Thursday, May 28, 2026

ভ্রমণের ডাক

ওই দেখো ওই ডাকছে পাহাড়,
ডাকছে আকাশ, ডাকছে সমুদ্রের পাড়,
ডাকছে অরণ্য বিলীন হতে আমায়,
ডাকছে দিগন্ত কোনো নতুন দিশায়।

থাকছে না মন চার দেওয়ালেতে আর,
দিতে চাইছে সে ডাকে সাড়া,
যেতে চাইছে সে সব কাটিয়ে বাঁধন,
যেতে চাইছে সে পিছুটান ছাড়া।

ছুটে যাচ্ছে কখনও সে অরণ্যের বুকে,
কখনও করছে আরোহণ পাহাড়ের চূড়া।
কখনও দিচ্ছে মাথা সমুদ্রের কোলে,
কখনও নতুনের খোঁজে সে হচ্ছে মাতোয়ারা।

তবু কেনো মেটে না এই তৃষ্ণা আমার,
কেন বেড়ে চলে এই ভ্রমণ পিপাসা,
ঘুরে চলি তাই শুধু ভ্রমণের নেশায়,
কখনও নতুন দিগন্তের খোঁজে, 
কখনও নতুন পথের আশায়।


Tuesday, May 12, 2026

একটি ছেলের জীবন

সমাজ বলে ছেলের সুখের জীবন,
আর মেয়ে হলেই নাকি কষ্ট,
ছেলেদেরই সব অগ্রাধিকার,
আর মেয়ের বেলায় সব নষ্ট।

প্রথমেই যখন জন্ম হয় তার,
আদর খুবই পায় সে সবার,
পরক্ষণেই প্রশ্ন আসে,
ছেলে ডাক্তার হবে নাকি ইঞ্জিনিয়ার?

শুরু জন্ম থেকেই প্রতিযোগিতা,
হতে হবে সবার থেকে সেরা,
ছোট থেকেই তার বাইরে জগৎ,
কারণ ঘরে থাকে তো শুধু মেয়েরা।

কিছু কাল পরে শৈশবের শেষে,
সে কৈশোরের পায় দেখা,
পরিবারের সে মধ্যমণি,
তবুও সে বড় একা।

বুকে জমে না বলা কথাগুলো,
জমাট বাঁধে অব্যক্ত অনুভূতি,
প্রত্যাশার আগুনে সে প্রত্যহ দেয়,
তার গড়া সব স্বপ্নের আহূতি।

অবশেষে দেয় সে যৌবনে পারি,
মনে তার প্রশ্ন জাগে রকমারি।
ডাক্তার হবে নাকি ইঞ্জিনিয়ার,
নাকি খুঁজবে চাকরি সরকারী?

শুরু হয় প্রস্তুতির পালা,
মনে হয় সব বা হাতের খেলা।
মন ধীরে ধীরে বোঝে বাস্তবতা,
সফলতা পাওয়া যে নয়কো সোজা।

কাটছে জীবন শুধু এই চিন্তায়,
হবে কবে শুরু সফলতার অধ্যায় ?
কেনো বিষন্নতার অন্ধকারে,
মন শুধু হারিয়ে যেতে চায় ?

মাথার উপর বাড়ছে চাপ,
এ জীবন নাকি অভিশাপ?
সবার শুধু প্রশ্ন একটাই
" আর কতদিন তোকে খাওয়াবে বাপ ?"

মন শুধু তাই প্রশ্ন করে,
"বোন তো বেশ আছে ঘরে,
তবে কেন শুধু আমার বেলাই,
সবাই এমন প্রশ্ন করে ?

কেনো শুধু সফলতা হবে পরিচয় আমার?
কেনো উপার্জনই হবে পরিমাপক ?
কেনো প্রত্যাশা পুরুন হবে উদ্দেশ্য আমার  ?
কেনো শুধু আমি হব দায়িত্ব বাহক ?"

অবশেষে জীবনের অপরাহ্নে,
আজ এইটুকু গেলো বোঝা,
ছেলের জন্ম সুখের কীভাবে,
যেখানে মাথায় দায়িত্বের বোঝা..?

উপার্জনই এখানে পরিমাপক,
আর শুধু অর্থই আনে সম্মান,
চোখের জলে থাকে নিষেধাজ্ঞা,
এবং জীবনের পাথেয় শুধুই অপমান।





















Friday, May 1, 2026

একটি গাছ একটি প্রাণ

শত্রু নই আমি মিত্র তোমার,
করব রক্ষা আমি তোমায়,
প্রতিনিয়ত দেব প্রাণবায়ু আমি,
শুধু একটু বাঁচতে দিও আমায়।

পৃথিবীর বুকে প্রথম প্রাণের দেখা,
সেদিন ছিলাম শুধু আমিই একা।
ধীরে ধীরে বেড়ে উঠেছিলাম আমি,
করে প্রস্ফুটিত চারিদিক।

সেজেছিল ধরণী শ্যামল সাজে,
আবির্ভূত হয়েছিল প্রাণীকুল।
বিকশিত হয়ে সময়ের সাথে,
করেছিলাম পরিবেশ বাঁচার অনুকূল।

জুগিয়েছিলাম সবই সাজসরঞ্জাম,
অন্ন বস্ত্র সাথে বাসস্থান।
সাথে দিয়েছিলাম ভেষজেরও বরদান,
তবে কেন আজ পেলাম এই প্রতিদান..!

ধীরে ধীরে আজ বিলুপ্ত আমি,
বিলুপ্ত মানুষের অগ্রগতির অজুহাতে।
পরিবেশও প্রতিকূল তাই আজ,
আর মানুষ লড়ছে সেই প্রতিকূলতার সাথে।

করছে তারা বিজ্ঞানকে,
তাদের যুদ্ধের হাতিয়ার,
কিন্তু প্রকৃতির সাথে এই অসম যুদ্ধে,
সব অস্ত্রই বেকার।

বাঁচাতে পারি শুধু আমিই এখন,
করে পরিবেশ আবারও বাঁচার অনুকূল।
মনে রেখ আমি বন্ধু তোমার,
আমায় শত্রু ভাবা তোমার ভুল।

প্রতিনিয়ত রক্ষা করব আমি,
চাইনা বদলে কোনো প্রতিদান।
শুধু আমায় বাঁচতে দিও,
মনে রেখ " একটি গাছ , একটি প্রাণ " ।
















সমাজের অনুদান

দান নয়, দান নয়, নয়কো আমি ভিখারী,
কর্মক্ষমে পূর্ণ আমি, শ্রম বেচে খেতে রাজি।
না চাই অনুদান কোন, না চাই কোনো ভাতা,
কাজ করে খেতে চাই আমি, আমার চাই না কোনো দাতা।

তবে কাজের বাজারে মন্দা আছে এমন কিন্তু নয়,
বেছে মুরি চানাচুর আয় বেশ ভালোই হয়।
ভাবছি সাথে চপ ভেজে দেখাবো আমি শিল্প,
না হয় সাথে পাকোরাও কিছু ভেজে নেব অল্প।

তবে এরপরেও যদি কাজ করে মনটা না ভরে,
এই শরৎকালে তবে আর থাকবো নাকো ঘরে,
ফুটেছে দেখ চারিপাশে কাশফুল সারিসারি,
এই কাশফুল দিয়ে আমরাতো বালিস বানাতে পারি।

বিক্রি করে সেই বালিশ আমি করব লক্ষ উপার্জন।
এত আয় বাদ দিয়ে চাকরি আবার খুঁজবে কোন জন ?
ছোট নয় কোনো কাজই, সব কাজেই আছে সম্মান,
শুধু নামের পাশে শিক্ষিতের তকমাটা আজ বড়ই বেমানান।

স্বপ্ন ভেঙে চূর্ণ যে আজ, ডিগ্রি গুলো করে হাহাকার,
মেধাবী ছাত্র যার ছিল পরিচয়, আজ তার ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
ফার্স্ট বেঞ্চে বসত যে সে আজ ফুটপাথে পেল স্থান,
লজ্জা শুধু তার একার নয়, এ পুরো সমাজের অপমান।