অনেক্ষন সহ্য করার পর অবশেষে কমল বলল,
কমল : " এই যে এত বড় বড় কথা বলছিস যে ভূত বলে কিছু নেই, ওসব মনের ভুল, তো কখনো এটা মনের ভুল নাকি সত্যি সেটা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিস ? দিনের বেলায় বন্ধুদের মাঝে বসে নিজের বীরত্ব দেখানো খুব সোজা বুঝলিতো। "
সুজয় : " ও আচ্ছা তাই নাকি, তো তুই প্রমাণ দিতে পারবি বল তালে আমি প্রমাণ নিতে রাজি, কিন্তুু ভাই ওই পাশের বাড়ির কাকিমার কাছে শুনছি, জেঠিমার কাছে শুনেছি এসব বলতে আসবি না। এসব বাদে আর কোন প্রমাণ থাকলে দিতে পারিস নয়ত চেপে যা"
(বেশ অবজ্ঞার সুরেই বললো সুজয়।)
কমল : " নারে কাকিমা জেঠিমার গল্প তোকে দেবো না। আর হ্যা প্রমাণ আমি দেবো না। প্রমাণ তুই নিজেই পাবি।
তোর আমার ছোটো কাকার কথা মনে আছে? " বললো কমল।
সুজয় : " তোর ছোটো কাকা মানে ওই বিল্টুর বাবা?" জিজ্ঞাস করলো সুজয়।
কমল : " হ্যা, বিল্টুর বাবা। " বললো কমল।
সুজয় : " তো কি তোর ছোটো কাকা ভূত পুসেছে বাড়িতে? নাকি তোর ছোটো কাকা ভূতের শোরুম খুলেছে ? "
হাসতে হাসতে জিজ্ঞাস করলো সুজয়।
কমল : " সব কিছুতে এরম হাসাহাসি করিসনা, একটা কথা জানিসতো দেয়ার ইজ মোর থিংস ইন হেভেন অ্যান্ড এ্যার্থ, হরেসিও, দ্যান আর ড্রিমট অফ্ ইন্ ইউর ফিলোসফি। "
একটু গম্ভীর হয়েই বললো কমল।
সুজয় : " থাক ভাই সকাল সকাল তোর শেক্সপিয়ার তোর কাছেই রাখ, কি প্রমাণ দিবি এবার সেটা বল " বললো সুজয়।
কমল আবার বলতে শুরু করলো,
কমল : " আমার ছোটো কাকা দুবছর আগে বারাসাতের ভেতরের দিকে একটা পুরনো বাড়ি কিনেছিল, বেশ ভালই ছিল সব কিছু, বেশ সস্তাতেই পেয়েছিল বাড়িখানা। একটু ভেতরের দিকে কিন্তুু আজকের দিনে দোতলা বাড়ি আট লাখ টাকায় পাওয়া মানে ভগবানের দর্শন পাওয়া। যাইহোক প্রথমেতো সব কিছু ঠিকই লাগছিলো কিন্তুু কিছু দিন পর থেকেই কিছু আশ্চর্য রকম ঘটনা ঘটা শুরু হল। একদিন যখন বিল্টু আর আমার ছোটো কাকিমা সন্ধেবেলা বাড়িতে একাছিল তখন হঠাৎ বাড়ির দক্ষিণ পশ্চিম দিকের একটা ঘর থেকে একটা নুপুর পরে হাঁটার শব্দ আসে। আমার কাকিমা গ্রামের মেয়ে, খুব সাহসী, সে ভাবলো হয়ত কোন সাপ ঢুকেছে কারণ গ্রামের দিকে একধরনের সাপ দেখা যায় যারা মাটির উপর দিয়ে চলার সময় এরম নূপুরের শব্দ করে। কাকিমা একটা লাঠি হাতে দক্ষিণ পশ্চিমের ঘরটায় গেলো সাপটাকে তাড়াতে কিন্তুু ঘর তো খালি, কোথাও কিছু নেই, কাকিমা মনের ভুল ভেবে ফেরত আসতে যাচ্ছিল ঠিক সেই সময় পেছন থেকে একটা মেয়ের গলার স্বর ভেসে এলো " ভালোচাস তো এই বাড়ি ছেড়ে আজই চলে যা, নয়তো পরিণাম ভালো হবে না। " এই শুনে ভয়ে চিৎকার করে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন কাকিমা। মায়ের চিৎকার শুনে বিল্টু ছুটে আসে। মাকে মেঝেতে পরে থাকতে দেখে ভয়ে কাদতে কাদতে পাশের বাড়ি থেকে লোক ডেকে আনে। তারা এসে চোখে মুখে জল দেওয়াতে জ্ঞান ফেরে কাকিমার। কাকিমা তাদেরকে সবকিছু বলাতে তারা বলে যে এই বাড়ির যে আসল মালিক তার বউ নাকি এই দক্ষিণ পশ্চিমের ঘরটাতেই গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছিল। তারপর থেকেই বাড়িটার বদনাম আছে। অনেক ভাড়াটে এসেছে এর আগেও কিন্তুু কেউ থাকতে পারেনি দুদিনের বেশি, শেষে কিছুটা বাধ্য হয়ে বাড়ির মালিক বাড়িটা বিক্রি করে দেয়। রাতের দিকে কাকা বাড়ি ফিরে কাকিমার কাছে সব কিছু শুনে বাড়ির দালালকে ফোন করে। প্রথমে সে কিছু শিকার না করলেও অনেক চাপা চাপির পর সমস্ত ঘটনা স্বীকার করতে বাধ্য হয়। পরদিন শেষে বাধ্য হয়ে ছোটো কাকা নিজের পরিবার নিয়ে সেই বাড়ি ছেড়ে আমাদের বাড়ি এসে ওঠে। তখন থেকে ওরা আমাদের সাথেই আছে। "
" তো এর থেকে কি প্রমাণ হল ? আগেই বলেছিলাম এরম কাকিমা জেঠিমার গল্প শোনাবি না। যতসব আজগুবি গল্প। তোর কাকু কাকিমা ওখানে বাড়ি কিনে বুঝেছে যে ওমন অজ পাড়াগায়ে থাকলে ছেলেকে ভালো স্কুলে ভর্তি করতে পারবে না তাই ওসব অজুহাত দিয়ে কলকাতাতে তোদের সাথে এসে থাকছে। ব্যাস আর কিছু না। তোর বাবা সোজা মানুষ তাই ওসব চালাকি বোঝেনি। " বেশ রেগেই বললো সুজয়।
" দেখ সুজয়, কাউর ব্যাপারে না জেনে কথা বলা উচিত না। আর হ্যা তুই প্রমাণ চাস তো ঠিক আছে যদি সাহস থাকে তাহলে একলা আমার কাকার ওই বাড়ির দক্ষিণ পশ্চিমের ঘরটায় এক রাত কাটা দেখি কত সাহস তোর। বল রাজি ? আর যদি রাজি না হস তাহলে আজ সবার সামনে স্বীকার কর যে তুই ভূত ভয় পাস।" বেশ চিৎকার করে বললো কমল।
" ভাই শুধু তোর ভূত দেখতে সেই বারাসাত যাওয়া, ঠিক পোসাবে না ভাই। " বেশ হাসতে হাসতে বললো সুজয়।
" ও এই ব্যাপার, ঠিক আছে চল, এক হাজার টাকার বাজি রইলো। যদি তুই একলা ওই ঘরে একরাত কাটিয়ে আসিস তাহলে আমি তোকে এক হাজার টাকা দেবো আর সকলের সামনে তোর বীরত্ব স্বীকার করে নেবো। আর যদি না পারলি তাহলে তুই আমায় এক হাজার টাকা দিবি আর সকলের সামনে স্বীকার করবি যে তুই কাপুরুষ। বল দম আছে ? " এবার বেশ ব্যাঙ্গাত্মক সুরে কথা গুলো বললো কমল।
কথা গুলো এবার একটু সম্মানে লেগেছিল সুজয়ের। সে বললো ঠিক আছে সে রাজি। তবে কথার যেনো খেলাফ না করে কমল। "বাজির টাকা ফেলে রাখা ভালো কাজ না, মনে থাকে যেনো।" হাসতে হাসতে বললো সুজয়।
এবার কমলও বেশ হাসতে হাসতে বললো " ঠিক ঠিক বাজির টাকা ফেলে রাখা উচিত না। তাহলে তোরা সবাই শুনেছিস তো ভাই, সুজয় কিন্তুু বলেছে ও যদি না থাকতে পারে সেই ঘরে তাহলে আমায় এক হাজার টাকা দেবে আর সাথে স্বীকারও করবে যে ও ভীতু। "
উত্তরে সবাই এবার একসাথে বললো " হম শুনেছি, শুনেছি। কিন্তু এই বাজিটা হবে কবে ? "
"যেদিন সুজয় বলবে" বললো কমল।
" দেরি করে কি লাভ, এই তো বারোটা বাজে। আজ তো তেমন একটা ক্লাস ও নেই। আমি তাহলে এখন বাড়ি যাই। বিকেল ৪টে নাগাদ শিয়ালদা স্টেশনে কমল অপেক্ষা করিস। ঠিক আছে? " বললো সুজয়।
"ঠিক আছে, কিন্তুু ৪টে না তাহলে সাড়ে পাঁচটা কর। ৪টে নাগাদ আমার একটু পড়ানো আছে সেটা শেষ করে আসবো।" বললো কমল।
"ঠিক আছে। আজ তাহলে ঠিক সাড়ে পাঁচটায় শিয়ালদা স্টেশন।" বললো সুজয়।
ঠিক যেমন কথা তেমনি কাজ। ঠিক সাড়ে পাঁচটায় শিয়ালদা স্টেশনে হাজির হলো কমল। সে দেখলো সুজয় আগে এসে নিজেই দুটো বারাসাতের টিকিট কেটে দাড়িয়ে আছে। তারা দুজনে বারাসাত লোকালে চেপে বসলো। ট্রেনটা বেশ ফাকাই ছিলো। দুজনে গেটের সামনেই দাড়িয়ে রইলো। ট্রেনে যেতে যেতে সূর্যাস্ত দেখতে বেশ ভালই লাগছিল। তবে মাঝে মাঝে সুজয়ের সেই সকালের কথা নিয়ে উল্টো পাল্টা ইয়ার্কি গুলো যেন ঠিক ভালো লাগছিল না কমলের। মনে মনে ভাবছিল দাড়াও বাছাধন রাতে বুঝবে মজা। সন্ধ্যে সাড়ে ৬টা নাগাদ ট্রেন থেকে নামলো তারা। স্টেশনের সামনে থেকেই টোটো ধরে কমলের কাকার বাড়ি পৌঁছালো তারা।
বাড়ির দরজাটা খোলার সাথে সাথেই একটা ভ্যাপসা আস্টে গন্ধ এলো তাদের নাকে। কমল আরচোখে একবার চাইলো সুজয়ের দিকে। সুজয় বললো, " ভাই তাকাচ্ছিস কি...পুরনো বাড়ি অনেকদিন বন্ধ থাকলে এরম গন্ধ হয়। এতে তাকানোর কিছু নেই। " প্রথমে বাড়িটা দুজনে একবার ভালো করে ঘুরে দেখে নিলো। সন্ধ্যে সাড়ে সাতটা নাগাদ সুজয়কে রেখে কমল ফিরে গেল।
কমল চলে যাবার পর সুজয় আরো একবার ঘর গুলো ভালো করে ঘুরে দেখে নিলো। দক্ষিণ পশ্চিমের ঘরটাকে একটু ঝার দিয়ে পরিষ্কার করে নিয়ে একটা চাদর পেতে বিছানা করে রাখলো সুজয়। সে আসার সময় বাড়ি থেকে রুটি তরকারি করে এনেছিল। রাত নটা নাগাদ রাতের খাবার খেয়ে একটা গল্পের বই নিয়ে বিছানায় শুয়ে পরলো সুজয়। গল্পের বইটা পড়তে পড়তে কখন যে সে ঘুমিয়ে পড়েছিল সে নিজেই জানে না। হঠাৎ ঢং ঢং করে ঘড়িতে ১২টা বাজার আওয়াজে ঘুম ভাঙলো সুজয়ের। কিন্তু ঘুম থেকে উঠে বেশ আশ্চর্য হল সে কারণ সে তো ঘরে কোনো ঘড়ি দেখেনি তালে ঘণ্টা বাজার আওয়াজ এলো কথা থেকে। আজ আসার সময় সাথে করে একটা টর্চ এনেছিল সুজয়। ঘুমানোর সময় টর্চটা বার করে মাথার পাশে রেখেছিল কিন্তুু কই টর্চটা পাচ্ছে না কেন সে...!!! সুজয় প্রাণপণে টর্চটা খুঁজতে লাগলো কিন্তু কিছুই পেলো না। এবার হঠাৎ কানে এলো পাশের ঘরে কে যেন নুপুর পড়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে। তবে সুজয় এতো সহজে ভয় পাবার পাত্র নয়। সে অন্ধকারে হাতরে হাতরে পাশের ঘরে গেলো।
"কে এখানে? কে এখানে জবাব দাও ? " জিজ্ঞাস করলো সুজয়।
হঠাৎ আওয়াজটা বন্ধ হয়ে গেল। চারিদিক শান্ত। সুজয় অন্ধকারেই এদিক ওদিক দেখার চেষ্টা করতে লাগলো। এতক্ষণে অন্ধকারটা তার চোখে সয়ে গেছে। হঠাৎ সে শুনলো একটা কান্নার শব্দ ভেসে আসছে সেই দক্ষিণ পশ্চিমের ঘরটা থেকে। এবার সুজয় ছুটে গেল সেই দক্ষিণ পশ্চিমের ঘরটায়। কিন্তুু ঘরের সামনে পৌঁছেই সুজয়ের মেরুদন্ড বেয়ে যেন বরফের স্রোত বয়ে গেল। জানলা থেকে আসা হালকা চাঁদের আলোয় সুজয় দেখলো একটা সাদা শাড়ী পড়ে একটা কঙ্কাল দেওয়ালে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে তারই দিকে তাকিয়ে। মুহুর্তের মধ্যে হাত পা ভয়ে অবস হয়ে গেল সুজয়ের। তার কানে ভেসে এলো একটা মেয়ের কণ্ঠ " কেন এসছিস এখানে ? এটা আমার বাড়ি...ভালোচাস তো এক্ষুনি বেরিয়ে যা আমার বাড়ি থেকে। "
ভয়ে সুজয়ের গলা শুকিয়ে এলো। সে চিৎকার করার চেষ্টা করলো কিন্তু চিৎকার বেরোলো না। কোনো মতে প্রাণপণে ছুটে বাড়ি থেকে বের হয়ে পালালো সুজয়। অন্ধকারে দিক বিদিক শূন্যের মতন ছুটে চললো সুজয়।
"উফ কমলদা এবার লাইটটা জ্বালাও, প্রচণ্ড মশা কামড়াচ্ছে।" কমলের ছাত্রী সুমনা বলে উঠলো।
সেই কখন থেকে তোমার জন্যে অন্ধকারে বসে রয়েছি নুপুর পরে। মশা কামড়ে ফুলিয়ে দিলো। শুধু আমিনিয়ার বিরিয়ানির লোভ সামলাতে পারিনি বলে তোমার সাথে যোগ দিলাম, নয়তো কখনো তোমার সাথে যোগ দিতাম না। মালতির বাড়িতে রাতে গ্রুপ স্টাডি করবো বলে মাকে ম্যানেজ করে এলাম।
আর তুমিও পারো বটে, কি ভয়টাই না দেখাল
সুজায়দাকে। বেচারা সুজায়দা।
এবার কমল লাইটটা জ্বালালো। হাসতে হাসতে বললো, "আরে তুই সুজয়কে জানিস না। বেটার সব কিছুতে বড়ো বড়ো কথা খালি। আচ্ছা করে জব্দ হয়েছে বেটা আজ।" হাসতে হাসতে বললো কমল।
" আচ্ছা কমলদা দেওয়াল ঘড়িটা তো তুমি আমার সামনেই লাগলে আর আমায় তো নুপুর পড়িয়ে ভূত বানিয়ে সুজয়দাকে ভয় দেখালে কিন্তুু কঙ্কালটা পেলে কোথায় আর তুমি সুজয়দাকে যে গল্পটা বলেছিলে সেটাকী সত্যি " জিজ্ঞাস করলো সুমনা।
"আরে কঙ্কালটা আমাদের কলেজের বায়োলজি ল্যাবের। গার্ডকে একশো টাকা হাতে দিতেই সুড়সুড় করে কঙ্কালটা এনে আমায় দিলো। বললো কাল সকালে যেন ফেরত দিয়ে যাই। আর গল্পটা আগা পাঁচতলা পুরোটাই আমার কল্পনা ছিল। এই বাড়িটা আমার ছোটো কাকা ছমাস আগে কিনেছে। মাস দুই আগে গৃহ প্রবেশের পুজো ও করে নিয়েছে কিন্তু আমার কাকার ছেলের ফাইনাল পরীক্ষা না হলে স্কুল বদলানো যাবে না তাই ওরা এখনও এখানে এসে ওঠেনি। ভাইয়ে র অ্যানুয়াল পরীক্ষাটা হলেই ওরা এখানে চলে আসবে।" হাসতে হাসতে বললো কমল।
পরদিন সকালে একটু তাড়াতাড়ি কলেজের জন্য বেরোলো কমল। আজ তার মনে একটা অদ্ভুত আনন্দ। আজ কলেজে গিয়ে সবটা বলবে সে সবাইকে। আজ আচ্ছা করে শায়েস্তা করবে সে সুজয়কে।
হঠাৎ পেছন থেকে সুজয়ের গলা ভেসে এলো " কমল, ওই কমল, দারা....। "
কমল পেছন ঘুরে বললো, " আরে সুজয় আজ এত সকাল সকাল...? "
" হ্যারে আজ একটু আগেই এলাম, এইনে তোর বাজির এক হাজার টাকা রাখ।" , বলে পকেট থেকে দশটা একশো টাকার নোট বার করে সুজয় কমলকে দিলো।
টাকাটা নিয়ে কেমন যেন একটু খারাপ লাগলো কমলের। যতই হোক সুজয়কেতো সে প্ল্যান করে ভয় দেখিয়েছে। সুজয়তো আর সত্যি ভূত দেখে ভয় পায়নি।
" না টাকাটা নেওয়া উচিত হচ্ছে না তার। সে সব সত্যিটা বলে টাকাটা ফিরিয়ে দেবে সুজয়কে । " মনে মনে ভাবলো কমল।
" এই সুজয় একটু দারা। " পেছন থেকে ডাকলো কমল।
শোন ভাই, তোর সবসময় এরম সবকিছু নিয়ে হাসি ওড়ানোটা আমার একদম ভালো লাগেনা। কাল তুই সুরেশের গ্রামের বাড়ির ভূতের গল্পটা নিয়ে এত হাসি উরাচ্ছিলি সেটা আমার ভালো লাগছিল না। তাই তখনই প্ল্যান করি যে তোকে একটা উচিত শিক্ষা দেবো। তাই কাল তুই যখন কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার জন্য বেরিয়ে গেলি তখন আমি প্ল্যান করলাম সবটা। কঙ্কালটা যেটা তুই দেখেছিলিস কাল রাতে সেটা আমাদের বায়োলজি ল্যাবেরই। আর যেই মেয়েটার গলা শুনেছিলিস সেটা আমার স্টুডেন্ট সুমনা। দেখ তোকে সবটা সত্যি বললাম, রাগ করিস না ভাই। এই টাকাটা তুই রাখ। এটার কোনো দরকার নেই । " এই বলে কমল হাজার টাকা সুজয়ের দিকে ফিরিয়ে দিল।
"সব বুঝলাম ভাই কিন্তুু আমি রাগ করিনি কমল। তবে টাকাটা তুই রাখ। যতই তুই প্ল্যান কর কিন্তুু আমি বুঝে গেছি যে ভূত আছে। আর আমি তো ভয়ও পেয়েছি কাল। তাই এই টাকাটা তোরই প্রাপ্য।" এই বলে টাকাটা কমলকে ফিরিয়ে দিয়ে সুজয় হাঁটা দিলো।
"বুঝলাম, কিন্তুু তুই যাচ্ছিস কোথায় ? কলেজে যাবি না? আজতো নোটস দেবে বলেছিল আমাদের স্যার। তুই ভুলে গেছিস? " জিজ্ঞাস করলো কমল।
"নারে আর কলেজ যাব না, তুই কর কলেজ। আমার আর নোটস লাগবে না। আমি চললাম, আমার কাজ আছে। বিদায় কমল " এই বলে এগিয়ে গেল সুজয়। আস্তে আস্তে ভিড়ে মিলিয়ে গেল সুজয়।
সুজয়ের কথা গুলো একটু কেমন যেন লাগলো আজ কমলের। হয়তো আজ কলেজে সবার সামনে যদি অপমান করে কমল তাকে তাই হয়তো আজ কলেজে এলো না মনে হয় সুজয়। যাই হোক কি আর করা যাবে, তবে আজ নোটস দিলে সুজয়ের জন্য একটা কপি করে রাখবে সে। এসবই ভাবতে ভাবতে কলেজে পৌঁছালো কমল। তবে কলেজটা আজ যেন একটু ফাঁকা ফাঁকা লাগছিলো কমলের। কাউকে দেখছিনাতো।
"এই কমল তুই এখানে? খবর শুনিসনি ??" পেছন থেকে ডেকে জিজ্ঞাস করলো সুরেশ।
"কিসের খবররে ? কলেজে আমাদের ডিপার্টমেন্টের কাউকে দেখছিনা কেন রে ? কিছু হয়েছে নাকি ? " জিজ্ঞাস করলো কমল।
" সেকি তুই এখনও খবর পাসনি....? আমাদের সুজয় তো কাল কলেজ থেকে ফেরার পথে রোড অ্যাকসিডেন্টে মারা গেছে। আজ সকালে মর্গ থেকে বডি নিয়ে বাড়ি এসেছে। সবাই তো সেখানেই গেছে। আমিও তো ওখানেই যাচ্ছিলাম। তুই যাবি তো চল। " দুঃখের সাথে বললো সুরেশ।
কথাটা শুনে যেন বিশ্বাস করতে পারছিল না কমল। স্তম্ভিত হয়ে দাড়িয়ে রইলো কমল। তার দুচোখ ভরে উঠলো কান্নায়। শুধু একটা ক্ষীণ স্বর তার কানে ভেসে এলো " বিদায় বন্ধু। চির বিদায় "