রতন ( একটি গ্রামের ছেলে ) : কিরে খেলতে যাবি না ? বাকিরা কোথায় ?
নিতাই ( গ্রামের আরেকটি ছেলে ) : না ধূর, আর কেউ খেলতে যাবে না। ক্ষেতের ধারে খেলতে গিয়ে রোজ বকা খেতে হয়। এমন রোজ রোজ বকা খেতে কার ভালো লাগে বলতো..??
( বেশ আক্ষেপের সুরেই বলল সে )
আসলে রতন আর নিতাই হলো গ্রামের ছেলেদের খেলার দলের নেতা কিন্তু রোজ রোজ খেলতে গিয়ে বকা খেতে খেতে সবাই বিরক্ত। আসলে রূপনারায়ণ নদীর ধারে তাদের এই ছোট্ট গ্রাম। গ্রামটি খুব মনোরম হলেই অসুবিধা শুধু একটাই যে গ্রামে ছেলেদের খেলার কোনো মাঠ নেই তাই অগত্যা তারা ক্ষেতের মধ্যেই নিজেদের খেলার জায়গা করে নেয় কিন্তু তার জন্য প্রতিদিনই তাদের সবাই কে বকা শুনতে হয়। তাই এখন খেলার জায়গা পাওয়াটাই তাদের কাছে খুব চিন্তার ব্যাপার হয়ে গেছে।
রতন : এই বলছি শোন না সবাই কে ডাকি চল, আমার মাথায় একটা বুদ্ধি এসেছে। তাতে আমাদের প্রতিদিন খেলার ব্যবস্থাও হয়ে যাবে আর কেউ বকবেও না।
নিতাই : ঠিক আছে চল ডাকি সবাই কে।
এই বলে দুজন মিলে সবাই কে ডাকতে বেরোলো।
ধীরে গ্রামের সব ছেলেদের বাড়ি থেকে ডেকে একজায়গায় জড়ো করলো রতন এবং নিতাই মিলে।
এবার রতন সবার উদ্দেশ্যে বলল : ভাই দেখ আমরা সবাই রোজ রোজ ক্ষেতের মধ্যে খেলতে গিয়ে বকা খাই তার চেয়ে বরং আমাদের গ্রামের পশ্চিম দিকে যেই বাঁশ বাগানটা আছে সেটার ভেতরে একটা জায়গা যদি আমরা সবাই পরিষ্কার করেনি তাহলে আর কোনো অসুবিধাও হবে না আর কেউ জানতেও পারবে না।
ছেলেদের দলের একজন : কিন্তু ওই বাঁশ বাগানটাতে তো কেউ যায় না। সবাই বলে জায়গাটা নাকি ভালো নয়। ওখানে নাকি বাচ্চাদের যেতে নেই।
ছেলেদের দলের আর একজন : হ্যাঁ ঠিক ঠিক, আমার দাদু বেঁচে থাকতে বলতো ওই বাঁশবাগান নাকি খুব ভয়ানক, ওখানে ডাকাত আছে, বাচ্চারা গেলে তুলে নিয়ে যাবে।
রতন : আরে ধুর যত ভুলভাল কথা। দেখ ওদিকটায় কেউ সচরাচর যায়না তাই আমাদের কেউ জ্বালাতেও আসবে না। বিশ্বাস কর কোনো অসুবিধা হবে না। বরং সারাদিন জমিয়ে খেলা যাবে।
রতনের এত জোর দিয়ে সব কথা গুলো বলাতে গ্রামের সব ছেলেরা রতনের কথায় রাজী হয়ে গেলো এবং ওই বাঁশবাগানে একটা জায়গা ঠিক করে সেটাকে পরিষ্কার করার কাজ শুরু করলো।
বেশ কিছুক্ষণ কাজ ভালো ভাবেই চলল।
হঠাৎ নিতাই কোথা থেকে একটা সিদুর মাখা লাল সুতো নিয়ে আসলো।
রতন : এই এটা কি ? কোথায় পেলি এটা ?
নিতাই : কি জানি কি.....ওই গাছটার গায়ে বাঁধা ছিল দেখে আমি খুলে আনলাম।
রতন : ধুর এসব ছেড়ে কাজে হাত লাগা জলদি।
এবার কিছুক্ষণ পর হঠাৎ কেমন যেন একটা পচা গন্ধ সবার নাকে আসতে শুরু হলো।
নিতাই : ঈশ কি পঁচা গন্ধ আসছে রে, সামনে কিছু মোড়ে পড়ে আছে নিশ্চয়ই।
ছেলেদের একজন : কিন্তু এতক্ষণ তো গন্ধটা ছিল না। হঠাৎ এরম গন্ধ এলো কি করে ????
রতন : ধুর ওসব ছাড়। তাড়াতাড়ি পরিষ্কার করলে আজ বিকালেই খেলতে পারা যাবে।
রতনের কথায় আবার সবাই জায়গা পরিষ্কার করতে শুরু করলো ।
এবার হঠাৎ নিতাই চিৎকার করে মাটিতে পড়ে গেলো।
রতন : এই.... কি হলো রে ? পড়ে গেলি কি করে ?
নিতাই : এই আমায় পেছন থেকে কে একজন খুব জোড়ে ধাক্কা মারলো রে।
রতন : কে ধাক্কা মারবে..? আমরা সবাই তো রয়েছি কেউ তো তোকে কোনো ধাক্কা মারেনি।
নিতাই : আরে বিশ্বাস কর। সত্যি কেউ ধাক্কা মারলো।
নিতাইয়ের কথা শেষ হতে হতেই দিক বিদিক কাপিয়ে এক ভয়ানক অট্টহাসি শোনা গেলো।
সেই হাসি শুনে সবার রক্ত হিম হয়ে গেলো। সবাই দেখলো সামনে কাল ধোয়ার এক কুণ্ডলী থেকে বেরিয়ে আসছে একটা সাদা ধবধবে কঙ্কাল । সেই কঙ্কালের চোখের কোটর থেকে ঠিকরে বেরোচ্ছে আগুন। এই দেখে সবাই ভয়ে দিক বিদিক জ্ঞান শূন্য হয়ে ছুট দিলো।
কোনো মতে সবাই সেই বাঁশবাগান থেকে বেরিয়ে গ্রামে ফিরলো।
প্রত্যেকেই তখন ভিত সন্ত্রস্ত।
রতন বলল : দেখ বাঁশবাগানে আমাদের সাথে যা হলো সেটা কেউ জানলে কিন্তু আমাদের বিপদ আরও বাড়বে তার চেয়ে বরং এসব কথা আর কাউকে বলার দরকার নেই। ওদিকে আর ভুলেও আমরা কখনও যাব না। তাহলে আর কোনো বিপদ হবে না।
সবাই তখন রতনের কথায় রাজি হয়ে যে যার মতন বাড়ি চলে গেলো।
তবে এই ঘটনার কিছুদিন পর থেকেই এই গ্রামে ঘটা শুরু করলো নানান আশ্চর্য ঘটনা। কখনও কারোর বাড়ির দাওয়া থেকে হাঁস মুরগী চুরি হল কখনও বা কারোর সুস্থ দুধেলা গাই রাতারাতি শুকিয়ে মারা গেলো। গ্রামের মানুষ এসব ঘটনায় আশ্চর্য হয়ে পড়ছিল তবে এবার ধীরে ধীরে পশু বাদ দিয়ে আক্রমণ এগিয়ে চলল এই গ্রামের মানুষের দিকে। রাত দুপুরে অনেকেই সেই কঙ্কালের আক্রমণের শিকার হলো। আতঙ্কে মানুষের রাতের দিকে বেরোনো মুসকিল হয়ে উঠলো। একদিন রাত্রি বেলা শহরে কাজ সেরে গ্রামে ফেরার পথে নগেন মিত্তিরের সদ্য বিবাহিত জামাই এই কঙ্কালের হাতে বেঘোরে প্রাণ হারালো। গ্রামে নেমে এলো শোকের ছায়া। তখন গ্রামের সবাই ঠিক করলো যে এই অপদেবতার কোনো একটা বিহিত না করলে এই গ্রামে তাদের পরিবার নিয়ে থাকা দুষ্কর হয়ে যাবে তাই তারা দল বেঁধে গ্রামের মোড়লের কাছে গেলো এবং এর এক বিহিত করার আরজি জানালো। গ্রামের মোড়ল সমস্ত ঘটনা আগে থেকেই শুনেছিল কিন্তু সবাই একজোট হয়ে তার কাছে যাওয়াতে সে তখন সবাইকে নিয়ে এক তান্ত্রিকের কাছে গেল।
তান্ত্রিক কে সবটা বলাতে তান্ত্রিক বুঝতে পারল এটা কোনো সাধারণ প্রেতাত্মার কাজ না। নিশ্চই কোনো খুব শক্তিশালী পাপী আত্মা এই কাজ করছে।
তান্ত্রিক এবার চোখ বন্ধ করে বিড়বিড় করে কি সব মন্ত্র পড়তে লাগলো। গ্রামের মানুষ আশ্চর্য হয়ে দেখতে লাগলো যে ধীরে ধীরে তান্ত্রিকের সামনে একটা সাদা ধোয়ার কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠলো এবং তার ভেতর থেকে এক কদাকার বিভৎস মূর্তি এসে সামনে দাড়ালো।
এই দেখে গ্রামের মানুষ সবাই ভয় পেয়ে গেলো।
তখন তান্ত্রিক বলল : ভয় পাবেন না। এই প্রেতটি আমার কাছে বন্দী । ও আপনাদের কোনো ক্ষতি করবে না। ওকে ডেকেছি আপনাদের গ্রামে যেই প্রেতটি আপনাদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে তার ব্যাপারে জানার জন্য।
এবার তান্ত্রিক প্রেতের উদ্দেশ্যে সমস্ত ঘটনা বলল এবং তাকে আদেশ দিলো সেই প্রেতের সমস্ত খোজ নিয়ে আসতে।
এই বলে সেই প্রেতটি আবার আগের মতন সেই সাদা ধোয়ার কুণ্ডলীর মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গেলো।
বেশ কিছুক্ষণ পর আবার সেই সাদা ধোঁয়া দেখা দিলো এবং আবার সেই কদাকার বিভৎস মূর্তির আবির্ভাব হলো।
তান্ত্রিক : কি খোজ আনলি বল?
প্রেতাত্মা : আজ থেকে অনেক বছর আগে এই গ্রামে এক ডাকাতের আনাগোনা ছিল। পশু চুরি থেকে মানুষ খুন কোনো কিছুই সে বাদ রাখেনি। এমনকি তার উপদ্রবে মানুষের দিনে দুপুরে বেরোনো বন্ধ হয়ে উঠেছিল। পুরো গ্রাম তার অত্যাচারে জর্জরিত হয়ে উঠেছিল। গ্রামের লোকেরা তখন একদিন এক ফন্দি করে এবং তাকে সেই ফাঁদে ফেলে তারপর তাকে পিটিয়ে আধমরা করে তাকে ওই বাঁশবাগানে ফেলে রাখলো। যন্ত্রণায় চিতকার করতে থাকলো ডাকাত কিন্তু কেউ এলো নাহ। রাতের বেলা শেয়াল কুকুর মিলে তার শরীর থেকে মাংস খুবলে খুবলে খেলো। যন্ত্রণায় বারবার চিতকার করে উঠলো ডাকাত কিন্তু নিজেকে বাঁচাতে পারলো না। ধীরে ধীরে তার প্রাণ দেহ থেকে বেরিয়ে গেলো আর দিনের পরদিন সেই বাঁশবাগানে সেই ডাকাতের মৃত দেহ পড়ে থেকে ধীরে ধীরে পচে গলে গেলো।
গ্রামের মানুষ ডাকাতের মৃত্যুতে খুশিতে মেতে ওঠে। গ্রামে উৎসব শুরু হয়ে গেলো। কিন্তু কিছুদিন পর থেকে সেই ডাকাতের প্রেতাত্মা গ্রামে উপদ্রব শুরু করলো। প্রতিদিনই গ্রামের কেউ না কেউ সেই ডাকাতের প্রেতাত্মার শিকার হতে থাকলো। তখন গ্রামের লোকেরা দলবেধে এক তান্ত্রিকের কাছে সাহায্য চাইতে গেল।
গ্রামের মানুষরা তান্ত্রিক কে সমস্ত ঘটনা বললে।
গ্রামের মানুষ : আমাদের বাঁচান ঠাকুর মশাই। আপনাকে তো আমরা সবটাই বললাম এবার আপনি এর একটা উপায় করুন নয়ত ওই ডাকাতের প্রেতাত্মা আমাদের সবাইকে গ্রাম ছাড়া করে ছাড়বে।
তখন তান্ত্রিক সব শুনে বলল : দেখ এই প্রেতাত্মা প্রতিহিংসা পরায়ন। সে নিজের মৃত্যুর বদলা নিচ্ছে। এরম প্রেতাত্মা খুব শক্তিশালী হয়। তবে আমি নিজের শক্তি দিয়ে সেই প্রেতাত্মাকে ওই বাঁশবাগানেই বেঁধে দেব যাতে সে আর তোমাদের আক্রমণ না করতে পারে। কিন্তু কোনো ভাবে যদি সে সেই বাঁধন থেকে মুক্তি পায় তখন কিন্তু সে তোমাদের আবার আক্রমণ করে নিজের মৃত্যুর বদলা নেবে।
এই বলে সেই তান্ত্রিক গ্রামের মানুষদের নিয়ে সেই বাঁশবাগানে যায় এবং সেই প্রেতের উপর নিজের মন্ত্র প্রয়োগ করে তাকে সেই বাঁশবাগানের একটা গাছের সাথে বেঁধে তাতে একটি সিঁদুর মাখা লাল সুতো বেঁধে দেন এবং গ্রামের সবাইকে বলেন যে কোনো ভাবেই যেন এই সুতটি কোনো বাচ্চা না খোলে। চোদ্দ বছরের নিচের কোনো বাচ্চাই এই সুতোটা খুলে ওই প্রেত কে মুক্ত করতে পারবে। নয়ত এই প্রেত চিরকালের মতন এই বাঁশবাগানেই আটকে থাকবে।
এই শুনে গ্রামের মানুষরা তান্ত্রিকের জয় জয়কার করতে করতে গ্রামে ফিরে আসে এবং শান্তিতে বসবাস শুরু করে। তারপর বহু বছর কেটে যায় ওই ভয়ানক প্রেতাত্মা ওই বাঁশবাগানেই আটকে থাকে কিন্তু বেশ কিছু দিন আগে এই গ্রামের কিছু বাচ্চা খেলার জন্য ওই বাঁশবাগানে যায় এবং নিজেদের অজান্তেই সেই প্রেতাত্মাকে মুক্ত করে দেয় এবং তার পর থেকেই এই সমস্ত ঘটনা ওই প্রেতাত্মা ঘটাচ্ছে নিজের বদলা পূর্ণ করার জন্য।
সবটা বলে এবার তান্ত্রিকের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আবার সেই সাদা ধোয়ার মাঝে অদৃশ্য হয়ে গেলো প্রেতটি।
গ্রামের সবাই মিলে তখন সেই তান্ত্রিক কে বলল : আমাদের রক্ষা করুন নয়ত আমরা সবাই এই ভয়ানক প্রেতের হাতে মারা পড়বো।
এই বলে সবাই তান্ত্রিকের পায়ে পড়ে অনুরোধ করায় তখন তান্ত্রিক রাজি হয়ে বলল :
সামনের অমাবস্যার রাতে ওই বাঁশবাগানে এক যজ্ঞের আয়োজন আমি করব এবং নিজের মন্ত্র বলে সেই প্রেতকে এই গ্রাম ছেড়ে যেতে বাধ্য করবো কিন্তু এই কাজে আপনাদের সবাইকেই সেদিন উপস্থিত থাকতে হবে প্রধানত সেই বাচ্চারা যারা সেদিন সেই বাঁশ বাগানে খেলতে গেছিল।
যেমন কথা ঠিক তেমনি কাজ। অমাবস্যার রাতে সেই তান্ত্রিক গ্রামের লোকেদের নিয়ে সেই বাঁশবাগানে হাজির হলো।
হঠাৎ করে এক বীভৎস ঝড় উঠলো। বাঁশ বাগান যেন এলো মেল হয়ে উঠল।
সবাই ভয় পেতে শুরু করেছে দেখে তান্ত্রিক সবার উদ্দেশ্যে বলল : কেউ ভয় পাবেন না। এটা শুধু সেই দুষ্ট প্রেতাত্মার মায়া। ও আপনাদের ভয় দেখিয়ে আমাদের পরিকল্পনা অসফল করতে চায়।
এই বলে নিজের ঝোলা থেকে কি একটা বার করে আকাশের দিকে ছুঁড়ে দিতেই ঝড় থেমে গেলো। চারিদিক আবার আগের মতন শান্ত হয়ে উঠল। এবার তান্ত্রিক নিজের ঝোলা থেকে একটি ছুরি বার করে একটা মন্ত্র পড়তে পড়তে গ্রামের লোকেদের চারিপাশে একটা গণ্ডি কাটলো। এবার সে এক এক করে যজ্ঞের সরঞ্জাম ঝোলা থেকে বার করে যজ্ঞে বসলো।
বসার আগে তান্ত্রিক শুধু বলল : এই যজ্ঞ চলা কালীন অনেক রকম মায়া আপনারা দেখবেন, অনেক কিছু শুনবেন কিন্তু কোনো ভাবেই এই যজ্ঞের স্থানের গণ্ডি পেরিয়ে যাবেন না। এই বন্ধন একবার ভেঙে গেলে কিন্তু আমিও আর কিছু করতে পারব না। তাই কোনো মায়াতে ভ্রমিত হয়ে ভয় পাবেন না। মন ব্যাকুল হয়ে উঠল মা তাঁরা কে ডাকুন। সেই রক্ষা করবে।
এই বলে যজ্ঞের আগুন জ্বালিয়ে যজ্ঞে বসলো তান্ত্রিক।
তবে বেশ কিছুক্ষণ পর থেকেই নানা রকম ভয়ানক কাণ্ড হতে শুরু করলো। কখনও কোনো বাচ্চার কান্না ভেসে আসলো, কখনও আবার কোনো মহিলার আর্তনাদ। কখনও বা বাঁশবাগান থেকে বেরিয়ে আসলো সারি সারি কঙ্কালের দল, কখনও বা তাদের দিকে ধেয়ে এল কিছু পচা গলা মৃত দেহ। এসব দেখে গ্রামের সমস্ত মানুষ ভয়ে সিটীয়ে গেলো কিন্তু তান্ত্রিকের কথা অনুযায়ী তারা কেউ গণ্ডি থেকে বেরোলো না। বরং তারা সবাই এবার মা তাঁরা কে স্মরণ করা শুরু করলো।
ধীরে ধীরে সমস্ত কিছু অন্ধকারে মিলিয়ে চারিদিক শান্ত হয়ে গেলো।
এবার হঠাৎ চারিদিক কাপিয়ে এক ভয়ানক অট্টহাসি শোনা গেলো।
এবার চোখ খুললো তান্ত্রিক।
তান্ত্রিক : কে তুই ? আমি জানি তুমি নিজের বদলা পূর্ণ করতে এসেছিস। কিন্তু আমি তোর এই বদ মতলব কোনো দিনও পূর্ণ হতে দেবো না। যদি ভালো চাস তো এখুনি এই গ্রাম ছেড়ে চলে যা।
আবার সেই অট্টহাসি শোনা গেলো।
এবার প্রেত বলল : তুই আটকাবি আমায় ? আমি বহু বছর অপেক্ষা করেছি এই বদলার আশায়। এই গ্রামের কাউকে আমি ছাড়বো না। এই গ্রামকে শ্মশান না বানিয়ে আমি এই গ্রাম ছাড়বো না।
তান্ত্রিক : তবে এই নে....
বলে যজ্ঞের থেকে কিছুটা ছাই তুলে কি একটা বিড়বিড় করে বলে একটা গুমোট অন্ধকারের দিকে ছুঁড়ে দিলো।
অমনি ভেতর থেকে বাবাগো মাগো বলে একটা কঙ্কাল বেরিয়ে এলো।
তান্ত্রিক : কি ছেড়ে যাবি?
প্রেত : না যাবো না........
এই বলে চিতকার করে এক ভয়ানক হাসি হেসে অদৃশ্য হয়ে গেলো কঙ্কালটা।
গ্রামের লোকেরা এসব দেখে আরো ভয় পেয়ে গেলো।
তান্ত্রিক কিছুটা যজ্ঞের ছাই তুলে মন্ত্র পড়ে ছুড়তে যাচ্ছিল ওমনি কথা থেকে একটা গাছের বিশাল বড় ডাল এসে লাগলো তান্ত্রিকের গায়ে। যন্ত্রণায় আর্তনাদ করে উঠলো তান্ত্রিক।
আর সেই আর্তনাদ শুনে আবার সেই কঙ্কাল আবির্ভূত হলো আর সাথে আর বেশি করে শোনা গেলো তার সেই ভয়ানক অট্টহাসি।
এবার তান্ত্রিক রেগে গিয়ে বলল : নরকের কীট তোর এত সাহস.....তুই আমার গায়ে হাত তুললি....বীরভূমের শ্মশানে পঞ্চমুন্ডির আসনে বসে পিশাচ সিদ্ধ তান্ত্রিক আমি।
এই বলে হাতে কিছুটা যজ্ঞের ছাই তুলে কি একটা মন্ত্র বিড়বিড় করে সেই ছাই ছুঁড়ে মারল কঙ্কালের দিকে।
অমনি কঙ্কালের পুরো গায়ে আগুন জ্বলতে শুরু করলো।
কঙ্কাল : ওরে মাগো, বাবাগো, জ্বলে গেলো গো....
বলে চিৎকার করতে লাগলো।
তান্ত্রিক : জ্বল.... আরও জ্বল.... এ নরকের আগুন...
এই বলে হাসতে শুরু করলো তান্ত্রিক।
কঙ্কাল এবার চিতকার করে বলল : আমায় ছেড়ে দে, কথা দিচ্ছি এই গ্রাম ছেড়ে চিরকালের মতন চলে যাবো। আর কোনো দিনও এই গ্রামের কারোর ক্ষতি করব না।
তান্ত্রিক : প্রমাণ দে যে তুই চলে যাচ্ছিস।
কঙ্কাল : আমি চলে গেলো এই সামনের বট গাছের মগ ডালটা ভেঙে পড়ে যাবে।
এই বলে কঙ্কালটি অদৃশ্য হয়ে গেলো এবং কিছু ক্ষণ পড়েই মরমর করে সামনের বট গাছের মগ ডালটা ভেঙে পড়ল।
এভাবেই সেই তান্ত্রিকের সাহায্যে সেই গ্রামটি সেই প্রেতের হাত থেকে চিরকালের মতন মুক্তি পেল।।