছে এটা নতুন কিছু না। তবে ঠান্ডাটা যেন একটু বেশিই লাগছে এখানে রমেনের। ইস আরো একটা সোয়েটার পড়ে আসা উচিত ছিল তার, এসব দিকে ঠান্ডা বেশি হওয়াটাই স্বাভাবিক, এসব ভাবছিল হঠাৎ পাশে একটা ছোট গুমটির দিকে চোখ গেল রমেনের।

এই নিঝুম নির্জন অন্ধকারের মধ্যে এরম একটা গুমটি এই ভেবে বেশ আশ্চর্যই হল রমেন।
আসতে আসতে গুমটির কাছে এগিয়ে গেল রমেন।
ভেতরে এক মধ্য বয়সী ছেলে কম্বম মুড়ি দিয়ে বসে আছে। রমেন ভেতরে উকি মারতেই ছেলেটি জিজ্ঞাস করে উঠল " কিছু চাই নাকি ? "
" একটু গরম কিছু খাবার পাওয়া যাবে ? ঠাণ্ডায় একদম জমে গেছি দাদা " বলল রমেন।

"চা পাবেন" কম্বলের ভেতর থেকেই বলল ছেলেটি।
" ঠিক আছে এক কাপ চা দিন তাই খাই " এই বলে গুমটির ভেতর ঢুকে বসলো রমেন।
ভেতরে ঢুকে যেন একটু শান্তি পেল রমেন। ঠান্ডা যেন তার হাড়ের মধ্যে ঢুকে কাপিয়ে দিছিল। 
"এত রাতে এদিকে কি করতে ? " হঠাৎ জিজ্ঞাস করলো গুমটির ছেলেটি
প্রশ্নটা শুনে তার দুর্ভাগ্যের কথা সবটা সে বলল এবং কিভাবে বাসস্ট্যান্ড থেকে এই রাস্তার সন্ধান পেয়ে এদিকে এলো সবটাই বলল সে।

এবার রমেন একটা কথা না জিগ্যেস করে পারল না " আচ্ছা বলছি দাদা বাসস্ট্যান্ডে শুনলাম এই রাস্তার শ্মশানটা নাকি ভাল না, রাত ছাড়ুন দিনের বেলাতেও নাকি কেউ এই মুখো হয়না। তাহলে এই নির্জনে আপনি দোকান খুলে কেন রেখেছেন? আর এই শ্মশানেরই বা এতো বদনাম কেন ?"

" এই শ্মশান চিরকাল এরম ছিল না। আজ থেকে বছর তিন আগে এই গ্রামে খুব খরা দেখা দেয়। কৃষকরা ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে ওঠে। এই ঋণের বোঝা না সইতে পেরে এক কৃষক এই শ্মশানের মাঝের একটা বট গাছে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে। প্রথমটা তেমন অসুবিধা না হলেও কিছু দিন পর থেকে গ্রামে বিভিন্ন ভৌতিক কাণ্ড ঘটতে থাকে। এই রাস্তা দিয়ে ফেরার সময় কখন কারোর মুরগি গায়েব হয় তো কখন কারুর একটা আস্ত পাঠা। কেউ কেউ তো শ্মশানের চারিদিকে এক কঙ্কাল মূর্তিকে ঘুরে বেড়াতে দেখেছে বলেও দাবী করে উঠল। এরপর গ্রামে রোটে গেল যে এই শ্মশানে ভূতের ডেরা হয়েছে। ধীরে ধীরে এদিকে মানুষের আসা বন্ধ হয়ে গেলো। এভাবে বেশ কিছু দিন চলার পর একদিন গ্রামের এক ছোকরা বন্ধুদের সাথে শর্ত লাগিয়ে এই শ্মশানে রাতে থাকবে বলে আসে, কিন্তু পরের দিন সকালে তার অচৈতন্য দেহ শ্মশানের সামনে পরে থাকতে দেখা যায়। গ্রামের লোকেরা দেখতে পেয়ে তাকে বাড়ি নিয়ে যায়। কিন্তু আসল গণ্ডগোল শুরু হয় এরপর থেকেই। ছেলেটির বাড়িতে এবার অদ্ভুত সব কাণ্ড শুরু হয়। ছেলেটির দাদা একদিন মাঝ রাতে ছেলেটিকে গাছের ডালে উল্টো হয়ে ঝুলে থাকতে দেখে এবং সাথে বিকট ভাবে হাসতে দেখে। এই দৃশ্য দেখে সে ভয় পেলেও সে বাড়িতে কিছু বলে না তবে সে নিজের ভাইয়ের প্রতি নজর রাখতে শুরু করে। আর একদিন রাতে সে দেখে তার ভাই বারান্দা থেকে হাত বাড়িয়ে পাশের বাড়ির উঠোন থেকে একটা জ্যান্ত মুরগি তুলে এনে এক কামড়ে মুরগির মাথাটা টেনে ছিঁড়ে ফেলল, এর পর ধীরে ধীরে মুরগির কাঁচা মাংস খেতে শুরু করল। এবার ছেলেটির দাদা বুঝতে পারল যে তার ভাই নিশ্চই কোন অপদেবতার কবলে পড়েছে। সে তার মার সাথে কথা বলে পাশের গ্রাম থেকে এক নাম করা ওঝা কে ডেকে নিয়ে এল।
ওঝা সব কিছু দেখে ছেলেটির দাদাকে কিছু জিনিস আনতে বলল এবং  বাড়ির উঠানে একটি যজ্ঞ করবে ঠিক করল। কিছুক্ষণের মধ্যেই ছেলেটির দাদা সমস্ত সরঞ্জাম নিয়ে হাজির হল। ইতি মধ্যেই ঘটনাটি পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ায় অনেকে এসে বাড়ির সামনে ভিড় করেছে। ধীরে ধীরে ওঝা যোগ্য শুরু করলো। কিছুক্ষণ পরেই একটা আধ খাওয়া মরা কাক নিয়ে হাজির হল ছেলেটি। খনা গলায় বলে উঠল " কে তুই ? এই বাড়িতে কি করছিস ? বেরিয়ে যা এই বাড়ি থেকে.....নয়তো শেষ করে দেব..."

" আমি তোকে নিয়ে যেতে এসেছি.....কে বল তুই ? এই বাচ্চাটা কি ক্ষতি করেছে তোর ? ছেড়ে দে ওকে " এই বলে ওঝা হাতে একটি জল নিয়ে মন্ত্র পড়ে ছিল ছেলেটার দিকে।

অমনি সে বাবাগো, মা গো বলে চিৎকার করে উঠলো। এভাবে বেশ কিছুক্ষণ চলার পর অবশেষে ওঝা সেই প্রেতাত্মাকে একটি কাঁচের বোতল বন্দি করে। এই দেখে গ্রামের সবাই খুশি হয়ে ওঝা কে ধন্য ধন্য করতে থাকে।
তবে ওঝা এবার বলে যে এই বোতল টিকে সেই শ্মশানে গিয়ে মাটি খুড়ে সেই মাটিতে পুঁতে ফেলতে তবে সেটা যেন এই ছেলের সাথে রক্তের সম্পর্ক আছে এরম কেউ করে। তবে হ্যা কোন ভাবে এর আগে যদি এই বোতল ভেঙে গিয়ে এই প্রেতাত্মা মুক্তি পায় তাহলে কিন্তু সে বদলা নেবে এবং তখন আর কিছু করার থাকবে না।
তখন ছেলেটির দাদা সেই বোতল নিয়ে এই শ্মশানে পুঁতে আসবে বলে ঠিক করে। কিন্তু তার মা তাকে অনেক আটকানোর চেষ্টা করে এই বলে যে তাদের দুই জন বাদে তার আর আছে কে......এই বিপদে সে কিছুতেই তাকে যেতে দেবে না। স্বামীকে হারিয়েছে অনেক আগেই..... ছেলেদের হারাতে সে পারবে না। বরং সে নিজেই যাবে শ্মশানে, কিছু হলে তার হবে....তার দুই ছেলেতো সুরক্ষিত থাকবে। কিন্তু সে তার মার কথা শোনেনা.....সে জোর করে বোতলটি নিয়ে শ্মশানে পথে হাঁটা দেয়.... " এই বলে একটু থামল সেই গুমটির ছেলেটি।

"থামলে কেন ? কি হল তারপর ? এখানেই শেষ ? সেই ছেলেটার দাদার কি হল ?" বেশ কৌতূহলের সাথেই জিজ্ঞাস করলো রমেন।

একটু হেসে ছেলেটি বলল " না দাদা এখানে শেষ নয়...."
" সেই ছেলেটার দাদার.......ভাগ্য প্রসন্ন ছিলনা তার....শ্মশানে এসে তাড়াহুড়োতে তার হাত থেকে বোতলটি পরে যায়.....সাথেই গগনভেদী বিকট হাসিতে কেঁপে ওঠে পুরো শ্মশান আর সাথে সাথেই শোনা যায় এক তীব্র আর্তনাদ......" বলল গুমটির ছেলেটি।

" সেই ছেলেটার দাদা আর ফিরল না তাহলে   ? " জিজ্ঞাস করলো রমেন।

" না ফিরলো তো.....সেই দিন রাতের বেলায় ফিরে এসেছিল সেই ছেলেটির দাদা....মা আর ভাই ছুটে গিয়েছিল....
দাদা দাদা বলে জড়িয়ে ধরেছিল তার ভাই তাকে....তার মাও ছেলে পেয়ে খুশিতে আত্মহারা হয়ে উঠেছিল।
.তবে সেই দিনের পর থেকে কেমন যেন উধাও হয়ে গেল সেই পরিবারটা....আর কোন খোজ পাওয়া যায়নি....."

" আচ্ছা সেই পরিবারটির কোন খোজ পাওয়া যায়নি, পুলিশ কিছু করতে পারেনি ? আচ্ছা একটা কথা বলুন...সে বোতলটা ভেঙে গেলে ওঝার কথা অনুযায়ী সেই প্রেতাত্মা বদলা নিতো তাহলে বোতল ভাঙার পরও সেই ছেলেটির দাদা বেঁচে ফিরলো কি করে....." জিজ্ঞাস করলো রমেন।

" বেঁচেতো সে ফেরেনি দাদা.....সেদিন বোতল ভাঙার পর এই শ্মশানেই সেই ছেলেটির দাদা ঘাড় মটকে মেরে ফেলে সেই প্রেতাত্মা তারপর সেই মৃত শরীর দখল করে সেই পরিবারের কাছে ফিরে গিয়ে নিজের বদলা পূর্ণ করে। " উত্তর করলো গুমটির ছেলেটি।
" সেকি তাহলে তো আপনি জানেন যে সেই পরিবারটি এর বেঁচে নেই.....তাহলে নিখোঁজ বলছিলেন কেন....আচ্ছা আপনি এত কিছু জানলেন কি করে ??? " বেশ কৌতূহলের সাথেই জিজ্ঞাস করলো রমেন।

" আসলে দাদা সেই প্রেতাত্মা নিজের বদলা পূর্ণ করেও শান্তি পায়নি......মানুষের শিকার তার কাছে একটা নেশাতে পরিণত হয়েছে। এবং সে আজও এরম রাতের বেলায় নিজের শিকার খুঁজে বেড়ায়...." বলল গুমটির ছেলেটি।

এবার রমেন একটু আশ্চর্য হয়ে বলল " সে তো বুঝলাম কিন্তু তুমি এত কিছু জানো কি করে...... আর সত্যি যদি সেই প্রেতাত্মা শিকার খুঁজে বেড়ায় তাহলে তুমি এখানে দোকান কেন খুলে রেখেছ ? "

এবার ছেলেটি কম্বলের মধ্যে দিয়ে একটা বিকট হাসি হেসে বলল " আমি সবটা জানব না তো কে জানবে.....আর দোকান....কোথায় দোকান....যেখানে আপনি বসে আছেন সেটা একটা আধ জ্বালা চিতা......আর আপনি আজ রাতের শিকার....."

রমেন আশ্চর্য হয়ে এদিক ওদিকে দেখতেই তার শিকদারা বেয়ে ঠান্ডা স্রোত নেমে গেল....সত্যি কোথায় গুমটি....কোথায় রাস্তা.....অন্ধকার শ্মশানে একটা আধ পোড়া চিতার উপর বসে সে....আর সামনে একটা নর কঙ্কাল....যার চোখ দিয়ে ঠিকরে বেরোচ্ছে আগুন.....আর ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে সে....সে প্রাণপণ চেষ্টা করল পালানোর কিন্তু কোন জাদু বলে তার সমস্ত হাত পা যেন অসার হয়ে গেছে। সে কিছুতেই যেন নড়াচড়া করতে পারছে না.....আর সামনে থেকে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে সে কঙ্কাল মূর্তি...আর সাথে এক বিকট হাসি....রমেনের মাথা যেন বনবন করে ঘুরতে লাগল....ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ হয়ে এলো রমেনর....শুধু কানে ভেসে আসতে লাগল এক ভয়ানক হাসি...

পরদিন সকালে গ্রামের কিছু ছেলে মিলে রমেনের অচৈতন্য দেহটা শ্মশানে পাশের রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে। তার গা থেকে কিছু কিছু জায়গার মাংস খুবলে খাওয়া...গ্রামবাসীরা শিয়ালের কাজ ভেবে রমেনকে কাছের হাসপাতালে নিয়ে যায়...তিন দিন পর রমেনের হুস আসলে ডাক্তার তাকে সমস্ত ঘটনা বলে...তবে সেদিন রমেনও শিকার করেছিল যে তার উপর শিয়ালের আক্রমণই হয়েছিল। 
তবে সত্যিটা শুধু রয়ে গেছিল রমেনের স্মৃতিতে....আজও মাঝে মধ্যে ঘুমের মধ্যে রমেন দেখতে পায় সেই জ্বলন্ত চোখ গুল যেন ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে....এর সাথে ভেসে আসছে এক বিকট হাসি...........।