প্রশ্নটা খুব বিতর্কের তাই না ? আসলে ভুত.…......
ও আচ্ছা আমার পরিচয়টা তো আবার দেওয়া হল না। মহাশয় আমার নাম প্রদীপ ঘোষ। আর যারা ভুত বিশ্বাস করে না আমিও সেই প্রজাতির একজন। বা বলতে পারেন আমি ছিলাম সেই প্রজাতির একজন।
আসলে জানেনতো জীবনে এমন অনেক কিছু ঘটে যায় যা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে চিরকালের মতন বদলে দেয়। আমার জীবনেও সেই রকমই কিছু ঘটেছিল....।
কি জানতে ইচ্ছে হচ্ছে খুব......কি ঘটেছিল....কেন আমি এরম বলছি....
আরে বলবো বলবো....আজ সবটা বলবো....
সামনে বসা আগন্তুক : আরে না না মানে.....
প্রদীপ ঘোষ ( একটু হেসে ) : আরে বুঝি বুঝি....কৌতূহল হয়...তবে জানেনকি কৌতূহল কিন্তু সব সময় ভালো হয়না....
আগন্তুক : না না আসলে এত বড় হোটেলে আপনি একা আর কোনো স্টাফ নেই....আর আপনি হটাৎ রাত বিরেতে ভূতের কথা বলছেন তাই মানে.....
প্রদীপ ঘোষ ( আবার একটু হেসে ) : ওমা....মশাইয়ের ভুতে ভয় আছে নাকি ?
আগুন্তক : এই না না তেমন কিছু না...
প্রদীপ ঘোষ : তাহলে ধরবো মশাইয়ের ভুতে ভয় নেই ?
আগন্তক : দেখুন আমি তো কখনো দেখিনি...তবে হ্যাঁ না মানলেও গল্প শুনতে বেশ ভালই লাগে...তার উপর আজ এরম বৃষ্টির রাত । তার উপর লোডশেডিং....আর আমার মনে হয়না এত রাতে আপনার আর নতুন কোনো গেস্ট আসবে তাই একটা জমাটি ভূতের গল্প হলে মন্দ হতো না।
প্রদীপ ঘোষ : গল্প.......!!!!!
গল্প কেনো মশাই....সত্যি কারের ভুতই তো আসতে পারে....
এই ধরুন না এত বড় হোটেলে আমি একা স্টাফ....হতেই তো পারে যে আমি ভূত এবং আপনাকে একা পেয়ে এবার আপনার ঘাড় মতকাবো...
বা ধরুন এটাওতো হতে পারে যে আপনি ভূত......হয়তো বৃষ্টির রাতে রাস্তার উপরে কোনো গাড়ি এসে আপনার ভবলীলা শেষ করে দিয়েছে আর আপনি নিজের স্থূল শরীর ত্যাগ করে আশ্রয়ের খোঁজে আমার হোটেলে এসে উঠেছেন...হয়তো কাল সকালেই খবরের কাগজে আপনার দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংবাদ আমার জন্য অপেক্ষা করছে....
আগন্তক : এই মশাই আপনি কি পাগল আছেন ? দেখুন আমি পুরোপুরি মানুষ আছি । আপনি ভূত হলেও হতে পারেন নয়তো এরম রাত বিরেতে কেউ ভূল ভাল বকে তাও আবার নিজের হোটেলের গেস্টের সাথে...এই জন্যই না আপনার হোটেলে কোনো স্টাফ নেই। রাত বিরেতে এসব ভুলভাল বললে কে কাজ করবে আপনার হোটেলে....
এই দাড়ান দাড়ান.....আপনি পাগল নন তো ?
প্রদীপ ঘোষ : ( আবার একবার হেসে) আচ্ছা চলুন আপনাকে একটা গল্পই না হয় শোনানো যাক.....
এই গল্পে তিনটি চরিত্র.....
এক ম্যানেজার , এক গেস্ট আর একটা হোটেল....
আগন্তুক : ও আচ্ছা আমাদের মতন ( হাসতে হাসতে বললো আগন্তুক )
প্রদীপ ঘোষ : ( একটু হেসে ) হম ভাবতে পারেন....
এরমই এক ঝর বৃষ্টির রাতে এক হোটেলে আগমন হয় এক গেষ্টের....হোটেল একদম ফাঁকা থাকায় একটু সন্দেহ হয় তার। কিন্তু এই ঝড় বৃষ্টিতে বাইরে আবার অন্য হোটেল খোঁজার চেয়ে এই হোটেলেই রাত কাটানো ঠিক মনে করে সে.... অগত্যা ম্যানেজারের থেকে একটা রুম নিয়ে সোজা নিজের রুমে চলে যায় সে.....কিন্তু রুমে লোড শেডিং থাকায় কিছুতেই ঘুম আসেনা তার...অবশেষে কিছুটা বাধ্য হয়েই ঘরের দরজাটা খুলে সামনের বারান্দায় পায়চারি করতে থাকে সে....বেশ কিছুক্ষন এরম পায়চারি করার পর বেশ একটা ক্লান্তির রেশ এসে তার। অগত্যা ঘরে ফেরত আসে কিন্তু একি আশ্চর্য রুমে তার বিছানায় কে একটা বসে আছে....
গেষ্ট : একি কে ওখানে ?
ম্যানেজার : আমি স্যার...
গেস্ট : একি ম্যানেজার বাবু....আপনি কি করছেন ?
ম্যানেজার : স্যার.....পুরো হোটেল ফাঁকা তাই খুব একা লাগছিলো আর নীচ থেকে দেখলাম আপনি উপরে বারান্দায় পায়চারি করছেন তাই ভাবলাম হয়তো আপনারও ঘুম আসছে না তাই একটু কথা বলতে চলে এলাম আর কি....হ্যাঁ তবে আপনি বললে আমি এখুনি চলে যাবো...
গেস্ট : আরে না না বসুন। আমারও ঘুম আসছিলো না তাই একটু পায়চারি করছিলাম। আচ্ছা আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞাস করবো....
ম্যানেজার : বলুন স্যার....
গেস্ট : এরম একটা ফাঁকা জায়গাতে হোটেল আপনাদের , তার উপর হোটেলে কোনো স্টাফ নেই আপনি বাদে....তো আপনার এখানে কাজ করতে ভালো লাগে ?
ম্যানেজার : কি করবো বলুন স্যার....আমার ইচ্ছেতে তো আর সব কিছু হবে না...আমার বদলি আসলে তবেই আমার মুক্তি....হোটেলতো আর ফাঁকা রেখে যাওয়া যায় না।
গেস্ট : তো আপনি উপর মহলে আর্জি করুন বদলির জন্য...তাহলেই তো হয়..।
ম্যানেজার : না স্যার....অভাবে তো বদলি হয়না...
গেস্ট : তাহলে আবার কি ভাবে বদলি হয় ?
ম্যানেজার : শুনবেন স্যার ?
গেস্ট : হ্যাঁ না শোনার কি আছে.....সাধারণত যে ভাবে বদলি হয় আপনাদের যখন সে ভাবে হয়না তো আপনাদের নিয়মটাও একটু শুনি না হয়...
ম্যানেজার : হম আপনাকে বলতে আর দোষ নেই...সবটা এবার আপনারও বুঝে নেওয়া দরকার, এতে আপনারই সুবিধা...
গেস্ট : আমার সুবিধা মানে ? আমার আবার কিসের সুবিধা হবে...? ( বেশ আশ্চর্য্য হয়ে জিজ্ঞাস করলো )
ম্যানেজার : আসলে স্যার...পুরো নিয়মটা আমিও সঠিক জানি না। তবে যতটা জানি বলছি...
আজ থেকে আট মাস আগে এরমই এক ঝর জলের রাতে প্রথম এই হোটেলে আসি আমি..
তবে কিছু ক্ষণের মধ্যেই বুঝতে পারি যে জায়গাটা ঠিক নয়। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায় স্যার। সেই সময়ের ম্যানেজার মাঝ রাতে আমায় বাথরুমে জলে ডুবিয়ে মারে। আসলে তার দোষ ছিল না। তার সাথেও একই জিনিষ হয়েছিল এবং আমায় মেরে নিজের সমস্ত দায়িত্ব আমায় দিয়ে সে ইহলোক থেকে মুক্ত হয়েছিল। তারপর থেকে আমিও অপেক্ষা করছিলাম আর দেখুন আজ আপনি এলেন....
গেস্ট : এই কিসব বলছেন.... আ...আ...আপনি পাগল নাকি...???!!!!
ম্যানেজার : ( মুচকি হেসে ) না স্যার.....তবে আমায় ক্ষমা করবেন...আজ থেকে সব দায়িত্ব আপনার...
গেস্ট : এই আপনি কি সব বলছেন....আমি চেক আউট করছি...
ম্যানেজার : ( অট্ট হাসি হেসে ) না স্যার.... এতো সম্ভব না...মরতে তো আপনাকে হবেই...
মরতে তো আপনাকে হবেই...
প্রদীপ ঘোষ : এই বলে গেষ্টের মাথাটা সোজা বাথরুমে বাথটাবে ডুবিয়ে দিলো ম্যানেজার.....
অনেক বাচার চেষ্টা করেছিল কিন্তু আস্তে আস্তে ফুসফুস দুটো জলে ভরে এলো...ধীরে ধীরে নিথর হয়ে গেলো তার দেহটা ।
একি স্যার আপনি তো ঘুমিয়ে পড়লেন...উঠে পড়ুন...
ধরফরিয়ে ঘুম থেকে উঠলো আগন্তুক...
আগন্তুক : একি সকাল হয়ে গেল তো...ইসস আমার জামা কাপড় পুরো ভিজে গেছে...কাল রাতে বদ্ধের মধ্যে শুয়ে আরো ঘামিয়ে গেছি...।
প্রদীপ ঘোষ : স্যার....গুড মর্নিং...আমার কাজ শেষ স্যার....আমি চললাম...ভালো থাকবেন।
এই বলে ধীরে ধীরে সিড়ি দিয়ে নেমে নিচের দরজা দিয়ে বেরিয়ে মেইন গেটের দিকে এগিয়ে চললো প্রদীপ ঘোষ।
হটাৎ আগন্তুকের গত রাতের প্রদীপ ঘোষের বলা গল্পটা মনে পড়লো... সে তাড়াতাড়ি নীচে ছুটে গেল...
আগন্তক : ও প্রদীপ বাবু দাড়ান... ও প্রদীপ বাবু..
প্রদীপ ঘোষ বাইরে থেকে গ্রিলের গেটটা লাগাতে লাগাতে জিজ্ঞাস করলেন...
প্রদীপ ঘোষ : বলুন কি হলো...এত চিৎকার করছেন ? আমার কাজ শেষ বললাম না আপনাকে ?
আগন্তক : আরে সে তো বুঝলাম কিন্তু নতুন ম্যানেজার তো এখনও আসেনি...আমার তো চেক আউট করতে হবে...আর কাল রাতে গল্প বলছিলেন...আচ্ছা সেই গেষ্টের কি হলো জানা হলো না তো...তার নাম টাই বা কি ছিল.....
প্রদীপ ঘোষ : ( মৃদু হেসে ) আপনাকে অনেক ধন্যবাদ... নীচের রেজিষ্টারটা ভালো করে সই করে উপরে নিজের রুমে যাবেন....
আগন্তক : কি ভাই আজব লোকতো...একজন অচেনা লোকের উপর হোটেল রেখে চলে গেল....আরে নতুন যার ডিউটি আছে তার আসা অব্দি তো অপেক্ষা করতে পারতো...
এসবই ভাবতে ভাবতে নীচে রাখা রেজিষ্টার টা সই করতে গিয়ে হঠাৎ থমকে গেল আগন্তকের...
আগন্তক : আরে লাস্ট গেষ্টের নাম " প্রদীপ ঘোষ "....চেক ইন টাইম আজ থেকে পাঁচ মাস আগের কিন্তু কোন চেক আউট টাইম নেই কেনো...
তাড়াতাড়ি তার উপরের গেষ্টের চেক ইনের দিনটা দেখলো আগন্তক।
দিনটা প্রদীপ ঘোষের চেক ইনের ঠিক আট মাস আগের এবং তারও কোনো চেক আউট টাইম নেই...
আগন্তক : তবে কি...!!!!!(শিকদারা বেয়ে এক ঠান্ডা বাতাস বয়ে গেলো তার )
তাড়াতাড়ি দোতলায় নিজের রুমে ছুটলো সে....
রুমে ঢুকে তাড়াতাড়ি কাপা কাপা হাতে বাথরুমের দরজাটা খুললো.......
ভেতরে বাথটাবে নিথর হয়ে পড়ে আছে তার দেহটা....
No comments:
Post a Comment