বিজয় : উফ...বন্ধ করবে তোমার এই পাগলামো..আমি কাজ করছি। ( বিরক্তির সুরে বললো বিজয় )
তৃষা : প্লীজ আমার কথাটা বিশ্বাস করো। কারা যেন ঘুরে বেড়ায় আমার পেছন পেছন। আমার খুব ভয় করছে। প্লীজ তুমি চলে এসো। প্লীজ চলে এসো। ( খুব করুন ভাবে কাদতে কাদতে বললো তৃষা )
বিজয় : উফ... দেখ তৃষা তুমি তোমার এই পাগলামো বন্ধ করো। ভূত বলে কিছু হয়না। তোমার এই পাগলামোর জন্য আমার জীবনটা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। মাঝে মধ্যে মনে হয় তোমায় বিয়ে করাটা ই আমার জীবনের সবচেয়ে বড়ো ভুল ছিল। খবরদার আর ফোন করে ডিস্টার্ব করবে না। ( বিরক্তির সুরে বললো বিজয় )
তৃষা : বাবু বিশ্বাস করো আমি সত্যি বলছি.....তারা আছে....বিশ্বাস করো তারা আছে....
" বাঃ ভালই তো অফিসে বসে প্রেম হচ্ছে।" পেছন থেকে বললো বিজয়ের বস। তাড়াতাড়ি ফোনটা কেটে দিয়ে
বিজয় বললো : না স্যার...একটু দরকার ছিল...
বস : সেই...অফিসে এসে প্রেম করাটাই তো দরকার সেটার জন্যই তো মাইনে নাও। কাজ তো হয়না তোমার দ্বারা। গত দুমাস ধরে টার্গেট পূর্ণ হচ্ছে না। বসে বসে তো মাইনে নিচ্ছ আর বউএর সাথে অফিসে বসে প্রেম করছো। অতো প্রেমের ইচ্ছে থাকলে চাকরিটা ছেড়ে বউএর কোলে গিয়ে বসো। ছোটলোক কামচর যত সব। আর এরম দেখলে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে দূর করে দেব অফিসে থেকে।
লজ্জায় মাথাটা হেট হয়ে গেল বিজোয়ের। সত্যি আজ তৃষার জন্য অফিসে সবার সামনে ছোটো হতে হলো তাকে। এসব শুধু তৃষার পাগলামির জন্য।
ফোনটা হঠাৎ কেটে যাওয়াতে একটু দুঃখই পেল তৃষা। কিন্তু পরে আবার মনে মনে ভাবলো : সত্যিই তো বিজয় ঠিকই বলছে। আজ এক বছর হতে যায় তাদের বিয়ের। ছোটো থেকে অনাথ আশ্রমে বড়ো হয়েছে সে। আপন বলতে কেউই ছিলো না তার। কিন্তু বিজয় যেন তার সেই দুঃখ ভুলিয়ে দিয়েছে। বিজয়ই তাকে বুঝতে শিখেছে আপন মানুষের ভালোবাসা কি হয়। সে জানে বিজয় তাকে খুব ভালোবাসে। কিন্তু আজ তার এই ভয়ের রোগই যেন দিন দিন বিজয়কে তার থেকে দূরে করে দিচ্ছে। কিন্তু সে তো মিথ্যা বলে না। সত্যি যেন কারা ঘুরে বেড়ায় তার চার পাশে। তাদের অনুভব করতে পারে সে। কিন্তু বিজয়কে কিছুতেই সে বিশ্বাস করাতে পারে না। কিন্তু কি করবে সে....
তৃষা ঠিক করলো আজ বিজয় বাড়ি আসলে তার সাথে আলোচনা করে একটা রাস্তা বার করবে। এভাবে দিনের পর দিন বিজয়ের ধীরে ধীরে দূরে চলে যাওয়াটা মেনে নিতে পারবে না তৃষা। সে হারাতে চায় না বিজয় কে।
সন্ধ্যে ৬টা...
ধীরে ধীরে সন্ধ্যে নেমে এলো...ভয়টাও এবার আরো একটু বেশি করে পেয়ে বসলো তৃষাকে। বারবার ঘড়ির দিকে তাকিয়ে অধীর ভাবে বিজয় এর অপেক্ষা করতে লাগলো। অন্ধকার বাড়ার সাথে সাথে তৃষার ভয় যেন আরো বেশি করে জাকিয়ে বসলো। মনে মনে ভাবছিল বিজয় কে ফোন করবে নাকি ঠিক অমনি কলিং বেলটা বেজে উঠলো।
"বিজয় এসছে..."
তৃষা যেন হাতে চাঁদ পেল। খুশির সঙ্গে তাড়াতাড়ি গেট খুলতে গেল।
তৃষা : আজ এত দেরি করলে?? তুমি যেন বাবু আমার কি ভয় করছিল। তুমি তখন ফোনটা কেটে দিলে। আমি জানি তুমি অফিসে কাজে থাকো। আমি তোমায় ফোন করে ডিস্টার্ব করি। কিন্তু বিশ্বাস করো বাবু আমি সত্যি বলছি কারা যেন আছে গো। ঘুরে বেড়ায় আসে পাশে। আমি বুঝতে পাড়ি। দেখ আমি ইন্টারনেট থেকে একজনের খোজ জোগাড় করেছি। সে এইসব কেস দেখে। বাবু কাল চলো আমি আর তুমি যাই... ও বাবু যাবে তো ? কিছু বললে না?
বিজয় : উফ চুপ করবে.....কোথাও যেতে পারবো না তোমার সাথে তোমার এই পাগলামো র জন্য। আর শোনো এসব ভূত বলে কিছু হয়না। আসলে তুমি একটা পাগল। তোমার জায়গা পাগলা গারদ। তোমায় বিয়ে করাটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড়ো ভুল ছিল। আমার জীবন টা পুরো নষ্ট করে দিলে তুমি। এবার আমায় একটু মুক্তি দাও। একটু শান্তি চাই।
তৃষা : এরম বলো না বাবু। আমার তুমি বাদে আর কে আছে। আমি তোমায় খুব ভালোবাসি। প্লীজ এরম বলো না। বিশ্বাস করো আমি পাগল নই। সত্যি তারা আছেন।আমি বুঝতে পারি আমাদের আসে পাশেই আছে। বাবু এরম করো না।
এই বলে বিজয় কে জড়িয়ে ধরলো তৃষা।
বিজয় : চুপ কর। একটা আস্ত পাগল। তোর ভূত আছে তো ঠিক আছে তুই তোর ভূতের কাছেই থাক।
এইবলে তৃষাকে এক ধাক্কা দিয়ে বেডরুমে ঢুকিয়ে বাইরে দিয়ে গেট লক করে দিলো বিজয়।
মনে মনে ভাবলো থাক রুমে বন্দী হয়ে। খিদে পেলে সব পাগলামো বেরিয়ে যাবে।
স্নান করে ফ্রেশ হয়ে ডাইনিং টেবিলে বসলো বিজয়। হঠাৎ তার মনে পড়লো দু ঘণ্টা হতে চললো তৃষা কে বেড রুমে আটকে রেখেছে বিজয়। এবার মনে মনে তার একটু অনুতাপ হলো।
"ইশ সত্যি রাগের মাথায় কি বাজে ব্যবহারটাই না করলাম ওর সাথে। অফিসে অপমানের সমস্ত রাগটা বেচারীর উপর দেখলাম। সত্যিই তো বেচারীর আমি বাদে আর আছে কে.…. ওর কষ্টটা আমি না বুঝলে আর কে বুঝবে...দুপুরেও ভয় ভয় করে বেচারি খেয়েছিল নাকি কে জানে। আজ তো ওকে একবার জিজ্ঞাস ও করি নি দুপুরে ও খেয়েছিলো কি না..." মনে মনে ভাবলো বিজয়। বেশ কষ্টই হল তার এসব ভেবে। বিজয় এবার উঠে বেডরুমের গেটটা খুলে তৃষা কে ডাকতে গেল।
কিন্তু গেট খুলে ভয়ে শিউরে উঠলো বিজয়...মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আছে তৃষা। মাথা ফেটে রক্ত বেরিয়ে মেঝেতে কাল হয়ে জমাট বেঁধে আছে। বিজয় তাড়াতাড়ি গিয়ে তৃষার পালস চেক করলো.....
না আর বেঁচে নেই তৃষা..
বিজয়ের যেন মাথা মাথা কাজ করছে না। ভয়ে এবং দুঃখে তার নিজকে দিকবিদিক শূন্য মনে হতে লাগলো। চোখের সামনে অন্ধকার হতে লাগলো।
কিছু ক্ষণ পর ধীরে ধীরে নিজের হুস ফিরে পেল বিজয়। তখন মাটিতে পরে আছে তৃষার নিষ্প্রাণ দেহ। কান্নায় বুকটা ভেঙে এলো বিজোয়ের....কি ভুলটাই না করলো সে....রাগের মাথায় কি খারাপ ব্যবহারটাই না করলো..তৃষার মৃত্যুর জন্য সেই দায়ী। নিজেকে কোনো দিনও ক্ষমা করতে পারবেন না আর সে...
হঠাৎ একটা কথা মাথায় আসতে আঁতকে উঠলো বিজয়।
" ঘরে তো শুধু সে আর তৃষা ছিলো। পুলিশে জানাজানি হলে তারা তো আমাকেই কেই খুনি ভাববে। তালে কি এবার আমায় হাজত বাস করতে হবে...?? " মনে মনে ভাবলো বিজয়।
হঠাৎ বিদ্যুতের বেগে একটা বুদ্ধি খেলে গেল বিজয়ের মাথায়।
" তৃষা তো অনাথ... ওর কেউ নেই। তাহলে রাতারাতি যদি আমি লাশটা কোথাও পুতে ফেলি তাহলেই তো আর কোনো প্রমাণ রইলো না।"
"হম এটাই ঠিক হবে " মনে মনে বললো বিজয়।
শেষ বারের মতন তৃষার নিষ্প্রাণ দেহ টাকে একবার জড়িয়ে ধরলো বিজয়। সত্যি কতো ভালোবাসতো বিজয় কে সে।
" আমায় ক্ষমা করো তৃষা " মনে মনে এই বলে লাশটাকে একটা সুটকেসে ভরলো বিজয় সাথে তৃষার ফোন ড্রেস সব কিছুই ভরলো। গাড়ির ড্ডিকিটা খুলে সুটকেসটা ভেতরে ভরে গাড়ি ছুটিয়ে নিয়ে চললো একটু নির্জন স্থানের উদ্দেশ্যে । যেমনি ভাবা তেমনি কাজ। একটা নির্জন স্থান দেখে সুটকেসেটা পূতে ফেললো বিজয়।
রাত ১ টা..
অবশেষে বাড়ি ফিরলো বিজয়। ঘরে ঢুকেই ঘরটা খুব ফাঁকা ফাঁকা লাগছিলো বিজয়ে র । মন খুলে কাদতে ইচ্ছে হচ্ছিল তার। কি থেকে কি হয়ে গেল আজ তার জীবনে....
হঠাৎ একটা কথা মনে হলো বিজয়ের...
আজ অনেক দিন পর তার ঘড় আবার শান্ত। আর কেউ ভূত আছে ভূত আছে করে তাকে বিরক্ত করবে না। অবশেষে সে মুক্তি পেলো এসবের থেকে। এবার যেনো বেশ একটু হাসি ই এলো বিজয়ের মুখে....
হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠলো।
বিজয় : এতো রাতে আবার কে ফোন করলো ??!!
অন্য মনস্ক ভাবেই ফোনটা হাতে নিয়ে রিসিভ করতে গিয়ে হটাৎ স্ক্রীনে চোখ পড়ায় একটা ভয়ের স্রোত বয়ে গেল বিজয়ের শিকদারা বেয়ে।
স্ক্রিনে বড়ো বড়ো করে ভেসে উঠছে :
" incoming video call
wife calling"
ভয়ে কি করবে বুঝতে পারছিলো না বিজয়। তার বুকের ভেতর যেন দামামা বাজতে লাগলো আর তার সাথে তাল মিলিয়ে বেজে চললো তার ফোন....
ভয়ে দিক বিদিক জ্ঞান শূন্য হয়ে ফোনটা কেটে দিল বিজয় কিন্তু না ফোন কাটা গেলো না।
ধীরে ধীরে ফোনের স্ক্রীনে ভেসে উঠলো তৃষার বীভৎস রক্তাক্ত মুখটা....
আর সাথে শুধু এক আওয়াজ ভেসে এলো....
" বাবু...বলেছিলাম না তারা আছে....."
No comments:
Post a Comment