Wednesday, May 13, 2020

বাজি

কলেজের ক্যান্টিনে বসে অনেক্ষন ধরে সুজয়ের কথা শুনছিল কমল। কমল আর সুজয় ছোটো থেকে বন্ধু। সেই প্রাইমারি স্কুলে বেঞ্চে বসা নিয়ে মারামারি থেকে শুরু তাদের বন্ধুত্বের। তারপর স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে এখন কলেজেও একসাথে তারা। তবে এসবের মাঝেও সুজয়ের এই সবকিছুতে এরম আত্তম্বরি ভাবটা একদম ভালো লাগেনা কমলের। আজও সুরেশের কাছে তার গ্রামের বাড়ির ভূতের গল্প শোনার পর থেকে সমানে হাসি উড়িয়ে যাচ্ছে সুজয়। জিনিসটা মোটেই ভালো লাগছিলো না কমলের। 
অনেক্ষন সহ্য করার পর অবশেষে কমল বলল, 
কমল : " এই যে এত বড় বড় কথা বলছিস যে ভূত বলে কিছু নেই, ওসব মনের ভুল, তো কখনো এটা মনের ভুল নাকি সত্যি সেটা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিস ? দিনের বেলায় বন্ধুদের মাঝে বসে নিজের বীরত্ব দেখানো খুব সোজা বুঝলিতো। " 
সুজয় : " ও আচ্ছা তাই নাকি, তো তুই প্রমাণ দিতে পারবি বল তালে আমি প্রমাণ নিতে রাজি, কিন্তুু ভাই ওই পাশের বাড়ির কাকিমার কাছে শুনছি, জেঠিমার কাছে শুনেছি এসব বলতে আসবি না। এসব বাদে আর কোন প্রমাণ থাকলে দিতে পারিস নয়ত চেপে যা" 
(বেশ অবজ্ঞার সুরেই বললো সুজয়।)
কমল : " নারে কাকিমা জেঠিমার গল্প তোকে দেবো না। আর হ্যা প্রমাণ আমি দেবো না। প্রমাণ তুই নিজেই পাবি।
তোর আমার ছোটো কাকার কথা মনে আছে? " বললো কমল।
সুজয় : " তোর ছোটো কাকা মানে ওই বিল্টুর বাবা?" জিজ্ঞাস করলো সুজয়।
কমল : " হ্যা, বিল্টুর বাবা। " বললো কমল।
সুজয় : " তো কি তোর ছোটো কাকা ভূত পুসেছে বাড়িতে? নাকি তোর ছোটো কাকা ভূতের শোরুম খুলেছে ? " 
হাসতে হাসতে জিজ্ঞাস করলো সুজয়।
কমল : " সব কিছুতে এরম হাসাহাসি করিসনা, একটা কথা জানিসতো দেয়ার ইজ মোর থিংস ইন হেভেন অ্যান্ড এ্যার্থ, হরেসিও, দ্যান আর ড্রিমট অফ্ ইন্ ইউর ফিলোসফি। " 
একটু গম্ভীর হয়েই বললো কমল।
সুজয় : " থাক ভাই সকাল সকাল তোর শেক্সপিয়ার তোর কাছেই রাখ, কি প্রমাণ দিবি এবার সেটা বল " বললো সুজয়।
কমল আবার বলতে শুরু করলো, 
কমল : " আমার ছোটো কাকা দুবছর আগে বারাসাতের ভেতরের দিকে একটা পুরনো বাড়ি কিনেছিল, বেশ ভালই ছিল সব কিছু, বেশ সস্তাতেই পেয়েছিল বাড়িখানা। একটু ভেতরের দিকে কিন্তুু আজকের দিনে দোতলা বাড়ি আট লাখ টাকায় পাওয়া মানে ভগবানের দর্শন পাওয়া। যাইহোক প্রথমেতো সব কিছু ঠিকই লাগছিলো কিন্তুু কিছু দিন পর থেকেই কিছু আশ্চর্য রকম ঘটনা ঘটা শুরু হল। একদিন যখন বিল্টু আর আমার ছোটো কাকিমা সন্ধেবেলা বাড়িতে একাছিল তখন হঠাৎ বাড়ির দক্ষিণ পশ্চিম দিকের একটা ঘর থেকে একটা নুপুর পরে হাঁটার শব্দ আসে। আমার কাকিমা গ্রামের মেয়ে, খুব সাহসী, সে ভাবলো হয়ত কোন সাপ ঢুকেছে কারণ গ্রামের দিকে একধরনের সাপ দেখা যায় যারা মাটির উপর দিয়ে চলার সময় এরম নূপুরের শব্দ করে। কাকিমা একটা লাঠি হাতে দক্ষিণ পশ্চিমের ঘরটায় গেলো সাপটাকে তাড়াতে কিন্তুু ঘর তো খালি, কোথাও কিছু নেই, কাকিমা মনের ভুল ভেবে ফেরত আসতে যাচ্ছিল ঠিক সেই সময় পেছন থেকে একটা মেয়ের গলার স্বর ভেসে এলো " ভালোচাস তো এই বাড়ি ছেড়ে আজই চলে যা, নয়তো পরিণাম ভালো হবে না। " এই শুনে ভয়ে চিৎকার করে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন কাকিমা। মায়ের চিৎকার শুনে বিল্টু ছুটে আসে। মাকে মেঝেতে পরে থাকতে দেখে ভয়ে কাদতে কাদতে পাশের বাড়ি থেকে লোক ডেকে আনে। তারা এসে চোখে মুখে জল দেওয়াতে জ্ঞান ফেরে কাকিমার। কাকিমা তাদেরকে সবকিছু বলাতে তারা বলে যে এই বাড়ির যে আসল মালিক তার বউ নাকি এই দক্ষিণ পশ্চিমের ঘরটাতেই গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছিল। তারপর থেকেই বাড়িটার বদনাম আছে। অনেক ভাড়াটে এসেছে এর আগেও কিন্তুু কেউ থাকতে পারেনি দুদিনের বেশি, শেষে কিছুটা বাধ্য হয়ে বাড়ির মালিক বাড়িটা বিক্রি করে দেয়। রাতের দিকে কাকা বাড়ি ফিরে কাকিমার কাছে সব কিছু শুনে বাড়ির দালালকে ফোন করে। প্রথমে সে কিছু শিকার না করলেও অনেক চাপা চাপির পর সমস্ত ঘটনা স্বীকার করতে বাধ্য হয়। পরদিন শেষে বাধ্য হয়ে ছোটো কাকা নিজের পরিবার নিয়ে সেই বাড়ি ছেড়ে আমাদের বাড়ি এসে ওঠে। তখন থেকে ওরা আমাদের সাথেই আছে। "
" তো এর থেকে কি প্রমাণ হল ? আগেই বলেছিলাম এরম কাকিমা জেঠিমার গল্প শোনাবি না। যতসব আজগুবি গল্প। তোর কাকু কাকিমা ওখানে বাড়ি কিনে বুঝেছে যে ওমন অজ পাড়াগায়ে থাকলে ছেলেকে ভালো স্কুলে ভর্তি করতে পারবে না তাই ওসব অজুহাত দিয়ে কলকাতাতে তোদের সাথে এসে থাকছে। ব্যাস আর কিছু না। তোর বাবা সোজা মানুষ তাই ওসব চালাকি বোঝেনি। " বেশ রেগেই বললো সুজয়।
" দেখ সুজয়, কাউর ব্যাপারে না জেনে কথা বলা উচিত না। আর হ্যা তুই প্রমাণ চাস তো ঠিক আছে যদি সাহস থাকে তাহলে একলা আমার কাকার ওই বাড়ির দক্ষিণ পশ্চিমের ঘরটায় এক রাত কাটা দেখি কত সাহস তোর। বল রাজি ? আর যদি রাজি না হস তাহলে আজ সবার সামনে স্বীকার কর যে তুই ভূত ভয় পাস।" বেশ চিৎকার করে বললো কমল।
" ভাই শুধু তোর ভূত দেখতে সেই বারাসাত যাওয়া, ঠিক পোসাবে না ভাই। " বেশ হাসতে হাসতে বললো সুজয়।
" ও এই ব্যাপার, ঠিক আছে চল, এক হাজার টাকার বাজি রইলো। যদি তুই একলা ওই ঘরে একরাত কাটিয়ে আসিস তাহলে আমি তোকে এক হাজার টাকা দেবো আর সকলের সামনে তোর বীরত্ব স্বীকার করে নেবো। আর যদি না পারলি তাহলে তুই আমায় এক হাজার টাকা দিবি আর সকলের সামনে স্বীকার করবি যে তুই কাপুরুষ। বল দম আছে ? " এবার বেশ ব্যাঙ্গাত্মক সুরে কথা গুলো বললো কমল।
কথা গুলো এবার একটু সম্মানে লেগেছিল সুজয়ের। সে বললো ঠিক আছে সে রাজি। তবে কথার যেনো খেলাফ না করে কমল। "বাজির টাকা ফেলে রাখা ভালো কাজ না, মনে থাকে যেনো।" হাসতে হাসতে বললো সুজয়।
এবার কমলও বেশ হাসতে হাসতে বললো " ঠিক ঠিক বাজির টাকা ফেলে রাখা উচিত না। তাহলে তোরা সবাই শুনেছিস তো ভাই, সুজয় কিন্তুু বলেছে ও যদি না থাকতে পারে সেই ঘরে তাহলে আমায় এক হাজার টাকা দেবে আর সাথে স্বীকারও করবে যে ও ভীতু। "
উত্তরে সবাই এবার একসাথে বললো " হম শুনেছি, শুনেছি। কিন্তু এই বাজিটা হবে কবে ? "
"যেদিন সুজয় বলবে" বললো কমল।
" দেরি করে কি লাভ, এই তো বারোটা বাজে। আজ তো তেমন একটা ক্লাস ও নেই। আমি তাহলে এখন বাড়ি যাই। বিকেল ৪টে নাগাদ শিয়ালদা স্টেশনে কমল অপেক্ষা করিস। ঠিক আছে? " বললো সুজয়।
"ঠিক আছে, কিন্তুু ৪টে না তাহলে সাড়ে পাঁচটা কর। ৪টে নাগাদ আমার একটু পড়ানো আছে সেটা শেষ করে আসবো।" বললো কমল।
"ঠিক আছে। আজ তাহলে ঠিক সাড়ে পাঁচটায় শিয়ালদা স্টেশন।" বললো সুজয়।
ঠিক যেমন কথা তেমনি কাজ। ঠিক সাড়ে পাঁচটায় শিয়ালদা স্টেশনে হাজির হলো কমল। সে দেখলো সুজয় আগে এসে নিজেই দুটো বারাসাতের টিকিট কেটে দাড়িয়ে আছে। তারা দুজনে বারাসাত লোকালে চেপে বসলো। ট্রেনটা বেশ ফাকাই ছিলো। দুজনে গেটের সামনেই দাড়িয়ে রইলো। ট্রেনে যেতে যেতে সূর্যাস্ত দেখতে বেশ ভালই লাগছিল। তবে মাঝে মাঝে সুজয়ের সেই সকালের কথা নিয়ে উল্টো পাল্টা ইয়ার্কি গুলো যেন ঠিক ভালো লাগছিল না কমলের। মনে মনে ভাবছিল দাড়াও বাছাধন রাতে বুঝবে মজা। সন্ধ্যে সাড়ে ৬টা নাগাদ ট্রেন থেকে নামলো তারা। স্টেশনের সামনে থেকেই টোটো ধরে কমলের কাকার বাড়ি পৌঁছালো তারা।
বাড়ির দরজাটা খোলার সাথে সাথেই একটা ভ্যাপসা আস্টে গন্ধ এলো তাদের নাকে। কমল আরচোখে একবার চাইলো সুজয়ের দিকে। সুজয় বললো, " ভাই তাকাচ্ছিস কি...পুরনো বাড়ি অনেকদিন বন্ধ থাকলে এরম গন্ধ হয়। এতে তাকানোর কিছু নেই। " প্রথমে বাড়িটা দুজনে একবার ভালো করে ঘুরে দেখে নিলো। সন্ধ্যে সাড়ে সাতটা নাগাদ সুজয়কে রেখে কমল ফিরে গেল।
কমল চলে যাবার পর সুজয় আরো একবার ঘর গুলো ভালো করে ঘুরে দেখে নিলো। দক্ষিণ পশ্চিমের ঘরটাকে একটু ঝার দিয়ে পরিষ্কার করে নিয়ে একটা চাদর পেতে বিছানা করে রাখলো সুজয়। সে আসার সময় বাড়ি থেকে রুটি তরকারি করে এনেছিল। রাত নটা নাগাদ রাতের খাবার খেয়ে একটা গল্পের বই নিয়ে বিছানায় শুয়ে পরলো সুজয়। গল্পের বইটা পড়তে পড়তে কখন যে সে ঘুমিয়ে পড়েছিল সে নিজেই জানে না। হঠাৎ ঢং ঢং করে ঘড়িতে ১২টা বাজার আওয়াজে ঘুম ভাঙলো সুজয়ের। কিন্তু ঘুম থেকে উঠে বেশ আশ্চর্য হল সে কারণ সে তো ঘরে কোনো ঘড়ি দেখেনি তালে ঘণ্টা বাজার আওয়াজ এলো কথা থেকে। আজ আসার সময় সাথে করে একটা টর্চ এনেছিল সুজয়। ঘুমানোর সময় টর্চটা বার করে মাথার পাশে রেখেছিল কিন্তুু কই টর্চটা পাচ্ছে না কেন সে...!!! সুজয় প্রাণপণে টর্চটা খুঁজতে লাগলো কিন্তু কিছুই পেলো না। এবার হঠাৎ কানে এলো পাশের ঘরে কে যেন নুপুর পড়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে। তবে সুজয় এতো সহজে ভয় পাবার পাত্র নয়। সে অন্ধকারে হাতরে হাতরে পাশের ঘরে গেলো।
"কে এখানে? কে এখানে জবাব দাও ? " জিজ্ঞাস করলো সুজয়।
হঠাৎ আওয়াজটা বন্ধ হয়ে গেল। চারিদিক শান্ত। সুজয় অন্ধকারেই এদিক ওদিক দেখার চেষ্টা করতে লাগলো। এতক্ষণে অন্ধকারটা তার চোখে সয়ে গেছে। হঠাৎ সে শুনলো একটা কান্নার শব্দ ভেসে আসছে সেই দক্ষিণ পশ্চিমের ঘরটা থেকে। এবার সুজয় ছুটে গেল সেই দক্ষিণ পশ্চিমের ঘরটায়। কিন্তুু ঘরের সামনে পৌঁছেই সুজয়ের মেরুদন্ড বেয়ে যেন বরফের স্রোত বয়ে গেল। জানলা থেকে আসা হালকা চাঁদের আলোয় সুজয় দেখলো একটা সাদা শাড়ী পড়ে একটা কঙ্কাল দেওয়ালে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে তারই দিকে তাকিয়ে। মুহুর্তের মধ্যে হাত পা ভয়ে অবস হয়ে গেল সুজয়ের। তার কানে ভেসে এলো একটা মেয়ের কণ্ঠ " কেন এসছিস এখানে ? এটা আমার বাড়ি...ভালোচাস তো এক্ষুনি বেরিয়ে যা আমার বাড়ি থেকে। "
ভয়ে সুজয়ের গলা শুকিয়ে এলো। সে চিৎকার করার চেষ্টা করলো কিন্তু চিৎকার বেরোলো না। কোনো মতে প্রাণপণে ছুটে বাড়ি থেকে বের হয়ে পালালো সুজয়। অন্ধকারে দিক বিদিক শূন্যের মতন ছুটে চললো সুজয়।
"উফ কমলদা এবার লাইটটা জ্বালাও, প্রচণ্ড মশা কামড়াচ্ছে।" কমলের ছাত্রী সুমনা বলে উঠলো।
সেই কখন থেকে তোমার জন্যে অন্ধকারে বসে রয়েছি নুপুর পরে। মশা কামড়ে ফুলিয়ে দিলো। শুধু আমিনিয়ার বিরিয়ানির লোভ সামলাতে পারিনি বলে তোমার সাথে যোগ দিলাম, নয়তো কখনো তোমার সাথে যোগ দিতাম না। মালতির বাড়িতে রাতে গ্রুপ স্টাডি করবো বলে মাকে ম্যানেজ করে এলাম।
আর তুমিও পারো বটে, কি ভয়টাই না দেখাল
 সুজায়দাকে। বেচারা সুজায়দা।
এবার কমল লাইটটা জ্বালালো। হাসতে হাসতে বললো, "আরে তুই সুজয়কে জানিস না। বেটার সব কিছুতে বড়ো বড়ো কথা খালি। আচ্ছা করে জব্দ হয়েছে বেটা আজ।" হাসতে হাসতে বললো কমল।
" আচ্ছা কমলদা দেওয়াল ঘড়িটা তো তুমি আমার সামনেই লাগলে আর আমায় তো নুপুর পড়িয়ে ভূত বানিয়ে সুজয়দাকে ভয় দেখালে কিন্তুু কঙ্কালটা পেলে কোথায় আর তুমি সুজয়দাকে যে গল্পটা বলেছিলে সেটাকী সত্যি " জিজ্ঞাস করলো সুমনা।
"আরে কঙ্কালটা আমাদের কলেজের বায়োলজি ল্যাবের। গার্ডকে একশো টাকা হাতে দিতেই সুড়সুড় করে কঙ্কালটা এনে আমায় দিলো। বললো কাল সকালে যেন ফেরত দিয়ে যাই। আর গল্পটা আগা পাঁচতলা পুরোটাই আমার কল্পনা ছিল। এই বাড়িটা আমার ছোটো কাকা ছমাস আগে কিনেছে। মাস দুই আগে গৃহ প্রবেশের পুজো ও করে নিয়েছে কিন্তু আমার কাকার ছেলের ফাইনাল পরীক্ষা না হলে স্কুল বদলানো যাবে না তাই ওরা এখনও এখানে এসে ওঠেনি। ভাইয়ে র অ্যানুয়াল পরীক্ষাটা হলেই ওরা এখানে চলে আসবে।" হাসতে হাসতে বললো কমল।
পরদিন সকালে একটু তাড়াতাড়ি কলেজের জন্য বেরোলো কমল। আজ তার মনে একটা অদ্ভুত আনন্দ। আজ কলেজে গিয়ে সবটা বলবে সে সবাইকে। আজ আচ্ছা করে শায়েস্তা করবে সে সুজয়কে।
হঠাৎ পেছন থেকে সুজয়ের গলা ভেসে এলো " কমল, ওই কমল, দারা....। "
কমল পেছন ঘুরে বললো, " আরে সুজয় আজ এত সকাল সকাল...? "
" হ্যারে আজ একটু আগেই এলাম, এইনে তোর বাজির এক হাজার টাকা রাখ।" , বলে পকেট থেকে দশটা একশো টাকার নোট বার করে সুজয় কমলকে দিলো।
টাকাটা নিয়ে কেমন যেন একটু খারাপ লাগলো কমলের। যতই হোক সুজয়কেতো সে প্ল্যান করে ভয় দেখিয়েছে। সুজয়তো আর সত্যি ভূত দেখে ভয় পায়নি।
" না টাকাটা নেওয়া উচিত হচ্ছে না তার। সে সব সত্যিটা বলে টাকাটা ফিরিয়ে দেবে সুজয়কে । " মনে মনে ভাবলো কমল।
" এই সুজয় একটু দারা। " পেছন থেকে ডাকলো কমল।
শোন ভাই, তোর সবসময় এরম সবকিছু নিয়ে হাসি ওড়ানোটা আমার একদম ভালো লাগেনা। কাল তুই সুরেশের গ্রামের বাড়ির ভূতের গল্পটা নিয়ে এত হাসি উরাচ্ছিলি সেটা আমার ভালো লাগছিল না। তাই তখনই প্ল্যান করি যে তোকে একটা উচিত শিক্ষা দেবো। তাই কাল তুই যখন কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার জন্য বেরিয়ে গেলি তখন আমি প্ল্যান করলাম সবটা। কঙ্কালটা যেটা তুই দেখেছিলিস কাল রাতে সেটা আমাদের বায়োলজি ল্যাবেরই। আর যেই মেয়েটার গলা শুনেছিলিস সেটা আমার স্টুডেন্ট সুমনা। দেখ তোকে সবটা সত্যি বললাম, রাগ করিস না ভাই। এই টাকাটা তুই রাখ। এটার কোনো দরকার নেই । " এই বলে কমল হাজার টাকা সুজয়ের দিকে ফিরিয়ে দিল।
"সব বুঝলাম ভাই কিন্তুু আমি রাগ করিনি কমল। তবে টাকাটা তুই রাখ। যতই তুই প্ল্যান কর কিন্তুু আমি বুঝে গেছি যে ভূত আছে। আর আমি তো ভয়ও পেয়েছি কাল। তাই এই টাকাটা তোরই প্রাপ্য।" এই বলে টাকাটা কমলকে ফিরিয়ে দিয়ে সুজয় হাঁটা দিলো।
"বুঝলাম, কিন্তুু তুই যাচ্ছিস কোথায় ? কলেজে যাবি না? আজতো নোটস দেবে বলেছিল আমাদের স্যার। তুই ভুলে গেছিস? " জিজ্ঞাস করলো কমল।
"নারে আর কলেজ যাব না, তুই কর কলেজ। আমার আর নোটস লাগবে না। আমি চললাম, আমার কাজ আছে। বিদায় কমল " এই বলে এগিয়ে গেল সুজয়। আস্তে আস্তে ভিড়ে মিলিয়ে গেল সুজয়।
সুজয়ের কথা গুলো একটু কেমন যেন লাগলো আজ কমলের। হয়তো আজ কলেজে সবার সামনে যদি অপমান করে কমল তাকে তাই হয়তো আজ কলেজে এলো না মনে হয় সুজয়। যাই হোক কি আর করা যাবে, তবে আজ নোটস দিলে সুজয়ের জন্য একটা কপি করে রাখবে সে। এসবই ভাবতে ভাবতে কলেজে পৌঁছালো কমল। তবে কলেজটা আজ যেন একটু ফাঁকা ফাঁকা লাগছিলো কমলের। কাউকে দেখছিনাতো।
"এই কমল তুই এখানে? খবর শুনিসনি ??" পেছন থেকে ডেকে জিজ্ঞাস করলো সুরেশ।
"কিসের খবররে ? কলেজে আমাদের ডিপার্টমেন্টের কাউকে দেখছিনা কেন রে ? কিছু হয়েছে নাকি ? " জিজ্ঞাস করলো কমল।
" সেকি তুই এখনও খবর পাসনি....? আমাদের সুজয় তো কাল কলেজ থেকে ফেরার পথে রোড অ্যাকসিডেন্টে মারা গেছে। আজ সকালে মর্গ থেকে বডি নিয়ে বাড়ি এসেছে। সবাই তো সেখানেই গেছে। আমিও তো ওখানেই যাচ্ছিলাম। তুই যাবি তো চল। " দুঃখের সাথে বললো সুরেশ। 
কথাটা শুনে যেন বিশ্বাস করতে পারছিল না কমল। স্তম্ভিত হয়ে দাড়িয়ে রইলো কমল। তার দুচোখ ভরে উঠলো কান্নায়। শুধু একটা ক্ষীণ স্বর তার কানে ভেসে এলো " বিদায় বন্ধু। চির বিদায় "



Friday, May 1, 2020

নিখোঁজ

একটা চিৎকারে ঘুমটা ভেঙে গেলো তুহিনের। আবার অশান্তি করছে তার বাবা। এই জিনিসটা একদম ভালো লাগেনা তুহিনের, ছোটো থেকেই সে দেখছে এই এক জিনিস। প্রায় প্রতিদিনই তার বাবা বিভিন্ন কারণে ঘরে অশান্তি করে এবং তার মাকে মারধর করে। তুহিনের খুব কষ্ট হয়। মাকে খুব ভালোবাসে সে। সে অনেকবার মাকে বুঝিয়েছে যে সে যেন তার বাবাকে ছেড়ে দেয়। তার মা আর সে এই বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও গিয়ে থাকবে। তুহিন না হয় কোথাও একটা ছোটো খাটো কাজ করবে তাতে চলে যাবে তাদের। কিন্তু অনেক বুঝিয়েও মাকে রাজি করাতে পারেনি তুহিন। তার মার আসলে অনেক স্বপ্ন তুহিনকে নিয়ে, সে চায় তুহিন ভালো করে পড়াশুনা করে অনেক বড়ো হোক। লোকে যেনো তাকে তুহিনের মা বলে সম্মান করে, তাই শত কষ্ট, লাঞ্ছনা সত্বেও নিজের স্বামীকে ছেড়ে যায়না সে। যতই হোক তুহিনের খাওয়া পড়ার খরচ তো তার স্বামীই চালাচ্ছে, তাই ছেলের মুখ চেয়ে সব সহ্য করছে। তুহিন এসবই বোঝে কিন্তুু যখন তার বাবা তার মাকে মারধর করে তখন যেন নিজেকে ঠিক রাখতে পারেনা তুহিন। মনেহয় যেন তার মার এই অবস্থার জন্য সেই দায়ী। এসব ভাবছিল তুহিন, হঠাৎ একটা খুব জোড়ে চিৎকারের আওয়াজ পেয়ে নিজের ঘরের দরজা খুলে বেরিয়ে এলো তুহিন। 
বাবা, এভাবে মারছো কেন মা কে? তুহিন প্রশ্ন করলো তার বাবাকে।
"হতচ্ছাড়া ছেলে, আমার পয়সাতে খাবি পড়বি আবার আমায় প্রশ্ন করতে এসছিস??? দূর হও এখান থেকে।"
তুহিন আবার নিজের বাবাকে বললো, " তুমি যদি এভাবে মাকে মারো তাহলে কিন্তুু আমি এবার পুলিশে রিপোর্ট করবো তোমার নামে।"
এবার যেন তুহিনের বাবা আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারলো না, রাগে যেন এক মূর্তিমান শয়তনের মত ছুটে গেলো তুহিনকে মারতে।
"খুব কথা হয়েছে তোর তাই না, পুলিশে যাবি তুই,, রিপোর্ট করবি,, দারা করাচ্ছি তোর রিপোর্ট। আজ তোকে আর তোর মাকে খুন করে আমি মুক্তি পাবো। " এই বলে একটা লোহার রড হাতে তুহিনের দিকে এগোলো তার বাবা। পেছন থেকে তুহিনের বাবার পা দুটো চেপে ধরলো তুহিনের মা, " ওকে ছেড়ে দাও, ও বাচ্চা, তোমার ছেলে ও, ওকে ছেড়ে দাও। "
"ঘরে যাও তুহিন, তোমায় আমার দিব্যি ঘরে যাও। নিজের মার কথা রাখো। ঘর থেকে বেরোবে না.." বেশ একটা আর্তনাদের সুরেই চিৎকার করে বলল তুহিনের মা।
তুহিন ঘরে গিয়ে দরজা লাগিয়ে, দরজার পেছনে দাড়িয়ে শুনতে লাগলো তার মার করুন আর্তনাদ গুলো। চোখ দুটো কষ্টে কেদে উঠলো তুহিনের।
বেলা ১২টা নাগাদ ঘড়ির শব্দে ঘুম ভাঙলো তুহিনের। নিজের অজান্তেই কাদতে কাদতে কখন ঘুমিয়ে পড়েছিল সে।
এখন ঘর পুরো শান্ত, দরজা খুলে বেরিয়ে এলো তুহিন। তার মা বিছানা ঝাড়তে ঝাড়তে বললো, " গরম জল করে দিয়েছি, যাও স্নান করে এসো তুহিন, খেতে বসতে হবে "
তুহিন আশ্চর্য ভাবে তাকিয়ে রইলো তার মার দিকে,,,
এতো অত্যাচার সহ্য করেও কি ভাবে কেউ থাকতে পারে!!!! সত্যি এই জন্যই হয়তো মা সব চেয়ে মূল্যবান। নিজের সন্তানের জন্য সবকিছু মেনে নিতে পারে সে।
"কি হল,, তাকিয়ে আছিস কি??? শীতের বেলা এখন....যা তাড়াতাড়ি স্নানে যা" একটু বেশ জোরেই বললো তুহিনের মা।
"মা তুমি কেন এসব সহ্য করো বলতো?? আমিতো বলছি আমি একটা কাজ দেখছি, আমি সকালে কাজ করবো আর বিকালে পড়াশুনা করবো। কোনও অসুবিধা হবে না। আমার উপর একটু ভরসা করো একটা ছোট খাটো কাজ আমি ঠিক জোগাড় করে নেব। ও মা.. শোনো না মা..আর থেকো না এখানে। ওই লোকটা একদিন তোমায় মেরে ফেলবে।" বেশ কান্না ভেজা গলায় বললো তুহিন।
"এই দেখো পাগল ছেলে আমার, আরে পাগল এতো বর ছেলে কাদতে আছে নাকি" এই বলে তুহিনকে বুকে টেনে চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে তার মা বললো ঠিক আছে এসব নিয়ে পরে কথা হবে। যাও এখন স্নানটা সেরে এসো খেতে বসতে হবে।
দুপুর দুটো নাগাদ খেয়ে উঠলো তারা দুজন। খেয়ে উঠে বাসন গোছাতে গোছাতে তুহিনের মা বললো " বেলা দুটো বেজে গেলো, তোর বাবা সেই সকালে ঝগড়া করে বেরোলো, এখনও ফিরলো না। খাবার উপরে রাগ কিসের কে জানে!!! ঘরে এসে খেয়ে যেতে পারতো। "
এবার যেন তুহিন বেশ রেগে গেলো, " মা তুমি এখনও ওই বাজে লোক টাকে নিয়ে ভাবছো!!! ভালো হয়েছে আসেনি, মুখ দেখতেও ইচ্ছে করে না.. "
"এরম বলতে নেই তুহিন, সে তোমার বাবা", বেশ একটু রেগেই বললো তুহিনের মা।
ঘড়িতে ঢং ঢং করে রাত ১১টা বাজলো। "তুহিন তোর বাবাতো এখনও ফিরলো না। একটু তোর সৌমেন কাকুর বাড়ি গিয়ে দেখ না তোর বাবার কোন খোঁজ পাস নাকি..." বেশ চিন্তিত ভাবেই বললো তুহিনের মা। ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও খোঁজ নিতে বেরোলো তুহিন। এক ঘন্টা পরে বাড়ি ফিরলো তুহিন, না তবে তার বাবার কোন খোঁজই পায়নি সে।
দেখতে দেখতে পরদিন দুপুর হয়ে গেলো। না এখনও বাড়ি ফেরেনি তুহিনের বাবা। এবার তুহিনেরও একটু চিন্তা হল। সে নিজের মা কে বললো " কোথায় গেলো বলতো মানুষটা, দুদিন হতে চললো বাড়ি ফিরছে না!!! "
সেটা তো আমিও ভাবছি, তুই এক কাজ কর স্নানটা সেরে খেয়েনে তারপর না হয় একবার থানায় গিয়ে একটা মিসিং ডাইরি করে আয়। আজ আমি তোর জন্য খাসীর মাংস করেছি। স্নান করে এসে খেতে বসলো তুহিন। যদিও খাসীর মাংস তার খুবই পছন্দ কিন্তুু আজ যেন তার ঠিক ভালো লাগছিল না খেতে। তার মা জিনিসটা লক্ষ্য করে বললো কি হল ভালো হয়নি খেতে? এটা কিন্তু নতুন ধরনের খাসী। মন্টুর মা বললো রহিমের দোকানে নতুন খাসী এসেছে বোম্বে থেকে, খেতে একটু অন্য রকম কিন্তুু দামটা অনেক সস্তা তাই ভাবলাম তোকে একটু রান্না করেদি। তবে তোর ভালো না লাগলে আর আনবো না।
তুহিন খেতে খেতে মাথা নাড়িয়ে বললো, " না না ঠিক আছে খারাপ না, দাম কম হলে আনতে পারো । "
খেয়ে উঠে পুলিশ স্টেশন গেল তুহিন তার বাবার নামে মিসিং রিপোর্ট লেখাতে।
আরো একটা দিন কেটে গেল। না আজ ও ফিরলো না তার বাবা। তুহিন একটু চিন্তিত ভাবেই তার মাকে জিজ্ঞাস করলো " কি ব্যাপার বলতো, দুদিন হয়ে গেলো কিন্তুু বাবাতো ফিরলো না। এদিকে ঘরে খাবার ও প্রায় শেষ। বাবা টাকা না আনলে আমরা চলবো কি করে মা??? আমরা খাবো কি....???"
"তুই চিন্তা করিস না আমি আছি তো,, তুই যা গিয়ে পড়তে বস...কালকের মাংশ কিছুটা ফ্রিজে রাখা আছে আজ ওটাই করে দিচ্ছি খেয়েনে " এই বলে রান্না ঘরে গেলো তুহিনের মা।
আজ তিন দিন কাটতে চললো, না এখনও এলো না তুহিনের বাবা। তুহিন এবার কাঁদো কাঁদো মুখে তার মাকে বললো " মা....বাবা যদি টাকা নিয়ে না আসে তো আমরা খাবো কি গো, কি হবে আমাদের?? "
এবার তুহিনের মা বেশ গম্ভীর ভাবেই বললো " তুই একটা ছোটো খাটো কাজ দেখ তুহিন, যা টাকা মজুত আছে তাতে আরও এক সপ্তাহর মত চাল ডাল জোগাড় করা যাবে। আর রহিমের থেকে ধারে কিছুটা মাংশ এনে রাখছি। রহিম তোর বাবার ছোটো বেলার বন্ধু তাই আমাদের বিপদে পাশে দাড়াতে রাজি হয়ে ধারে জিনিস দিতে রাজী হয়েছে কিন্তুু তুই এর মধ্যে কোনো একটা কাজ দেখ। "
দিন কেটে চললো কিন্তুু তুহিনের বাবার কোনো খোঁজ মিললো না। রোজ সকালে তুহিন কাজ খুঁজতে বেরোয়। যেকোনো কাজ একটা হলেই হবে তার। শুধু বদলে কটা টাকা দিলেই হবে কিন্তু না কিছুই লাভ হয়না। রোজ রাতে নিরাশ হয়ে বাড়ি ফেরে তুহিন। এখন যেন তুহিনের রোজের রুটিন হয়ে গেছে রোজ সকালে সেই রহিমের বোম্বাই খাসীর ঝোল খেয়ে বেরোনো তার পর সারাদিন নানা অফিস থেকে ধাক্কা খেয়ে নিরাশ হয়ে রাতে বাড়ি ফেরা। দেখতে দেখতে প্রায় এক সপ্তাহ কেটে গেল। তুহিন তার মায়ের করুন মুখটার দিকে যেন আর তাকাতে পারে না। এমনই অকর্মন্ন সে,  একটা কাজ খুঁজে দুটো টাকা রোজগার করেও মাকে দিতে পারছে না। এসবই ভাবছিল তুহিন হঠাৎ একটা ফোন এলো, হ্যালো, তুহিন অধিকারী বলছেন ? আমি নেবুলা কোম্পানী থেকে বলছি, আপনি গতকাল আমাদের এখানে ইন্টারভিউ দিয়ে গেছিলেন, আপনি ইন্টারভিউতে সিলেক্ট হয়েছেন। আপনি কাল সকালে অফিসে এসে জয়নিং ফর্মালিটিটা পূর্ণ করে যাবেন। তুহিন ঠিক করলো কাল জইনিং লেটার একেবারে এনে মাকে দেখিয়ে সারপ্রাইজ দেবে। পরদিন সকালে না খেয়েই একটু তাড়াতাড়ি বেরিয়ে গেলো তুহিন। মাকে বলে গেল মা আমি এসে খাবো। দুপুরের মধ্যে জইনিং লেটার নিয়ে বাড়ি ফিরছিল সে। রহিমের দোকানের পাস থেকে ফেরার সময় তার মনে হলো, তার রহিম চাচা তাদের খারাপ সময় সাহায্য করেছে তাই এই খুশির খবরটা তাকেও একবার বলা দরকার।
"ও রহিম চাচা কেমন আছো? যেন আমি চাকরি পেয়ে গেছি। বাবা মিসিং হবার পর তুমি আমাদের পাশে দাড়িয়ে ছিলে.....তার জন্য অনেক ধন্যবাদ...তবে তোমার বোম্বাই এর খাসী দামে কম হলেও খেতে কিন্তুু  তেমন ভালো না।" এই বলে নিজের হাতের খাম থেকে জইনিং লেটারটা বার করে দেখাল সে।
"শুনে খুব খুশি হলাম তুমি চাকরি পেয়েছ কিন্তুু বাবু আমি তো কোনো বোম্বের খাসী বিক্রি করি না। আমি তো তোমার কাছে এই প্রথম শুনলাম এটা।" বেশ আশ্চর্য্য ভাবেই বললো রহিম চাচা।
"কি বলছো চাচা মা তো তোমার থেকে ধার করে নিয়ে যেত। গত এক সপ্তাহ ধরে ওই খাসী খেঁয়েই তো আছি আমি আর মা। তোমার বয়েসের সাথে সাথে স্মৃতি শক্তি টাও গেছে মনে হচ্ছে.." এই বলে হাসতে হাসতে নিজের বাড়ির দিকে পা বাড়ালো সে।
সত্যি রহিম চাচার কি ভুলো মন.....তবে সত্যি কি ভুলো মন নাকি তার বন্ধুর পরিবারের সবার সামনে মান সম্মান নষ্ট না হয় তাই ধারের কথাটা এরম অস্বীকার করে গেলো!!!??? সত্যি কত বর মন রহিম চাচার...শ্রদ্ধায় বুকটা ভরে উঠলো তুহিনের। বাড়ি এসে তুহিন দেখলো দরজায় তালা বন্ধ। অনেক সময় তার মা দুপুরে পাশের বাড়ির মন্টুদের বাড়িতে যায় পানের আসরে সেটা তুহিন জানতো আর চাবিটা দরজার পাশের টবের নিচে রেখে যায়। তুহিন চাবিটা বার করে ঘরে ঢুকলো। হাত পা ধুয়ে ফ্রেশ হল সে। সকাল দিয়ে কিছু খায়নি। খুব খিদে পেয়েচে। মাকে ডাকবে কি একবার...??? না থাক গল্প করছে করুক। এই এক সপ্তাহ খুব খারাপ সময় গেছে তাদের....একটু মন খুলে হাসেওনি তার মা....আজ একটু গল্প করুক। আজ তো তাদের খুশির দিন। সব কষ্টের অবসান তাদের। আর খাবার তো ফ্রিজে আছে সে একটু না হয় গরম করে নেবে।
কিন্তুু একি.......কালো কাপড় দিয়ে মুড়ে কি ঢাকা রয়েছে এটা ফ্রিজের ভিতর!!!!!
কাপড়টা সরাতেই যেন বুকের রক্ত হিম হয়ে গেল তুহিনের...... 
নিজের চোখ কে যেন বিশ্বাস করতে পারছিল না তুহিন!!!!
ফ্রিজে কালো কাপড়ে মুরিয়ে রাখা হয়েছ তারই হারিয়ে যাওয়া বাবার কাটা মুন্ডু!!!!!!!!!!!!!!!
তুহিনের মনে হচ্ছিলো সে অজ্ঞান হয়ে যাবে।
হঠাৎ বাইরে থেকে তুহিনের মার স্বর ভেসে এলো ,
" তুহিন তুই এসে গেছিস নাকি, এতো আগে আসবি বলে যাবি তো। তোর জন্য আজ বোম্বাই খাসীর মাথার ঝোল করবো ভেবেছিলাম। তুই হাত পা ধুয়ে নয় আমি করে দিচ্ছি ততক্ষনে। "

A tour to remember

hi....
friends...
how are you........????? 
Today I am a bit upset & trying to recollect my good memories as doing that the most happiest memory that I recollect is my last Digha Tour. A few months back in July. One day after our survival of sun burned weather of the whole day. We were discussing about the hotness of the day & pulling each others legs by commenting on each others girlfriends just for fun. Suddenly Sayan(one of my best friends) get up & started roaring to us & said..."SAALA KOTHAO GHURTE CHOL NA. AI BAABAAL AR VALO LAAGCHE NA(tired of all these nonsense. Lets go for an outing)......" & suggested "Darjiling" for the outing. We suddenly stunned & looked to him like he was not an earthly creature for a few minutes. Then we again started laughing this time on him & this time more loudly too. But a few days later the topic of an outing aroused again & this time we were more serious than the last time. So we have a proposal of Darjiling & we started discussing about the budget of the outing. After three days of discussion we finally concluded  the fact that........" DARJILING JATE BAHUT KHORCHA RE(the outing of Darjiling is too expensive)". So the Darjiling tour is now in the garbage box. Now one of us named Mainak suggested to set to Sundarban but Soumya Shoot that idea horribly on the spot & tired of that Sayan said..."DHUR....OSOB CHAR....MURSIDABAD CHOL....SOUMYA AR HOSTEL A THAKBO.....TOTAL PARTY KORBO(stop all these nonsense lets set for Soumya's hostel at Mursidabad & will have a total party over there)" & Soumya again come to the act & stop Sayan by saying some horrible slang & after few minutes its became my turn to have slangs from Soumya as I suggested to set for Digha because last year we went to the same place & no one interested in my idea but suddenly one of us named Shiba(Shibashis) came to support my idea & said...." ARE DIGHA CHOL OKHAN THAKE MONDERMONI JAOA JABE...JAGA TA KHUB VALO...BEACH TAO NAKI BAPOK...(hey lets set for Digha..& then move to Mondermoni from there..Mondermoni is very nice place & it has a very beautiful beach too...)". Now we started a serious discussion on it & we all found nothing bad in it so we fixed for it & now for the first time Rahul came to the act by putting his girlfriend on hold over the phone & asked...."BHAI KI THIK KORLE?????? KOTO KHORCHA PORBE??(what has decided? how much money will cost to each??)" & now Sayan & Soumya started throughing slangs to Rahul like a rap singer. So after a long discussion we finally set Modermoni for our outing & Shiba promised to book rooms & with that our meeting was adjourned for the day. On the next evening. Shiba said that he booked a dormitory room in Youth Hostel & it will cost Rs.100 to each of us & we have to pay half of that money now to Shiba as he already paid the half of the whole amount to book the room.s. So we paid half to Shiba. So its decided that we(me,soumya,sayan,shiba,rahul,mainak & jit) would set for Digha on 13th July in morning. So as decided we went to Howrah at 6:30am to catch 7am train. But at about 6:45am Rahul said..."BHAI HAGA PAYECHA...JATEI HOBE(friends i have a nature's call & I have to respond to it now.......)" so Rahul went to respond along with Shiba....& Soumya & Jit went to have a cup of hot tea & me,Mainak & Sayan went to the train to have seats for us but there is no seat free in general compartment so we have our seats in reserve when TT come he fined us Rs.100 & we paid it. But in the train the most embarrassing thing happened to Sayan, as some special earthly creature came to us & demanded money & when Sayan ignored by not responding to them. They pressed Sayan's pe**s & threat to get naked in front of him. We paid Rs.10 to them. They blessed us & leave but take away Sayan's virginity too. So Sayan a bit upset as he lost something. But now Jit decided to join Sayan so he sacrificed his sun glass. At about 11:30am finally we reached Digha. Now we set for our next destination that is our dormitory room. It was 10 minutes of walking distance from the New Digha Rail Station. So it was about 11:45 am we reached the New Digha Youth Hostel. Where we booked our room. We changed our dress & had massala bread as breakfast which was send by Shiba's girlfriend for us. So at 12:30 pm we set to have a cool bath at the beaches of Digha. So went to the beach but among them I used to have a little fear from sea. So I stayed close to the bank. But Mainak, Shiba, Soumya, Jit, Rahul went too far but frankly speaking i didn't have that much guts to go deep in the sea. So I stayed safe at the bank & after some time Sayan also realized my idea & decided to stay safe at about 4 pm we completed our bath. As we were too hungry to have food. So we came back to our room, had a quick bath of fresh water & again set to search food. It was around 5:30 pm we returned to the hostel & ready to have a game of cards named 29. So Sayan teamed up with me & challenged Soumya & he accept the challenge by teaming up with Jit so the battle began. The red bed cover symbolized the bloody battle field. The battle continued for 3 hours until Shiba forced us to set out to have a night view of the see. So we went to Old Digha to witnessed the cruelty of the sea at night. The sea was flexing all its muscles & roaring at its best. We had a walk on the side ways of the sea & in doing that we ate so many things because of walking a long distance we were a bit tired. So we decided first to hire a car for tomorrow to set for Mondermoni & later to have dinner. So we went to hotel named Nilajana but the hotel was about to close on that time but they take our order but serve the order a bit late & because of that we got a bit late to reach to the hostel. So the owner of the hostel showed a bit anger over us but we chilled that now at night a very huge problem come out to us because earth's most annoying creature "MOSQUITO" but some how we managed. We woke up at about 9 am at the morning & got fresh & had our breakfast quickly to set for the Mondermoni. Our hired car came to our hostel to pick us at 11 am. So now finally we set for Mondermoni. It took one and half hour to reach to our most desired place. Firstly our driver put us on a lonely beach. We were alone there. We immediately started our photo shoot with various & amazing posses but a problem took place when we discovered that there were some huge boulders in the sea & some huge holes too & these things may cost us a very terrible memory. So we ask our driver to move to another place & now we were in a beach. Full of God's greatest creations. So we started our bathing & photo shoot here again & we also enjoyed some our of beach cricket. There I took an awesome catch like Ricky Ponting. Now it is round about 3 pm when we decided to have our lunch. We went to a dhaba for lunch & then set back to hostel. We were so tired on that day so we decided to stay in rather than stay out the rest of the day had so boring hours. So there is no more masti for that day. On the next morning it was the judgment day for Rahul, Sayan & Shiba. They were a bit tensed then but it arousesd its height at 12noon as it was the time for judgment. Suddenly our phones stooped working. The air of the room became more & more filthy. We clearly sensed of evil. Darkness was knocking on the doors of our peaceful room. Suddenly like "Brahamma" ,,, "Bishnu",,,,, & "Mahesware",,,three good news came there to save us that were Sayan completed his graduation with 50%,,,,,Rahul with 51% & last but not the least the "MAHESWARE" Shiba with 73% with these three good news we decided to set back to our own CITY OF PALACE KOLKATA.