থানা থেকে ফিরতে আজ একটু দেরি হয়ে গেল সমরেশের। আসলে ওসির পদে প্রমোশনসের পর থেকে তার কাজের চাপ একটু বেশিই বেড়ে গেছে। তাই মাঝে মধ্যেই তার ফিরতে দেরি হয়। যদিও তাতে কোনো অসুবিধা নেই তার। একলা মানুষ সে। বাড়িতে লোক বলতে তার এক মাত্র চাকর কানাই দা। তবে আজ একটু বেশিই দেরি হয়ে গেল। ঘরে ঢুকে হাত পা ধুয়ে কানাইদা কে খাবার বাড়তে বলে একটু টিভিটা চালিয়েছিল অমনি কলিং বেলের আওয়াজ।
হঠাৎ এতো রাতে কলিং বেলের আওয়াজে একটু আশ্চর্য হল সমরেশ।এত রাতে আবার কে এলো?
অগত্যা সে উঠে গেলো দরজা খুলতে।
কিন্তু একি... এ যে তার ছোট বেলার বন্ধু সোমনাথ !
সেই কলেজ ছাড়ার পর বহু বছর দেখা পায়নি সে সোমনাথের তাই আজ হঠাৎ এভাবে এত রাতে তাকে দেখে বেশ অবাকই হলো সমরেশ।
সমরেশ : কি রে হঠাৎ এত দিন পর উদয় হলি তাও এত রাতে ? সব ঠিক আছে তো ?
সোমনাথ : ভাই ভেতরে গিয়ে কথা বলি ?
সমরেশ এবার একটু লজ্জা পেয়ে বললো,
আরে আয় আয়, আসলে তোকে দেখে একটু আশ্চর্য হয়ে গেছিলাম। আয় ভেতরে। আমি তো এই অফিস থেকে এসে খেতে বসছিলাম। দাড়া কানাইদাকে বলছি তোর জন্যও একটা পাত বাড়তে।
সোমনাথ : না না ভাই, আমি খাবো না কিছু। তোর সাথে খুব দরকার ছিল। তাই এত রাতে বিরক্ত করলাম। জানি তুই এখন থানার ওসি। তাই ভাবলাম তোকে কিছু কথা জানিয়ে যাই। নয়তো........
কথাটা বলতে বলতে থেমে গেল সোমনাথ।
সমরেশ : নয়তো ....? কি নয়তো ....? কি হয়েছে ভাই ? কিছু প্রবলেমে আছিস ?
সোমনাথ : আমি জানি না ভাই কিন্তু হয়তো আমি আর বেশি দিন বেঁচে থাকবো না। তাই তোকে সবটা বলে যেতে চাই।
সমরেশ বেশ একটু আশ্চর্য হল এবার,
কি ভাই কি সব বলছিস ? কিছু রোগ ঠোগ হয়েছে নাকি তোর ? তুই বলতো আমি ভালো হসপিটালে তোর চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।
সোমনাথ : আরে না না ভাই রোগ আমার শরীরে নেই ভাই। রোগ আমার কপালের। মৃত্যু সবসময় পেছনে ঘুরে বেড়াচ্ছে আমার।
এবার সমরেশের একটু সন্দেহ হলো, সোমনাথ কি কোনো নেশা ঠেসা করছে নাকি কোনো ক্রিমিনালের দলে গিয়ে ভিড়েছে...
সমরেশ : ভাই ব্যাপারটা কি তুই একটু ঠিক করে বলবি ? কি সব আবোল তাবোল বলে যাচ্ছিস। আমার তো কিছুই মাথায় ঢুকছেনা।
সোমনাথ এবার একটু গম্ভীর ভাবে জিজ্ঞাস করলো,
তোর কি আমার মধ্যে কোনো পাগলের লক্ষণ মনে হচ্ছে ?
সমরেশ উত্তর দিলো, কই না তো।
সোমনাথ : তাহলে একটা গল্প বলি শোন, জানি না তুই কতটা বিশ্বাস করবি কিন্তু বিশ্বাস কর আমি যা বলছি সম্পূর্ণ নিজের স্বজ্ঞানে এবং সত্যি বলছি।
সমরেশ : আরে ভাই তুই নির্দ্বিধায় বল আমায় কি হয়েছে।
সোমনাথ : তবে শোন,
এই বলে নিজের গল্প শুরু করলো সোমনাথ।
কলেজ শেষ হবার পর তুই তো পুলিশ হবি বলে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করলি। আমাদের গ্রুপের বাকিরাও যে যার মতন কাজে ঢুকে গেলো। তবে আমি কিন্তু যোগ দিলাম আমার বাবার ফ্রিজ এসির ব্যবসাতে। প্রথম কিছু বছর বেশ ভালই কাটছিল। নতুন নতুন টাকার স্বাদ বেশ ভালই লাগছিল। আর ব্যবসা চলছিলো বেশ রম রমিয়ে। জীবনে টাকা পয়সার সাথে সাথে সুমনার রূপে আমার প্রথম প্রেমও এলো। সব কিছু বেশ ভালই চলছিল। ধীরে ধীরে বাবার হাত থেকে ব্যবসার সমস্ত দায়িত্ব নিজের উপর নিয়ে নিলাম। তবে এসবের সাথে সাথে মদ জুয়া এগুলোর প্রতি ও আসক্তি জন্মাতে শুরু করলো। ধীরে ধীরে নেশায় পরিণত হতে শুরু করলো। দিনের পর দিন নেশা আরো বাড়তে থাকলো আর কমতে থাকলে নিজের ব্যবসার প্রতি ধ্যান। ধীরে ধীরে ব্যবসার প্রসারও কমতে থাকলো। তবে আমার সেসব দিকে ধ্যান গেলো না। আমার নেশা তখন জুয়া আর মদ। এই দুইয়ের জন্য আমি নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দিতেও প্রস্তুত। তবে এরই মাঝে একদিন এক আশ্চর্য্য ঘটনা ঘটলো। একদিন জুয়াতে বেশ অনেটা জিতেছি। তবে যার সাথে জুয়া খেলছি সেও সেদিন নিজের সর্বস্ব হারাতেই হয়তো এসছিল। সে বাজিতে তার সমস্ত টাকা শেষ করার পর সে একটা বক্স সমেত পুরনো মূর্তি বার করে টেবিলের উপর রাখলো। বললো এই মূর্তি তার সব চেয়ে দামী সম্বল। এই মূর্তি যার কাছে থাকবে তার নাকি তিনটে ইচ্ছে এই মূর্তিটা পূর্ণ করবে তবে এই মূর্তির যেন কোনো ক্ষতি না হয়। আর একবার মূর্তির কাজ শেষ হলে সেই মূর্তিকে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে। আজ এই মূর্তি বাজি রেখে সে একটা শেষ বাজি খেলতে চায়। যথারীতি আমি রাজি হলাম আর ভাগ্য লক্ষ্মীর কৃপায় এই বাজিও আমিই জিতলাম। এর পর বহু দিন কেটে গেল। ধীরে ধীরে আমার আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়ে গেল। সমস্ত ব্যবসা ডুবে গেল। বাজারে দেনাতে ভরে গেল। প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার দেনা হয়ে গেলো। সব শেষে ঠিক করলাম বাড়িটা বিক্রি করে দেনা মিটিয়ে ভাড়া বাড়িতে উঠবো। ওদিকে আমার জীবনের প্রেমও হারিয়ে গেল। সুমনার বাবা আমার আর্থিক অবস্থা দেখে মেয়ের বিয়ে অন্য জায়গাতে ঠিক করলো। অবশেষে বাড়ি বিক্রির সময় উপস্থিত হলো। বাড়ি ছাড়ার আগে সব জিনিস পত্র গোছাতে গিয়ে রাত্রি বেলা হঠাৎ আলমারি থেকে সেদিনের সেই বাকসো সমেত মূর্তিটা বেরোলো। এটাকে দেখে নিজের অতীতের কুকর্ম গুলো মনে পড়লো। মনে পড়লো কিভাবে দিনের পর দিন নিজের দোষে নিজের সব হারিয়ে আমি আজ নিস্ব। হঠাৎ মুহূর্তের মধ্যে সেই দিন সেই লোকটার বলা কথাটা মনে পড়লো। এই মূর্তি যার কাছে থাকবে তার তিনটে ইচ্ছে পূর্ণ করবে। বক্স থেকে মূর্তিটা হাতে ধরে বললাম যদি তুমি সত্যি পারো তাহলে আমার বাড়িটা বিক্রির হাত থেকে বাঁচিয়ে দাও। কিছু ক্ষন নিস্তব্দ ভাবে অপেক্ষা করলাম। ভাবলাম এই বুঝি কোনো জাদুবলে ৫০ লক্ষ টাকা এসে উপস্থিত হবে। কিন্তু কোথায় কি...? কিছু নেই। অগত্যা মূর্তিটা টেবিলের উপর রেখে নিজের নির্বুদ্ধিতার উপর হাসতে হাসতে শুয়ে পড়লাম।
পরদিন সকালে হঠাৎ ফোনের আওয়াজে ঘুম ভাঙলো আমার। একটা অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসছে। ফোনটা রিসিভ করতেই ওপর থেকে বললো হ্যালো মিস্টার সোমনাথ বলছেন ? আমি বললাম হ্যাঁ বলছি। ওপর দিক থেকে উত্তর এলো নমস্কার স্যার আসলে আপনি এক বছর আগে একটা টেন্ডার জমা করেছিলেন কিন্তু তখন কাজটা হয়ে ওঠেনি। তবে এখন আমাদের কোম্পানি সমস্ত টেন্ডারের মধ্যে আপনার টেন্ডারটি পছন্দ করেছে। আপনি ৫০ লক্ষ টাকার কোটেশন দিয়েছিলেন। যদি আপনি রাজি থাকেন তাহলে আমি আমাদের ঠিকানা দিচ্ছি দুপুর নাগাদ এসে চেকটা নিয়ে যাবেন। এই বলে ফোনটা কেটে গেল। আর অমনি ফোনে একটা মেসেজ ঢুকলো। তবে আমি কিছুতেই মনে করতে পারছিলাম না এত বড় টেন্ডার আমি কবে এবং কোন কোম্পানিকে দিয়েছিলাম। বিছানা থেকে নামতে গিয়ে মূর্তিটার দিকে চোখ পড়তেই হঠাৎ একটা চিন্তায় মাথাটা ঘুরে গেল। কাল রাতে আমি মূর্তির কাছে চেয়েছিলাম যেন বাড়িটা বিক্রি না হয়। তাহলে কি.....
সাথে সাথে মূর্তিটা কে হাতে তুলে নিলাম। মনে মনে ভাবতে লাগলাম কিভাবে এই মূর্তির সত্যতা যাচাই করবো। হঠাৎ মাথায় এল কাল তো সুমনার বিয়ে। তাহলে মূর্তি কি সুমনাকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিতে পারবে....?
সাথে সাথে মূর্তিটা কে শক্ত করে ধরে বললাম আমার দ্বিতীয় ইচ্ছে সুমনার বিয়ে যেন আমার সাথে হয়।
এই বলে মূর্তিটা কে টেবিলের উপর রেখে আমি বাথরুমে গেলাম। কিছুক্ষন পর বাথরুম থেকে বেরোতেই দরজার কলিং বেল বাজলো। গিয়ে দরজা খুলতেই দেখি কাঁদো কাঁদো মুখে দাঁড়িয়ে সুমনার বাবা। আমি জিজ্ঞাস করলাম কি ব্যাপার আপনি এখানে ? সুমনার বাবা হাউ মাউ করে কেঁদে আমার পা জড়িয়ে বলল বাবা জীবন আমায় বাঁচাও। আমার মেয়েকে উদ্ধার করো। আমি কিছুই বুঝতে না পেরে জিজ্ঞাস করলাম আরে কি ব্যাপার সেটা তো বলুন। সুমনার বাবা যা বললো তা অনেকটা এই রকম, সুমনার হবু বর এবং বরযাত্রীর আজ আসার কথা জলপাইগুড়ি থেকে কিন্তু আসার পথে হঠাৎ বাসের ব্রেক ফেল করে পুরো বাস খাইতে পড়ে যায়। মনে মনে শুনে বেশ খুশিই হলাম আর এও বুঝলাম যে মূর্তি নিজের কাজ করেছে। তবে ওপর ওপর দুঃখ দেখিয়ে বললাম আপনি চিন্তা করবেন না আমি আছি আমি বিয়ে করবো সুমনাকে। আপনি নিশ্চিন্তে বাড়ি যান। সুমনার বাবা যেতেই আমার যেন আর আনন্দের সীমা রইল না। নিজের তিন নম্বর ইচ্ছেতে কি চাওয়া যায় এটাই ভাবতে ভাবতে মূর্তিটা হাতে নিতে যাচ্ছিলাম হঠাৎ পায়ে পায়ে জড়িয়ে পড়লাম টেবিলটার উপর আর সাথে সাথেই মূর্তিটা টেবিল থেকে নীচে পড়ে মূর্তির মাথাটা খুলে গেল। তাড়াতাড়ি মূর্তিটা জুড়ে ফেলার চেষ্টা করলাম কিন্তু কিছুতেই কিছু হলো না। এবার মূর্তিটা কে হাতে নিয়ে তার উপর মাথাটাকে ধরে নিজের তৃতীয় ইচ্ছেটা বলে ফেললাম। বললাম মূর্তি আমার তিন নম্বর ইচ্ছে আমার ঘরটা সোনা দিয়ে ভরে দাও। এই বলে মূর্তিটা রেখে স্নানে গেলাম ভাবলাম বেরিয়ে দেখবো পুরো ঘর সোনায় ঢেকে গেছে। কিছুক্ষন পর স্নান সেরে বেরোতে দেখি ঘর যেমন ছিল তেমনই আছে। কই সোনা...? কোথাও কিছু নেই। এমন সময় হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠলো। আমি ফোনটা রিসিভ করলাম। ওপর থেকে উত্তর এলো " হ্যালো মিস্টার সোমনাথ ? " আমি বললাম হ্যা বলছি। উত্তর এলো " সরি স্যার। সকালে আপনাকে আমি ফোন করেছিলাম আসলে ওটা ভুল করে আপনার কাছে চলে গেছে। আসলে আপনাদের নামটা পর পর ছিলো। যার টেন্ডার সিলেক্ট হয়েছে তিনি সোমনাথ রায় আর সকালে ভুল করে রায়ের বদলে সোমনাথ দাস মানে আপনাকে কল করে ফেলা হয়। কিছু মনে করবেন না স্যার। আমরা একান্তই দুঃখিত।" এই বলে ফোনটা কেটে গেল। মুহূর্তের মধ্যে যেন আমার সমস্ত স্বপ্ন ভেঙে গেল। এই ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ আবার ফোনটা বেজে উঠলো। আমি ফোনটা রিসিভ করলাম। ওপর প্রান্ত থেকে উত্তর এলো , " সোমনাথ বাবা আমি সুমনার বাবা বলছি। বলছি তোমায় বলতে খারাপ লাগছে কিন্তু হয়তো তুমি শুনেও খুশি হবে। সুমনার হবু বর এবং বর যাত্রী সবাই সুস্থ আছে। যেই বাসটা খাই তে পরে যায় সেটা ওদের আগের বাসটা ছিলো। তবে তুমি বিপদের মাঝে যে আশ্বাস টা দিয়েছিলে তার জন্য অনেক ধন্যবাদ বাবা। জীবনে অনেক সুখী হও। এই বলে ফোনটা কেটে গেলো। মুহূর্তেই যেন চারিদিক অন্ধকার হয়ে গেল আমার। এমন অবস্থায় হঠাৎ যেন মনে হলো ঘরে আমার সাথে কেউ একজন আছে। পেছন ঘুরতেই দেখি একটা কুড়ুল হাতে এক যোদ্ধার সাজে এক মুণ্ডুহীন দানব রুপি ছায়া মূর্তি আমায় মারতে আসছে আর সেই দিন থেকে প্রতিনিয়ত সর্বক্ষণ আমি পালিয়ে বেড়াচ্ছি সেই ছায়া মূর্তি থেকে। কোথাও সে আমার পিছু ছাড়ে না। হয়তো আমার প্রাণ নিয়েই সে শান্ত হবে।
এই বলে চুপ করলো সোমনাথ।
সে দেখলো সমরেশ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
সোমনাথ হেসে বললো, কি পাগল ভাবছিস তো আমায় যে কি গাঁজা খুরি গল্প শোনাচ্ছি তোকে...দাড়া এই দেখ বলে নিজের পকেট থেকে একটা ছোট কালো কাঠের মাথাহীন মূর্তি বার করে সমরেশের সামনে রাখলো সোমনাথ।
এবার সমরেশ বললো, দেখ ভাই আমার মনে হয় তোর একজন ভালো ডাক্তারের প্রয়োজন। তোর উপর দিয়ে অনেক কিছু গেছে বুঝতে পেরেছি। তাতে একটু মানসিক রোগ গ্রস্ত হয়ে হ্যালুসিনেশন হওয়াটা আশ্চর্য্য না। আজ অনেক রাত হল। তুই বরং এখানেই থাক। কাল না হয় এসব নিয়ে কথা বলা যাবে। এই বলে সমরেশ উঠতে যাবে অমনি হঠাৎ করে লোডশেডিং হয়ে গেলো আর অমনি সোমনাথ চিৎকার করে বলে উঠলো " এসে গেছে, সে এখানেও এসে গেছে, আমায় পালাতে হবে, আমায় পালাতে হবে..." এই বলে মূর্তিটা নিয়ে প্রাণপণে ছুট দিয়ে গেটের বাইরে বেরিয়ে গেল সোমনাথ। আশ্চর্য্য ভাবে সে চলে যাবার সাথে সাথেই কারেন্টও এসে গেল। তবে আজ সোমনাথের অবস্থা দেখে বেশ কষ্ট হল সমরেশের ঠিক করলো কাল একবার সোমনাথের বাড়ি যাবে। ওকে কোন একজন ভালো সাইক্রাটিস্ট দেখাবে মনে মনে ঠিক করলো সে। এভাবে নিজের ছোট বেলার বন্ধুকে পাগল হয়ে যেতে দেওয়া যায়না।
পরদিন সকালে থানার কনস্টেবলের ফোনে ঘুম ভাঙলো সমরেশের।
" হ্যালো স্যার, বলছি স্যার আপনার বাড়ির কাছেই খালের ধারে একটা মার্ডার হয়েছে স্যার। মাথাটা কেটে নিয়ে চলে গেছে স্যার।"
সমরেশ বললো , আচ্ছা তুমি লোকেশনে থাকো আমি জলদি পৌঁছাচ্ছি ততক্ষন কাউকে কিছু ছুঁতে দেবে না।
কিছুক্ষনের মধ্যেই স্পটে পৌঁছালো সমরেশ, লাশটা দেখে মনটা কেমন একটা লাগলো সমরেশের। জামা কাপড় পুরো কাদায় মেখে গেছে মাথাটা কেটে মনে হয় খালের জলে ভাসিয়ে দিয়েছে যাতে চেনা না যায়।
সমরেশ কনস্টেবলকে জিজ্ঞাস করলো, কার লাশ কিছু খোঁজ পেলে ?
না স্যার, কিছুই বোঝা যাচ্ছে নাহ। কি দিয়ে মেরেছে সেটাও তো পেলাম না স্যার। তবে স্যার দেখে মনে হয় ধারালো খুব। একবারেই পুরো মাথা নামিয়ে দিয়েছে।
সমরেশ মাথা নেড়ে বললো হম তাই মনে হচ্ছে, যাই হোক পোস্টমর্টেমে পাঠানোর ব্যবস্থা করো এই বলে উঠে আসতে গিয়ে সমরেশের নজরে পড়লো দূরে পড়ে থাকা একটা বক্সের উপর। বক্সটা হাতে নিয়ে খুলতেই ভেতর থেকে বেরোলো একটা ছোট কালো কাঠের মূর্তি। ঠিক অবিকল কালকের সোমনাথের দেখানো মূর্তিটার মতন। তবে এই মূর্তিটার মাথা আছে এবং মূর্তির মুখটা অবিকল তার বন্ধু সোমনাথের মতন।
No comments:
Post a Comment