Tuesday, October 13, 2026

ভূত চতুর্দশী

মা দুগ্গা গেল, লক্ষ্মী গেল, 
বাঙালীর পকেটও প্রায় খালি,
বাজির দোকানে ভিড় জমেছে, 
এবার আসছেন মা কালী।

পাড়ায় পাড়ায় বাঁশ পড়েছে, 
লাইট লেগেছে যে সারি সারি,
আর পাড়ায় ঘুরছে ছেলে ছোকরা, 
চাঁদা বই হাতে বাড়ি বাড়ি।

ছেলেরা ভাবছে কোন বাজি কিনবে,
কোথাকার বাজি হবে বেস্ট ?
আর মেয়েরা খুঁজছে শপিং মলে,
নিজের দীপাবলির নতুন ড্রেস।

এদিকে বাড়িতে বসে মধ্যবিত্ত বাবা,
ভাবে চলবে কি করে সংসার ?
বাজি কেনা থেকে ড্রেস কিনে দেওয়া,
মেটাতে হবে তাকে সব আবদার।

পাড়ায় বাজছে শ্যামা সঙ্গীত,
মণ্ডপে পুঁজিত হচ্ছেন মা কালী,
সেই মণ্ডপেই চলছে অভিবাদন,
 সবার অভিবাদন " হ্যাপি দেওয়ালি"।

তবে "হ্যাপি দেওয়ালি" হোক বা "হ্যালোউইন",
বাঙালি সব উৎসবেতেই খুশি,
শুধু এই সবের মাঝে কোথাও হারিয়ে গেছে,
বাঙালির আপন " ভূত চতুর্দশী "।


                                            ~~সুদীপ দে




































Sunday, September 13, 2026

নতুন সমাজ

শুধু ভালো হওয়াই কি যথেষ্ট,
এই সমাজে চলার পথে ?
নাকি ভালো হওয়া শুধু এক সুযোগ মাত্র,
এই সুযোগ সন্ধানী সমাজের কাছে ?

ভালো হওয়াই কি তবে হতে পারে পরিচয় কারুর ?
নাকি ভালো হওয়া শুধুই এক বিশেষণ মাত্র,
ব্যবহৃত হয় যা প্রতিনিয়ত অবহেলিত,
অত্যাচারীতের চরিত্র বোঝাতে ?

ভালো হওয়া মানে কি তবে শুধুই চুপ থাকা?
অন্যায়ের প্রতিবাদে নিজেকে চিরতরে বিরত রাখা ?
ভালো হওয়া মানেই কি সহ্য করা শোষণ ?
ভালো হওয়া মানেই কি দেওয়া নিজের অধিকার বিসর্জন ?

শুধু চিরকাল মেনে নেওয়াই, 
কি আজ ভালো হবার শর্ত?
আর প্রতিবাদ করলেই, 
সে কি তবে ভালো হতে ব্যর্থ ?

নতুন সমাজের নতুন নিয়মে, 
তাই খারাপ হওয়াটা খারাপ নয়।
সমাজে যোগ্য অধিকার পেতে, 
খারাপ তো একটু হতেই হয়।












Friday, September 4, 2026

একশ টাকা চাঁদা

শুনবেন দাদা একটু এদিকে,
কিছু কথা বলার ছিল,
কাল গেছিলাম পুজোর চাঁদা চাইতে,
আপনার বউ তো শুধু একশ টাকাই দিলো।

বলল নাকি মাইনে হয়নি,
দুই মাস ধরে আপনার।
তবে দাদা অমন চাকরি,
করার কি আছে দরকার?

তবে বাজারতো বেশ ভালোই করেছেন,
ওই হাতে তো মনে হয় মটন,
শুধু আপনার মাইনে বন্ধ,
আমরা চাঁদা চাইতে যাই যখন ?

জানেনই তো পুজোর অনেক খরচ,
তার উপর এবার পঁচিশে পদার্পণ,
চারদিন ধরে ডিজে বাজবে,
পাড়া মেতে থাকবে সারাক্ষণ।

তাই বলছি পাড়ায় থাকতে হলে,
আমাদের কথাটা মেনে নিন,
চলুন বেশি চাপ দেব না,
আপনি শুধু হাজারই দিয়ে দিন।

বাবা ওরা কেনো টাকা নিলো?
ওরা বলল কেনো তোমায় অমন?
ওদেরও কি আজ জন্মদিন ?
ওরাও কি খাবে মটন ?

বাবা তুমি হাসছো কেন ?
বাবা হাসছো কেন বলো ?
ওই দেখো ঔষধের দোকান,
তোমার ওষুধটা কিনবে চলো।

কিনবো না আর ওষুধ সোনা, দরকার নেই আর,
সামনে এখন দুর্গোৎসব, মা ই মঙ্গল করবে সবার।



Monday, August 31, 2026

সাহায্য

সকাল সকাল অফিসে ঢুকেই মাইনের ম্যাসেজটা দেখে মন খুশি হয়ে গেলো মালিনীর। গত দু মাসের পেন্ডিং ইনসেন্টিভের টাকাটা অবশেষে পাওয়া গেলো। পুজোর আগে একটু এক্সট্রা পেলেতো ভালোই লাগে। দেখতে দেখতে অফিসের ঘড়িতে সন্ধ্যা ৬টা বাজলো। আজ আর বাসে করে যেতে ইচ্ছে হলোনা।মোবাইলে একটা বাইক বুক করে অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে করতে রাস্তায় বসে থাকা একটা কুকুরের দিকে চোখ গেলো তার। দোকান থেকে একটা বিস্কুটের প্যাকেট কিনে কুকুরটাকে দিলো সে, সাথে সাথে আশপাশ থেকে আরও গোটা চারেক কুকুর এসে ঘিরে ধরলো মালিনীকে। খুব মায়া হলো তার, সে দোকান থেকে আরও কয়েক প্যাকেট বিস্কুট কিনে খেতে দিল কুকুর গুলোকে। এর মধ্যেই তার বাইক এসে যাওয়ায় সে বাইকে উঠে বাড়ির দিকে রওনা হলো। জবা বৌদি এখনও বাড়িতে কাজ করছে, অন্যান্য দিনেতো এতক্ষণে সে কাজ শেষ করে বাড়ি চলে যায়, তবে আজ এখনও আছে কেন ? ভাবলো মালিনী। "আজ এখনও বাড়ি যাওনি ?" জিজ্ঞাস করলো মালিনী। "দিদি তোমার সাথে একটু কথা ছিল" বলল জবা। "হম বলো কি হয়েছে ?" জিজ্ঞাস করলো মালিনী। "বলছি দিদি আমায় এক হাজার টাকা ধার দিতে পারবে গো ? তুমি প্রতি মাসে একটু করে কেটে নিও, আসলে আমার মেয়ের গত দুদিন ধরে জ্বর, কিছু খাচ্ছে না, একটু ডাক্তার দেখাবো।" বলল জবা। কথাটা শুনেই তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো মালিনী। "এসব ফন্দি আমার কাছে আনবে না, এসব আমি অনেক দেখেছি, রক্ত জল করে টাকা ইনকাম করতে হয়, ফোকোটে আসেনা যে তোমার এসব গল্প শুনে আর চোখের জল দেখে লুটাবো। মেয়ের অসুখ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাও, ওখানে তো টাকা লাগবে না, যেমন সামর্থ্য তেমনই দেখাবে, বেশি বাড়াবাড়ির দরকার কি? " এই বলতে বলতে ফোনটা বেজে উঠলো মালিনীর।
" হ্যাঁ শুভ্রা বল, এই আমার স্ট্যাটাসটা দেখেছিস ? আরে বলিসনা কুকুর গুলো এমন ধরলো, খুব কষ্ট হলো অবলা জীব গুলো" এই বলতে বলতে নিজের ভেতরের রুমের দিকে যেতে লাগলো মালিনী।
নিজে নোংরা আঁচলটা দিয়ে নিজের দুচোখ মুছে আসতে আসতে বেরিয়ে গেলো জবা।

Friday, August 28, 2026

আশ্চর্য সমাজ

আশ্চর্য এই সমাজ যে এক,
আশ্চর্য এই সমাজের দ্বিচারিতা,
এখানে নারীমূর্তি পায় দেবীর আসন,
আর প্রাণবন্ত নারী হয় ধর্ষিতা।

হয় মাতৃ রূপে বন্দনা নারীর,
হয় তার শক্তি রূপে পূজন।
হয় ভোগ্য রূপে গণ্য নারী,
হয় তার পণ্য রূপে বিপণন।

দেবী রূপে হয় আরাধ্য নারী,
দেবী রূপে শুধু তার সম্মান।
নারী রূপে সেই নিকৃষ্ঠ প্রাণী,
প্রতি পদে শুধু অপমান।

দেবী মন্ত্রে হয় মুখর সমাজ,
সমাজে পূজিত দেবী প্রতি ঘরে।
সেই সমাজেই অবহেলিত নারী,
নারী লাঞ্ছিত বারে বারে।

আশ্চর্য এই সমাজেতে নারীর,
এ এক আশ্চর্য অবস্থান,
দেবী মূর্তি রূপে হয় আরাধনা তার,
আর নারী রূপে অসম্মান।





















Saturday, August 15, 2026

প্রতিবাদ

প্রতিবাদে যদি হয় মুখর সমাজ,
প্রতিবাদে কেঁপে যদি ওঠে চারিপাশ,
প্রতিবাদই হতে পারে শুধু অস্ত্র এমন,
যা ভাঙতে পারে স্বৈরাচারীতার নাগপাশ।

প্রতিবাদই পারে শুধু আনতে বদল,
পারে প্রতিবাদই ছিনিয়ে আনতে অধিকার,
অন্যায়ের অসুর দমনেতে তাই,
শুধু প্রতিবাদই হতে পারে অস্ত্র সবার।

প্রতিবাদেই আসবে ন্যায়ের শাসন,
প্রতিবাদেই হবে অন্যায়ের বিসর্জন,
প্রতিবাদের স্বরে হবে ঐক্য সমাজ,
প্রত্যেক প্রতিবাদীই তখন হবে স্বজন।

তবে সোজা নয় এই প্রতিবাদের লড়াই,
প্রতিনিয়ত দিতে হয় সাহসিকতার পরিচয়,
রেখে নিজ সংকল্পে দৃঢ় বিশ্বাস,
এই প্রতিবাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হয়।

দিতে হতে পারে শত আত্মত্যাগ,
পেতে হতে পারে বহু শাস্তি কঠোর,
তবে প্রতিবাদের পথেই হবে জয় নিশ্চিত,
হয়তো কখনও কিছু পরাজয়ের পর।

















Thursday, August 6, 2026

সফলতা

সফলতা, চার বর্ণের সুন্দর এক শব্দ,
লুকিয়ে থাকে যার পেছনে,
ব্যর্থতার বহু না বলা গল্প।
লুকিয়ে থাকে শত ত্যাগ,
শত হতাশার ইতিহাস।
লুকিয়ে থাকে কত অবহেলা,
থাকে অগণিত দুঃখের দীর্ঘশ্বাস।
লুকিয়ে থাকে কঠিন পরিশ্রম,
না বলা যন্ত্রণা আর অপমান,
অবশেষে মূল্য শুধু ওই চার বর্ণের,
সমাজে শুধু ওই চার বর্ণেরই সম্মান।