সমাজ বলে ছেলের সুখের জীবন,
আর মেয়ে হলেই নাকি কষ্ট,
ছেলেদেরই সব অগ্রাধিকার,
আর মেয়ের বেলায় সব নষ্ট।
প্রথমেই যখন জন্ম হয় তার,
আদর খুবই পায় সে সবার,
পরক্ষণেই প্রশ্ন আসে,
ছেলে ডাক্তার হবে নাকি ইঞ্জিনিয়ার?
শুরু জন্ম থেকেই প্রতিযোগিতা,
হতে হবে সবার থেকে সেরা,
ছোট থেকেই তার বাইরে জগৎ,
কারণ ঘরে থাকে তো শুধু মেয়েরা।
কিছু কাল পরে শৈশবের শেষে,
সে কৈশোরের পায় দেখা,
পরিবারের সে মধ্যমণি,
তবুও সে বড় একা।
বুকে জমে না বলা কথাগুলো,
জমাট বাঁধে অব্যক্ত অনুভূতি,
প্রত্যাশার আগুনে সে প্রত্যহ দেয়,
তার গড়া সব স্বপ্নের আহূতি।
অবশেষে দেয় সে যৌবনে পারি,
মনে তার প্রশ্ন জাগে রকমারি।
ডাক্তার হবে নাকি ইঞ্জিনিয়ার,
নাকি খুঁজবে চাকরি সরকারী?
শুরু হয় প্রস্তুতির পালা,
মনে হয় সব বা হাতের খেলা।
মন ধীরে ধীরে বোঝে বাস্তবতা,
সফলতা পাওয়া যে নয়কো সোজা।
কাটছে জীবন শুধু এই চিন্তায়,
হবে কবে শুরু সফলতার অধ্যায় ?
কেনো বিষন্নতার অন্ধকারে,
মন শুধু হারিয়ে যেতে চায় ?
মাথার উপর বাড়ছে চাপ,
এ জীবন নাকি অভিশাপ?
সবার শুধু প্রশ্ন একটাই
" আর কতদিন তোকে খাওয়াবে বাপ ?"
মন শুধু তাই প্রশ্ন করে,
"বোন তো বেশ আছে ঘরে,
তবে কেন শুধু আমার বেলাই,
সবাই এমন প্রশ্ন করে ?
কেনো শুধু সফলতা হবে পরিচয় আমার?
কেনো উপার্জনই হবে পরিমাপক ?
কেনো প্রত্যাশা পুরুন হবে উদ্দেশ্য আমার ?
কেনো শুধু আমি হব দায়িত্ব বাহক ?"
অবশেষে জীবনের অপরাহ্নে,
আজ এইটুকু গেলো বোঝা,
ছেলের জন্ম সুখের কীভাবে,
যেখানে মাথায় দায়িত্বের বোঝা..?
উপার্জনই এখানে পরিমাপক,
আর শুধু অর্থই আনে সম্মান,
চোখের জলে থাকে নিষেধাজ্ঞা,
এবং জীবনের পাথেয় শুধুই অপমান।