Sunday, September 20, 2020

প্রফেসি

"বলি হরর স্কোপ দেখা হলে একটু খবরের কাগজটা দেবে নাকি ?" তপন বাবুর কথাটা শুনে একটু হকচকিয়ে উঠলো অখিলেশ।
"আরে না না, ওই একটু দেখছিলাম আর কি...এই নিন.."  এই বলে খবরের কাগজটা এগিয়ে দিল অখিলেশ।
" কি না না...রোজই তো দেখি অফিসে এসে কতক্ষন ধরে হরর স্কোপ এর পাতাটা খুলে বসে থাকো। বলি কি, এরম খবরের কাগজে হরর স্কোপ না দেখে, যাও কোনো ভালো কাউকে দিয়ে একটু ভাগ্য বিচার করিয়ে এসো। রমেন বাবু বলছিল তাদের বাড়ির পিছনের মাঠটায় নাকি এক বাবাজি আস্থানা বেঁধেছেন। বাবাজির নাকি অসীম ক্ষমতা ভুত ভবিষ্যৎ সব তার নখ দর্পণে। তোমার বাড়ি তো রমেন বাবুর বাড়ির কাছেই। অফিস থেকে ফেরার পথে একবার ঘুরে গেলে পারো তো।" বললেন তপন বাবু।
কথাটা বেশ ভালই লাগলো অখিলেশ এর। সে মনে মনে ঠিক করলো আজ বাড়ি ফেরার পথে একবার ঘুরে যাবে।
সন্ধ্যে ৭ টা। বাবাজির আস্তানায় পৌঁছালো অখিলেশ। বাবাজির বেশ সৌম্য দর্শন। দেখে বেশ ভক্তি হলো অখিলেশ এর। 
বাবাজিকে জোর হাত করে প্রণাম করায় বাবাজি অখিলেশ কে বললো
বাবাজি : " ভবিষ্যৎ নিয়ে এত চিন্তা কেন তোর ? কি করবি এসব জেনে পাগল ?? "
অখিলেশ এবার একটু আশ্চর্য হলো 
অখিলেশ : " বাবাজি কি করে জানলো যে সে ভবিষ্যৎ জানতে এসছে ?? "
বাবাজি এবার অখিলেশ এর দিকে তাকিয়ে একটু হেসে বললো
বাবাজি : " সবই ভগবানের লীলা বুঝলি....ভগবান যা করবে ভালোর জন্যই করবে....ভালো কাজ কর....ভবিষ্যৎ ও ভালই হবে..."
অখিলেশ : " না বাবা, কিন্তুু আমি যে অনেক আশা নিয়ে এসছিলাম..."
বাবাজি : " আচ্ছা, ঠিক আছে তোর একটা প্রশ্নের উত্তর আমি দেব....ভেবে বল তুই কি জানতে চাস..?"
অখিলেশ অনেক ভেবে এবার জিজ্ঞাস করলো....
অখিলেশ : " আচ্ছা বাবা, আমি কি ভাবে মারা যাবো ? "
এবার বাবাজি হেসে বললো : 
বাবাজি : 
" যাকে বাসিস সবচেয়ে বেশি ভালো...
জীবনে তোর সবচেয়ে কাছের যে...
আয়ুকালের সমাপ্তিতে....
তোর মৃত্যুর কারণ হবে সে..."

এই বলে নিজের আসন ছেড়ে উঠে যেতে শুরু করলো  বাবাজি।
এই দেখে অখিলেশ ডাক দিল...
অখিলেশ : "বাবাজি...বাবাজি শুনুন...একটু দাড়ান....কার কথা বলছেন আপনি....বাবাজি..."
বাবাজি কিন্তু আর ফিরে তাকালো না....শুধু বলে গেলো ...
বাবাজি : 
" বৃথাই ডাকিস বারে বারে তুই..
দেখা আর কভু পাবিনা মোর..
শুধু দেখতে পাবি আবার সেদিন মোরে...
যেদিন মৃত্যু আসবে নিকট তোর....।।"
আজ বাড়ি ফেরার সময়ে বাবাজির কথা গুলোই ভাবছিল অখিলেশ..." সবচেয়ে বেশি যাকে ভালোবেসে সেই মৃত্যুর কারণ হবে...!!! তার তো ভালোবাসার মানুষ খুবই সীমিত। ছেলে মেয়ে নেই তার। ভাই বোন ও নেই। মা বাবা দুজনেই গত হয়েছে। আপন বলতে শুধু তার বউ সুজাতা। তাহলে.....তাহলে কি তার সুজাতাই হবে তার মৃত্যুর কারণ...!!! 
না না এ হতে পারে না....সুজাতা তো কতো ভালোবাসে তাকে...না না  সুজাতা হতেই পারে না..। কিছু একটা নিশ্চই ভুল হয়েছে...সুজাতা কেন তাকে মারতে চাইবে...
হঠাৎ......
একটা কথা মাথায় আসতে সব চিন্তা যেন তালগোল পাকিয়ে গেল অখিলেশ এর....
সুজাতার সাথে তো তার অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ হয়েছিল । প্রথম প্রথম সুজাতা একবার বলেছিল সে নাকি একজনকে ভালোবাসতো খুব....কিন্তুু পরিস্থিতির চাপে সে এই বিয়েতে মত দিতে বাধ্য হয়...তাহলে....তাহলে কি সুজাতার এখনও যোগাযোগ আছে সেই প্রেমিকের সাথে আর সেই প্রেমিকের সাথে মিলেই কি তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করছে সুজাতা.….???
এসব ভাবতে ভাবতে বাড়ি ফিরলো অখিলেশ। 
গেটটা খুলেই হাসি হাসি মুখে সুজাতা বললো...
সুজাতা : কি আজ এত দেরি করলে...??
অখিলেশ : না মানে অফিসে একটু কাজের চাপ ছিল..
সুজাতা : তো সেটা তো একটু জানাতে পারো যে আসতে দেরি হবে...বেকার আমি তাড়াহুর করি...
অখিলেশ : তাড়াহুর..!!! কিসের তাড়াহুর??
সুজাতা : আরে কিসের আবার....ওই তুমি আসবে একটু খাবার করে রাখবো সেই আর কি...
কথাটা যেন ঠিক মনে ধরলো না অখিলেশ এর…..
মনে মনে ভাবলো...
অখিলেশ : শুধু কি খাবার গরম নাকি পুরনো প্রেমিকের সাথে কিছু সময় বেশি কাটানোর সুযোগ...
সুজাতা : কি হল....কি ভাবছো...যাও হাত পা ধুয়ে এসো আমি খাবার বারছি...
অখিলেশ : না কিছু না...
এই বলে বাথরুমে হাত পা ধুতে গেল অখিলেশ..
বাথরুমে ঢোকা মাত্র সন্দেহটা যেন ১০০ গুন বেড়ে গেল অখিলেশ এর।
অখিলেশ : "বাথরুমে এতো সিগারেটের গন্ধ কেন...?
বুঝেছি......
পুরনো প্রেমিক বাথরুমে সিগারেট খেয়েছে.....প্রমাণ পেয়েছি.....এবার হাতে নাতে ধরবো.....আমায় খুনের ফন্দী করা বার করছি....নষ্ট মেয়ে কোথাকার... ছি ছি..."
সাথে সাথে বাইরে এসে প্রশ্ন করলো অখিলেশ...
অখিলেশ : " কি ব্যাপার বাথরুমে এতো সিগারেটের গন্ধ কেন.....কি আমি যাবার পর কেউ আসে নাকি...??"
প্রশ্নটা শুনে একটু আশ্চর্যই হলো সুজাতা...
সুজাতা : " কি সব বলছে....কে আসবে...?? মাথাটা ঠিক আছে তো ? আর সিগারেটের গন্ধ....সে আর বলো না কদিন ধরে কিছু পাড়ার বকাঠে ছেলে এসে এই আমাদের জানালার নিচে দাড়িয়ে আড্ডা দেয়....সিগারেট খায়...কাল ভাবছি একবার ভোলাদা কে বলবো...."
অখিলেশ : " হম হম সেই.....নিজের কুকীর্তি পাড়ার ছেলেদের দোষে দেখিয়ে ঢাকবার চেষ্টা চলছে...বুঝিনা যেন.."
মনে মনে ভাবলো অখিলেশ যদিও মুখে কিছু বললো না সে...
রাতে খেতে বসে সে দেখলো সুজাতা একটাই প্লেট বেড়েছে....
অখিলেশ : " কি ব্যাপার....তোমার প্লেট কোথায় ? তুমি খাবে না....? "
সুজাতা : " ও আরে তোমায় বলা হয়নি...আরে কদিন ধরে শরীরটা ভালো লাগেনা...কোনো কাজে এনার্জি পাইনা তাই একটু ডক্টরের কাছে গেছিলাম দুপুরে...তো উনি সব দেখে বললো আমার প্রায় ২০ কেজি ওভার ওয়েট আছে...তাই ঠিক করেছি এখন একমাস একবারই খাবো সারাদিনে.....পুজোর আগে ওয়েটেটা কমাতেই হবে….যাইহোক তুমি খেয়ে নাও...তোমার পছন্দের খাবার করেছি আজ..."
অখিলেশ : " আচ্ছা এই ব্যাপার....তার মানে প্রেমিকের সাথে প্ল্যান করে খাবার এ বিষ মেশানো হয়েছে ....তাই নিজে না খাবার একটা অজুহাত আগে থেকে তৈরি করে রেখেছে..."
সুজাতা : " কি হলো আবার কি ভাবছো.... খেয়ে নাও.."
অখিলেশ : " না কিছু না....বলছি পেটটা না ভালো লাগছে না...তুমি খাবারটা রেখে দাও...আমি রাতে খিদে পেলে খেয়ে নেব.."
সুজাতা : " ওমা...কি হলো আবার...একটু খাও...ওষুধ খাবে কি ? "
অখিলেশ : " না  না তেমন কিছু না...ঠিক হয়ে যাবে... আচ্ছা আমি শুতে যাচ্ছি..."
এই বলে ঘরে শুতে এলো অখিলেশ...
পরদিন একটু তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে অফিসে বেরিয়ে গেল সে...সত্যি বলতে সারারাত ঘুম হয়নী অখিলেশ। সারারাত শুধু সে বাবাজির কথা গুলোই ভেবেছে...আজ অফিসে এসেও কোনো কাজে যেন মন লাগছে না অখিলেশ এর...
তপন বাবু "কি হে গেছিলে নাকি কাল বাবাজির কাছে ?"
কথাটা শুনে আচমকা বেশ হকচকিয়ে উঠলো অখিলেশ।
অখিলেশ : " ও তপনদা আপনি....না না যাওয়া হয়নি..কি হবে ওসব দিয়ে..."
তপন বাবু : " যাঃ...একটা ভালো সুযোগ হাতছাড়া করলে তবে..."
অখিলেশ : " কেন হাতছাড়া কেন ? "
তপন বাবু : " আরে আজ সকালে আমি একবার গেছিলাম... শেযার মার্কেটে কিছু টাকা লাগাবো ঠিক করলাম তাই ভাবলাম একটু বাবাজিকে জিজ্ঞাস করবো কিন্তু গিয়ে শুনলাম বাবাজি নাকি কাল সন্ধ্যে থেকেই নিখোঁজ...কপাল টাই খারাপ আমার আর কি করবো.."
অখিলেশ : " হম আর কি করবেন..."
হঠাৎ অফিসের পিওন এসে সামনে একটা সিসি রেখে বললো
অফিস পিওন : " বাবু আপনার কার্বনিক অ্যাসিড...কুড়ি টাকা বেঁচেছে.."
তপন বাবু : " দুটো চা...
এই বলছি একটু চা চলবে তো ?"
অখিলেশ মাথা নেরে সম্মতি জানালো...
তপন বাবু : " হম তাহলে দুটো চা বলে দে আর বাকী তুই রেখে দে..."
অখিলেশ : " তো হটাৎ কার্বনিক অ্যাসিডের দরকার পড়লো কেন...? "
তপন বাবু : " আরে সে আর বলো না…..বাড়ির গেটের পাশে একটা কিসে গর্ত করেছে...ইদুর নাকি সাপ ঠিক বুঝছি না....তাই..."
অখিলেশ : " তো ইদুর নাকি সাপ না জেনেই কার্বনিক অ্যাসিড আনিয়ে নিলে...?"
তপন বাবু : " যাচাই করবো আবার কি...এখন কি অপেক্ষা করবো কবে ওখান থেকে সাপ বেরিয়ে কামড়াক....দেখো ভাই শত্রুকে সুযোগ দিতে নেই...আগেই আক্রমণ করে নিঃশেষ করে দিতে হয়...বুঝলে..??? 
তাই আজই গিয়ে গর্তে অ্যাসিড ঢালবো..."
এই বলে উঠে নিজের টেবিলে গেল তপন বাবু। কিন্তু তপন বাবুর কথাটা যেন বারবার মাথার মধ্যে ঘুরতে লাগলো অখিলেশ এর...."শত্রুকে সুযোগ দিতে নেই...শত্রুকে সুযোগ দিতে নেই...আগেই আক্রমণ করে নিঃশেষ করে দিতে হয়..."
বিকেল ৪ টে... 
অফিস থেকে আজ একটু তাড়াতাড়ি বেরোলো অখিলেশ...আজ অফিসে দিনটা খুব একটা ভালো গেলো না তার..সারাদিন শুধু বাবাজির কথা গুলোই চিন্তা করেছে সে...
অখিলেশ : " ছি ছি...শেষে তার আদরের স্ত্রী যাকে সে এতো ভালোবাসে...এত বিশ্বাস করে সেই কিনা নিজের পুরনো প্রেমিকের সাথে মিশে তাকে খুন করতে চাইছে... ইশ... ভগবান কেন করলে আমার সাথে এরম..??"
সাধারণত অফিসে কাজে ভুল হয়না অখিলেশ এর কিন্তু আজ এসব চিন্তায় একাধিক বার কাজে ভুল করে বসের থেকে অল্পবিস্তর কথাও শুনতে হয় তাকে...সত্যি বলতে এসব ভাবতে ভাবতে তার নিজেকেই তার যেন কেমন অসুস্থ লাগছে...রাতে ঘুম নেই..খাওয়া নেই...সব সময় মৃত্যু ভয়...এভাবে চললে ধীরে ধীরে তো সে পাগল হয়ে যাবে...না এভাবে চলতে দেওয়া যাবে না...কিছু একটা বিহিত করতেই হবে...
হঠাৎ আবার তার তপন বাবুর কথা গুলো মাথায় এলো তপন বাবু : " শত্রুকে সুযোগ দিতে নেই...আগেই আক্রমণ করে নিঃশেষ করে দিতে হয়..."
বিকেল ৫ টা...বাড়িতে পৌঁছে দরজায় তালা দেওয়া দেখে আশ্চর্য হল অখিলেশ...
নিচে গিয়ে দারওয়ানকে জিজ্ঞাস করায় সে বললো যে সুজাতা নাকি একজন মাঝ বয়েশি যুবকের সাথে বেড়িয়েছে..
কথাটা শোনা মাত্র মাথাটা আগুন হয়ে গেলো অখিলেশ এর..। 
অখিলেশ : " ছি ছি সুজাত এতো নীচে নেমে গেছে...কাল আমি ধরে ফেলে ছি বলে আজ প্রেমিককে নিয়ে বাইরে ফুর্তি করতে গেছে...ছি ছি.."
নিজের ব্যাগ থেকে ডুবলিকেট চাবিটা বার করে ফ্ল্যাটের গেট খুলে ভেতরে গেল অখিলেশ..আজ ফাঁকা ঘরটা তার যেন বেশ ভালো লাগছিলো..অদ্ভুত একটা শান্তি যেন পাচ্ছিল সে...কোনো মৃত্যু ভয়, কোনো চিন্তা যেন তাকে তাড়া করে বেরাচ্ছিলো না...কিন্তুু এ শান্তি কতক্ষনে র....একটু পরই তো এসে যাবে সুজাতা...না একটা কিছু উপায় আজ করতেই হবে...তপন বাবুই ঠিক বলেছেন....শত্রুকে সুযোগ দিতে নেই...সত্যি আর নয়...এবার আক্রমণ করবে সে.. সেও এবার বাড়ির কাল নাগিনী কে নিঃশেষ করবে...
কিন্তু কি করবে সে....কিছু হলে তো পুলিশ কেস হবে...তখন তো আরো বেশি প্রবলেম হবে...কি করা যায়....এসব ই ভাবছিল হঠাৎ একটা বুদ্ধি খেলে গেল অখিলেশ এর মাথায়...
আচ্ছা যদি খুন টা খুন না হয়ে হয় কোনো অ্যাকসিডেন্ট...তাহলে...তাহলে তো আর কোনো অসুবিধা নেই....দুর্ঘটনার তো আর শাস্তি হয় না...
কিন্তু কি ভাবে করবে এটা সে...একটা প্ল্যান তাকে বার করতেই হবে...
হঠাৎ তার খেয়াল এলো তাদের ফ্ল্যাটের ছাদ টায় পাঁচিল দেওয়া নেই....আর সুজাতা বেশ কদিন ধরেই তাকে বলেছিল একদম ভোরবেলা ছবি তুলবে..নতুন ক্যামেরা টা কেনার পর আর তেমন ছবি তোলা হয়নি...তাহলে এই তো সুযোগ...কাল ই তোলা হবে সুজাতার ছবি....শেষ ছবি...
এসব ভেবে মনে মনে যেন এক অদ্ভুত আনন্দ পেল অকিলেশ..
হঠাৎ কলিং বেলের আওয়া যে চমকে উঠলো অখিলেশ..
সুজাতা এসেছে...
অখিলেশ : " কোথায় গেছিলে ? "
সুজাতা : " আরে এই তো কাছেই..."
অখিলেশ : " হম আমি ৫ টায় এসে তালা দেখে দারোয়ানকে জিজ্ঞাস করায় ও বললো তুমি কোন এক ছেলের সাথে বেরিয়েছো..."
সুজাতা : " আরে ছেলে বলতে আমার বান্ধবী..আরে ওই যে রিমা ওর হাসব্যান্ড...সে জানো না ওদের নতুন ফ্ল্যাট রং হোয়েছে সে এখন আমাকে দেখাবেই...আমি বললাম আমার শরীর ভালো নেই...শুনে সে ওর হাসব্যান্ড এসে গাড়ি করে নিয়ে গেল...যাই হোক তুমি আজ আগে আসবে সেটা জানাতে পারতে তাহলে আর যেতাম না.."
অখিলেশ মনে মনে ভাবলো..
অখিলেশ : " হম হম আগেভাগে জানালে কি আর তোমার আসল রূপটা জানতে পারতাম.."
সুজাতা : " কি হলো আবার কি ভাবছো...কিছু খেয়েছো এসে ???"
অখিলেশ : " হম হম খেয়েছি...রাতে আর খাবো না...।
শোনো না বলছি তুমি অনেক দিন ধরেই বলছো একটা সকাল বেলার সূর্য ওঠার ফটোসুট করার...চলো কাল ভোর বেলা ছাদে গিয়ে করবো...ঠিক আছে..."
সুজাতা : " বাঃ...হঠাৎ এতো সুবুদ্ধি হলো কি করে...নিশ্চই নিজের ডিপি চেঞ্জ করবে তাই আমার অজুহাতে নিজের ছবি তুলবে বুঝেছি..."
এই বলে একটু হাসলো সুজাতা..
অখিলেশ : " না না কাল সত্যি তুলবো তোমার ছবি.."
ঠিক যেমন ভাবনা তেমনি কাজ...পরদিন সকালে তাড়াতাড়ি উঠে সুজাতা কে রেডী হতে বলে ক্যামেরা নিয়ে ছাদে গেল অখিলেশ...
সবে পূবের আকাশ আলো করে রাতের অবসান ঘটিয়ে দিবালোকের উদয় হচ্ছে...সত্যি কি অপূর্ব দৃশ্য...
অখিলেশ : "সুজাতার জীবনের শেষ দৃশ্যটা সত্যি অপূর্ব.." 
মনে মনে ভাবলো অখিলেশ..
এমন সময় সুজাতাও এসে হাজির...
অখিলেশ : "উফ...!!!! কি অপূর্ব লাগছে সুজাতাকে...সত্যি ভাবতেই অবাক লাগে এরম সৌম্য উজ্জল রূপের পিছনে লুকিয়ে আছে এক দুশ্চরিত্রা কাল নাগিনী..ছি ছি..."
সুজাত : " কি হলো দাড়িয়ে দেখছো কি...কোথায় দাড়াব বল..ছবি কিন্তু ভালো আসা চাই...এক হাজারের কম লাইক আসলে কিন্তু হবে না..."
এই বলে একটু হাসলো সুজাতা...
অখিলেশ : " হম হম লাইক দিয়ে ভরে যাবে চিন্তা করো না...
আচ্ছা বলছি তুমি একদম ধারে গিয়ে দাড়াও সূর্যের দিকে মুখ করে...আমি তোমার ব্যাক প্রোফাইল থেকে একটা ছবি তুলবো...কাল ফেইসবুকে একজনের দেখলাম খুব সুন্দর...তোমার ও ওরম তুলবো.."
সুজাতা : " আচ্ছা ঠিক আছে..."
সুজাতা গিয়ে ছাদের একদম ধারে পেছন ফিরে সূর্যের দিকে মুখ করে দাড়ালো....
এবার যেন শরীরে একটা শিহরণ খেলে গেল অখিলেশ এর
....এই তো সুযোগ....তার সমস্ত কষ্ট...ভয়ের থেকে মুক্তির সুযোগ...আর দেরি করা যাবে না...
এই ভেবে দৌড়ে গিয়ে পিছন থেকে সুজাতাকে ধাক্কা দিতে গেলো অখিলেশ...
শেষ মুহর্তে হঠাৎ সুজাতা সরে গিয়ে অখিলেশ এর দিকে ঘুড়ে কিছু একটা বলতে গেলো সে...
সুজাতা : " আরে বলছি শোনো না....
একি করছো...!!!!!!"
অখিলেশকে দেখে আশ্চর্য হলো সুজাতা কিন্তু অখিলেশ সামলাতে পারলো না নিজেকে...শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে সোজা নীচে এসে পড়লো পাঁচ তোলার উপর থেকে...
ভয়ে চিৎকার করে উঠলো সুজাত...
মাটিতে পড়ে মরন যন্ত্রণাতে ছটফট করতে করতে অখিলেশ দেখতে পেল সেই সৌম্য দর্শন বাবাজিকে...
অখিলেশ যন্ত্রণায় ছট্ফট্ করতে করতে জিজ্ঞাস করলো..
অখিলেশ : " কেন করলে তুমি এরম...আমার বউ তো আমায় মারেনি...তাহলে কে আমায় ভুল বলে আমার জীবন টা কে নরক করে তুলেছিলে...তুমি সাধু না..তুমি পিশাচ... আমায় মিথ্যা বলে কি আনন্দ পেলে...???"
বাবাজি হেসে উত্তর দিল...
বাবাজি : "মিথ্যা তো আমি বলিনি... তোর মৃত্যুর কারণ তুই নিজেই....কারণ ভালো তুই শুধু নিজেকেই বাসিস...বউকে ভালোবাসলে তাকে মারতে চাইতিস না..."
এই বলে চোখের সামনে ধীরে ধীরে বাতাসে মিলিয়ে গেলো বাবাজি....।