Saturday, January 11, 2025

মুক্তি

অনেক্ষন ধরে দুর্গাপুর স্টেশনে ট্রেনটা দাড়িয়ে রয়েছে দেখে বেশ চিন্তা হয়ে গেলো শ্যামলের। ট্রেন থেকে নেমে একবার কি ব্যাপার খোঁজ নিয়ে আসার উদ্দেশ্যে ট্রেন থেকে নামলো শ্যামল। সামনে এগিয়ে রেলের গার্ড কে জিজ্ঞাস করায় গার্ড বলল : "পানাগড় এর কাছে একটি মালগাড়ি লাইন থেকে পড়ে যাওয়াতে লাইন বন্ধ আছে। আজ রাতে আর ট্রেন চলবে না।"

এই শুনে বেশ চিন্তায় পড়ে গেলো শ্যামল। 

"কাল সকালে যে করেই হোক কলকাতা পৌঁছাতেই হবে। অনেক চেষ্টা করে মিস্টার রায়ের সাথে এই মিটিংটা ব্যবস্থা করেছি। এই ক্লাইন্টটা হাত ছাড়া হলে বস আর আমাকে চাকরিতে রাখবে না। না যে করেই হোক কাল সকালে পৌঁছাতেই হবে কলকাতা। অনেক কষ্টে এই চাকরিটা পেয়েছি, কোনো ভাবেই এটা হারাতে পারবো না।
আর এমনিতেও এটাতো চেনা জায়গাই। জীবনের অনেক বড় অংশটা তো এই দুর্গাপুর চত্বরেই কেটেছ। তিন বছর আগে যখন দিল্লিতে যাই তার আগে অবধি এই দুর্গাপুর অঞ্চলই ছিল সব। তবে সেদিন যদি......
না থাক গিয়ে ওসব কথা...' মনে মনে দীর্ঘশ্বাস ফেলে স্টেশনের বাইরের দিকে এগোতে শুরু করলো শ্যামল।
স্টেশন থেকে বেরিয়ে অনেক চেষ্টা করলো শ্যামল যদি একটা গাড়ি পাওয়া যায় তাহলে তাতে করেই সে কলকাতা চলে যেতো। সে টাকা যা লাগতো সে নয় দিত ....
তবে চেষ্টা এক্ষেত্রে বৃথাই হলো তার। অনেক খোজা খুঁজি করেও একটা গাড়ি জোগাড় করতে পারল না শ্যামল।
অবশেষ সে বাধ্য হয়ে ঠিক করল যে হাইওয়ে ধরে হাঁটা শুরু করবে। কোনো গাড়ি বা লড়ি যদি তাকে কলকাতা নিয়ে যায়। আর এমনতো হয়েই থাকে। কত লোকইতো এরম ভাবে বিপদে পড়ে অচেনা গাড়ির থেকে লিফট নেয় তাতে অসুবিধা কি আছে।
অগত্যা মনস্থির করে হাইওয়ে দিয়ে হাঁটা শুরু করলো সে।
তবে হাঁটতে তার বেশ ভালই লাগছিল। রাতের ঠান্ডা পরিবেশটা বেশ মনরমই মনে হচ্ছিল তার। অনেক পুরোনো কথাও তার মনে পড়ছিল আজ। আসলে ছোট বেলায় মা বাবা কে হারায় শ্যামল। তারপর থেকে এই দুর্গাপুরের অলিতে গলিতে মানুষ হয়েছে সে। বাপ মা হারা ছেলে আত্মীয়র বাড়িতে ঠাঁই পেলেও সেই আত্মীয়র চোখের কাটা যে সে হয়ে ওঠে এটা ছোট থেকেই বুঝে গেছিল শ্যামল। বাড়িতে পাওয়া দুর্ব্যবহার গুলোর সাক্ষী যেন এই দুর্গাপুরের রাস্তাঘাট গুলোই। এসবই ভাবছিল শ্যামল হঠাৎ পেছন থেকে একটা গাড়ির আওয়াজ শুনে ধ্যান ফিরলো শ্যামলের।
" ওই তো একটা গাড়ি আসছে মনে হয় " দুর থেকে গাড়ির আলো দেখে মনে মনে বলল শ্যামল।
প্রাণপণে হাত দেখিয়ে গাড়িটিকে আটকানোর চেষ্টা করলো সে।
গাড়িটি দাড়িয়েছে দেখে তাড়াতাড়ি সে তার বিপদের কথা জানালো " দাদা খুব বিপদে পড়েছি। আমি দিল্লী থেকে অফিসের কাজে কলকাতা যাচ্ছিলাম। এই সামনে পানাগরে মাল গাড়ি লাইন থেকে নেমে যাওয়াতে ট্রেন আটকে পড়েছে কিন্তু আমার কাল কলকাতা যাওয়া খুব জরুরি। আপনি যা টাকা বলবেন আমি দিতে রাজি কিন্তু দাদা একটু কলকাতা ছেড়ে দিন আমায়। আপনার কাছে হাত জোড় করছি দাদা "
শ্যামল কথা বলতে বলতে ড্রাইভারটিকে দেখার চেষ্টা করলো কিন্তু সে চাদর মুড়ি দিয়ে থাকায় কিছুতেই ঠিক করে দেখতে পেলো না শ্যামল।
এবার চাদরের ভেতর দিয়ে ড্রাইভার বলে উঠলো " সে দাদা নিয়ে যাচ্ছি কিন্তু আমার গাড়িতে পেছনের সিটে আগে থেকেই দুজন আছে। আপনাকে বসলে সামনে বসতে হবে।"

শুনে সাথে সাথেই শ্যামল বলে উঠলো " হ্যা হ্যা দাদা সে অসুবিধা নেই। "

এই বলে গাড়িতে উঠে বসলো শ্যামল। সে দেখলো গাড়ির পিছনের সিটে দুজন চাদর ঢাকা দিয়ে হেলান দিয়ে বসে আছে।
গাড়ি রওনা দিলো হাইওয়ে দিয়ে। 
জানলা দিয়ে আসে পাশে দেখতে দেখতে বেশ ভালই লাগছিল শ্যামলের। 
মনে মনে ভাবছিল " এরম কত রাতই না কেটেছে এই অঞ্চলে, আজ ভাবলে মনেহয় সব যেন আগের জন্মের কথা। 
" দাদা কি দিল্লির নাকি " হঠাৎ ড্রাইভারের প্রশ্নে হুস ফিরল শ্যামলের।
" না না আমি বাংলারই লোক। কাজের সুত্রে দিল্লিতে থাকা হয়। " বলল শ্যামল।

"ও আচ্ছা, তবে দাদা আপনি এত রাতে হাইওয়ে দিয়ে একলা এসে ঠিক করেননি। আসলে রাস্তাটা ভালো না জানেন তো। " বলল ড্রাইভার।

"কেনো ? এখানে আবার কি প্রবলেম ?" জিজ্ঞাস করলো শ্যামল।
" প্রবলেম বলতে দাদা চুরি ডাকাতি হয়....খুন খারাবিও হয় অনেক সময়...আপনি একলা আসছিলেন...." বলে একটু চুপ করলো ড্রাইভারটি।
শ্যামল জিজ্ঞাস করলো " তাই ? তো আপনি দেখছেন কখনও চুরি ডাকাতি বা খুন হতে ? "
" না দাদা তবে শুধু চুরি ডাকাতি নয়, অন্য ভয়ও আছে । " বলল ড্রাইভার।
"মানে অন্য কি ভয় ? ভূত ? " একটু হেসে জিজ্ঞাস করলো শ্যামল।
ড্রাইভার বলল " হাসি নয় দাদা, আপনি জানেন না....." 
শ্যামল বলল " তো আপনি জানেন ? আচ্ছা শুনি আপনি কি জানেন ? একটু ভূতের গল্প হলে মন্দ হবে না..."
ড্রাইভার বলল তবে বলি শুনুন " আজ থেকে তিন বছর আগে এরকমই এক রাতে, একজন ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ সে দেখে সামনে তিনজন হাত দেখাচ্ছে। সে ভাবে হয়তো কোনো বিপদে পরে তাকে হাত দেখাচ্ছে। এই ধরুন আজ আপনার হাত দেখানোতে যেমন আমি দাড়ালাম। সেরকমই সেদিন সেই ড্রাইভার দাঁড়ায়। তিনটে লোক এগিয়ে আসে তবে কিছু বলার আগেই একজন জানলার কাছে এসে পকেট থেকে একটি রিভলবার বার করে  ড্রাইভারকে গাড়ি থেকে নেমে যেতে বলে। তবে ড্রাইভারটি ছিল সাহসী সে অত সহজে দমে যাবার পাত্র ছিল না। সে আজমকা জোরে দরজা খোলায়, ধাক্কা লেগে রিভলবারটি পড়ে যায়। সে তাড়াতাড়ি রিভলবারটি হাতে তুলে নেয় কিন্তু পেছন থেকে হঠাৎ করে একটা প্রচণ্ড আঘাতে তার মাথা ফেটে রক্ত ঝরে পড়ে। লুটিয়ে পড়ে সে, তার হাত থেকে পড়ে যায় রিভলবারটি। সামনে পড়ে থাকা লোকটি তাড়াতাড়ি এসে রিভলবারটি তুলে নেয় এবং গাড়িতে উঠে পালায়। রাস্তায় পড়ে থাকে ড্রাইভারের মৃত দেহ। আসলে ঐ তিনজন ছিল ডাকাত। এই অঞ্চলেই রাতের বেলা ডাকাতি করত ওই তিনজন মিলে। তবে সেদিন কোনো ভাবে পুলিশ খবর পেয়ে যায় l তাই পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে এই হাইওয়ে দিয়ে পালায় তারা।"
এই বলে থামল ড্রাইভার।

"তো এ তো ডাকাতির গল্প, তো ভূত কোথায় ? " জিজ্ঞাস করলো শ্যামল।
" আছে আছে দাদা, গল্পতো এখানে শেষ নয়...." এই বলে আবার শুরু করলো ড্রাইভারটি...
" সেদিন রাতে ড্রাইভার মারা গেলেও, তার আত্মা কিন্তু মুক্তি পেলো না, সে সেদিন থেকে প্রতি রাতে খুঁজে বেড়ালো ওই তিন জনকে যাদের জন্য তাকে প্রাণ হারাতে হলো। তাদেরকে শেষ করেই তার প্রতিশোধ পূর্ণ হতো....
বেশ কিছু দিন পর ওই তিন জনের মধ্যে যে রিভলবার বার করে মারতে এসেছিল তাকে বাগে পেল সেই ড্রাইভারের প্রেতাত্মা। এই হাইওয়েরই উপর হয়তো সেদিনও কোনো ডাকাতি করে পালাচ্ছিল। কিন্তু এইবার আর পালানো হয়নি তার, সেই প্রেতাত্মা আর তাকে পালাতে দেয়নি। ড্রাইভারের রক্তাক্ত বিভৎস লাশকে সেদিন নিজের চোখের সামনে দেখে ভয় রিভলবার থেকে গুলো ছুড়েছিল ঠিকই  কিন্তু কোনো লাভ হয়নি, এই হাইওয়ের উপরেই তার সরু সরু আঙুল দিয়ে গলা টিপে মেরে তার মুণ্ডু আর ধর আলাদা করে দিয়েছিল সেই প্রেতাত্মা। তারপর সেই কাটা মুণ্ডু আর ধর ফেলে রেখেছিল এই রাস্তার ধারেই।
এভাবেই বেশ কিছুদিন পড়ে ওই তিনজনের আরও একজন কে হত্যা করে সেই প্রেতাত্মা। হাইওয়ের উপর দিয়ে পালানোর সময় আবারও সেই প্রেতাত্মার খপ্পরে পড়ে সে। ড্রাইভারের বিভৎস রক্তাক্ত লাশকে সামনে দেখে আতঙ্কে হাতপা অবশ হয়ে যায়। ধীরে ধীরে ড্রাইভারের সরু লিক লিকে হাত গুলো এসে গলা টিপে ধরে তার। অনেক চেষ্টা করেছিল কিন্তু বাঁচতে পারেনি। শরীরটাকে মাঝ বরাবর দুই টুকরো করে ফেলে রেখেছিল এই হাইওয়ের ধারেই সে প্রেতাত্মা।
তবে তৃতীয় জনকে এখনো পায়নি সে, আসলে সেই তৃতীয় জন নাকি সেদিন পুলিশের হাতে ধরা পড়ে গেছিল। তবে প্রমাণের অভাবে তার বেশদিন সাজা হয়নি। ছয় মাস কলকাতায় জেল খেটে সে মুক্তি পেয়ে এসব চুরি ডাকাতি ছেড়ে অন্য রাজ্যে চলে যায়। তবে এখনো এই প্রেতাত্মা তাকে খুঁজছে এবং সে নিজের প্রতিশোধ পূর্ণ করবেই...." এই বলে থামল ড্রাইভারটি।

শ্যামল দেখলো তার কপালে এই ঠান্ডা পরিবেশেও বিন্দু বিন্দু ঘাম ফুটেছে ।
"কি দাদা, ঘেমে গেলেন যে...." একটু ব্যাঙ্গ করেই জিজ্ঞাস করলো ড্রাইভারটি।
" না না কোথায়....বলছি দাদা আপনি গাড়ি থামিয়ে দিন আমি নামবো। " বলল শ্যামল।
"হা হা হা.....গল্পটা খুব চেনা লাগলো নাকি দাদা ? " যেন এক অট্টহাসি হাসলো ড্রাইভারটি।
" আপনি গাড়ি থামান আমি নামবো.....আমি যাব না, গাড়ি থামান বলছি..." এই বলে জোরে ধাক্কা মারে গাড়ির গেট খুলতে গেল শ্যামল।
কিন্তু বৃথা চেষ্টা....গাড়ির গেট খুলল না, বরং গাড়ির গতি যেন আরো বেড়ে গেলো। আর সাথে বেড়ে উঠলো ড্রাইভারের অট্টহাসি....গাড়ি যেন হওয়াতে ভাসতে লাগলো....ভয় হাত পা অবশ হয়ে আসছে শ্যামলের।
" কি দাদা.......নামতে কেন চাইছেন ?
সেদিন এই গাড়ির জন্যই তো পেছন থেকে আমার মাথায় আঘাত করেছিলেন....তাই না ? কি দোষ ছিল আমার.....মাটিতে পড়েছিলাম অনেক্ষন.....কেউ আসেনি সেদিন...." খনা খনা গলায় বলে উঠলো ড্রাইভার।

" না বিশ্বাস করুন আমি আপনাকে মারতে চাইনি.....আমি সেদিন শুধু পালিয়ে বাঁচতে চেয়ে ছিলাম, আমি ওসব কাজ ছেড়ে দিয়েছিলাম সেদিনের পর....আমি ওদের বলে ছিলাম আপনাকে হাসপাতালে দিয়ে নিজেরা পুলিশে ধরা দিতে কিন্তু ওরা শোনেনি বিশ্বাস করুন দাদা।....." এই বলে আতঙ্কে আর কান্নায় ভেঙে পড়ল শ্যামল।

এবার মুখ থেকে চাদরটা সরালো সেই ড্রাইভার....উফফ কি বিভৎস এই মুখ.....মাথা ফেটে একদিক থেকে ঝরে পড়ছে রক্ত, একটা দিক শুকিয়ে কঙ্কালের খুলিতে পরিণত হয়েছে....
এসব দেখে রক্ত জল হয়ে এলো শ্যামলের। 

" কি দাদা চিনতে পারছেন মুখটা ? এই দেখুন না.... আপনিই মেরেছিলেন.....খুব রক্ত বেরিয়েছিল দাদা....দেখুন না এখনো রক্ত বেরোচ্ছে...."এই বলে নিজের লক লকে জিভ দিয়ে নিজের কপালে মুখে লেখে থাকা রক্তই চেটে নিল সেই ড্রাইভারের প্রেতাত্মা।

"আমাকে ছেড়ে দিন দাদা, আমায় ক্ষমা করুন...আমার ভুল হয়ে গেছে" এই বলে হাত জোড় করে কান্নায় লুটিয়ে পড়ল শ্যামল।

" কাদিস না রে ভাই.... ও তোকে ছাড়বে না....আমাদেরও ছাড়েনি..." আওয়াজটা শুনে চমকে উঠলো শ্যামল। 
" একি এতো রাজুর গলা....." আশ্চর্য হয়ে পেছনে ঘুরল শ্যামল।
পেছনে বসে থাকা দুজনের কথা ভুলেই গেছিল শ্যামল।
কিন্তু এখন চাদর সরে যেতে শ্যামল যা দেখলো তাতে তার রক্ত হিম হয়ে গেলো।
পেছনে নিজের কাটা মুণ্ডু হাত নিয়ে বসে আছে রাজু আর তার পাশে নিজের দু ভাগে বিভক্ত শরীর নিয়ে আমার দিয়ে তাকিয়ে অট্টহাসি হাসছে সিধু।
"মুক্তি নেই....মৃত্যুই মুক্তি...." এই বলে ড্রাইভারের সাথে রাজু এবং সিধুও অট্টহাসি হেসে চলল।
 শ্যামল প্রাণপণে চেষ্টা করলো গাড়ি থেকে বেরোনোর কিন্তু কিছুতেই পারল না সে।
" মৃত্যুতেই মুক্তি দাদা.....মরতে হবেই.....নয়ত মুক্তি নেই......"এই বলে পুনরায় অট্টহাসি হাসতে থাকলো ড্রাইভার....

"মুক্তি নেই পাগল....বৃথা চেষ্টা করছিস....," এই বলে সমানে হাসতে থাকলো রাজু ও সিধু....সে কি বিকট হাসি....রক্ত হিম করে দেবার মতন....

হঠাৎ আশ্চর্য ভাবে গাড়ির গেট খুলে গেলো.....অমনি গাড়ি থেকে ঝাঁপ মেরে পাশের ঘাসের জমিতে পড়ল শ্যামল। ঘাসের জমতে পড়েই তাড়াতাড়ি উঠে ছুট দিলো শ্যামল। 
যে ভাবেই হোক তাকে বেঁচে পালাতে হবে। এভাবে সে মরতে পারে না। সে পুলিশে যাবে গিয়ে ধরা দেবে। সারা জীবন জেলে কাটাবে কিন্তু এভাবে প্রেতাত্মার হাসতে বেঘোরে প্রাণ দেবে না।
প্রাণপণে ছুটে চললো শ্যামল। মাঠ ঘাট ক্ষেত জমি সব পেরিয়ে ছুটে চলল সে আর পেছনে শুধু ভেসে আসল সেই ভয়ংকর অট্টহাসি।
এভাবেই ছুটতে ছুটতে কখন যেন ক্লান্ত হয়ে পড়ে গেছিল শ্যামল। পরদিন সকালে সূর্যের আলো বেরোতে সে দেখলো সে এক মাঠের ধারে পড়ে রয়েছে। খুব গা হাত পা ব্যথা তার।  তার আবার গতকাল রাতের কথা মনে পড়লো....অমনি তাড়াতাড়ি মাঠ থেকে বেরিয়ে কিছু দূর আসতেই একটা পুলিশ থানা দেখতে পেল সে।
সে মনে মনে বলল " না অনেক হয়েছে, নিজের দোষ স্বীকার করাটাই হয়তো আমার প্রায়শ্চিত্ত হবে, আর তাতেই হয়তো আমার মুক্তি হবে...।" এই ভেবে আত্মসমর্পণের উদ্দেশ্যে সে পুলিশ স্টেশনে ঢুকলো।
সামনেই থানার বড়বাবু বসে আছেন।
শ্যামল বড়বাবু সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলল " বড়বাবু আমার নাম শ্যামল মাহাতো। আমি এই দুর্গাপুর অঞ্চলেরই বাসিন্দা। আজ থেকে তিন বছর আগে আমি এবং আমার দুই বন্ধু মিলে বেশ কিছু ডাকাতি করি....আমার দুই বন্ধু পালিয়ে যায় কিন্তু আমি পুলিশের হাতে ধরা পরি....যদিও তখন আমি জেরাতে মুখ খুলিনি...এবং প্রমাণ আর অভাবে আমারও শুধু ছয় মাসেরই জেল হয়। এই তিন বছরে আমার দুই বন্ধু মারা যায় এবং আমি সেই ডাকাতির দায়ে এখন আত্মসমর্পণ করতে চাই। "

কিন্তু বড়বাবু সব শুনেও কোনো উত্তর করলো না।
হঠাৎ পেছন থেকে একটা আওয়াজ শুনে চমকে গেলো শ্যামল।
" ও বড়বাবু...., বডি নিয়ে এসছি....হাইওয়ের ধারেই পড়েছিল। ওই সেই তিনটে ডাকাতের একটা এটা....বাকি দুটোকে তো আর পাওয়া গেল না, কেমন যেন উবে গেলো...." এই বলে স্ট্রেচারে করে একটা লাশ নিয়ে ঢুকলো দুজন কনস্টেবল..... 
সাদা কাপড় ঢাকা দিয়ে স্ট্রেচারে পড়ে রয়েছে শ্যামলের মৃতদেহ....
এই দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ল শ্যামল....
পেছন থেকে শুধু কানে ভেসে এলো " বলেছিলাম না মুক্তি শুধু মৃত্যুতেই.....আর সাথে সেই অট্টহাসি......"


No comments:

Post a Comment