Monday, August 31, 2026

সাহায্য

সকাল সকাল অফিসে ঢুকেই মাইনের ম্যাসেজটা দেখে মন খুশি হয়ে গেলো মালিনীর। গত দু মাসের পেন্ডিং ইনসেন্টিভের টাকাটা অবশেষে পাওয়া গেলো। পুজোর আগে একটু এক্সট্রা পেলেতো ভালোই লাগে। দেখতে দেখতে অফিসের ঘড়িতে সন্ধ্যা ৬টা বাজলো। আজ আর বাসে করে যেতে ইচ্ছে হলোনা।মোবাইলে একটা বাইক বুক করে অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে করতে রাস্তায় বসে থাকা একটা কুকুরের দিকে চোখ গেলো তার। দোকান থেকে একটা বিস্কুটের প্যাকেট কিনে কুকুরটাকে দিলো সে, সাথে সাথে আশপাশ থেকে আরও গোটা চারেক কুকুর এসে ঘিরে ধরলো মালিনীকে। খুব মায়া হলো তার, সে দোকান থেকে আরও কয়েক প্যাকেট বিস্কুট কিনে খেতে দিল কুকুর গুলোকে। এর মধ্যেই তার বাইক এসে যাওয়ায় সে বাইকে উঠে বাড়ির দিকে রওনা হলো। জবা বৌদি এখনও বাড়িতে কাজ করছে, অন্যান্য দিনেতো এতক্ষণে সে কাজ শেষ করে বাড়ি চলে যায়, তবে আজ এখনও আছে কেন ? ভাবলো মালিনী। "আজ এখনও বাড়ি যাওনি ?" জিজ্ঞাস করলো মালিনী। "দিদি তোমার সাথে একটু কথা ছিল" বলল জবা। "হম বলো কি হয়েছে ?" জিজ্ঞাস করলো মালিনী। "বলছি দিদি আমায় এক হাজার টাকা ধার দিতে পারবে গো ? তুমি প্রতি মাসে একটু করে কেটে নিও, আসলে আমার মেয়ের গত দুদিন ধরে জ্বর, কিছু খাচ্ছে না, একটু ডাক্তার দেখাবো।" বলল জবা। কথাটা শুনেই তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো মালিনী। "এসব ফন্দি আমার কাছে আনবে না, এসব আমি অনেক দেখেছি, রক্ত জল করে টাকা ইনকাম করতে হয়, ফোকোটে আসেনা যে তোমার এসব গল্প শুনে আর চোখের জল দেখে লুটাবো। মেয়ের অসুখ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাও, ওখানে তো টাকা লাগবে না, যেমন সামর্থ্য তেমনই দেখাবে, বেশি বাড়াবাড়ির দরকার কি? " এই বলতে বলতে ফোনটা বেজে উঠলো মালিনীর।
" হ্যাঁ শুভ্রা বল, এই আমার স্ট্যাটাসটা দেখেছিস ? আরে বলিসনা কুকুর গুলো এমন ধরলো, খুব কষ্ট হলো অবলা জীব গুলো" এই বলতে বলতে নিজের ভেতরের রুমের দিকে যেতে লাগলো মালিনী।
নিজে নোংরা আঁচলটা দিয়ে নিজের দুচোখ মুছে আসতে আসতে বেরিয়ে গেলো জবা।

No comments:

Post a Comment