আজও অবসরে সে ভাবে সত্যি কি ঘটেছিল সেদিন?? কি দেখেছিল সে, সে কি....!!! না ঘটনাটা প্রথম থেকেই বলা দরকার। আজ থেকে ঠিক এক বছর আগের কথা, আজকেরই দিনে অফিস থেকে বাড়ি ফিরছিল সে, কিন্তুু অন্য দিনের চেয়ে আজ একটু বেশি দেরি হয়ে গেছে তার। যাইহোক রোজকারই মতন আজও একটা অটোর অপেক্ষায় দাড়িয়ে আছে সে, অবশেষে একটা অটো পেলো কিন্তুু রোজকার মত আজ অটোটা পুরো ফাঁকা না, প্রথম থেকেই একজন মাঝ বয়সি মহিলা প্যাসেঞ্জার বসে রয়েছে। যাইহোক ভালই হলো একলা যাবার থেকে একটা সঙ্গী খারাপ কি। যাইহোক অটোতে চেপে বসলো অনিকেত। পাশে বসে বেশ ভালই লাগছিল অনিকেতের, যুবতীকে দেখে বাঙালি মনে হচ্ছে, দেখতেও বেশ সুশ্রী। বেশ কথা বলতে ইচ্ছে হচ্ছিল অনিকেতের, কিন্তুু সংকোচ বোধ হচ্ছিল পাছে সে অনিকেত কে ভুল বোঝে। একেই অনেক রাত তার উপর একলা মেয়ে, থাক দরকার নেই কথা বলে, কোথায় আবার কি ভাববে, শেষে দেখবে হয়তো সোশাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়ে বসে আছে সে। না থাক দরকার নেই। এইসব ভাবছে অনিকেত হঠাৎ পাশ থেকে একটা প্রশ্ন এলো " অফিস থেকে ফিরছেন ? " সত্যি বলতে একটু হকচকিয়ে গেলো অনিকেত, অপ্রস্তুত ভাবে উত্তর দিলো " মানে ওই মানে একটু দেরি ".. যুবতী হেসে উঠলো " আরে আপনি ভয় পাচ্ছেন কেনো? " একটু লজ্জা পেয়ে অনিকেত বললো না না আসলে মানে ঠিক বুঝতে পারিনি। মেয়েটি আবার হেসে জিজ্ঞাস করলো তো আপনার নাম কি ? অনিকেত উত্তর দিলো। এবার অনিকেত একটু সাহস পেলো সেও যুবতীটিকে তার নাম জিজ্ঞাস করলো। যুবতী বললো তার নাম অনুরাধা। সে একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করে। আস্তে আস্তে কথা শুরু হলো দুজনের। বেশ ভালো লাগছিলো পুরো ব্যাপারটা অনিকেতের। হয়তো অনুরাধারও বেশ ভালই লাগছিল অনিকেতকে। কিন্তুু হঠাৎ একটি বিকট শব্দে কথা বন্ধ হলো তাদের। "কি হলো ভাই ? " অটোওয়ালা কে জিজ্ঞাস করলো অনিকেত। দাদা টায়ার ফেটেছে। অটো আর যাবে না। আপনারা এখানেই নেমে যান। যথারীতি বাধ্য হয়ে অটো থেকে নেমে গেলো তারা, অনিকেত জোর করে দুজনেরই ভাড়াই মিটিয়ে দিলো। অটোওয়ালা অটো ঠেলতে ঠেলতে ধীরে ধীরে রাতের অন্ধকারে মিলিয়ে গেলো। এখন নিঝুম রাতের শান্ত পরিবেশে শুধু দুটি প্রাণী অনিকেত আর অনুরাধা। কেমন একটা ভাব হচ্ছিল অনিকেতের। আগে কখনো এরম পরিস্থিতিতে পড়েনি সে। অনিকেত হঠাৎ দেখলো অনুরাধার মুখটা একটু ম্লান হয়ে এসছে। সে একটু সাহস করে অনুরাধাকে বললো " আপনি কিছু মনে না করলে আমি কি আপনাকে বাড়ি ছেড়ে দেবো ? " অনুরাধা কিছু উত্তর করলো না কিন্তু তার মুখ দেখে অনিকেত বুঝছিলো সে ভয় পেয়েছে কোনো কারণে। অনিকেত আবার সাহস করে বললো " দেখুন এখন এখানে কোনো গাড়ি পাবেন না, তার চেয়ে বরং চলুন হাঁটা শুরু করি একসাথে। আমি না হয় আপনাকে বাড়ি অবদি ছেড়ে দিয়ে আসবো। অনুরাধা এবার একবার মুখ তুলে চাইলো অনিকেতের দিকে। আহা কি সুন্দর মুখ খানি, কি মায়া এ চোখের। এ চোখ যেনো এক দৃষ্টিতেই পাষাণ হৃদয়েও প্রেম জাগাতে পারে। অনুরাধা হাটতে শুরু করলো অনিকেতের সাতে। অনিকেত আবার একটু সাহস করে জিজ্ঞাস করলো " আপনি কি ভয় পেয়েছেন কিছুতে ? " এবার অনুরাধা উত্তর দিল "না আসলে এত রাতে মানে আমরা দুজন একা, আজকাল দিনের যা অবস্থা তাই
একটু মনটা কেমন কেমন করছে আর কি" অনিকেত এবার শক্ত করে অনুরাধার হাতটা চেপে ধরলো, বললো তুমি ভয় পেও না অনুরাধা, আমি আছি তোমার সাতে। "আপনি" থেকে দুটি প্রাণী "তুমি" তে এসে পৌঁছালো। একে অপরের প্রতি বিশ্বাসটা যেনো বেশ শক্ত হচ্ছিলো। কথা বলতে বলতে এগিয়ে চললো দুজনে। অনিকেত শক্ত করে ধরে রেখেছে অনুরাধার হাত। অনুরাধা ও যেনো ভরসা ফিরে পেয়েছে, তার মুখের সেই ভয়ার্থ ভাব কেটে বেশ সেই হাসি খুশি মুখটা ফিরে এসেছে। কিন্তুু সামনে ওরা করা এগিয়ে আসছে। একদল ছেলে সামনে এসে দাড়ালো অনিকেত ও অনুরাধার। ঘিরে ধরলো তাদের। অনিকেত শক্ত করে চেপে ধরে রয়েছে অনুরাধাকে। হঠাৎ একজন অনুরাধার হাত ধরতে এলো অমনি বিদ্যুৎবেগে তার উপর ঝাপিয়ে আক্রমণ করলো অনিকেত। একে একে সবাই এবার ঘিরে ধরলো অনিকেত কে। কিছুক্ষন হাতাহাতি চললো, হঠাৎ পেছন থেকে কি যেনো একটা মাথায় লাগলো অনিকেতের, মাটিতে লুটিয়ে পড়লো সে, ওরা সবাই অনুরাধাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। অনুরাধা চিৎকার করছে বাঁচাও অনিকেত, অনিকেত পরে রইলো, তার ওঠার ক্ষমতা নেই, নিজের সমস্ত ক্ষমতা দিয়েও উঠে দাড়াতে পারলো না অনিকেত। ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ হয়ে এলো অনিকেতের, শুধু কানে ভেসে আসছিলো অনুরাধার করুন চিৎকার, "আমায় ছেড়ে দাও তোমরা, অনিকেত বাঁচাও, বাঁচাও অনিকেত"....
পরদিন সকালে যখন অনিকেত চোখ খুললো তখন তাকে ঘিরে কিছু লোক দাড়িয়ে। তারা অটো নিয়ে যাচ্ছিলো, রাস্তার ধারে তারা অনিকেত কে পরে থাকতে দেখে। অনিকেত তাদের সমস্ত ঘটনা বললো। অনিকেত তাদের সাতে তন্ন তন্ন করে খুঁজলো অনুরাধাকে, না হয়তো অনুরাধাকে না, হয়তো খুঁজছিল গতরাতে পাশবিক অত্যাচারের শিকার হওয়া অনুরাধার ক্ষতবিক্ষত শরীরটাকে। কিন্তুু না কিছু নেই। অনিকেত দুঃখে এবং রাগে ভেঙ্গে পড়লো। কি দোষ ছিলো সেই নিষ্পাপ মেয়েটার। তার এখন নিজেকে ছেলে বলতে ঘেন্না হচ্ছে। না তবে ভেঙ্গে পড়লে হবে না। সে বেঁচে আছে এখনো। বদলা সে নেবে। অনুরাধার যারা সর্বনাশ করলো অনিকেত তাদের ছাড়বে না। যতদূর যেতে হয় সে যাবে কিন্তুু বদলা সে নেবে। অনিকেত এবার সোজা পুলিশ স্টেশন গেলো। গিয়ে সমস্ত ঘটনা বললো। থানার ওসি আশ্চর্য ভাবে অনিকেতকে জিজ্ঞাস করলো আপনি সঠিক বলছেন সব, মেয়েটিকে দেখলে চিনতে পারবেন? অনিকেত বললো নিশ্চই। ওসি একটি ফাইল এগিয়ে দিলো অনিকেতের দিকে। অনিকেত ফাইলটা খুলে আশ্চর্য হলো, আরে এতো অনুরাধার ছবি। অনিকেত বললো এই তো অনুরাধা। এবার থানার ওসি আশ্চর্য্য হয়ে অনিকেত কে বললো সে যেটা বলছে সেটা সম্ভব না কারন ঠিক কালকের দিনেই আজ থেকে একবছর আগে অনুরাধা বলে এই মেয়েটিকে রাতের অন্ধকারে কিছু দুষ্কৃতী ধর্ষণ করে খুন করে। সেই সময় অনুরাধার সাথে যেই ছেলেটি ছিলো সেও গুরুতর আহত হয়। সেই ছেলেটি এসেই এই রিপোর্টটা লেখায়। এসব শুনে অনিকেতের মাথা ঘুরতে লাগলো সে তার হাতের ফাইলটা উল্টে পাল্টে দেখতে লাগলো হঠাৎ তার নজর পড়লো FIR টা যে করেছে অনুরাধার সেই বন্ধুর নামের উপর।
নামটা খুবই চেনা তার, নামটা "অনিকেত" !!!!!!!!
অনিকেতের কানে যেনো আবারও ভেসে আসতে লাগলো সেই আর্তনাদ " বাঁচাও অনিকেত, বাঁচাও "।
No comments:
Post a Comment